এক বছরের মধ্যে প্রাথমিকে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে আগামী এক বছরের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা এ কর্মশালার আয়োজন করে।

‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক এ কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ হাজারের অধিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি শ্রেণি কার্যক্রম আরও কার্যকর এবং প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকলে শ্রেণি কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিশুকেন্দ্রিক হবে প্রাথমিক শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে শিশু ও তার শেখাকে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুধু বিদ্যালয়ের ভবন ও অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না। প্রতিটি শিশুর কার্যকর শেখা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং বাস্তব জীবনের উপযোগী সক্ষমতা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। শিশুরা কী শিখছে, কতটা শিখছে এবং শেখা বিষয় বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারছে কি না—তা নিয়মিত যাচাই ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধু বই পড়ানো নয় উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিটি শিশুর জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাই হবে মূল লক্ষ্য।

চালু হবে ‘স্পিকিং টেস্ট’

শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিশু নিজের কথা কতটা স্পষ্টভাবে বলতে পারছে এবং যোগাযোগ করতে পারছে কি না, তা যাচাইয়ে ‘স্পিকিং টেস্ট’ চালু করা হবে। এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে গিয়ে কার্যকরভাবে শিখবে, নিজের কথা বলতে পারবে এবং ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-ভাবনা ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে কার্যকর, মানসম্মত ও শিশুকেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে যে স্বপ্ন জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু শুধু বিদ্যালয়ে যাবে না, কার্যকরভাবে শিখবে। শিশুর জ্ঞান, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠাই হবে এ কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় অর্জন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাসুদ হোসেন এবং খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা ড. মো. শফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগের সব জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আগামী বছর থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিকে স্কুল ফিডিং: প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আগামী বছর থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এর আওতায় দেশের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে খাবার দেওয়া হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্প নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সাফল্য শুধু কতসংখ্যক শিশুকে খাবার দেওয়া হলো, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং খাবার দেওয়ার মাধ্যমে কতজন শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে, ঝরে পড়ার হার কতটা কমছে এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও শেখার আগ্রহ কতটা বাড়ছে—এসব সূচকের ভিত্তিতেই কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘২০২৭ সাল থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে।’ কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে বাস্তব ফলাফল যাচাই এবং নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ভুল খোঁজা নয়, সমাধান করাই লক্ষ্য

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা ভুল খুঁজে কাউকে দোষারোপ করার জন্য কাজ করছি না। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়, সেটি চিহ্নিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচির দুর্বলতা চিহ্নিত ও দূর করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে নিয়মিত তদারকি ও মূল্যায়নের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।

বিদ্যালয়ে আসবে, থাকবে ও শিখবে

প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা, ধরে রাখা এবং শেখার বিষয়টি একসঙ্গে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসবে, বিদ্যালয়ে থাকবে এবং শিখবে—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।’

শুধু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ালেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে সত্যিকার অর্থে শিখছে কি না, সেটিও নিয়মিত যাচাই করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, শিশুবান্ধব ও ফলাফলভিত্তিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না। বিদ্যালয়ে আসা প্রতিটি শিশু যাতে মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ৪৫০ প্রধান শিক্ষক

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহান, স্কুল ফিডিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন এবং দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা।

অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জেলার প্রায় ৪৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

নতুন শিক্ষানীতি নয়, প্রাথমিক শিক্ষায় আলাদা নীতিমালা হচ্ছে

দেশে নতুন কোনো শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসরণ করেই প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ সাটু হলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পৃথক ‘টিচার পলিসি’ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সঠিক মনিটরিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে।

কারিকুলামে পরিবর্তন

প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলামে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলা ও গণিতের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে পাঠ্যক্রমে ‘সিভিক’ ও ‘অ্যাক্টিভ এডুকেশন’ যুক্ত করা হচ্ছে।

চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও কারিকুলামের অংশ করা হবে বলে জানান তিনি।

৬৫ হাজারের বেশি স্কুলে ফিডিং কর্মসূচি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং তাদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিগগিরই ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে।

আগের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ মুসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের রান্না করা খাবার দেবে সরকার

শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ লক্ষ্যে খুব শিগগিরই রান্না করা খাবার সরবরাহের একটি পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে মায়েদের দায়িত্বে রান্না ও সরবরাহের মাধ্যমে কার্যক্রমটি পরিচালনার সম্ভাব্য বিভিন্ন মডেল পরীক্ষা করা হবে। পদ্ধতি একাধিক হতে পারে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।

মায়েদের নজরদারিতে কমছে অনিয়ম

মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির কারণে প্রকল্পটিতে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান, গন্ধ, স্বাদ কিংবা সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মায়েদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিড-ডে মিল কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও নিয়োগে পরিবর্তন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো—কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং শিক্ষক সংকটও তৈরি হবে না। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা দেওয়ার বিষয়েও নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য স্কুল অবকাঠামো

প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে সরকারি ব্যবস্থায় তা প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে সংস্কার ও উন্নয়ন করতে হবে।

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শুধু একটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনলেই হবে না উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক নিশ্চিত করা, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নত করা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এই পাঁচ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগই প্রাথমিক শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।

অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ ও ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলেছে, তিন মাসে প্রক্রিয়া এগোনোর লক্ষ্য

দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের পথ খুলেছে। এসব পদে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে মাঠপর্যায়ে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

গ্রেডেশন তালিকা তৈরির পর তা প্রকাশ করে আপত্তি ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। এরপর অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তালিকা সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে। পিএসসির অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে মামলা চলছিল। সেই আইনি জটিলতা এখন নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

তিনি বলেন, গ্রেডেশন তালিকা অনলাইনে উন্মুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটে তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা তৈরির পর নোটিশ দিয়ে ৩০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি বা অভিযোগ না এলে সংশ্লিষ্ট তালিকা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। পরে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা পিএসসিতে পাঠানো হবে।

তিন মাসে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য

প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে এই সময়ের মধ্যে পদোন্নতি কার্যকর হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।

মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, সব জেলা থেকে গ্রেডেশন তালিকা আসতে হবে। সব তালিকা হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। প্রায় তিন মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

৮০ শতাংশ পদে হবে পদোন্নতি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ পূরণে পদোন্নতিকে বড় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের সংশোধিত নিয়োগবিধিতে। বিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

পদোন্নতির জন্য সহকারী শিক্ষক পদে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসহ নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। ফলে বর্তমানে শূন্য থাকা ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদের বড় অংশই কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকেও দ্রুত পদক্ষেপ

প্রধান শিক্ষক সংকট নিরসনে সরকার দ্রুত কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং শিগগিরই পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের এক কর্মশালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পর সহকারী শিক্ষকের যেসব পদ শূন্য হবে, সেসব পদেও নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

যে আইনি জটিলতায় আটকে ছিল পদোন্নতি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য রয়েছে। তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নিয়ে মামলা।

২০১৩ সালে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তাদের আগের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারিত হবে—তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ-সংক্রান্ত বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করা হয়।

এর ফলে কারা জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আটকে যায় বড় পরিসরে পদোন্নতির কার্যক্রম।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে হাইকোর্টের রায়ের কারণে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলে যায়।

এখন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা তৈরির মাধ্যমে সেই পদোন্নতি কার্যক্রমই এগিয়ে নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

মন্তব্য করুন

ফরিদগঞ্জে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দায়িত্বে অনিয়মের অভিযোগ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা, সরকারি দায়িত্বের পরিবর্তে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সময় দেওয়া, বিদ্যালয় পরিদর্শনে অনিয়ম এবং বিভিন্ন কাজের জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বরাদ্দ থেকেও শতাংশ হারে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।

অভিযোগকারীদের দাবি, ফরিদগঞ্জে কর্মরত হলেও মো. শাহাদাত হোসেন নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায়। সেখানে ‘এক্সপোর্ট ফ্যাশন কর্নার’ নামে একটি পোশাকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সময় দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান না। তবে পরিদর্শনে গেলে প্রতি ভিজিটে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসাজনিত ছুটির সুপারিশের জন্য ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির সুপারিশের জন্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করানোর ক্ষেত্রেও অর্থ দাবি করা হয়। হাতে নগদ টাকা না থাকলে পরে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর কথা বলা হয় বলেও কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন।

বরাদ্দের অর্থ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে শাহাদাত হোসেন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনে সভাপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হওয়ায় প্রতিটি চেকে তিনি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিক, রুটিন মেইনটেন্যান্স ও ওয়াশব্লক মেইনটেন্যান্সসহ বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ থেকে তিনি ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ দাবি করতেন বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার নয়টি বিদ্যালয় ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দ পায়। অভিযোগ রয়েছে, শাহাদাত হোসেনের দায়িত্বাধীন ক্লাস্টারের বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকেও ২০ শতাংশ হারে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এতে কেউ আপত্তি করলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন।

চির্কা ক্লাস্টারের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিভিন্ন কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গেলে অনেক সময় তারা শাহাদাত হোসেনকে পান না। তিনি রামগঞ্জে তার পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সময় দেন বলে তারা শুনেছেন।

এসিআর নিয়েও অভিযোগ

শিক্ষকদের অভিযোগ, বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) সংক্রান্ত কাজেও অর্থ নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসিআরের প্রতিটি পাতার জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক আরও বলেন, শাহাদাত হোসেন এর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে কিছু সময় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ওই সময়ও শিক্ষকদের হয়রানি এবং বিভিন্ন কাজে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি তাদের।

যা বলছেন শাহাদাত হোসেন

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, তাদের পারিবারিক একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে তার বাবার নামে ছিল। গত জানুয়ারিতে তার বাবা মারা যাওয়ার পর বর্তমানে ছোট ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সেটি দেখাশোনা করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পারিবারিক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। এটি আমার বাবার নামে ছিল। বর্তমানে আমার ছোট ভাইসহ পরিবারের অন্যরা ব্যবসাটি দেখাশোনা করছে। তবে ব্যবসার অবস্থা ভালো নয়। যেকোনো সময় এটি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। অফিস সময়ে ব্যবসাটি আমি পরিচালনা করি না।’

ঘুষ নেওয়া ও বিভিন্ন সুপারিশের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য কিংবা শিক্ষকদের বদলি ও বিভিন্ন সুপারিশের ক্ষেত্রে অর্থ নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই। কর্তৃপক্ষ চাইলে বিষয়টি তদন্ত করতে পারে। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বদলির জন্য একটি কমিটি রয়েছে। সেখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই। আমি এখানে যোগ দেওয়ার পর এক বছর দুই মাস হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের এসিআরে আমি একটি স্বাক্ষরও দিইনি।’

অভিযোগ পেলে তদন্তের কথা শিক্ষা কর্মকর্তার

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা বলেন, ‘সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে আমার কাছে কখনো এসব অভিযোগ কেউ দেয়নি। কোনো শিক্ষক আমাকে এ বিষয়ে বলেননি।’

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একবার এ ধরনের একটি কথা উঠেছিল। তখন জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছিলাম, ব্যবসাটি তার বাবার নামে।’

অফিস সময়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে শিরিন সুলতানা বলেন, ‘অফিসে কাজের অনেক চাপ থাকে। এখানে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। অফিসের দায়িত্ব রেখে অন্য কোনো কাজ করার সুযোগ থাকার কথা নয়। তবে যে ব্যবসার কথা বলা হচ্ছে, সেটি তার নিজের নামে নয়। তার বাবার নামে লাইসেন্স রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’

অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখা হবে। কাজ করতে গেলে কারও ত্রুটি, ভুল, অন্যায় বা অনিয়ম হতেই পারে। কেউ যদি বিষয়টি আমাকে জানান, তাহলে আমি সেটি আমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শেয়ার করব।’

মন্তব্য করুন
×