অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা নিয়ম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও সভাপতি হতে পারবেন রাজনৈতিক নেতারা
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে আবারও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের আসার সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালু থাকা এ সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করলেও এবার তা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপতিত্বে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত নতুন প্রবিধানমালায় গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সভাপতি মনোনয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি অথবা স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।
এর আগে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধিমালায় রাজনৈতিক নেতা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই বিধিমালায় সভাপতি মনোনয়নের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান রাখা হয়।
নতুন প্রস্তাবনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করা। যদিও এ পদে অন্যদেরও সুযোগ রয়েছে, তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলে বাস্তবে অন্যদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।’
প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।