রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক মারধরের শিকার এবং তার মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী সাংবাদিক আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন আতিকুর। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে আতিকুর রহমান জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। এ সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখেন তিনি। তখন তিনি মিছিলটির সামনে থেকে ভিডিও ধারণ করছিলেন।
ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পর ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার বিভাগ ও ভিডিও করার কারণ জানতে চান। পরে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তাকে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়। তাদের চাপের মুখে তিনি ভিডিওটি মুছে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
তবে এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন আতিকুর। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে তাতে থাকা অন্যান্য ভিডিওও মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আতিকুর বলেন, ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনা ও ভিডিও ধারণ করা তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনের সময় হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ কারণে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে, প্রক্টরের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে প্রক্টরিয়াল টিম কাজ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রতিটি ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই শেষে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।