গোবিপ্রবিতে ছাত্র গণমঞ্চ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, বিক্ষোভ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) শাখা ছাত্র গণমঞ্চের সদস্যসচিব নাফিস আহমাদ শাওনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও সহ-সভাপতি আনোয়ার জড়িত বলে দাবি করেছে ছাত্র গণমঞ্চ। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শফিকুল ইসলাম শফিক।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিপুস ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্র গণমঞ্চ। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক শান্ত শাহরিয়ার, যুগ্ম আহ্বায়ক নিঘাত রৌদ্র, আহত সদস্যসচিব নাফিস আহমাদ শাওনসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্র গণমঞ্চের দাবি, সোমবার শহীদ তিতুমীর হলে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে শাওন তাদের থামাতে এগিয়ে যান। একই সঙ্গে হলের আসবাবপত্র বা অন্য কোনো জিনিস যাতে ভাঙচুর না হয়, সে বিষয়েও তিনি বাধা দেন। তখন রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং করে শফিকুল ইসলাম শফিক ও আনোয়ারের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, হামলায় শাওন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার ডান হাতের কবজিতে ফাটল শনাক্ত করেন।
সমাবেশে ছাত্র গণমঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক নিঘাত রৌদ্র বলেন, ‘এই প্রশাসন হলো জমিদার, হামলাকারীরা জমিদারের পেয়াদার পেয়াদা আর সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলো প্রজা। এই হামলাকারীদের কারওই ছাত্রত্ব নেই। তারা সবসময় সরকারি দল ও প্রশাসনের মদদে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালায়। প্রত্যেকটি মারামারির ঘটনায় তাদের সামনের সারিতে পাওয়া যায়, অথচ তাদের বিচার কখনোই হয় না। এবার প্রশাসন তাদের বিচার না করলে আমরা প্রশাসনের বিচার করব।’
আহত নাফিস আহমাদ শাওন বলেন, ‘আমি বলছি না, আমি তদন্ত চাই; আমি বলছি, তদন্ত করতে হবে এবং সর্বোচ্চ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কার্যকর করতে হবে। আমরা আর প্রশাসনকে সন্ত্রাস পুষে বড় করতে দেব না।’
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। তিনি বলেন, ‘কাউকে গিয়ে মারা হয়নি এবং শাওনের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের দেখাও হয়নি। এমনকি ঘটনাস্থলে শাওন ছিল কি না, তাও জানি না। এই ধরনের অভিযোগ কেন এবং কী কারণে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি আমি বলতে পারি না।’
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বরং আমি নিজেই হাসপাতালে শাওনকে দেখতে গিয়েছিলাম এবং তার হাতে আঘাত লেগে ফাটল ধরেছে, তা প্রত্যক্ষ করেছি। শাওনের ওপর আমি হামলা করিনি। আর তার ওপর কে হামলা করেছে, তাও জানি না।’
সমাবেশ শেষে ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক শান্ত শাহরিয়ার জানান, হামলার ঘটনায় বিচার দাবিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।