মাধ্যমিকের বইয়ে যুক্ত ‘রাতের ভোট’; সাহিত্য-কণিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ

রাতের ভোট
রাতের ভোট

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আলোচিত ‘রাতের ভোট’ প্রসঙ্গটি এবার যুক্ত হচ্ছে নবম–দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে। ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ নামে নতুন সংযোজিত অংশে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পূরণ এবং ২০২৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার নীলনকশা করেছিল; যা জনগণ প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে বাদ যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ। ২০২১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে এই ভাষণ পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়; অষ্টম শ্রেণির বইয়ে এটি ছিল ছয় পৃষ্ঠা জুড়ে।

পাঠ্যবইয়ের নতুন ভাষ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেখিয়েছে—দমনমূলক শাসন যত শক্তিশালী হোক, ন্যায়ের দাবিতে গড়ে ওঠা জনপ্রতিরোধের কাছে পরাজয় অনিবার্য।

২০২৬ সালের বইয়ে পতিত সরকারের অনিয়ম–দুর্নীতির বিবরণও যুক্ত হচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কমিশনের তথ্যমতে, গত ১৬ বছরে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে দেশে একটি ‘চোরতন্ত্র’ গড়ে ওঠে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

বইয়ের নতুন অংশে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর ফলে বাকশাল গঠনের কথা, জিয়াউর রহমানের অধীনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরাবির্ভাব, এরশাদের ক্ষমতা দখল ও পরবর্তী গণআন্দোলনও বর্ণনা করা হয়েছে। নুর হোসেন, জেহাদ, ডা. মিলনসহ আন্দোলনে নিহতদের প্রসঙ্গ এবং ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনও এতে রয়েছে।

আরেক অংশে বলা হয়েছে—২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন। বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন, প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল—এসবই নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে বইতে লেখা হয়েছে—সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার পর উত্তেজনা বাড়ে। পরদিন রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল শান্তসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত বল প্রয়োগে শত শত মানুষ নিহত হয়। দমননীতি বাড়তে থাকলে জনসম্পৃক্ততাও বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা দেশত্যাগ করেন—এ তথ্যও বইতে স্থান পেয়েছে।

বইয়ে আন্দোলনের দুই বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
১) নারীদের নজিরবিহীন অংশগ্রহণ,
২) সারাদেশে দেয়ালে–দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি; যেখানে অধিকার, ইনসাফ, ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে মানবিকতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা উঠে এসেছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে আসার পর ২০২৫ সালের মতো ২০২৬ সালের বইয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সব শ্রেণির বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকছে। মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযোজন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তি: ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। কমিশন এই প্রস্তাবটি তাদের ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই লক্ষ্যে, কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নামে গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে 'জুলাই সনদ ২০২৫' প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এখন কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক-এ উল্লিখিত বিধান—যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করে—সেই অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তির প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দলগুলোর করণীয়: চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ১১ অক্টোবর শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে তাদের লিখিত মতামত কমিশন বরাবর, অথবা কমিশনের নির্দিষ্ট ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন থেকে আরও তথ্য জানার জন্যও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দলীয় প্রতিক্রিয়া: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জানান যে এ বিষয়ে এখনো কোনো মতামত পাঠাননি।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শাসনতন্ত্রের প্রথম ভাগে 'জাতির পিতার প্রতিকৃতি' শিরোনামে অনুচ্ছেদ ৪ক যুক্ত হয়, যা নির্দিষ্ট স্থানে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

মন্তব্য করুন

১৫ জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ, বিভিন্ন জেলা এবং নতুন ডিসি পদায়ন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৫টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে। নতুন পদায়ন অনুযায়ী, কিছু জেলার ডিসির দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং নতুন কিছু কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বদলিকৃত ডিসিদের মধ্যে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কামরুল হাসানকে নোয়াখালী, কুষ্টিয়ার ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে হবিগঞ্জ, ভোলার ডিসি মো. আজাদ জাহানকে গাজীপুর, বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ঢাকা, সিরাজগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গাইবান্ধা এবং খুলনার ডিসি মো. তৌফিকুর রহমানকে বগুড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহকে বরগুনা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সচিব (উপসচিব) মো. আমিনুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জ, বাণিজ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে মাগুরা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু সাঈদকে পিরোজপুর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পাবনার জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতারকে সাতক্ষীরা, স্থানীয় সরকার ফেনীর উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মো. বাতেনকে বাগেরহাট, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) একান্ত সচিব স. ম. জামশেদ খোন্দকারকে খুলনা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনকে কুষ্টিয়া এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ডা. শামীম রহমানকে ভোলার ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে।

নতুন এই ডিসি পদায়নগুলো জেলা প্রশাসনের কার্যক্রমের উন্নতি এবং সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিসিদের পুরো তালিকা দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন 

মন্তব্য করুন

জাতীয় নির্বাচন: সকল সংশয় দূর, ফেব্রুয়ারিতেই ত্রয়োদশ নির্বাচন - প্রেস সচিব

প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো সংশয় নেই এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, "নির্বাচন নিয়ে যত সংশয় ছিল, সব ধুয়েমুছে গেছে। এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই।" তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে দীর্ঘ ১৬ বছর 'ফেক ইলেকশন' দেখার পর এবার জনগণ 'রিয়েল ইলেকশন' দেখবে। তাঁর মতে, "এবার ইতিহাসের অন্যতম একটা সেরা নির্বাচন হবে।"

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনি আমেজ শুরু হয়ে গেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে হালুয়াঘাটে নেতাদের পোস্টার দেখতে পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে দলগুলো যখন আগামী দুই-তিন সপ্তাহ পর থেকে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করবে, তখন নির্বাচনি পরিবেশ আরও বেশি জমজমাট হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান প্রাথমিক শিক্ষকদের

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা শিক্ষকরা শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন। কেউ গাছের ছায়ায় বসে আছেন, কেউ আবার মাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতাও শোনা যাচ্ছে তাঁদের অবস্থানস্থলে।

 

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার এখনো তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেয়নি। তাই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

 

এই আন্দোলনের কারণে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সামনে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

 

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা আশা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তাঁরা ঢাকায় আরও বড় পরিসরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, এ ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর এ ভাষণে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, জাতীয় ঐক্য গঠন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।

জাতীয় পর্যায়ে এটি প্রধান উপদেষ্টার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

মন্তব্য করুন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিবৃতি

এই রায় ও সাজা একটি মৌলিক নীতিকে পুনঃনিশ্চিত করেছে : যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

আজ বাংলাদেশের আদালত যে রায় দিয়েছে, তা সারা দেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই রায় ও সাজা একটি মৌলিক নীতিকে পুনঃনিশ্চিত করেছে : যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ এবং এখনও সেই ক্ষত বহনকারী পরিবারগুলোর জন্য এই রায় সীমিত মাত্রায় হলেও ন্যায়বিচার এনে দিয়েছে।

আমরা বছরের পর বছরের নিপীড়নে ভেঙে পড়া গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্নির্মাণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। যে অপরাধগুলো নিয়ে বিচার হয়েছে— তরুণ ও শিশু, যাদের একমাত্র অস্ত্র ছিল তাদের কণ্ঠস্বর, তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের আদেশ, যা আমাদের আইন এবং সরকার–নাগরিক সম্পর্কের মৌলিক বন্ধনকে লঙ্ঘন করেছে। এসব জঘন্য কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মূল মূল্যবোধ— মর্যাদা, দৃঢ়তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার— কে আঘাত করেছে।

প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তারা শুধুই সংখ্যা নন; তারা ছিলেন আমাদের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। গত কয়েক মাসের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, কীভাবে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি— এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও— ব্যবহার করা হয়েছিল। এই রায় তাদের ভোগান্তিকে স্বীকৃতি দেয় এবং আমাদের বিচারব্যবস্থায় অপরাধীদের জবাবদিহির নিশ্চয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহিতার ধারায় পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানো শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা এটি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন, এবং তাদের অনেকেই জীবন দিয়ে মূল্য দিয়েছেন— তাদের বর্তমান উৎসর্গ করেছেন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।

সামনের পথচলায় শুধু আইনি জবাবদিহিতা নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও জরুরি। প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য মানুষ কেন সবকিছু ঝুঁকির মুখে ফেলে— তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থা তৈরি করা অপরিহার্য। আজকের রায় সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সাথে সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার বাংলাদেশে শুধু নামেমাত্র টিকে থাকবে না; এটি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সুদৃঢ় হবে।

মন্তব্য করুন
×