রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক মারধরের শিকার এবং তার মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী সাংবাদিক আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন আতিকুর। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে আতিকুর রহমান জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। এ সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখেন তিনি। তখন তিনি মিছিলটির সামনে থেকে ভিডিও ধারণ করছিলেন।

ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পর ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার বিভাগ ও ভিডিও করার কারণ জানতে চান। পরে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তাকে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়। তাদের চাপের মুখে তিনি ভিডিওটি মুছে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

তবে এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন আতিকুর। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে তাতে থাকা অন্যান্য ভিডিওও মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আতিকুর বলেন, ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনা ও ভিডিও ধারণ করা তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনের সময় হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ কারণে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, প্রক্টরের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে প্রক্টরিয়াল টিম কাজ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রতিটি ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই শেষে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই স্কুল পর্যায়ের। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সার্ভেইল্যান্সে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে আঁচল ফাউন্ডেশন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৩। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী—১৯০ জন, যা মোট সংখ্যার ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া কলেজ শিক্ষার্থী ৯২ জন (২২ দশমিক ৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৭৭ জন (১৯ দশমিক ১ শতাংশ) এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৪৪ জন (১০ দশমিক ৯ শতাংশ)।

অর্থাৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ৩১০টি ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৩২ ও ৫১৩।

তবে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব তথ্য মূলত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যার ঘটনাগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি কোনো সরকারি জাতীয় মৃত্যুনিবন্ধন বা সরকারি জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান নয়। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে।

সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়ায় বাবার দাফনে আপত্তি মেয়ের, গাইবান্ধায় পারিবারিক বিরোধ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জীবদ্দশায় ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর পর বাবার জানাজা ও দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানিয়েছেন মেয়ে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা মীমাংসার উদ্যোগ নেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন বেপারি (৭০)। তাঁর ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে প্রায় চার বিঘা জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে নাজির উদ্দিন ছেলের নামে ওই জমি লিখে দেন। তবে মেয়ে হালিমা বেগম (৫০) জমি না পাওয়ায় এ নিয়ে তাঁর ক্ষোভ ছিল বলে জানান স্থানীয় ব্যক্তিরা। এর মধ্যে রোববার দুপুর ২টার দিকে নাজির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা। এতে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় বোন হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন ইদ্রিস আলী। তবে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

হালিমা বেগম বলেন, ‘আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই।’ বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত পারিবারিক বিরোধের সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম মিষ্টি বলেন, নাজির উদ্দিনের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে সম্পত্তির বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা চলছে। বিরোধের সমাধান করে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন করাই তাঁদের প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক এ বিরোধের সমাধানে স্থানীয়রা চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের জন্য পূবালী ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যালামনাইদের জন্য বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা চালু করতে পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শেকৃবির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম এবং পূবালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এতে স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা অনুযায়ী, শেকৃবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা কম খরচে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সহযোগিতা করবে পূবালী ব্যাংক। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক আবুল বাশার।

বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমন সহযোগিতা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা সহজ করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রমে গতি আনতে পারে। এই সমঝোতার মাধ্যমে শেকৃবিয়ানরা ব্যাংকিং সেবায় বিশেষ সুবিধা পাবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেকৃবির পারস্পরিক সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার ফলে শেকৃবিয়ানরা সাশ্রয়ী ও বিশেষায়িত ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন বলে আশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শেকৃবি ও পূবালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরে ইলিশের দাম বাড়ল, কেজিতে বেড়েছে ৩০০-৪০০ টাকা

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে বেড়েছে ইলিশের দাম। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হঠাৎ দাম বাড়ায় মাছঘাটে এসে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা। অনেকেই ইলিশ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে বড়স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে। ছোট আকারের ইলিশের দাম পড়ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহ আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে একই আকারের ইলিশের দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

সরবরাহ কমায় বেড়েছে দাম

ব্যবসায়ী নবীর হোসেন বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিক্রিতেও।

তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ুক, এটা আমাদেরও কাম্য নয়। মূলত ইলিশের দাম কম থাকলে ক্রেতা বেশি আসে এবং বিক্রিও ভালো হয়। আগামী দুই দিনে যদি ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বাড়ে, তাহলে দামও কমতে পারে।’

কুমিল্লা থেকে মাছ কিনতে আসা আসমা বেগম বলেন, ১০-১২ দিন আগেও চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাট থেকে ইলিশ কিনেছেন তিনি। তখন যে দামে মাছ কিনেছিলেন, এখন একই ধরনের ইলিশের দাম কেজিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি।

তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে ইলিশের দাম আরও কমবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো, দাম আরও বেড়ে গেছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে মনে হয় না আর ইলিশ কিনতে পারব।’

২২ দিন বন্ধ থাকবে ইলিশ ধরা ও বিক্রি

আগামী ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময় চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটেও ইলিশের বেচাকেনা বন্ধ থাকবে।

চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেন, বর্তমানে মৌসুমের শেষ পর্যায়ের ইলিশ বেচাকেনা চলছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ইলিশের দাম বেড়েছে।

তিনি জানান, ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের বেচাকেনা বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে মাছ ধরা শুরু হলে আবার ঘাটে ইলিশের বেচাকেনা শুরু হবে।

নিষেধাজ্ঞার আগে বাকি দুই দিনে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সরবরাহ বাড়ুক এবং ইলিশের দাম কিছুটা কমে আসুক।’

মন্তব্য করুন

রাবিনা ট্যান্ডনের খোঁচা: “আজকাল কলেজের মেয়েরা তো প্রতি সপ্তাহেই নতুন প্রেমে!

বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় জুটি অক্ষয় কুমার ও রাবিনা ট্যান্ডন। নব্বইয়ের দশকে তাদের রোমান্স ছিল ইন্ডাস্ট্রির আলোচনার কেন্দ্রে। ‘মোহরা’ ছবির সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, যা পরে বাগদান পর্যন্ত গড়ায়। তবে কিছু বছর পর সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাবিনাকে আবারও সেই পুরনো সম্পর্ক ও বাগদান ভাঙা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। অভিনেত্রী হেসে বলেন, “আমি তো সেসব ভুলেই গেছি।” তিনি আরও বলেন, “কিছু অনস্ক্রিন জুটি মানুষ ভুলতে পারে না। ‘মোহরা’-র সময় আমরা হিট জুটি ছিলাম, এখনও কোথাও দেখা হলে খুব স্বাভাবিকভাবে কথা হয়। সবাই নিজের জীবনে এগিয়ে যায়।”

রাবিনা হালকা রসিকতার ছলে আরও বলেন, “আজকাল মেয়েরা কলেজে প্রতি সপ্তাহেই বয়ফ্রেন্ড বদলায়। আর আমার একটাই বাগদান ভাঙা— সেটাই এখনও লোকের মাথায় ঘুরছে! কেন জানি না। সবাই তো জীবনে এগিয়ে যায়, কেউ বিচ্ছেদ করে, কেউ নতুনভাবে শুরু করে— এতে এত ভাবনার কী আছে?”

বর্তমানে রাবিনা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ী অনিল থাডানির সঙ্গে; তাদের ২১ বছরের সংসার। দম্পতির মেয়ে রাশা থাডানি এ বছরই বলিউডে পা রেখেছেন। অন্যদিকে, অক্ষয় কুমারও ২০০১ সালে অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্নাকে বিয়ে করে সংসারী হন।

দীর্ঘ বিরতির পর এবার অক্ষয় ও রাবিনাকে আবার একসঙ্গে দেখা যাবে বড় পর্দায়— আসছে তাদের নতুন ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’।

মন্তব্য করুন

রাবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থাপনা, দরজা-জানালা ঘুরে দেখেন তারা। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

তিনি জানান, সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সময় ভাঙচুর হওয়া দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান আরও বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা দুই বিভাগের শিক্ষার্থী, সহকারী প্রক্টর ও প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনায় জড়িত ও দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। রবিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন।

মন্তব্য করুন
×