জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল-পিএইচডিতে ভর্তি, আবেদন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন গবেষক ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এসব প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গেটওয়ে অথবা পে-স্লিপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত প্রাথমিক আবেদন ফি জমা দিতে হবে। আবেদনকারীদের অনলাইন থেকে প্রাথমিক আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি আগামী ১১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে সংগ্রহ করতে হবে।

এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য নির্ধারিত বিষয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন বাস্তবায়নের দাবিতে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের লং মার্চ ঘোষণা

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আগামী সোমবার (১৩ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা শিক্ষাভবন অভিমুখে লং মার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা বলেন,“আমরা এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে এক কদম পিছিয়ে আসা মানে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা আশা ও আত্মত্যাগকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, বহু প্রতীক্ষিত এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারি না হলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা বলেন,“এই আন্দোলন শুধু দাবি নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ইতিহাসে এত সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও পরিণত আন্দোলন আগে দেখা যায়নি। আমরা আমাদের শেষ পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।”

এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের জন্য একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে—

  • সায়েন্স স্কুলে থাকবে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ

  • আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ স্কুলে থাকবে সরকারি বাংলা কলেজ

  • বিজনেস স্কুলে অন্তর্ভুক্ত হবে সরকারি তিতুমীর কলেজ

  • ল অ্যান্ড জাস্টিস স্কুলে থাকবে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুসারে শিক্ষার্থীরা প্রথম চার সেমিস্টারে সাধারণ নন-মেজর কোর্স করবে, এরপরের চার সেমিস্টারে নির্দিষ্ট বিষয়ে (ডিসিপ্লিনভিত্তিক) অধ্যয়ন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস এমন স্থানে স্থাপন করা হবে, যা সব শিক্ষার্থীর জন্য যাতায়াত-সুবিধাজনক হবে। ক্লাস নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

খসড়া কমিটির সদস্য তানজিমুদ্দিন খান বলেন,“আমাদের দায়িত্ব ছিল খসড়া তৈরি করা। আমরা তা সম্পন্ন করেছি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার।”

উল্লেখ্য, সাত কলেজ আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু এরপর থেকেই নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক জটিলতা দেখা দেয়, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার আন্দোলনে নামে। দীর্ঘদিনের সেই জটিলতার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, কলেজগুলোকে পুনরায় পৃথক করা হবে। পরে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট পৃথকীকরণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।

মন্তব্য করুন

শিক্ষকতা মহান পেশা, কিন্তু মান-মর্যাদায় পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষকরা

শিক্ষকতাকে দীর্ঘদিন ধরে মহান পেশা হিসেবে অভিহিত করা হলেও বাংলাদেশের শিক্ষকরা এখনো মান-মর্যাদা ও আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব পর্যায়ের শিক্ষকই বেতন-ভাতা ও পদমর্যাদা নিয়ে অসন্তুষ্ট।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৬২০টি, যেখানে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। এর মধ্যে তিন লাখের বেশি সহকারী শিক্ষক এখনো তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর মর্যাদায় আছেন। তাঁরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান—যেখানে মূল বেতন ১১ হাজার টাকা, মোট বেতন প্রায় ১৮ হাজার টাকার মতো। যদিও প্রধান শিক্ষকদের সম্প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে, তবুও এখনো তাঁরা সমপদের পূর্ণ বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।


 প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন

সহকারী শিক্ষকদের সংগঠন ‘প্রাথমিক সহকারী সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
তাদের তিন দফা দাবি হলো—
► সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে বেতন ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ,
► চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড বাস্তবায়ন,
► প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,

“আমাদের প্রতিবার আশার বাণী দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আমি ১৬ বছর চাকরি করছি, এখনো ১৩তম গ্রেডে বেতন পাই। শিক্ষকরা যদি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হন, পাঠদানে মনোযোগী হবেন কিভাবে?”


বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র

বাংলাদেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত, যেখানে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী আছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে যাদের বিএড নেই, তাঁরা ১১তম গ্রেডে ১২,৫০০ টাকা মূল বেতন পান। আর বিএডধারীরা ১০ম গ্রেডে যান, যেখানে মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা। তাঁদের বাড়িভাড়া ১,০০০ টাকা ও চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা।

কলেজ পর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নবম গ্রেডে ২২,০০০ টাকা মূল বেতন পান। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা তাঁরা পান না। সম্প্রতি উৎসব ভাতা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।


 নন-এমপিও শিক্ষকদের দুরবস্থা

দেশে এখনো ৬,৫০০ নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন, যাঁরা কোনো সরকারি বেতন পান না।
এছাড়া অনার্স-মাস্টার্স কলেজে প্রায় ৫,৫০০ শিক্ষক এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক একই অবস্থায় আছেন।
তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি— এমপিওভুক্তির আওতায় আনা এবং পূর্ণাঙ্গ ভাতা নিশ্চিত করা।

এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।


 শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য : 

বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল বাশার হাওলাদার বলেন,

“ইউনেসকোর ১৯৯২ সালের সনদে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা থাকবেন সব পেশার ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশ সেই সনদে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা এখনো বেতন-ভাতায় সবচেয়ে পিছিয়ে। অভাব-অনটনে ভালো শিক্ষাদান আশা করা যায় না।”তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের অবহেলা, হেনস্তা, চাকরিচ্যুতি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আমরা চাই, আগামী দিনে সরকার যেই হোক না কেন, শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিক।”


🎓 বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বাস্তবতা

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মোট ১৭২টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে—সরকারি ৫৬টি এবং বেসরকারি ১১৬টি।

কয়েকটি নামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের বেতন দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকরা নামমাত্র বেতন পান।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা সরকারি স্কেল অনুযায়ী বেতন পেলেও তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।


🌍 আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান

দেশ

পদ/ মূল বেতন (প্রায়)

বাংলাদেশ

প্রভাষক২২,০০০ টাকাঅধ্যাপক৬৪,৬০০ টাকা

ভারত

সহকারী অধ্যাপক৫৫,০০০ টাকাসহযোগী অধ্যাপক৯০,০০০ টাকাঅধ্যাপক,১০,০০০ টাকা

পাকিস্তান / শ্রীলঙ্কা

তুলনামূলকভাবে উন্নত বেতন ভাতা

অধিকাংশ দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রভাষকের পদ নেই—শুরু হয় সহকারী অধ্যাপক থেকে। ফলে আন্তর্জাতিক মানে বাংলাদেশের শিক্ষকরা অনেকটাই পিছিয়ে।


 

শিক্ষকতা পেশা মহান হলেও বাংলাদেশের শিক্ষকরা এখনো মর্যাদা, পদোন্নতি ও আর্থিক নিরাপত্তায় পিছিয়ে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব স্তরেই রয়েছে বেতন বৈষম্য, অনিশ্চয়তা ও আন্দোলনের ইতিহাস।
ইউনেসকোর এবারের প্রতিপাদ্য— “শিক্ষকতা পেশা : মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি”—এই আহ্বানটিই যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, এমনটাই প্রত্যাশা দেশের শিক্ষকদের।

মন্তব্য করুন

এফএইচ হলের প্রভোস্টকে হেয় করার প্রতিবাদে ঢাবি ফার্মেসি শিক্ষকদের ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক ও ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুনকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনুষদের শিক্ষকরা। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া চিঠিতে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, এফএইচ হলে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে যে টানাপোড়েন ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা উদ্বেগজনক।

চিঠিতে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি, অভিযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালনের অধিকারও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষকরা আরও বলেন, এফএইচ হলে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচার চাওয়া সবার অধিকার হলেও চাপ প্রয়োগ কিংবা মব সৃষ্টির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দায়ী করা গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত শেষে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়াই সমীচীন।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাডেমিক এলাকায় ব্যানার-পোস্টার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনকে হেয় করার মতো প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে তিনি ছাড়াও ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা মর্মাহত হয়েছেন এবং এর প্রভাব অনুষদের একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রমে পড়ছে।

শিক্ষকদের ভাষ্য, কোনো বিষয় তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিকৃত ছবি ব্যবহার, ব্যানার-পোস্টারিং ও ধারাবাহিক প্রচারণার মাধ্যমে কাউকে তদন্তের ফল প্রকাশের আগেই দায়ী করা তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রচারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার শামিল।

ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও-ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ব্যানার-পোস্টার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ সব ধরনের প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ তথ্য বা ধারণার ভিত্তিতে নয়, বরং প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা উচিত।

শিক্ষকদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সামাজিকভাবে দোষী সাব্যস্ত বা হেয় করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কোনো যৌক্তিক অভিযোগকেও খাটো বা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চিঠির শেষে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তি, সংলাপ, সহনশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা চর্চার বিদ্যাপীঠ। তাই মব-চাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের খাতা পুনর্মূল্যায়ন শুরু হচ্ছে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অথবা আগামীকাল শুক্রবার থেকে এ আবেদন শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন এক-দুই দিনের মধ্যেই শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে তাদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।

যেভাবে আবেদন ও ফি জমা দিতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন শেষে সিস্টেম থেকে পে-স্লিপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে।

পে-স্লিপের মাধ্যমে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ফি পরিশোধ করা যাবে। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের Online Payment Gateway ব্যবহার করেও ফি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

অনলাইনে ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ, বিকাশ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া AMERICAN EXPRESS, VISA, DBBL, NEXUS ও MASTER CARD-এর মাধ্যমেও ফি দেওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারীরা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমেও ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

ফি পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে।

সময়সীমা মেনে আবেদন করতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে আবেদন ফরম পূরণ করা যাবে না। একইভাবে নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে পে-স্লিপ ডাউনলোড কিংবা ফি জমা দেওয়াও গ্রহণযোগ্য হবে না।

ব্যাংকের প্রচলিত অন্য কোনো ফরম ব্যবহার করে ফি জমা দিলে পরবর্তী সময়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না।

আবেদন ফরম বা পে-স্লিপের কোনো কপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজন হবে না।

এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি পত্রে ১ হাজার ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্ত তথ্য জানানো হবে।

মন্তব্য করুন

ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে অনলাইন ক্লাস

আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বা ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রথমে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়মিত ক্লাস চালুর কথা জানিয়েছে।

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি মঙ্গলবার এক জরুরি নোটিশে জানিয়েছে, ১২ ও ১৩ নভেম্বরের সব ক্লাস অনিবার্য কারণে স্থগিত থাকবে, তবে পরীক্ষা চলবে। পরবর্তী দিনের (১৪ নভেম্বর) কার্যক্রম সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বাস ও শাটল সার্ভিস আপাতত বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক দপ্তর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

স্কুলগুলোর মধ্যেও অনলাইন ক্লাস ও বন্ধের সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেবে এবং সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নিউ ইস্কাটনের এজি চার্চ স্কুল নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সানিডেইল ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আজ ও আগামীকাল অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

সব প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, সিদ্ধান্তগুলো ‘অনিবার্য কারণে’ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল পুনঃমূল্যায়নের আবেদন শুরু আজ

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃমূল্যায়নের আবেদন আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য প্রতি পত্রে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করে পে-স্লিপ ডাউনলোড করতে হবে। এরপর নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় অথবা সোনালী ব্যাংকের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ, বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমেও ফি পরিশোধ করা যাবে। বিভিন্ন ধরনের কার্ড—আমেরিকান এক্সপ্রেস, ভিসা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) নেক্সাস ও মাস্টারকার্ড ব্যবহার করেও ফি দেওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব থেকেও অনলাইনে টাকা ট্রান্সফারের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ফি জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে আবেদন ফরম পূরণ, পে-স্লিপ ডাউনলোড কিংবা ফি জমা দেওয়া যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ব্যাংকে প্রচলিত অন্য কোনো ফরমে টাকা জমা দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না।

নির্ধারিত লিংকে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ ও পে-স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে। তবে আবেদন সম্পন্ন করার পর আবেদনপত্র বা পে-স্লিপের কোনো কপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

মন্তব্য করুন
×