ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে অনলাইন ক্লাস

আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বা ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রথমে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়মিত ক্লাস চালুর কথা জানিয়েছে।

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি মঙ্গলবার এক জরুরি নোটিশে জানিয়েছে, ১২ ও ১৩ নভেম্বরের সব ক্লাস অনিবার্য কারণে স্থগিত থাকবে, তবে পরীক্ষা চলবে। পরবর্তী দিনের (১৪ নভেম্বর) কার্যক্রম সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বাস ও শাটল সার্ভিস আপাতত বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক দপ্তর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

স্কুলগুলোর মধ্যেও অনলাইন ক্লাস ও বন্ধের সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেবে এবং সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নিউ ইস্কাটনের এজি চার্চ স্কুল নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সানিডেইল ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আজ ও আগামীকাল অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

সব প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, সিদ্ধান্তগুলো ‘অনিবার্য কারণে’ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা

ইনকোর্স পরীক্ষায় নম্বর পেতে হলে ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও ছবি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের শিক্ষার্থীদের ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর পেতে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা আবশ্যক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে দুটি মানদণ্ডে—ক্লাসে উপস্থিতি ও ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর। উপস্থিতি বা ইনকোর্সের যেকোনো একটি বাদ পড়লে পরীক্ষার ফরম পূরণ করা যাবে না।

শনিবার (৪ অক্টোবর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১২ অক্টোবর। পরীক্ষা দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—প্রথম ধাপ ১২ থেকে ২৩ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় ধাপ ১৬ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ইনকোর্স পরীক্ষায় ১৫ শতাংশ এবং ক্লাসে উপস্থিতিতে ৫ শতাংশ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ২০ শতাংশ নম্বর কেবল ইনকোর্স পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে পরীক্ষা নেবে এবং শিক্ষকরা উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত সময় অনুযায়ী অনলাইনে ইনকোর্স নম্বর এন্ট্রি দিতে হবে। একবার নম্বর এন্ট্রি দেওয়ার পর তা আর পরিবর্তন করা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মূল্যায়িত উত্তরপত্র, হাজিরাপত্র এবং ইনকোর্স নম্বরপত্রের কপি সিলমোহর দিয়ে গাজীপুর ক্যাম্পাস বা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কেন্দ্রে জমা দিতে হবে। এসব কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন: ট্রাস্টি বোর্ডে একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি নয়

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার নতুনভাবে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০২৫ (সংশোধিত)’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ইতোমধ্যে এর খসড়া তৈরি করেছে। নতুন খসড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং পরিচালনা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি সদস্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে থাকতে পারবেন না। এর মাধ্যমে বোর্ডে পারিবারিক প্রভাব সীমিত করা এবং স্বার্থের সংঘাত রোধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ডে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৯ জন এবং সর্বোচ্চ ১৫ জন হতে হবে। ইউজিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বোর্ডে বৈচিত্র্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এক পরিবারের অতিরিক্ত সদস্য থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা এই নতুন বিধান দ্বারা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে ইউজিসির নেতৃত্বে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সুনামের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করে ট্রাস্টি বোর্ডে সুপারিশ করবে। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ কমবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন হবে আরও নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ।

এ ছাড়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু নতুন শর্তও যোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কমপক্ষে পাঁচ একর জমি থাকতে হবে এবং টিউশন ফি নির্ধারণে ইউজিসির অনুমোদন নিতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর ইউজিসির ৫৭তম সভায় এই খসড়াটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় ট্রাস্টি বোর্ডে পারিবারিক প্রভাব কমানো, নেতৃত্বের ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ইউজিসি মনে করে, এই সংশোধনগুলো কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।

বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১১৬টি, যার মধ্যে ১০৫টিতে পাঠদান চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি। ইউজিসির আশা, নতুন আইন কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়বে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারসাম্য আসবে এবং একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি ধীরে ধীরে কমে যাবে।

 

মন্তব্য করুন

অক্টোবরে ঢাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলন, রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ১০ অক্টোবর

২ হাজার ৩১৮ কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশের ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’ আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মিলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদের সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান রূপান্তরমুখী অভিযাত্রা এবং পরিবর্তিত জাতীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ সম্মিলনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। দেশের কলেজ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অধ্যক্ষদের ভূমিকা আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এ সম্মিলন আয়োজন করা হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, সম্মিলনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা জাতীয় শিক্ষানীতি, সরকারের শিক্ষা-দর্শন, উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শিক্ষা-সংক্রান্ত অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও প্রেরণা লাভ করবেন।

যেভাবে করতে হবে রেজিস্ট্রেশন

সম্মিলনে অংশ নিতে অধ্যক্ষদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এজন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পোর্টাল-এ প্রবেশ করে কলেজ কোড ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে।

এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’ অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় আগামী ১০ অক্টোবর। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্দেশক্রমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্মিলনে অংশ নিতে অধ্যক্ষদের অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, সম্মিলনে অংশগ্রহণের জন্য অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বিধি অনুযায়ী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে।

মন্তব্য করুন

৩ জানুয়ারি কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা

৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি
৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি


২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন।

তিনি জানান, ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সব সমন্বয় করবে গাকৃবি। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে ACAS–এর অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। পরীক্ষাসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা, আসন বিন্যাস এবং প্রবেশপত্র ডাউনলোডের তথ্য পরে জানানো হবে।

কৃষি গুচ্ছের আওতাধীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল পুনঃমূল্যায়নের আবেদন শুরু আজ

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃমূল্যায়নের আবেদন আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য প্রতি পত্রে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করে পে-স্লিপ ডাউনলোড করতে হবে। এরপর নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় অথবা সোনালী ব্যাংকের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ, বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমেও ফি পরিশোধ করা যাবে। বিভিন্ন ধরনের কার্ড—আমেরিকান এক্সপ্রেস, ভিসা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) নেক্সাস ও মাস্টারকার্ড ব্যবহার করেও ফি দেওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব থেকেও অনলাইনে টাকা ট্রান্সফারের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ফি জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে আবেদন ফরম পূরণ, পে-স্লিপ ডাউনলোড কিংবা ফি জমা দেওয়া যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ব্যাংকে প্রচলিত অন্য কোনো ফরমে টাকা জমা দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না।

নির্ধারিত লিংকে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ ও পে-স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে। তবে আবেদন সম্পন্ন করার পর আবেদনপত্র বা পে-স্লিপের কোনো কপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

মন্তব্য করুন

ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত ছাত্রদল প্রার্থীর

আবিদুল ইসলাম খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে পরাজিত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচনের সময় ছাত্রদল রাষ্ট্রের স্বার্থে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ভোটার ও প্রার্থীদের অভিযোগের যথাযথ জবাবদিহি করতে যদি প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে ডাকসু নির্বাচন পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থেকেই যায়।

” শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে “মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন” বিষয়ে আয়োজিত তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তা শীর্ষক সংলাপের তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আবিদ জানান, খুব শিগগিরই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনও আলোচনা হয়।

এবারকার নির্বাচনও সদ্য শেষ হয়েছে, যেখানে নানা অভিযোগ উঠেছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগের জবাবদিহি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আমরা পূর্বের মতো সংঘাতের পথে হাঁটিনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করিনি। ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। নতুন বাংলাদেশের নতুন ছাত্ররাজনীতির প্রচলনে ভূমিকা রাখতে চেয়েছি। ভোটে নানা অনিয়মের ফাঁদ পাতা হয়েছিল, সেখানে আমাকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” ভিপি পদে হারের বিষয়ে আবিদুল ইসলাম বলেন, “এটিকে আমরা সরলভাবে পরাজয় বলতে চাই না। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তি প্রভাব বিস্তার করছে।”

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হন সাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হন ফরহাদ হোসেন। তারা দুজনই ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে।

মন্তব্য করুন
×