চুয়েটের অচলাবস্থা কাটাতে সমন্বিত উদ্যোগ, দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর আশা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাম্প্রতিক প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক প্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চুয়েট এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বিত উদ্যোগে সংকট নিরসনে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপাচার্য বলেন, প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ তাঁর সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও প্রস্তাব দিচ্ছেন।
অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় তিনি অনলাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসকে অস্থায়ী প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
চুয়েটের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এগিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনও। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সংগঠনটি শিক্ষক সমিতির সঙ্গে আলোচনা ও মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, চুয়েটকে একটি পরিবারের মতো বিবেচনা করে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। উপাচার্য, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, চলমান উদ্যোগ সফল হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েটে স্থবির হয়ে পড়া একাডেমিক কার্যক্রম ও পাঠদান পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
এদিকে, চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও এলামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মেসবাহ বলেন, শিক্ষার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও একাডেমিক কার্যক্রমের উপযোগী রাখতে তাঁরা সবসময় কাজ করে আসছেন। নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
ইঞ্জিনিয়ার মেসবাহ বলেন, ‘পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর কথাও বলেছি। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষকরা আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসেননি।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনা শুরু হলে সমস্যার সমাধান হবে এবং চুয়েটের শিক্ষার পরিবেশ আবারও স্বাভাবিক, সুশৃঙ্খল ও একাডেমিকভাবে অনুকূল হয়ে উঠবে।