জাবিতে শিক্ষকদের মূল্যায়নে জাকসুর ওয়েবসাইট, এখনই ব্যবহার করতে পারবেন না শিক্ষার্থীরা

শিক্ষকদের পাঠদান, আচরণ, সময়ানুবর্তিতা ও একাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়নের লক্ষ্যে ওয়েবসাইট তৈরি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। তবে ওয়েবসাইটটি আপাতত শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গঠিত কমিটির কাছে এটি হস্তান্তর করবে জাকসু।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাকসু ভবনে ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ একাডেমিক কাউন্সিল বিষয়টি গ্রহণ করলেও এটি এখনো কমিটির পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জাকসু নিজেদের উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘সদিচ্ছা থাকলে শিক্ষক মূল্যায়নের মতো একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব—আমরা সেটিই দেখিয়ে দিতে চাই। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কমিটি ওয়েবসাইটটি পর্যালোচনা করে তাদের প্রস্তাবনায় বিষয়টি বিবেচনা করবে।’

জাকসু জানিয়েছে, ওয়েবসাইটে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী কেবল নিজের বিভাগের এবং যে শিক্ষকের কোর্স করেছেন, সেই শিক্ষককে মূল্যায়ন করতে পারবেন। ফলে সংশ্লিষ্ট কোর্স না করা শিক্ষক কিংবা বিভাগের বাইরের কোনো শিক্ষককে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে না।

ওয়েবসাইটটির ডেভেলপার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সালমান আহমেদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া অফিসিয়াল ই-মেইল ছাড়া কেউ সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারবেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের তথ্যের গোপনীয়তা এবং মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

প্রশাসনের দায়িত্ব, বললেন উপাচার্য

জাকসুর উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে না প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নসহ জাকসুর কয়েকটি দাবির বিষয়ে কাজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর এখতিয়ার জাকসুর নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

তবে জাকসুর তৈরি ওয়েবসাইটটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘জাকসুকে ধন্যবাদ জানাই। তারা একটি নমুনা তৈরি করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি এটি বিশ্লেষণ করে কীভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং এতে কোনো সংকট বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করতে পারবে। এ ধরনের একটি উদ্যোগ অবশ্যই মূল্য সংযোজন করবে।’

ঢাবিতেও চালু হয়েছে শিক্ষক মূল্যায়ন

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করে। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে duevaluation.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ওয়েব অ্যাপটির উদ্বোধন করেন।

মন্তব্য করুন

জাবির হলে সিগারেট কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ, দোকান বন্ধের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের অধীন ‘হাসান টি স্টোরে’ সিগারেট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও দোকানদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হল প্রাধ্যক্ষকে অবগত না করেই হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) শরীফুল ইসলামের চাপের মুখে দোকান বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দোকানদার হাসান।

তবে দোকান বন্ধের বিষয়টি আগে জানতেন না বলে জানিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার।

দোকানদার হাসান জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে হলের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ তার দোকানে এসে সিগারেট আছে কি না জানতে চান। দোকানে সিগারেট না থাকায় তিনি ‘সিগারেট নেই’ বলে জানান। এ নিয়ে বায়েজিদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

হাসান বলেন, ‘আমি বলেছি সিগারেট নেই। সিগারেট বিক্রি করি না—এ কথা বলিনি। বিষয়টি হয়তো বায়েজিদ হল সংসদের জিএসকে জানান। পরে হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহির স্যার আমাকে ডাকেন। তার সঙ্গে কথা বলার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর একজন গার্ড এসে জানান, হল থেকে দোকান বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’

তবে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের আগে হল প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, ‘আমি হাসান ভাইকে দুইবার জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন আমার এক বন্ধুও সঙ্গে ছিল। পরে হলের জিএসসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই। গার্ডদেরও জানিয়েছি। তারা বলেছে, আপাতত দোকান বন্ধ থাকুক।’

দোকান বন্ধের বিষয়ে হল সংসদের জিএস শরীফুল ইসলাম বলেন, জিনিসপত্র কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হলের সবাই অবগত। আপাতত দোকানটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝামেলা মিটে না যাওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ থাকবে। হল প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। সবাই বসে আলোচনা করে আগামীকালের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তবে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানতাম না। যার সঙ্গে ঘটনা ঘটেছে, সেই শিক্ষার্থী ও দোকানদার—কেউই আমাকে আগে কিছু জানায়নি। দু’পক্ষকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি ফয়সালা করব।’

মন্তব্য করুন

গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক-গবেষক পেলেন সম্মাননা

উচ্চমানের গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ২ শতাংশ কিউ-ওয়ান জার্নালে গবেষণা প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ‘টপ শতাংশ ব্র্যাকইউ রিসার্চার’ সম্মাননা দেওয়া হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কোয়ালিটি জার্নাল পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘প্রমোটিং রিসার্চ এক্সেলেন্স’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে টানা তৃতীয়বারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হলো।

এ বছর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রকাশিত ২২৮টি কিউ-ওয়ান জার্নালের গবেষণাপত্র পুরস্কারের আওতায় এসেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কিউ-ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ।

পুরস্কারের আওতায় আসা গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে ১২৪টি নিজ নিজ বিষয়ের বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০ শতাংশ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ১০৪টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে কিউ-ওয়ান শ্রেণির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় জার্নালে।

গবেষণায় উঠে এসেছে সমসাময়িক নানা বিষয়

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের এসব গবেষণায় অর্থনীতি, শিল্প, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের তুলনায় কেন বেশি সুদ নেয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় কীভাবে কমানো যায়—এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ২১ হাজার ৯১৯টি গবেষণাপত্রের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অবদান রয়েছে।

স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক সামিয়া হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত নিয়ে পরিচালিত গবেষণা মজুরি পর্যালোচনার উপযুক্ত সময় নির্ধারণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি এ খাতে মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় কারা কাজ করেন, সে সম্পর্কেও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সাদিয়া হামিদ কাজী বলেন, স্যামসাং আরঅ্যান্ডডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অর্থায়নে ভিডিও প্রসেসিং গবেষণা প্রকল্প এবং ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় আটটি উন্নত আইসি কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে শিল্পখাত ও দেশের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ড. লরা জে রাইখেনবাখ বলেন, তাদের গবেষণার ফলাফল বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অসংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জাতীয় মডেল ফার্মেসি কার্যক্রম চালুতেও এসব গবেষণা ভূমিকা রাখছে।

গবেষণা ও পাঠদান একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও পাঠদানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন জ্ঞান তৈরির প্রক্রিয়াতেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহতভাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে। গবেষণার এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, ‘আমরা অনেক সময় জ্ঞান ও গবেষণার জন্য বাইরের দিকে তাকাই। কিন্তু আমাদের কাছে ব্র্যাক রয়েছে, আর ব্র্যাকের রয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার।’

গবেষণালব্ধ জ্ঞান আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন রিসার্চ মেট্রিকস কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আবদুল মালেক আজাদ।

এ সময় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস এএফএম ইউসুফ হায়দার এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের ডিন, চেয়ারপারসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের আধুনিকায়ন, যুক্ত হলো অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ভার্চুয়াল ক্লাসরুমটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের যৌথ উদ্যোগে এই ক্লাসরুমে সম্প্রতি একটি অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আধুনিক এই স্মার্টবোর্ডের মাধ্যমে এখন থেকে শিক্ষক ও গবেষকরা আরও সহজে এবং কার্যকরভাবে ইন্টারেক্টিভ ক্লাস, সেমিনার ও বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন পরিচালনা করতে পারবেন। এর ফলে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি পাঠদান ও তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া আরও প্রাণবন্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুগোপযোগী এই ক্লাসরুমটি এখন থেকে মূলত পিএইচডি (PhD) গবেষকদের ডিফেন্স এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেমিনারের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত ভার্চুয়াল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শিক্ষাব্যবস্থার এই গুণগত আধুনিকায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় বিডিরেন (BdREN)-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব ও বিশ্বমানের হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল নিয়ামত এলাহি

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আইন, ২০১৩-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চার বছরের জন্য নিয়োগ

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটে—পর্যন্ত এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন। পাশাপাশি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন।

সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে থাকতে হবে

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় তাঁর নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন

গোবিপ্রবির নতুন ভিসির বিরুদ্ধে ইউজিসির চিঠি জালিয়াতির অভিযোগ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চিঠি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগ আড়াল করতে ইউজিসির একটি চিঠির আদলে ভুয়া নথি তৈরি করে তা সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে চার বছরের জন্য গোবিপ্রবির ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তাকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২০ মাস প্রো-ভিসির দায়িত্ব পালনের পর তিনি ভিসির দায়িত্ব নেন।

ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে সাংবাদিকদের কাছে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়। এতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত ‘২০ লাখ টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানাতে চাওয়া সেই অধ্যাপককে এবার ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলো’ শীর্ষক প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়।

প্রতিবাদলিপির সঙ্গে ইউজিসির একটি চিঠিও পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই চিঠির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

ইউজিসির চিঠি ‘ফেইক’, বললেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা

প্রতিবাদলিপি ও চিঠিটি সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর পাশাপাশি ফোনও করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম। এ সময় তিনি দাবি করেন, শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি মীমাংসিত হয়েছে এবং এ ঘটনায় ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে চিঠিটি পর্যালোচনা করে এবং ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান জানান, সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো চিঠিটি ‘ফেইক’।

তিনি একই তারিখ ও স্মারক নম্বরের একটি প্রকৃত চিঠি পাঠান। সেখানে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রমে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তদন্ত শেষে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য গত ৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি পাঠায় ইউজিসি।

অভিযোগ উঠেছে, ইউজিসির তদন্ত কমিটি গঠনের ওই চিঠির একই তারিখ ও স্মারক নম্বর ব্যবহার করে একটি ভুয়া চিঠি তৈরি করা হয়েছে। পরে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়।

২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

গোবিপ্রবির শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সিফাত হোসেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি তৎকালীন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগপত্রে সিফাত উল্লেখ করেন, তিনি গোবিপ্রবির পরিসংখ্যান বিভাগে প্রভাষক পদে আবেদন করেছিলেন। নিয়োগ পরীক্ষার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রো-ভিসির সঙ্গে তার একাডেমিক পরিচয়ের সূত্রে যোগাযোগ হয়। পরে তাকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

সিফাতের অভিযোগ, ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে তোফায়েল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ভিসির পিএস পরিচয় দেন। তিনি চাকরি পেতে হলে ‘খুশি’ করার কথা বলেন এবং প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই অর্থের অর্ধেক নিয়োগের আগে এবং বাকি অর্ধেক নিয়োগপত্র পাওয়ার পর দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য সতর্ক করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিফাত। তার দাবি, আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লিখিত পরীক্ষা থাকলেও এবার লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপের অভিযোগ

অভিযোগপত্রে সিফাত আরও দাবি করেন, অভিযোগটি ইউজিসিতে জমা দেওয়ার পর তা কোনোভাবে তৎকালীন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের হাতে চলে যায়। এরপর তাকে এবং তার পরিবার ও কর্মস্থলে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন সিফাত। তবে পরে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি জানান, অভিযোগ প্রত্যাহারের চিঠিটি তিনি নিজে লেখেননি; শুধু তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন। চিঠিতে ব্যবহৃত তারিখও ব্যাকডেটেড ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ওই প্রার্থী ভুল স্বীকার করে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

চিঠি জালিয়াতির বিষয়ে যা বলছে বিশ্ববিদ্যালয়

ইউজিসির চিঠি জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ভিসির নির্দেশে তিনি সেদিন চিঠি ও প্রতিবাদলিপি সাংবাদিকদের পাঠিয়েছিলেন। পরে চিঠিটি জালিয়াতি করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তিনি সেটি পাঠিয়েছেন।

অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কল ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, ভিসি ওই দিন ঢাকায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে থাকায় কথা বলতে পারছেন না।

এদিকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ঘটনাটি দেখবেন বলে জানান।

সরকারি চাকরি আইনে শাস্তির বিধান

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিম্ন পদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত।

তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন
×