শেকৃবিতে ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, তিন দফা দাবি

প্রস্তাবিত ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ পদে শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগসহ তিন দফা দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. মহবুবুজ্জামান একাডেমিক ভবনের নিচে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এএসভিএম অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলমসহ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, প্রস্তাবিত ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ পদে শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ দিতে হবে, প্রানী চিকিৎসা খাতে ভেটেরিনারিয়ান ও ডিপ্লোমাধারীদের দায়িত্ব ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সীমারেখা রাখতে হবে, এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় চারজন করে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি করে দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে এবং এসব পদে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী মিনহাজ আহমেদ নাইম বলেন, ‘এলডিডিপি (LDDP) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেক ভেটেরিনারিয়ান বেকারত্বের মুখে পড়েছেন। অথচ ডিপ্লোমাধারীদের জন্য নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ডিপ্লোমাধারী ও ভেটেরিনারিয়ানদের মধ্যে দায়িত্ব ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সীমারেখা থাকা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন চিকিৎসক দিয়ে উপজেলা হাসপাতাল পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগের পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে ইউনিয়ন পর্যায়েও এ সেবা সম্প্রসারণ করা উচিত।

মন্তব্য করুন

এনএসটি ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিলে’, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে প্রশ্ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপের আওতায় শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য পাওয়া অর্থের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিরুদ্ধে। ফেলোশিপের জন্য আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামাও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিভাগটির দাবি, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এ অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং তা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এনএসটি ফেলোশিপের আওতায় প্রতি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অনুমোদিত স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউটের এমএস/এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। গবেষণার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে ব্যয়ের জন্য শিক্ষার্থীরা এ অর্থ পেয়ে থাকেন।

তিন বছরে ফেলোশিপ পেয়েছেন ৭২ শিক্ষার্থী

নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ জন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এনএসটি ফেলোশিপ পেয়েছেন। তিন বছরে মোট ৭২ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫৪ হাজার টাকা করে ফেলোশিপ পেয়েছেন। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ হাজার ১০০ টাকা করে বিভাগে জমা নেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে তিন বছরে ৭২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ টাকা।

বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ বিভাগে জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই ব্যয়’

বিভাগ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’ বাবদ নেওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন, খেলাধুলার আয়োজন, বিভিন্ন ব্যাচের অনুষ্ঠান ও শিক্ষা সফরসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত রয়েছে।

তবে গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ অন্য খাতে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ফেলোশিপ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তার তুলনায় এই টাকা খুবই কম। তারপরও যদি গবেষণার জন্য পাওয়া টাকা বিভাগের ফান্ডে দিতে হয়, সেটি খুবই দুঃখজনক। গবেষণার টাকা কল্যাণ তহবিলে খরচ করলে বিভাগ গবেষণায় আরও পিছিয়ে পড়বে।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় এমনিতেই দিন দিন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এভাবে গবেষণার টাকা অন্য ফান্ডে ব্যয় করলে দেখা যাবে, শিক্ষার্থীরা আর এদিকে আগ্রহই দেখাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব ফান্ড থেকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা উচিত। গবেষণার জন্য পাওয়া ব্যক্তিগত অনুদানের টাকা কল্যাণ তহবিলে দেওয়া অযৌক্তিক।’

‘গবেষণার যন্ত্রপাতির খরচ মেটাতেও অর্থ লাগে’

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিভাগের সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক। অঙ্গীকারনামা নেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় বিভিন্ন রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। এসবের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় অনেক সময় বিভাগীয় বরাদ্দ দিয়ে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে নষ্ট হলে সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে এসব ব্যয় মেটানো হয়।

বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, ‘ল্যাবের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সব খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য অনেক সময় অন্য ল্যাবেও কাজ করাতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। একটি জিনোম বিশ্লেষণ বা ডিএনএ পরীক্ষা করাতেই প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাগে। এসব কাজে শিক্ষকেরাও অনেক সময় নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বরাদ্দে ল্যাবের খরচ মেটে না। শিক্ষার্থীদের দেওয়া টাকাটা কল্যাণ তহবিলে যোগ হয় এবং ওই অর্থ থেকে ব্যয় নির্বাহ করা হয়। আমিও প্রতি মাসে নিজের পকেট থেকে এ তহবিলে টাকা দিই।’

তবে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ফেলোশিপের অর্থ থেকে টাকা নেওয়ার এখতিয়ার বিভাগের আছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, বিভাগ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি বিভাগের এখতিয়ার।

তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে চাপ দেওয়া হয় না; বরং অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অর্থ দিয়েছেন।

অন্য বিভাগে নেওয়া হয় না ফেলোশিপের অর্থ

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিভাগ উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকেও শিক্ষার্থীরা এনএসটি ফেলোশিপ পেয়ে থাকেন। তবে বিভাগটির চেয়ারম্যান কাজী নাহিদা বেগম জানিয়েছেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে বিভাগ কোনো অংশ নেয় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপ পেয়ে থাকে। তারা পুরো অর্থই গবেষণার কাজে ব্যয় করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকও গবেষণার বিভিন্ন ব্যয় বহন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের বিভাগে আলাদা একটি তহবিল রয়েছে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ দেন এবং সেই অর্থ আমরা আনুপাতিকভাবে প্রতি ব্যাচের জন্যই ব্যয় করি।’

ফলে গবেষণার জন্য নির্ধারিত ফেলোশিপের অর্থের একটি অংশ বিভাগীয় ‘কল্যাণ তহবিলে’ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠলেও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের দাবি, অর্থটি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও গবেষণার প্রয়োজনেই ব্যয় করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার মারধর, প্রতিবাদে সেই নেতার রুম ভাঙচুর

লিফটে ওঠার সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জেরে ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতাহাতি, হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে; এমনকি একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এক ছাত্রদল নেতাকে ধাওয়া বা দৌড়ানি খাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজয়-২৪ হলে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এবং রাতে শেরেবাংলা হলের সামনে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২৩ ব্যাচের রাতুল হাসান রুম্মান নামে এক শিক্ষার্থী ২১ ব্যাচের শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। সিনিয়রের পরিচয় না দিয়ে ‘ব্রো’ বলায় শরীফ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং লিফটে উঠতে বাধা দেন। পরবর্তীতে তা রুম্মান ও শরীফের মধ্যে হাতাহাতিতে রুপ নেয়।

তথ্যসুত্রে জানা যায়,রুম্মান ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের অনুসাররী। ঘটনার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শরীফের সাথে সংঘর্ষ এ জড়ান। এসময় শরীফকে মারধরের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শরীফের সহপাঠীরা এসে ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করে। পরবর্তীতে শরীফের সহপাঠীরা ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের রুমে গিয়ে ভাংচুর করে।

রুমমানের দাবি, দুপুরে ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলেছিলেন, যা নিয়ে তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয়।

অন্যদিকে, শরীফের দাবি—রাতে শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনের সামনে রুম্মানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায়। আত্মরক্ষা করতে গিয়ে রুম্মানের কপাল কেটে যায়।

শরীফ অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান, গালাগালি করেন এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া ও মামলার হুমকি দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ বলেন, “হলের ভেতরে হইচই শুনে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সিনিয়রের সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য গেস্টরুমে বসতে চাইলে অনিমেশ রায় নামে ২১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী অন্যদের খবর দেয়। পরে তারা এসে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে জড়ায়।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা। আমরা বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন

কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

শিক্ষা ছুটি শেষে কাজে না ফেরায় শেকৃবির ৬ শিক্ষক স্থায়ী বহিষ্কার

শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে যাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফেরায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন—মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হয়। পরে সভায় তাঁদের স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। শিগগিরই সেগুলোর লিখিত সিদ্ধান্ত প্রকাশ হবে।’

মন্তব্য করুন

জাবিতে শিক্ষকদের মূল্যায়নে জাকসুর ওয়েবসাইট, এখনই ব্যবহার করতে পারবেন না শিক্ষার্থীরা

শিক্ষকদের পাঠদান, আচরণ, সময়ানুবর্তিতা ও একাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়নের লক্ষ্যে ওয়েবসাইট তৈরি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। তবে ওয়েবসাইটটি আপাতত শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গঠিত কমিটির কাছে এটি হস্তান্তর করবে জাকসু।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাকসু ভবনে ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ একাডেমিক কাউন্সিল বিষয়টি গ্রহণ করলেও এটি এখনো কমিটির পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জাকসু নিজেদের উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘সদিচ্ছা থাকলে শিক্ষক মূল্যায়নের মতো একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব—আমরা সেটিই দেখিয়ে দিতে চাই। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কমিটি ওয়েবসাইটটি পর্যালোচনা করে তাদের প্রস্তাবনায় বিষয়টি বিবেচনা করবে।’

জাকসু জানিয়েছে, ওয়েবসাইটে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী কেবল নিজের বিভাগের এবং যে শিক্ষকের কোর্স করেছেন, সেই শিক্ষককে মূল্যায়ন করতে পারবেন। ফলে সংশ্লিষ্ট কোর্স না করা শিক্ষক কিংবা বিভাগের বাইরের কোনো শিক্ষককে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে না।

ওয়েবসাইটটির ডেভেলপার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সালমান আহমেদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া অফিসিয়াল ই-মেইল ছাড়া কেউ সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারবেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের তথ্যের গোপনীয়তা এবং মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

প্রশাসনের দায়িত্ব, বললেন উপাচার্য

জাকসুর উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে না প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নসহ জাকসুর কয়েকটি দাবির বিষয়ে কাজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর এখতিয়ার জাকসুর নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

তবে জাকসুর তৈরি ওয়েবসাইটটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘জাকসুকে ধন্যবাদ জানাই। তারা একটি নমুনা তৈরি করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি এটি বিশ্লেষণ করে কীভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং এতে কোনো সংকট বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করতে পারবে। এ ধরনের একটি উদ্যোগ অবশ্যই মূল্য সংযোজন করবে।’

ঢাবিতেও চালু হয়েছে শিক্ষক মূল্যায়ন

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করে। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে duevaluation.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ওয়েব অ্যাপটির উদ্বোধন করেন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের আধুনিকায়ন, যুক্ত হলো অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ভার্চুয়াল ক্লাসরুমটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের যৌথ উদ্যোগে এই ক্লাসরুমে সম্প্রতি একটি অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আধুনিক এই স্মার্টবোর্ডের মাধ্যমে এখন থেকে শিক্ষক ও গবেষকরা আরও সহজে এবং কার্যকরভাবে ইন্টারেক্টিভ ক্লাস, সেমিনার ও বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন পরিচালনা করতে পারবেন। এর ফলে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি পাঠদান ও তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া আরও প্রাণবন্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুগোপযোগী এই ক্লাসরুমটি এখন থেকে মূলত পিএইচডি (PhD) গবেষকদের ডিফেন্স এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেমিনারের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত ভার্চুয়াল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শিক্ষাব্যবস্থার এই গুণগত আধুনিকায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় বিডিরেন (BdREN)-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব ও বিশ্বমানের হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, বহিরাগত তাণ্ডব ও সাংবাদিক হেনস্তা, রিপোর্ট রবিবার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিক হেনস্তা এবং বহিরাগতদের তাণ্ডবের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী রবিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর আগে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে কমিটির সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের সময়সীমা ২৩ আগস্ট থেকে আরও তিন কার্যদিবস বাড়িয়ে ২৭ আগস্ট করা হয়। তবে বর্ধিত সময় শেষে আগামী রবিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রাপ্ত প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। রবিবারেই প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে নোবিপ্রবির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ওই দিন দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।

ঘটনার পরদিনই অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মন্তব্য করুন
×