অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা নিয়ম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও সভাপতি হতে পারবেন রাজনৈতিক নেতারা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে আবারও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের আসার সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালু থাকা এ সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করলেও এবার তা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপতিত্বে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত নতুন প্রবিধানমালায় গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সভাপতি মনোনয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি অথবা স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।

এর আগে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধিমালায় রাজনৈতিক নেতা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই বিধিমালায় সভাপতি মনোনয়নের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান রাখা হয়।

নতুন প্রস্তাবনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করা। যদিও এ পদে অন্যদেরও সুযোগ রয়েছে, তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলে বাস্তবে অন্যদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।’

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

মন্তব্য করুন

ই-মেইল জটিলতায় কারিগরি শিক্ষকদের বদলির শূন্যপদ এন্ট্রি আটকে আছে

বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি কার্যক্রমে শূন্যপদের তথ্য দিতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছেন শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানের নামে সঠিক ই-মেইল ঠিকানা না থাকা, ভুল ই-মেইল ব্যবহার কিংবা অধিদপ্তরে আগে দেওয়া ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শূন্যপদের তথ্য পাঠানো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সমস্যার সমাধান পেতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ভিড় করছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সফটওয়্যারে প্রবেশ এবং ই-মেইল সংশোধনের উপায় জানার চেষ্টা করছেন।

এমন সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষক সোহেল মাহমুদ। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া ই-মেইল ঠিকানা সংশোধনের বিষয়ে জানতে তিনি অধিদপ্তরে এসেছেন।

সোহেল মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানের নামে তৈরি করা ই-মেইল চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের স্যার অধিদপ্তরে যে ই-মেইল জমা দিয়েছিলেন, সেটি ব্যক্তিগত নামে তৈরি করা। এ কারণে শূন্যপদের চাহিদা দেওয়া যাচ্ছে না। স্যার অসুস্থ থাকায় সমস্যার সমাধানের জন্য আমি অধিদপ্তরে এসেছি।’

যেভাবে দিতে হবে শূন্যপদের তথ্য

শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য এমপিও-টি-টি-এস (MPO-TTS) সফটওয়্যারে এন্ট্রি করার নির্দেশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের এমপিও শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, শূন্যপদের তথ্য দিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিইএমআইএস (TEMIS)-এ দেওয়া নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে সফটওয়্যারে লগইন করতে হবে।

প্রথমবার লগইনের সময় প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ই-মেইলের পাসওয়ার্ড আপডেট করে সফটওয়্যারে থাকা প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

তবে এ তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদের সুযোগ কেবল প্রথমবার লগইনের সময়ই থাকবে। একবার তথ্য আপডেট করার পর পরবর্তীতে আর কোনো পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।

১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়

শূন্যপদের তথ্য সফটওয়্যারে এন্ট্রির জন্য ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর। সফটওয়্যার ব্যবহারে কোনো ধরনের সমস্যা হলে অফিস চলাকালীন ০১৪০৩৩১৯৮০৮ নম্বরে হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তবে ই-মেইল সংক্রান্ত সমস্যায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আপাতত নতুন করে ই-মেইল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা।

তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বদলি কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেস তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যক্তিগত ই-মেইল দিয়েছেন কিংবা ভুল ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে পাঠিয়েছেন। এখন তারা সমস্যায় পড়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকাল থেকেই একই সমস্যা নিয়ে শিক্ষকরা ফোন করছেন। অনেকে অধিদপ্তরেও আসছেন। তবে ই-মেইল সংশোধনের জন্য নতুন করে সময় দেওয়া আপাতত সম্ভব নয়। এজন্য ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কতজন শিক্ষক এ সমস্যায় পড়েছেন, তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আগেই ই-মেইল তৈরির নির্দেশ

এর আগে বদলি কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ৩০ আগস্টের মধ্যে এসব ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে অধিদপ্তরকে জানানোর কথা ছিল।

অধিদপ্তরের ওই নোটিশে বলা হয়েছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে-এর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল থাকা বাধ্যতামূলক। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে তা অধিদপ্তরকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক ই-মেইল ঠিকানা না দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন শূন্যপদের তথ্য সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।

মন্তব্য করুন

মাউশির মহাপরিচালক নিয়োগ: সাক্ষাৎকার রবিবার; আলোচনায় যারা

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার  রবিবার (২৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন বিকেলে ছয়জন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র শনিবার (২৫ অক্টোবর)  এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, রবিবার বিকেল ৩টার পর সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জানা গেছে, মাউশির ডিজি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ এবং ১৬ ব্যাচের মোট ৬৩ জন কর্মকর্তা তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে।

ডিজি পদে আলোচনায় যারা:

মাউশির ডিজি পদে নিয়োগ পেতে জোর তদবির করছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:

  • ড. খন্দকার এহসানুল কবির: তিনি বর্তমানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়োগ সুপারিশ পেতে তিনি বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা যায়। বিএনপিপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয় এ অধ্যাপক বোর্ড চেয়ারম্যান হওয়ার আগে যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

  • কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশির: মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন উইংয়ের পরিচালক হিসেবে কর্মরত এই অধ্যাপকও ডিজির চেয়ার পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন। জানা যায়, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের একজন মন্ত্রীর এপিএস, পরে পিএস হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

  • অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান: মাউশির কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তা বর্তমানে মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ১৪তম বিসিএসের এ কর্মকর্তা মাউশিতে পদায়নের পূর্বে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

  • ড. এ কিউ এম শফিউল আজম ও মো. সাঈদুর রহমান: মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক ড. এ কিউ এম শফিউল আজম এবং প্রশিক্ষণ শাখার পরিচালক মো. সাঈদুর রহমানও ডিজির পদ পেতে চেষ্টা করছেন। তবে আগামী ডিসেম্বর মাসেই তাদের দুজনের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মাউশির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই দুই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং বিগত সরকারের আমলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

  • ড. ছদরুদ্দীন আহমদ ও অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়: রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দুই কলেজ—সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ ড. ছদরুদ্দীন আহমদ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়ও ডিজির পদের জন্য তদবির চালাচ্ছেন।

  • অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: ১৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে  শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মন্তব্য করুন

আগামী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়

 

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে নতুন চারটি বই ও বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলা, আনন্দময় শিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করে তুলতেই এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হবে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক বই ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এসব বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, শিক্ষা খাতই তাঁর সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সময় হিসেবে আমরা আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যপুস্তকে যতটুকু সম্ভব পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করছি।’

২০২৮ সালে বড় পরিসরে কারিকুলাম সংস্কার

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, ২০২৭ সালের পরিবর্তনকে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের পুরো শিক্ষাক্রম নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সময় কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে।

তিনি বলেন, ‘২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এতে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় দেশে একটি টেকসই ও যুগান্তকারী শিক্ষাক্রমের রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে।’

নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও খেলাধুলার মতো সমসাময়িক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি আনন্দময় ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

একাদশে ভর্তিতে শেষ ধাপের ফল প্রকাশ

চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে সবশেষ ধাপে অনলাইন আবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার পর ভর্তি-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. রিজাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, এটা শেষ ধাপ। এরপর আর অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে না। এ ধাপের ফলাফল শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।

একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা ফলাফল দেখতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে

মন্তব্য করুন

পূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জবি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি)। ফলে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন দুর্গাপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে ৭ অক্টোবর থেকে যথারীতি ক্লাস চালু থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি

 

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং এনটিআরসিএর কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে সভাটি শেষ হয়।

সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ১২টি বোর্ডে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা নেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেল—দুই শিফটে মোট ৩৫ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।

এদিকে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে এনটিআরসিএ। সংস্থাটি আগামী দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চায়।

তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে এনটিআরসিএ।

এ কারণে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অক্টোবরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ না হলে নভেম্বরের দিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরপরই প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’

মন্তব্য করুন
×