মেয়েদের সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়। ওই কর্মসূচির ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিয়ে নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অন্যদিকে, ছেলেদের শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবারে গুরুত্ব

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার যেন পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন। কোনোভাবেই খাবারের মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না বলেও তিনি নির্দেশনা দেন।

মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দুটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী কমেছে সাড়ে ৯ লাখ, সবচেয়ে বেশি মাধ্যমিকে

দেশের মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৯ জন। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়েই শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখের বেশি। তবে একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৪৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী ছিল ১ কোটি ৮৭ লাখ ৩১ হাজার ১১২ জন। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ছিলেন ৬ লাখ ৯১ হাজার ২২৬ জন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের শিক্ষা পরিসংখ্যানে একই স্তরে ৮২ হাজার ৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯১ জন। শিক্ষক ছিলেন ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯ জন।

অর্থাৎ, এক বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৩টি এবং শিক্ষকের সংখ্যা ২৪ হাজার ১২৭ জন বাড়লেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৯ জন।

সবচেয়ে বেশি কমেছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে

ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিক্ষার্থী কমার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে। ২০২৫ সালে এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন।

সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৫০৭ জন। অর্থাৎ, মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী হ্রাসের বড় একটি অংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের।

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী এ হিসাবে নেই

শিক্ষার্থী কমার হিসাব সম্পর্কে ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য ব্যবহার করি না। আমাদের মোট শিক্ষার্থীর হিসাব প্রাথমিকোত্তর স্তরের। অর্থাৎ, মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়। তবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রাথমিকোত্তর স্তরের মোট শিক্ষার্থীর হিসাবে যোগ করা হয় না। ফলে এক বছরে সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীদের তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে।’

ব্যানবেইস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত একটি সরকারি সংস্থা। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সংকলন ও প্রকাশ করে সংস্থাটি।

মন্তব্য করুন

‘শিক্ষককে নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে পরে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়’

স্লিপের টাকা আগে স্কুলের অ্যাকাউন্টে দেওয়ার সুপারিশ ইউনিসেফের

 

 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) বাস্তবায়নে রিইম্বার্সমেন্ট বা খরচ করার পর টাকা ফেরত দেওয়ার পদ্ধতি বাদ দিয়ে স্কুলের অ্যাকাউন্টে আগেই অর্থ দেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। একই সঙ্গে স্কুলভিত্তিক অনুদান নির্ধারণে শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, বিদ্যালয়ের প্রয়োজন, বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক ডিসেমিনেশন ওয়ার্কশপে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুলভিত্তিক অনুদানের অর্থ সরাসরি বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়। এতে রিইম্বার্সমেন্টের পরিবর্তে আগে থেকেই অর্থ পাওয়া যায় এবং শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ কত টাকা পাবে তা জানতে পারে। ফলে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করাও সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে অনুদানের ফর্মুলা নির্ধারণ করা উচিত নয়। একটি বিদ্যালয়ের বিশেষ প্রয়োজন, শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতাসহ অর্থ কীভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোথায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তা প্রকাশের ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।

‘নিজের পকেট থেকে টাকা খরচের ব্যবস্থা স্বাভাবিক নয়’

স্লিপের বর্তমান রিইম্বার্সমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক মূলত শিক্ষক। তাকে ব্যবসায়ীর মতো নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে পরে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এটি স্বাভাবিক ব্যবস্থা হতে পারে না।

গবেষণায় রিইম্বার্সমেন্ট ব্যবস্থাকে স্লিপ বাস্তবায়নের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজের টাকা খরচ করে পরে তা ফেরত পাওয়ার কারণে প্রধান শিক্ষকদের ওপর চাপ ও মানসিক অস্বস্তি তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ধার করতে হয়। হিসাব সংরক্ষণ ও অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়ে।

অর্থ ফেরত পেতে দেরি হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণের কার্যক্রমও বিলম্বিত হয় বলে জানান তিনি।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্লিপের মাধ্যমে স্কুল পর্যায়ে অর্থ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে সেই ক্ষমতা ব্যবহারের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষককে আর্থিক ঝুঁকি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে অর্থ সরাসরি ও সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো জরুরি।

‘আগে অর্থ দিতে হবে, জবাবদিহিও থাকতে হবে’

রিইম্বার্সমেন্ট পদ্ধতির সরাসরি বিরোধিতা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষকদের নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে পরে তা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। স্কুলের প্রয়োজন মেটাতে আগে অর্থ দিতে হবে এবং সেই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তিশালী জবাবদিহি ও মনিটরিং থাকতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু টাকা দিয়ে দিলেই হবে না, সেই টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, তার কার্যকর নজরদারিও থাকতে হবে। তবে জবাবদিহি নিশ্চিত করার নামে এমন ব্যবস্থা করা উচিত নয়, যেখানে একজন শিক্ষককে আগে নিজের টাকা খরচ করতে হবে।

স্লিপের অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রেও স্কুলভিত্তিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, একটি পুরোনো ও বড় স্কুলের ভবন সংস্কারে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, নতুন ও ছোট একটি স্কুলের ক্ষেত্রে একই পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন নাও হতে পারে। তাই সব স্কুলকে একই ফর্মুলায় না দেখে প্রয়োজন ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করা উচিত।

‘সবার জন্য একই ব্যবস্থা কার্যকর নয়’

দীপা শঙ্কর বলেন, ‘ওয়ান সাইজ ফিটস অল’ বা সবার জন্য একই ব্যবস্থা কার্যকর নয়। প্রতিটি স্কুল, শিশু ও শিক্ষক আলাদা। তাই কর্মসূচিও এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন প্রাথমিক শিক্ষার পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচি পিইডিপি-৫-এর দিকে যাচ্ছে। এ পর্যায়ে স্লিপের অনুদান ও অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। ইউনিসেফের সহায়তায় পিপিআরসির গবেষণার ফলাফল এই সংস্কারের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

ইউনিসেফের পক্ষ থেকে তিনি জানান, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই)-এর সহায়তায় বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় যে সংস্কার কার্যক্রমের কথা ভাবা হচ্ছে, তার অন্যতম শর্ত হচ্ছে স্কুল অনুদান বা স্লিপের ফর্মুলা সংশোধন। নতুন ফর্মুলায় শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, স্কুলের প্রয়োজন ও বৈচিত্র্যের পাশাপাশি অর্থ কীভাবে এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্ব পাবে।

গবেষণা উপস্থাপনের সময় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্লিপ পুরোপুরি ব্যর্থ নয়; বরং এর সম্ভাবনার তুলনায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পিইডিপি-৫ প্রণয়নের আগে স্লিপের অর্থায়ন, বিকেন্দ্রীকরণ ও শেখার ফলাফল—এই তিনটি বিষয় নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিলসহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

এসএসসি-এইচসির প্রশ্ন ছাপায় এবার নতুন কৌশল, এক সেট হবে বিজি প্রেসের বাইরে

এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানোর ক্ষেত্রে নতুন কৌশল নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আগামী বছর থেকে পরীক্ষার দুই সেট প্রশ্নপত্রের একটি সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) এবং অন্যটি অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাপানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, সর্বশেষ এইচএসসি পরীক্ষায় একটি প্রশ্নপত্র তিনবার রিপ্রিন্ট করতে হয়েছে। একই সঙ্গে বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নফাঁসের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ঢাকাস্থ কচুয়া উপজেলা সমিতি আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘লাস্ট এক্সামে (এইচএসসি) প্রশ্নপত্র আমাকে তিনবার রিপ্রিন্ট করতে হয়েছে। বৃহস্পতিবারে শুনলাম এই রোববারের পরীক্ষা প্রশ্নপত্র কোনোভাবেই...।’ এ সময় তিনি প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবারে প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করেছি, শনিবারে ডেলিভারি দিয়েছি। যারা শিক্ষক আছেন তারা জানেন, অন্যরা জানেন না। সরকারে আমরা যারা আছি তারাও জানি।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। তবে বর্তমানে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে প্রশ্নপত্রে বিভিন্নভাবে ম্যানিপুলেশনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার প্রশ্নপত্রের দুই সেট করা হবে। তবে শুধু দুই সেট প্রশ্ন তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। একই জায়গা থেকে একাধিক সেট প্রশ্ন ছাপানোর পরিবর্তে আলাদা প্রতিষ্ঠানে প্রশ্ন ছাপানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘যে ব্যক্তিকে দিয়ে যদি এক সেট করলে আউট হতে পারে, সেই ব্যক্তিকে যদি দ্বিতীয় সেট করা যায়, তাও তো আউট হতে পারে। সেই ব্যক্তিকে তৃতীয় সেট করলে কি আউট হতে পারে না?’

তিনি বলেন, ‘আমরা এক সেট ছাপাই বিজি প্রেস দিয়ে, দুই সেট ছাপাই বিজি প্রেস দিয়ে, তিন সেটও ছাপাই বিজি প্রেস দিয়ে। এটা দিয়ে কোনো কিছু বুঝায়? তাই আমরা অন্য চিন্তা করেছি।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামীতে দুই সেট প্রশ্নপত্র আলাদা দুটি প্রতিষ্ঠানে ছাপানো হবে। এর মধ্যে একটি সেট বিজি প্রেসে এবং অন্য সেট অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাপানো হবে। দুই সেটের মুদ্রণ কার্যক্রমের মধ্যে কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দুই সেট প্রশ্ন ছাপানো হবে। এক সেট বিজি প্রেস থেকে, অন্য সেট অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে। একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো সম্পর্ক থাকবে না।’

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষকদের বদলিতে আবেদন , জটিলতা সমাধানে সভা

 

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে সাড়া পড়েছে। ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করেছেন। আগামী ২৭ আগস্ট আবেদন করার সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে বদলি আবেদনে নানা ধরনের জটিলতার অভিযোগও করছেন শিক্ষকরা। এসব সমস্যা সমাধানে আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে মাউশির একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

এদিকে বদলি আবেদন করতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতায় পড়ছেন অনেক শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, কারও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না, আবার কেউ কেউ সিস্টেমে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যার সমাধান চেয়ে প্রতিদিনই মাউশিতে ভিড় করছেন বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকরা।

মাউশির একটি সূত্র জানায়, আবেদন করতে না পারা শিক্ষকদের অধিকাংশই একই ধরনের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। সমস্যাগুলো তাদের নিজেদের কোনো ভুলের কারণে হচ্ছে না বলেও দাবি করছেন তারা। বিষয়টি মাউশির পক্ষ থেকে টেলিটককে জানানো হয়েছে। পরে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মাউশির ওই কর্মকর্তা জানান, ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের আসিফ নামের একজন কর্মকর্তা আগামী বৃহস্পতিবার মাউশিতে আসবেন। সকাল ১১টায় তার সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে শিক্ষকদের বদলি আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হবে। সমস্যাগুলো সমাধানযোগ্য হলে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময়সীমা আগামী ২৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আবেদনে কারিগরি জটিলতা দূর করা গেলে আরও শিক্ষক আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মন্তব্য করুন

পূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জবি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি)। ফলে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন দুর্গাপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে ৭ অক্টোবর থেকে যথারীতি ক্লাস চালু থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

একাদশে ভর্তিতে শেষ ধাপের ফল প্রকাশ

চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে সবশেষ ধাপে অনলাইন আবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার পর ভর্তি-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. রিজাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, এটা শেষ ধাপ। এরপর আর অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে না। এ ধাপের ফলাফল শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।

একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা ফলাফল দেখতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে

মন্তব্য করুন
×