বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের জন্য মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করবে মাউশি

৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনের প্রশিক্ষণ, আবেদন ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

 

 

মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাউশি জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

গঠন হবে মাস্টার ট্রেইনার পুল

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল প্রস্তুত করা হবে। এ জন্য মাউশির মহাপরিচালক একটি প্রশিক্ষক নির্বাচন নীতিমালা অনুমোদন করেছেন।

অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মাস্টার ট্রেইনার নির্বাচন করা হবে।

যেসব শর্ত মানতে হবে

মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের অগ্রায়ণপত্র দাখিল করতে হবে। ওই পত্রে আবেদনকারীকে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অনুমতি এবং প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণে ক্লাস নেওয়ার জন্য অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদপত্র বা অফিস আদেশসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণক জমা দিতে হবে।

আবেদনের সময় বাড়ল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদনের পূর্বনির্ধারিত শেষ সময় ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। শিক্ষকদের অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে।

আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত লিংকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ ছয়টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে কমিটিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

এদিন সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তাঁর পক্ষে সংসদের চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (বরগুনা-২) সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এসব কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিতে যারা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া ছাড়াও কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), মো. সেলিমুজ্জামান মোল্লা (গোপালগঞ্জ-১), মো. জাহাঙ্গীর আলী মিয়া (মাদারীপুর-২), তাহসিনা রুশদীর (সিলেট-২), বীথিকা বিনতে হোসাইন (মহিলা আসন-২৪), মো. মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১) এবং আতিকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও কৃষি, মহিলা ও শিশু, সড়ক পরিবহন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও এদিন গঠন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ইউনেস্কোর ‘ডিজিটাল লার্নিং উইকে’ যোগ দিতে ফ্রান্সে শিক্ষামন্ত্রী

ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এ অংশ নিতে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তিনি প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আগামী ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য—‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে শিক্ষা: সত্য, দ্বন্দ্ব, সীমানা’ (Education in the Age of AI: Facts, Frictions, Frontiers)।

সূচি অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো সদর দপ্তরে ‘Age Appropriateness and AI in Education’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেবেন শিক্ষামন্ত্রী।

পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ‘Teachers at the Center: Agency, Competencies and the Teacher-Student Relationship’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এবারের ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষার ভবিষ্যৎ, শিক্ষকদের ভূমিকা, এআই ব্যবহারের উপযুক্ততা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন শিক্ষামন্ত্রী

চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

সফরে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, সফরকালে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক ফোরাম ও সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সফরের অংশ হিসেবে চীনের বিভিন্ন কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করবেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসব সফরের মাধ্যমে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় চীনের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ হবে।

সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এসব সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ কার্যক্রমের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপঞ্জিতে ভিন্নতা—পূজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে টানা বারো দিন, মাদরাসা-কারিগরিতে মাত্র চার দিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই। কারণ ওই দুই দিন (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক বন্ধের পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজার ছুটি কার্যকর হবে। একটানা ছুটি কাটিয়ে ৭ অক্টোবরের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু হবে ক্লাস।

একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বারো দিনের ছুটি মিলবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবার গরমিল ছাড়া ক্লাস চলবে যথারীতি।

অন্যদিকে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকবে মাত্র দুই দিন—১ ও ২ অক্টোবর। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে মোট ছুটি দাঁড়াবে চার দিনে। ৫ অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবার চলবে পাঠদান।

👉 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটি দীর্ঘায়িত হলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে সীমিত এই ছুটির মেয়াদ শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চার ধারাবাহিকতায় রাখবে এক ধাপ এগিয়ে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশ: দিনটি ‘ঐতিহাসিক’ - উপদেষ্টা

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে ‘সৌভাগ্যবান’ বলেও মনে করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশ করার বিষয়ে সম্মতিপত্র জারি করে। এরপর এক বিবৃতিতে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আজকের এই দিনটি শিক্ষা বিভাগের জন্য সত্যিই ঐতিহাসিক। চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে ৭.৫ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) হারে বাড়িভাড়া কার্যকর হবে, আর ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আরও ৭.৫ শতাংশ যুক্ত হয়ে মোট ১৫ শতাংশ ভাতা চালু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সম্মানিত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে পেরে একজন শিক্ষক হিসেবে এবং শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা উপদেষ্টা বিশ্বাস করেন—শিক্ষকরা সমাজে আরও বেশি সম্মানের দাবিদার, এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।

সি আর আবরার বলেন, “বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পথটা সহজ ছিল না। নানা মতভেদ, বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল। কিন্তু কোনো বিতর্কে জড়ানো ছাড়া আমরা ন্যায্য ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যেই কাজ করে গেছি।”

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নেপথ্যে থেকে শিক্ষা উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপদেষ্টা পরিষদ এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “এটি কারও একার অর্জন নয়; এটি যৌথ সাফল্য। শিক্ষকদের আন্দোলন আমাদের বাস্তবতা বুঝিয়েছে, সরকার দায়িত্বশীলভাবে সাড়া দিয়েছে, আর একসঙ্গে কাজ করার ফলেই আমরা আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি—যেখানে সম্মান, সংলাপ ও সমঝোতাই জয়ী হয়েছে।”

শেষে তিনি বলেন, “এখন সময় ক্লাসে ফেরা, শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়া—আমাদের আসল কাজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার। আজকের এই সমঝোতা হোক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও মানসম্মত শিক্ষার নতুন সূচনা। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিতে পারব।”

মন্তব্য করুন

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

দেশের ৫৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন এ প্রস্তাব দিয়েছেন।

সম্প্রতি বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন। পরে সভার কার্যবিবরণীতে প্রস্তাবটি সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন বিষয়ক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বগুড়ার সব সংসদ সদস্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।

সভায় বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলেই বগুড়ায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। এরপর বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের তেমন উন্নয়ন হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া চারবার বগুড়া থেকে নির্বাচন করে প্রতিবারই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।

এ সময় তিনি বগুড়ায় নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব দেন।

পুরোনো আইনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ২০০১ সালের ১৫ জুলাই আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। দীর্ঘদিন পর ২০২৩ সালের ১০ মে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০০১ সালের বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ২০১৯ সালে অনুমোদিত নতুন আইনের খসড়া বাতিল করা হয়। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ২০০১ সালেই একটি আইন পাস হয়েছিল।

তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন জানিয়েছিলেন, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ বিষয়ে মন্ত্রিসভার নীতিগত সম্মতি ছিল। তবে ভেটিংয়ের জন্য আইনটি লেজিসলেটিভ বিভাগে পাঠানোর পর দেখা যায়, ২০০১ সালেই এ বিষয়ে একটি আইন পাস করা হয়েছিল। ওই আইনে সরকার গেজেট প্রকাশ করলেই আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইন পাস হওয়ার পর সরকার পরিবর্তন হলে বিষয়টি আর এগোয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

প্রথম উপাচার্য নিয়োগ ও কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ৩ জুন বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর গত ৭ জুলাই ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত করা হয়। এর পরিবর্তে জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬’ বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

তবে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অনুষদের অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রতিটি অনুষদে দুটি করে বিভাগ চালুর জন্য ইউজিসিতে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×