মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার কার্যক্রম গতিশীল করার সাত দফা নির্দেশনা

 

 

ভূমিকা: শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেবা, নেতৃত্ব ও সুনাগরিকত্বের গুণাবলী বিকাশে দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার কার্যক্রম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সম্প্রতি সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছে। গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জারি করা এই অফিস আদেশে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাউশির সাত দফা নির্দেশনা:

গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার কার্যক্রমের মানোন্নয়ন ও সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য নিম্নোক্ত সাতটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

১. ইউনিট গঠন ও নিয়মিত কার্যক্রম: প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার ইউনিট গঠন নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিটগুলোকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সেবামূলক কার্যক্রম এবং সভার আয়োজন করতে হবে।

২. বার্ষিক রিপোর্ট দাখিল: গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার কার্যক্রমের বার্ষিক রিপোর্ট প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিসে এবং ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে মাউশিতে আবশ্যিকভাবে প্রেরণ করতে হবে।

৩. ত্রৈমাসিক রিপোর্ট দাখিল প্রক্রিয়া: প্রতি ত্রৈমাসিকের রিপোর্ট পরবর্তী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে আঞ্চলিক অফিসে জমা দিতে হবে। আঞ্চলিক অফিসগুলো আবার এসব রিপোর্ট ১০ অক্টোবরের মধ্যে অধিদপ্তরের নির্ধারিত ই-মেইল (girlguides2025@gmail.com) ঠিকানায় পাঠাবে।

৪. প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব: প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিয়মিতভাবে ইউনিট গঠন, প্রশিক্ষণ ও সেবামূলক কার্যক্রমের সভা আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক রিপোর্টগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

৫. তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও পরিশোধ: গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার, গার্ল ইন স্কাউট এর তহবিলে আদায়কৃত ফি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার গাইডারের যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করতে হবে এবং এই অর্থ কেবল গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার কার্যক্রমেই ব্যয় করা যাবে। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত ফি সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা গার্ল গাইডস ও রেঞ্জারে নিয়মিত পরিশোধ করা আবশ্যক।

৬. কার্যক্রম পরিকল্পনা ও মনিটরিং: গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার গাইডারকে এক বছরের জন্য কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে গ্রুপ কমিটির অনুমোদন নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান এই কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করবেন।

৭. গাইডার নিয়োগ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ততা: যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার গাইডার নেই, প্রতিষ্ঠান প্রধান অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট জেলা বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে গাইডার নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়াও, শিক্ষাঙ্গনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজে গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার সদস্যদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সম্পৃক্ত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

পরীক্ষার ভরা মৌসুমে কমিটি নির্বাচনের নির্দেশ: শিক্ষামহলে তীব্র উদ্বেগ

বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার মাঝে গভর্নিং বডি নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের চাপ বৃদ্ধি; বিঘ্নিত হতে পারে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়ায় শিক্ষামহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত শিক্ষাবর্ষের শুরুতে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যখন পাঠদানের চাপ কম থাকে। কিন্তু এবার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন।

 

পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সংঘাত

মন্ত্রণালয়ের শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসটি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা চলবে। অন্যদিকে, দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা (টেস্ট পরীক্ষা) অনুষ্ঠিত হবে ২৯ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীরা যখন চূড়ান্ত পড়াশোনা ও প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা সরাসরি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

আরো পড়ুন

  1. পরের বাজেটে বাড়তে পারে শিক্ষকদের বরাদ্দ: শিক্ষা উপদেষ্টা 
  2. মাউশির ডিজি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খানের পদত্যাগ কেন ? 

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ

শিক্ষকদের মতে, এই সময়ে তাঁরা প্রশ্নপত্র তৈরি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং পরীক্ষা পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকেন। এর সঙ্গে ভোটের প্রস্তুতি, বুথ স্থাপন ও নির্বাচন পরিচালনার বাড়তি চাপ শিক্ষকদের ওপর এসে পড়বে। অন্যদিকে, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ও পরিবেশগত কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অভিভাবকরাও সন্তানের পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার সময় নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব সন্তানের মানসিক চাপের ওপর পড়তে পারে।

 

তাড়াহুড়োর কারণ নিয়ে প্রশ্ন

দীর্ঘদিন ধরে দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির নির্বাচন বকেয়া থাকলেও, পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে এই নির্দেশ কার্যকরের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। অনেকে ধারণা করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তড়িঘড়ি করে এই নির্বাচন এগিয়ে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, "স্কুল পরিচালনায় কমিটি জরুরি, তবে তা যেন শিক্ষার ক্ষতি করে না হয়। পরীক্ষার এই সংবেদনশীল সময়ে নির্বাচন আয়োজনের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, একই সময়ে নির্বাচন ও পরীক্ষা নিশ্চিতভাবেই শিক্ষার্থীদের অসুবিধায় ফেলবে। মন্ত্রণালয়ের উচিত— হয় নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা, নতুবা পরীক্ষার রুটিনে পুনর্বিবেচনা করা। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁদের কোনো সুস্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাবিদ ও সাধারণ অভিভাবকরা এখন জানতে চাইছেন—শিক্ষাব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে কিনা।

মন্তব্য করুন

৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিটি গঠনের নির্দেশ কার্যকর নয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পরিপত্র স্থগিত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর) চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং ১ ডিসেম্বর থেকে সব অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত করার যে পরিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করেছিল, তার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর পরিপত্রটি জারি করা হয়। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪ এ চলতি বছরের ২৮ ও ৩১ আগস্ট সংশোধনী আনে ঢাকাসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড। সংশোধনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনয়নসংক্রান্ত ১৩(১) বিধি এবং যোগ্যতাসংক্রান্ত ৬৪(৩) বিধি পরিবর্তন করা হয়।

এই দুই বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এমরান হোসেনসহ চারটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি গত রোববার রিট আবেদন করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফখরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।

পরে আইনজীবী ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই বোর্ডগুলো ম্যানেজিং কমিটি পরিচালনাসংক্রান্ত প্রবিধানমালায় সংশোধন আনে, যেখানে বলা হয়েছে— সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নবম গ্রেডের নিচে নন এমন কর্মকর্তা এবং অবসরপ্রাপ্ত হলে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন।

অর্থাৎ বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শুধুমাত্র সরকারি বা আধা সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ হতে পারবেন না। আগে যেখানে সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে হতেন, সেখানে এখন এই যোগ্যতাসীমা আরোপ করা হয়েছে— যা আবেদনকারীদের মতে বৈষম্যমূলক।

রিটে আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশোধিত ১৩(১) এবং ৬৪(৩) বিধি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। হাইকোর্ট রুল জারি করে ৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। ফলে বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাডহক কমিটি আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

 

মন্তব্য করুন

জাল সনদের অভিযোগে মতিঝিল আইডিয়ালের ২৩ শিক্ষককে দুদকে তলব

ভুয়া ও জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩ শিক্ষককে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১ অক্টোবর তাদের কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর পাঠানো দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভুয়া ও জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ২৩ শিক্ষকের বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ কারণে তাদের নামের তালিকাসহ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

তলব করা শিক্ষকদের আগামী ১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেছে দুদক। একই সঙ্গে তাদের বিএড সনদের মূল কপি, এক সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।

কোনো শিক্ষক জরুরি কারণে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে না পারলে তার বিএড সনদের মূল কপি ও এক সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অধ্যক্ষের জিম্মায় রাখার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের সনদ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনীয় কিছু নথি পাওয়ার পর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

দুদকের তলব করা ২৩ শিক্ষক হলেন—রুবিনা সুলতানা, মো. সুলাইমান, তাহমিনা ইয়াছমিন, মোহা. কাবিউল ইসলাম, সেবিকা রানী পাল, মোছা. নাহিদা আখতার, সালেহ আহমেদ, মো. মোজাম্মেল হক, মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান, মাহফুজা হাসনা, সালমা খাতুন, সুস্মিতা আক্তার, মো. আজিবর রহমান শেখ, মো. রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আবু বকর, মহিউদ্দিন, আজমল হোসেন, মো. ফরিদুর রহমান শেখ, নুরজাহান, মো. সিরাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ আল আমীন খান, মোহাম্মদ আফছার উদ্দিন এবং এন. এম. মঞ্জুরুল হক।

মন্তব্য করুন

এইচএসসি ফলে ইংরেজি বিপর্যয়

দেশে বিদ্যালয়ের প্রাথমিক পর্যায় থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছর ইংরেজি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে ইংরেজিভীতি কাটছে না। মুখস্থ-নির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতি এবং জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এই ভাষা দ্রুত মস্তিষ্ক থেকে হারিয়ে যায়। যার ভয়াবহ প্রতিফলন দেখা গেছে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে।ৃ

ফলাফলে ভয়াবহ চিত্র

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট অকৃতকার্য ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন শিক্ষার্থীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের ভরাডুবি হয়েছে ইংরেজি বিষয়ে। ইংরেজিতে পাশের হার ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত পাঁচ বছরে (২০২১-২০২৫) গড় পাশের হার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে (২০২১ সালে ৯৫.২৬% থেকে ২০২৫ সালে ৫৭.১২%)।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮.৮৩ শতাংশ পাশ করেছে। বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি, হিসাব বিজ্ঞান এবং আইসিটি—এই তিনটি বিষয়ে ফল সবচেয়ে খারাপ। ইংরেজিতে ফেল করেছেন ৩৮.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। ঢাকা ও বরিশালে পাশের হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও, যশোর বোর্ডে তা সর্বনিম্ন—মাত্র ৫৪.৮২ শতাংশ। বিশেষ করে, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে নম্বর পাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

দুর্বলতার মূল কারণ: অদক্ষ শিক্ষক ও মুখস্থ নির্ভরতা:

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই অদক্ষ শিক্ষক দ্বারা পাঠদান এবং মুখস্থ-নির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন।

  • শিক্ষকের অভাব ও অদক্ষতা: মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোর ৮৪ শতাংশ ইংরেজি শিক্ষকের নেই ইংরেজিতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। অর্থাৎ, ফল বিপর্যয়ের অন্যতম নেপথ্যে রয়েছে দক্ষ শিক্ষকের অভাব।

  • প্রাথমিক স্তরে দুর্বল ভিত্তি: শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিশুর ইংরেজির ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক স্তরে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী, প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রায় ১৬ ভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজি বইয়ের একটি বর্ণও পড়তে পারে না।

  • ১২ বছর পরেও কথোপকথনে অক্ষমতা: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষাজীবনে ১২ বছরের বেশি ইংরেজি পড়েও অনেক শিক্ষার্থী ভাষাটিতে সাধারণ কথোপকথন চালাতে এবং সাধারণ বাক্য গঠনে হিমশিম খায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন অধ্যাপক এই পরিস্থিতির জন্য শিক্ষার্থীদের ইংরেজি-ভীতি, শিখন পদ্ধতির জটিলতা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ মেধাবী মানুষের প্রয়োজন হলেও, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, অপর্যাপ্ত বেতন এবং উপযুক্ত সম্মানের অভাবের কারণে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট হচ্ছে না, যা ইংরেজির মান খারাপ হওয়ার একটি বড় কারণ।

উত্তরপত্রে হতাশাজনক চিত্র:

দীর্ঘদিন ধরে এইচএসসি পরীক্ষার পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন শিক্ষক জানান, অনেক শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রের দিকে তাকালে অর্থহীন ও অসংলগ্ন লেখা চোখে পড়ে। সঠিক বাক্য গঠন ও মৌলিক ব্যাকরণের উপস্থিতি থাকে না। বানান ভুল এতটাই বেশি যে তা পড়তে পরীক্ষকদের কষ্ট হয়। অনেক সময় মনে হয় শিক্ষার্থীরা যেন কখনো কলেজে যায়নি বা বই কেনেনি। তারা ই-মেইল, চিঠি, দরখাস্ত বা অনুচ্ছেদ লেখার মৌলিক নিয়ম সম্পর্কেও ধারণা রাখে না, যা ইঙ্গিত করে যে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বোঝার পরিবর্তে মুখস্থ বিদ্যা কাজে লাগিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে।

অন্যান্য কারণ:

শিক্ষাবোর্ডগুলোর কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতির জন্য আরও কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন:

  • মূল্যায়নে কঠোরতা: দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পরীক্ষায় সহানুভূতির নম্বর বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার প্রথা এবার পুরোপুরি বন্ধ করে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, ফলে ফলাফলে প্রকৃত সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটেছে।

  • অন্যান্য দুর্বলতা: মফস্বলের কলেজগুলোতে অনলাইন বা ডিজিটাল কনটেন্টভিত্তিক পড়াশোনার অভাব, শিক্ষকের ঘাটতি, পরীক্ষার্থীদের দুর্বল লেখনশৈলী এবং শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিল থেকে দূরে সরে যাওয়াও ফলাফলের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

বগুড়ার শেরপুরে ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড নিয়ে শিক্ষকদের মারামারি, বিদ্যালয়ে পুলিশ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞান ও শৃঙ্খলার কেন্দ্র। কিন্তু বগুড়ার শেরপুরে একটি বিদ্যালয়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারির ঘটনায় সেই শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এক সময় এমন উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যালয়ে পুলিশ ডাকতে হয়।

ঘটনার বিবরণ:

রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক একটার দিকে বগুড়ার শেরপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ সাহেব আলী এবং ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর মাহমুদুল হাসানের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের কারণ ও পরিণতি: অভিযোগ অনুসারে, বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড দিতে রাজি না হওয়ায় সহকারী শিক্ষক সাহেব আলী প্রথমে ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর মাহমুদুল হাসানকে মারধর করেন। ঘটনার সূত্রপাত এই পাসওয়ার্ড নিয়েই।

মাহমুদুল হাসানের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে যে, মাহমুদুল হাসানের পক্ষ নিয়ে কয়েকজন 'বহিরাগত' বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে সহকারী শিক্ষক সাহেব আলীকে পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে সাহেব আলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

শিক্ষকদের বক্তব্য: এ বিষয়ে ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর মাহমুদুল হাসান জানান, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ অনুযায়ী তিনিই বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড বসিয়ে থাকেন। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া তিনি পাসওয়ার্ড দিতে রাজি না হওয়ায় সহকারী শিক্ষক সাহেব আলী তাঁর ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। বহিরাগত আসার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তাঁকে মারধর করার খবর শুনে তাঁর এক ভাই বিদ্যালয়ে এসেছিলেন।

কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ শেখ জানান, ঘটনার পর বিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ আসার পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অবহিত করেছেন।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ছেড়ে থানায় ফিরে গেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনে জটিলতা, সময় বাড়ছে না; বৃহস্পতিবার মাউশির বৈঠক

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও তথ্যগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে অনেক শিক্ষক আবেদন করতে পারছেন না। সমস্যার সমাধানে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানালেও আপাতত তা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আলম মাহমুদ বলেন, বদলি আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত বদলি কার্যক্রম শুরু করতে কাজ করছে মাউশি।

এদিকে আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে মাউশি। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বদলির আবেদন করতে না পেরে প্রতিদিন অনেক শিক্ষক অধিদপ্তরে এসে সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। তাদের অধিকাংশের অভিযোগ একই ধরনের। অনেক শিক্ষকই দাবি করছেন, আবেদন করতে না পারার পেছনে তাদের কোনো ভুল নেই।

শিক্ষকদের অভিযোগগুলো মাউশির পক্ষ থেকে টেলিটককে জানানো হয়েছে। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের আসিফ নামের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার মাউশিতে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া ওই বৈঠকে শিক্ষকদের আবেদনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, যেসব সমস্যা কারিগরিভাবে সমাধানযোগ্য, সেগুলো শনাক্ত করে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এর মাধ্যমে আবেদন করতে না পারা শিক্ষকদের জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে বদলি কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকায় আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি আপাতত আমলে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মাউশি।

মন্তব্য করুন
×