ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, সম্ভাব্য তারিখ ৪ ডিসেম্বর

আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে পারে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত তারিখ জানা যাবে।

সম্ভাব্য তারিখ ৪ ডিসেম্বর

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে ডিসেম্বরের প্রথম শুক্রবার ৪ ডিসেম্বর পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই দিনটি চূড়ান্ত হবে। ৪ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে ডিসেম্বরের অন্য কোনো শুক্রবারে মেডিকেল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হতে পারে।

এর আগে গত আগস্টে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিন জানিয়েছিলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসেই মেডিকেল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। গত দুই বছরও একই মাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে এবারও ডিসেম্বরেই পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর

প্রতিবছর মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির মৌসুম শুরু হয়। তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এখন পর্যন্ত সবার আগে ভর্তি পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৫ ডিসেম্বর এবং চলবে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ছাড়া বাকি পরীক্ষাগুলো শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।

সূচি অনুযায়ী, ৫ ডিসেম্বর আইবিএ, ১২ ডিসেম্বর বিজ্ঞান, ১৯ ডিসেম্বর কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা এবং ২৬ ডিসেম্বর ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ফলে মেডিকেল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সময়সূচিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

বিইউপির ভর্তি পরীক্ষা জানুয়ারিতে, ৬ অনুষদের সূচি প্রকাশ

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষা। ছয়টি অনুষদের পরীক্ষা চার দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ ও ৯ জানুয়ারি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২ জানুয়ারি নেওয়া হবে আর্টস ও সোশ্যাল সায়েন্স অনুষদের পরীক্ষা।

এ ছাড়া ৮ জানুয়ারি সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদ, মেডিকেল স্ট্যাডিজ অনুষদ এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থাৎ, ছয়টি অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা ১, ২, ৮ ও ৯ জানুয়ারি—এই চার দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনের সময়সূচি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। আবেদন শুরুর ও শেষ হওয়ার তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

কাল সোমবার প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল, জানা যাবে দুই উপায়ে

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল উদ্বোধন করা হবে।

রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ইনফরমেশন অফিসার আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরীক্ষার ফলাফল উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন م এহছানুল হক মিলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দেশের সব শিক্ষা বোর্ড থেকে একযোগে ফলাফল প্রকাশ ও বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

যেভাবে জানা যাবে ফলাফল

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনের এসএমএস—এই দুই উপায়ে সহজেই ফল দেখতে পারবে:

১. ওয়েবসাইটের মাধ্যমে:

  • শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd বা eboardresults.com-এ প্রবেশ করতে হবে।

  • নির্ধারিত অপশন থেকে পরীক্ষার নাম (SSC/Dakhil/Equivalent), বছর (2026) এবং নিজের শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করতে হবে।

  • এরপর রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে।

  • স্ক্রিনে প্রদর্শিত সিকিউরিটি কোড (ক্যাপচা) সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করলেই মার্কশিটসহ ফলাফল পাওয়া যাবে।

২. এসএমএসের মাধ্যমে (যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে):

ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে দ্রুত ফলাফল জানা যাবে। নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের জন্য:

    মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে: SSC <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম ৩ অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> 2026 এবং পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।

    (উদাহরণ: ঢাকা বোর্ডের জন্য SSC DHA 123456 2026 লিখে পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে)

  • মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (দাখিল) জন্য:

    মেসেজ অপশনে লিখতে হবে: DAKHIL <স্পেস> MAD <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> 2026 এবং পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।

  • কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জন্য:

    মেসেজ অপশনে লিখতে হবে: SSC <স্পেস> TEC <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> 2026 এবং পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।

ফিরতি মেসেজে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত ইআইআইএন (EIIN) নম্বর ব্যবহার করে বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট থেকে একযোগে প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করতে পারবে।

মন্তব্য করুন

রাজউক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসিতে প্রায় শতভাগ সাফল্য, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০০-র বেশি শিক্ষার্থী

রাজধানীর উত্তরার রাজউক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবারও এইচএসসি পরীক্ষায় দারুণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ১৬৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেবল একজন অকৃতকার্য হয়েছেন। অর্থাৎ, ১৬৯২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

ফলাফলে দেখা যায়, রাজউকের ১২১৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৭১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যেরই প্রতিফলন।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়—

  • বিজ্ঞান বিভাগে ১১৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১৩২ জন পাস করেছেন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৬৩ জন শিক্ষার্থী।

  • ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪২৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, সবাই পাস করেছে। এদের মধ্যে ১৮৬ জনের ফল জিপিএ-৫।

  • মানবিক বিভাগেও ১৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ৬৯ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

অন্যদিকে, জাতীয়ভাবে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছর (২০২৪) এই হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ফলে এবারে পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

তবে জাতীয় গড়ের তুলনায় রাজউক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফলাফল অনেক এগিয়ে, যা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ের স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।

মন্তব্য করুন

গুচ্ছ নয়, চুয়েটে এবারও একক ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি

 

একসময় দেশের তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) সমন্বিতভাবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিত। প্রায় চার বছর এ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার পর আবারও পৃথক ভর্তি পরীক্ষায় ফিরে যায় বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি।

আসন্ন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য ইতোমধ্যে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে কুয়েট ও রুয়েট। তবে এখনো ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ জানায়নি চুয়েট। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভর্তি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এরপরই ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

এ বিষয়ে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘একসময় চুয়েট প্রকৌশল গুচ্ছের সঙ্গে ছিল। তবে বর্তমানে এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবারও ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য প্রাথমিক কিছু কাজ শুরু করেছি। ভর্তি কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এরপর চলতি সপ্তাহ অথবা আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসে ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।

চুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা কবে হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার খবর তিনি গণমাধ্যমে পেয়েছেন। তবে চুয়েটের পরীক্ষার তারিখ এককভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বৈঠকে আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আবারও গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে অধ্যাপক সায়েম বলেন, পৃথক নাকি যৌথভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত শুধু চুয়েটের ওপর নির্ভর করছে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে চুয়েট সব ধরনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কুয়েট ও রুয়েট ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। ফলে চুয়েটের পরীক্ষার তারিখ কবে নির্ধারণ করা হবে, সেদিকেই এখন নজর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের।

মন্তব্য করুন

বিকেএসপিতে বি-স্পোর্টস কোর্সে ভর্তি, আবেদন ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তিন বছর মেয়াদি বি-স্পোর্টস প্রথম বর্ষ স্নাতক (পাস) শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। জাতীয়, বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে খেলাধুলার অভিজ্ঞতা থাকা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রার্থীরা এ কোর্সে আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের সময়সূচি

অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায়। পরীক্ষা নেওয়া হবে বিকেএসপির জিরানী, সাভার, ঢাকা ক্যাম্পাসে।

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ৮ অক্টোবর ২০২৬ বিকেএসপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

আবেদনের যোগ্যতা

২০২১, ২০২২ বা ২০২৩ সালে এসএসসি/সমমান এবং ২০২৩, ২০২৪ বা ২০২৫ সালে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

এর পাশাপাশি প্রার্থীদের জাতীয়, বিভাগীয় অথবা জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড়ি অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

ছেলেদের জন্য খেলাধুলার বিষয়গুলো হলো: ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, অ্যাথলেটিক্স, জিমন্যাস্টিক্স, টেনিস, সাঁতার, বাস্কেটবল, বক্সিং ও শুটিং।

মেয়েদের জন্য খেলাধুলার বিষয়গুলো হলো: অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, ফুটবল, ক্রিকেট, জিমন্যাস্টিক্স, টেনিস, সাঁতার, শুটিং ও হকি।

আবেদন ও ফি

ভর্তি আবেদনের জন্য ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।

আবেদন করতে হবে bkspds.gov.bd অথবা bksp.gov.bd ওয়েবসাইটে।

আবেদনের ধাপগুলো হলো—Applicant Registration > Apply > Admission on B.Sports (pass) Under NU 2025-2026 > Form Fillup > Submit > Payment > PDF Download > Print

পরীক্ষার দিন যা সঙ্গে নিতে হবে

ক্রীড়া মেধা যাচাইয়ের দিন প্রার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের প্রিন্ট কপি, সদ্য তোলা চার কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং এসএসসি ও এইচএসসির মার্কশিট, প্রশংসাপত্র ও খেলার অভিজ্ঞতার সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। এসব কাগজপত্র সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই।

ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট খেলার উপযোগী পোশাক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে আনতে হবে।

চূড়ান্ত ভর্তির সময় প্রার্থীকে খেলার সনদপত্র এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মূল মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র জমা দিতে হবে।

যোগাযোগ

ভর্তি-সংক্রান্ত সাধারণ তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০১৭১৩২৪৬০৪০, ০১৯১৭৭৮০৪৩০ ও ০১৭২০২০৬০৭৬ নম্বরে।

অনলাইন রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত সমস্যায় ০১৬৭২০৯৩৩৪৬ নম্বরে অফিস চলাকালীন সময়ে যোগাযোগ করা যাবে।

মন্তব্য করুন

২১ নভেম্বর থেকে স্কুলে ভর্তির আবেদন, লটারি ১৪ ডিসেম্বর

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ২১ নভেম্বর। এবারও শিক্ষার্থী ভর্তি হবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এরপর ২১ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

লটারি অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ডিসেম্বর, এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ১৭ থেকে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

এর আগে, ১২ থেকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অনলাইন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করবেন এবং শূন্য আসনের তথ্য আপলোড করবেন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড


আসন ও আবেদনসংখ্যা

গত বছর সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৬২৫টি বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এর মধ্যে—

  • বেসরকারি স্কুল ছিল ৪ হাজার ৯৪৫টি, শূন্য আসন ছিল প্রায় ১০ লাখের বেশি

  • সরকারি স্কুল ছিল ৬৮০টি, শূন্য আসন প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার

তবে চাহিদা ছিল অনেক বেশি। সরকারি স্কুলে আবেদন পড়েছিল ৬ লাখ ২৫ হাজার ৯০৪টি, অর্থাৎ শূন্য আসনের প্রায় ছয়গুণ। বেসরকারি স্কুলে আবেদন পড়ে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার। ফলে প্রতি বছরই সরকারি ও নামকরা বিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা হয়ে ওঠে তীব্র।


ভর্তি ফি ও নীতিমালা

ভর্তির আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা
ভর্তি ফি ও অন্যান্য চার্জের সর্বোচ্চ সীমা আগের মতোই থাকছে—

  • মফস্বল এলাকায়: সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা

  • উপজেলা বা পৌর এলাকায়: সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা

  • মহানগর এলাকায় (ঢাকা ছাড়া): সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা

  • ঢাকার এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান: সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা

  • আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান: সর্বোচ্চ ৮,০০০ টাকা

  • ইংরেজি ভার্সনের স্কুলে ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা হতে পারবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়ন ফি হিসেবে ৩,০০০ টাকার বেশি নিতে পারবে না। প্রতি বছর সেশন চার্জ নেওয়া যাবে, তবে পুনঃভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না।


বয়সসীমা

আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীর বয়স হতে হবে ৫ থেকে ৭ বছর
অর্থাৎ, যার জন্ম ১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০-এর মধ্যে, কেবল তারাই প্রথম শ্রেণিতে আবেদন করতে পারবে।



এই বছরও স্কুল ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। লটারির ফলাফলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাবে পছন্দের বিদ্যালয়ে ভর্তির। সরকারি স্কুলে আসনসংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রতিযোগিতা হবে আগের বছরের মতোই কঠিন।

মন্তব্য করুন
×