মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী কমেছে সাড়ে ৯ লাখ, সবচেয়ে বেশি মাধ্যমিকে

দেশের মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৯ জন। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়েই শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখের বেশি। তবে একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৪৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী ছিল ১ কোটি ৮৭ লাখ ৩১ হাজার ১১২ জন। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ছিলেন ৬ লাখ ৯১ হাজার ২২৬ জন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের শিক্ষা পরিসংখ্যানে একই স্তরে ৮২ হাজার ৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯১ জন। শিক্ষক ছিলেন ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯ জন।

অর্থাৎ, এক বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৩টি এবং শিক্ষকের সংখ্যা ২৪ হাজার ১২৭ জন বাড়লেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৯ জন।

সবচেয়ে বেশি কমেছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে

ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিক্ষার্থী কমার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে। ২০২৫ সালে এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন।

সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৫০৭ জন। অর্থাৎ, মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী হ্রাসের বড় একটি অংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের।

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী এ হিসাবে নেই

শিক্ষার্থী কমার হিসাব সম্পর্কে ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য ব্যবহার করি না। আমাদের মোট শিক্ষার্থীর হিসাব প্রাথমিকোত্তর স্তরের। অর্থাৎ, মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়। তবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রাথমিকোত্তর স্তরের মোট শিক্ষার্থীর হিসাবে যোগ করা হয় না। ফলে এক বছরে সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীদের তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে।’

ব্যানবেইস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত একটি সরকারি সংস্থা। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সংকলন ও প্রকাশ করে সংস্থাটি।

মন্তব্য করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা নিয়ম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও সভাপতি হতে পারবেন রাজনৈতিক নেতারা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে আবারও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের আসার সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালু থাকা এ সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করলেও এবার তা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপতিত্বে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত নতুন প্রবিধানমালায় গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সভাপতি মনোনয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি অথবা স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।

এর আগে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধিমালায় রাজনৈতিক নেতা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই বিধিমালায় সভাপতি মনোনয়নের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান রাখা হয়।

নতুন প্রস্তাবনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করা। যদিও এ পদে অন্যদেরও সুযোগ রয়েছে, তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলে বাস্তবে অন্যদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।’

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষকদের বদলিতে আবেদন , জটিলতা সমাধানে সভা

 

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে সাড়া পড়েছে। ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করেছেন। আগামী ২৭ আগস্ট আবেদন করার সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে বদলি আবেদনে নানা ধরনের জটিলতার অভিযোগও করছেন শিক্ষকরা। এসব সমস্যা সমাধানে আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে মাউশির একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

এদিকে বদলি আবেদন করতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতায় পড়ছেন অনেক শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, কারও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না, আবার কেউ কেউ সিস্টেমে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যার সমাধান চেয়ে প্রতিদিনই মাউশিতে ভিড় করছেন বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকরা।

মাউশির একটি সূত্র জানায়, আবেদন করতে না পারা শিক্ষকদের অধিকাংশই একই ধরনের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। সমস্যাগুলো তাদের নিজেদের কোনো ভুলের কারণে হচ্ছে না বলেও দাবি করছেন তারা। বিষয়টি মাউশির পক্ষ থেকে টেলিটককে জানানো হয়েছে। পরে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মাউশির ওই কর্মকর্তা জানান, ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের আসিফ নামের একজন কর্মকর্তা আগামী বৃহস্পতিবার মাউশিতে আসবেন। সকাল ১১টায় তার সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে শিক্ষকদের বদলি আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হবে। সমস্যাগুলো সমাধানযোগ্য হলে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময়সীমা আগামী ২৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আবেদনে কারিগরি জটিলতা দূর করা গেলে আরও শিক্ষক আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মন্তব্য করুন

পূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জবি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি)। ফলে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন দুর্গাপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে ৭ অক্টোবর থেকে যথারীতি ক্লাস চালু থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বুধবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, থাকছে উদযাপনের নির্দেশনা

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। তবে ছুটির দিন হলেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম এবং ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করতে হবে।

এ ছাড়া দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কুইজ প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু হবে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্ম।

সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় এ ছুটির আওতায় থাকবে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের ছুটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক দিনের সাধারণ ছুটি রয়েছে। এ ছুটি সরকারি ও আধা-সরকারি অফিসের পাশাপাশি সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানেও প্রযোজ্য।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট থেকে রবিউল আউয়াল মাস শুরু হয়েছে। সেই হিসাবে ১২ রবিউল আউয়াল পড়েছে ২৬ আগস্ট।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায়ও ২৬ আগস্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে এদিন ব্যাংকের সাধারণ লেনদেন বন্ধ থাকবে। তবে এটিএম, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং কার্ডভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে।

মন্তব্য করুন

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি

 

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং এনটিআরসিএর কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে সভাটি শেষ হয়।

সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ১২টি বোর্ডে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা নেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেল—দুই শিফটে মোট ৩৫ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।

এদিকে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে এনটিআরসিএ। সংস্থাটি আগামী দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চায়।

তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে এনটিআরসিএ।

এ কারণে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অক্টোবরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ না হলে নভেম্বরের দিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরপরই প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’

মন্তব্য করুন

মাউশির মহাপরিচালক নিয়োগ: সাক্ষাৎকার রবিবার; আলোচনায় যারা

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার  রবিবার (২৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন বিকেলে ছয়জন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র শনিবার (২৫ অক্টোবর)  এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, রবিবার বিকেল ৩টার পর সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জানা গেছে, মাউশির ডিজি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ এবং ১৬ ব্যাচের মোট ৬৩ জন কর্মকর্তা তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে।

ডিজি পদে আলোচনায় যারা:

মাউশির ডিজি পদে নিয়োগ পেতে জোর তদবির করছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:

  • ড. খন্দকার এহসানুল কবির: তিনি বর্তমানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়োগ সুপারিশ পেতে তিনি বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা যায়। বিএনপিপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয় এ অধ্যাপক বোর্ড চেয়ারম্যান হওয়ার আগে যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

  • কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশির: মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন উইংয়ের পরিচালক হিসেবে কর্মরত এই অধ্যাপকও ডিজির চেয়ার পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন। জানা যায়, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের একজন মন্ত্রীর এপিএস, পরে পিএস হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

  • অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান: মাউশির কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তা বর্তমানে মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ১৪তম বিসিএসের এ কর্মকর্তা মাউশিতে পদায়নের পূর্বে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

  • ড. এ কিউ এম শফিউল আজম ও মো. সাঈদুর রহমান: মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক ড. এ কিউ এম শফিউল আজম এবং প্রশিক্ষণ শাখার পরিচালক মো. সাঈদুর রহমানও ডিজির পদ পেতে চেষ্টা করছেন। তবে আগামী ডিসেম্বর মাসেই তাদের দুজনের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মাউশির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই দুই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং বিগত সরকারের আমলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

  • ড. ছদরুদ্দীন আহমদ ও অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়: রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দুই কলেজ—সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ ড. ছদরুদ্দীন আহমদ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়ও ডিজির পদের জন্য তদবির চালাচ্ছেন।

  • অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: ১৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে  শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মন্তব্য করুন
×