৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিটি গঠনের নির্দেশ কার্যকর নয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পরিপত্র স্থগিত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর) চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং ১ ডিসেম্বর থেকে সব অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত করার যে পরিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করেছিল, তার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর পরিপত্রটি জারি করা হয়। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪ এ চলতি বছরের ২৮ ও ৩১ আগস্ট সংশোধনী আনে ঢাকাসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড। সংশোধনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনয়নসংক্রান্ত ১৩(১) বিধি এবং যোগ্যতাসংক্রান্ত ৬৪(৩) বিধি পরিবর্তন করা হয়।

এই দুই বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এমরান হোসেনসহ চারটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি গত রোববার রিট আবেদন করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফখরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।

পরে আইনজীবী ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই বোর্ডগুলো ম্যানেজিং কমিটি পরিচালনাসংক্রান্ত প্রবিধানমালায় সংশোধন আনে, যেখানে বলা হয়েছে— সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নবম গ্রেডের নিচে নন এমন কর্মকর্তা এবং অবসরপ্রাপ্ত হলে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন।

অর্থাৎ বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শুধুমাত্র সরকারি বা আধা সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ হতে পারবেন না। আগে যেখানে সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে হতেন, সেখানে এখন এই যোগ্যতাসীমা আরোপ করা হয়েছে— যা আবেদনকারীদের মতে বৈষম্যমূলক।

রিটে আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশোধিত ১৩(১) এবং ৬৪(৩) বিধি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। হাইকোর্ট রুল জারি করে ৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। ফলে বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাডহক কমিটি আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

 

মন্তব্য করুন

আইডি-পাসওয়ার্ড না পাওয়া শিক্ষকদের সুখবর দিচ্ছে মাউশি

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের জন্য আইডি-পাসওয়ার্ড না পাওয়া শিক্ষকদের নতুন করে তা দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ বিষয়ে টেলিটক ও জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাউশির একটি সূত্র জানায়, আইডি-পাসওয়ার্ড না পাওয়া শিক্ষকদের আবারও পাসওয়ার্ড পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি হয়েছে। তবে আইডি-পাসওয়ার্ড জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে পাঠানো হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সভা এখনো শেষ হয়নি। তবে আইডি-পাসওয়ার্ডের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।’

মাউশির একটি সূত্র জানায়, বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বদলির জন্য ১১ হাজার ৯৮৬ জন শিক্ষক আবেদন করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষার আকাশে মাইলস্টোন কলেজের উজ্জ্বল নক্ষত্র: এইচএসসিতে রেকর্ড সাফল্য, শোকের মাঝেও দীপ্তি

শিক্ষার মান ও সফলতার দীর্ঘ যাত্রায় আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক স্থাপন করল ঢাকার উত্তরা মডেল টাউনে অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজ। সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় শতভাগ পাসের ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে আবারো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

চলতি বছর মাইলস্টোন কলেজ থেকে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে মোট ২ হাজার ৯৮১ জন কৃতী শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এদের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৭৯১ জন শিক্ষার্থী, যা কলেজের সামগ্রিক ফলাফলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশেষ করে, কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল ঈর্ষণীয়। এ বিভাগ থেকে ২ হাজার ৩৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ৩৭০ জন। এখানে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক উঁচুতে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই সর্বোচ্চ ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী পূর্ণ জিপিএ-৫ অর্জন করে প্রতিষ্ঠানকে গর্বিত করেছেন।

 

সাফল্যের নেপথ্যে: ঐকান্তিকতা ও কঠোর পরিশ্রম

নিয়মিতভাবে এমন চমৎকার ফলাফলের ধারা অব্যাহত রাখার রহস্য উন্মোচন করে মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম বলেন, "এই সাফল্য কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। এটি শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত অবদানের ফল। কলেজ প্রশাসনের সঠিক তদারকি, শিক্ষকদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম, ছাত্রছাত্রীদের একাগ্রতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণে প্রতি বছর আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।"

অধ্যক্ষ আরও জোর দিয়ে বলেন, "আমরা শুধু নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকি না, বরং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের জন্য গুণগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করি। এটিই ভালো ফলাফল অর্জনের প্রধান নিয়ামক।" তিনি উত্তীর্ণ সব ছাত্রছাত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনে আরও সফল হওয়ার এবং দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করার আশা প্রকাশ করেন।

 

শোককে শক্তিতে রূপান্তর: মর্মাহত অধ্যক্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি

তবে এই বিশাল আনন্দক্ষণেও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমের কণ্ঠে ছিল শোকের ছায়া। তিনি এই ফলাফলের মহতী সাফল্য গত ২১ জুলাই এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের কাছে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ মোট ৩৪ জন জীবন হারান এবং অনেকে আহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৭ জনই ছিলেন মাইলস্টোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উজ্জ্বল শিক্ষার্থী।

এই শোকাবহ ঘটনায় বিধ্বস্ত হলেও, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থেকে যে ফলাফল অর্জন করেছে, তা শোককে শক্তিতে পরিণত করার এক অনন্য উদাহরণ। মাইলস্টোন কলেজ প্রমাণ করল, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার আলোকবর্তিকা নিভিয়ে দেওয়া যায় না।

মন্তব্য করুন

১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন, ফি জমা দেওয়া যাবে ২৪ সেপ্টেম্বর

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল

চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফরম পূরণের সময় বাড়িয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফরম পূরণের পর ‘সোনালী সেবা’র মাধ্যমে পরীক্ষার ফি ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা যাবে। পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৩ সেপ্টেম্বর।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষা অধিদপ্তর

ভেঙে হচ্ছে দুটি পৃথক অধিদপ্তর

মাউশিকে (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) ভেঙে দুটি পৃথক অধিদপ্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে একটি হবে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং অন্যটি হবে কলেজ শিক্ষা অধিদপ্তর।

প্রধান উপদেষ্টা এই বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার পর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন এই দুটি পৃথক অধিদপ্তর গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। অধিদপ্তর দুটির জন্য পৃথক জনবলকাঠামো (অর্গানোগ্রাম), কার্যতালিকা (অ্যালোকেশন অব বিজনেস) সহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ রোববার (১২ অক্টোবর, ২০২৫, ধরে নেওয়া হলো) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন যুগ্ম সচিবকে।

কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দুটি পৃথক জনবলকাঠামো প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের দাবি ও বিতর্ক: মাউশিকে বিভক্ত করার এই উদ্যোগ নতুন নয়। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে ভাগ করে 'মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর' এবং 'উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা অধিদপ্তর' করার কথা ছিল, যা তখন বাস্তবায়িত হয়নি। তবে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ঠিকই গঠিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সরকারের আমলেও শিক্ষা সংস্কার প্রস্তাবে মাউশিকে দুই ভাগ করার বিষয়টি উঠে এসেছিল।

তবে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে পরস্পরবিরোধী অবস্থান রয়েছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা চান না মাউশিকে ভাগ করা হোক। অন্যদিকে, মাধ্যমিকের শিক্ষকেরা দ্রুত তাঁদের জন্য আলাদা 'মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর' করার পক্ষে।

মন্তব্য করুন

জাল সনদের অভিযোগে মতিঝিল আইডিয়ালের ২৩ শিক্ষককে দুদকে তলব

ভুয়া ও জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩ শিক্ষককে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১ অক্টোবর তাদের কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর পাঠানো দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভুয়া ও জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ২৩ শিক্ষকের বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ কারণে তাদের নামের তালিকাসহ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

তলব করা শিক্ষকদের আগামী ১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেছে দুদক। একই সঙ্গে তাদের বিএড সনদের মূল কপি, এক সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।

কোনো শিক্ষক জরুরি কারণে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে না পারলে তার বিএড সনদের মূল কপি ও এক সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অধ্যক্ষের জিম্মায় রাখার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের সনদ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনীয় কিছু নথি পাওয়ার পর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

দুদকের তলব করা ২৩ শিক্ষক হলেন—রুবিনা সুলতানা, মো. সুলাইমান, তাহমিনা ইয়াছমিন, মোহা. কাবিউল ইসলাম, সেবিকা রানী পাল, মোছা. নাহিদা আখতার, সালেহ আহমেদ, মো. মোজাম্মেল হক, মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান, মাহফুজা হাসনা, সালমা খাতুন, সুস্মিতা আক্তার, মো. আজিবর রহমান শেখ, মো. রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আবু বকর, মহিউদ্দিন, আজমল হোসেন, মো. ফরিদুর রহমান শেখ, নুরজাহান, মো. সিরাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ আল আমীন খান, মোহাম্মদ আফছার উদ্দিন এবং এন. এম. মঞ্জুরুল হক।

মন্তব্য করুন

নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত; খুশি শিক্ষকরা, ক্লাসে ফেরার ঘোষণা

দীর্ঘ ১০ দিনের লাগাতার আন্দোলনের মুখে অবশেষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি মেনে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তিন দফা দাবির মধ্যে অন্যতম, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে 'সমঝোতা' হওয়ায় শিক্ষক নেতারা আপাতত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরপরই শিক্ষকরা আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেন।

আন্দোলনের মুখে নমন সরকার:

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতাসহ মোট তিন দফা দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। তাদের এই নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

মঙ্গলবার সকালে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরই ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার সিদ্ধান্তে উভয়পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়। এরপর দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত সম্মতিপত্র দেওয়া হয়।

১৫ শতাংশ কার্যকর হবে দুই ধাপে:

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের উপসচিব মোসা. শরীফুন্নেসার সই করা সম্মতিপত্রে বাড়িভাড়া কার্যকর হওয়ার সময়সূচি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্মতি অনুযায়ী, বাড়িভাড়া ভাতা দু'টি ধাপে কার্যকর হবে:

  • প্রথম ধাপ: চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।

  • দ্বিতীয় ধাপ: আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা যুক্ত হবে।

ফলে সবমিলিয়ে তারা মোট ১৫ শতাংশ (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। এই নতুন সম্মতির ফলে আগের (১৬ অক্টোবর) দেওয়া সম্মতিপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া:

সরকারের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষক নেতারা জানান, আপাতত তারা এই সিদ্ধান্তে খুশি। এজন্য তারা শহীদ মিনারে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেবেন এবং ক্লাসে ফিরে যাবেন।

যদিও শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতার দাবিতে অনড় ছিলেন, তবুও টানা আন্দোলনের মুখে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষক নেতারা সার্বিক পরিস্থিতিতে 'বিজয়' হিসেবে দেখছেন।

তবে, আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা এই বৈঠকেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সরকারকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বলেছেন। দাবিগুলো হলো: চিকিৎসাভাতা ১৫০০ টাকা করা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করা।

মন্তব্য করুন
×