অনুমোদন পেল ৯ম জাতীয় পে-স্কেল, প্রজ্ঞাপন রোববার

প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। এখন নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা। আগামী রোববার অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

নতুন বেতনকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থসচিব বলেন, রোববার অর্থ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তখন নতুন বেতনকাঠামোর সব বিষয় স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

এর আগে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বৈঠকে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত নতুন বেতনস্কেল ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

২০টি গ্রেডই বহাল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভা নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করেছে।

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

কমেছে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান

নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ কারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমানো হয়েছে।

বর্তমানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫। নতুন পে-স্কেলে এ অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।

ফলে নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপঞ্জিতে ভিন্নতা—পূজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে টানা বারো দিন, মাদরাসা-কারিগরিতে মাত্র চার দিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই। কারণ ওই দুই দিন (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক বন্ধের পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজার ছুটি কার্যকর হবে। একটানা ছুটি কাটিয়ে ৭ অক্টোবরের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু হবে ক্লাস।

একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বারো দিনের ছুটি মিলবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবার গরমিল ছাড়া ক্লাস চলবে যথারীতি।

অন্যদিকে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকবে মাত্র দুই দিন—১ ও ২ অক্টোবর। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে মোট ছুটি দাঁড়াবে চার দিনে। ৫ অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবার চলবে পাঠদান।

👉 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটি দীর্ঘায়িত হলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে সীমিত এই ছুটির মেয়াদ শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চার ধারাবাহিকতায় রাখবে এক ধাপ এগিয়ে।

মন্তব্য করুন

আজ মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নবম পে স্কেল, প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবারের মধ্যে

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন মিললে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন গ্রেড ও বেতন বৃদ্ধির হার কত হবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নবম পে স্কেল নিয়ে গত দুদিন ধরে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। এসব সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠক সংসদ ভবনে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার করার সুপারিশ

নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কমিশনের হিসাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলেও তখন হিসাব দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার কত রাখা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সচিব কমিটির সুপারিশ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে।

গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দ্রুত তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

ই-বুকে বলা হয়েছে, ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে এবং সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

৫৪ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, আবেদন ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকরা এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করা এবং শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

প্রকল্পের আওতায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে।

তৈরি হবে মাস্টার ট্রেইনার পুল

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য চার বিষয়ের দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে একটি বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে মাউশির মহাপরিচালক কর্তৃক প্রশিক্ষক নির্বাচন নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে।

অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের বাছাই করে মাস্টার ট্রেইনার পুল প্রস্তুত করা হবে।

আবেদনে যেসব শর্ত

মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের অগ্রায়ণপত্র দাখিল করতে হবে। ওই অগ্রায়ণপত্রে আবেদনকারীকে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অনুমতি এবং প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য প্রশিক্ষণে ক্লাস নেওয়ার জন্য অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া আবেদনকারীর প্রশিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদপত্র বা প্রযোজ্য অন্যান্য সনদ ও অফিস আদেশ থাকলে সেগুলোর প্রমাণকও দাখিল করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর

মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত অনলাইন লিংকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠনের পর তাদের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ জানা গেল

অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। যা চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০২৪ সালে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ২০২৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীরাই এবার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

বোর্ডের তথ্যমতে, নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা বছরের ১ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ১১+ এবং সর্বোচ্চ ১৭ বছর হতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২২ বছর নির্ধারিত। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু অনুমোদিত ও স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। অনুমতিবিহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিকটবর্তী অনুমোদিত স্কুল বা কলেজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে ওইএমএন বা ইএসআইএফ বাটনে ক্লিক করে ইআইআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর শিক্ষার্থীর সংখ্যা, নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সোনালি সেবার স্লিপ প্রিন্ট করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। পেমেন্ট ক্লিয়ার হলে শিক্ষার্থীর তথ্য ইএসআইএফ পূরণ করে ফাইনাল সাবমিট করতে হবে। ফাইনাল সাবমিটের আগে ভর্তি ফরম ও জন্মসনদের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে যাচাই করতে হবে।

আর রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ২৫০ টাকা এবং যুব রেডক্রিসেন্ট ফি হিসেবে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ টাকা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব যুব রেডক্রিসেন্ট কার্যক্রমের জন্য রাখবে এবং ২৪ টাকা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
 

বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করতে হবে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শেষে প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীর তথ্যে কোনো ভুল থাকলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সদস্যদের ওপর বর্তাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে, তারা ব্যানবেইস থেকে ইআইআইএন সংগ্রহের পর সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে লগইন পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। স্বীকৃতি হালনাগাদ না থাকলে দ্রুত স্বীকৃতি নবায়নের আবেদন করতেও বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে ধাপে ধাপে, জেনে নিন নতুন বেতন

নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো আগামী ১ জুলাই থেকেই তাদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছে।

নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) সরকারি চাকরিজীবীদের মতোই গ্রেড অনুযায়ী বাড়বে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা যেভাবে বাড়বে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা একই হারে সেই সুবিধা পাবেন না। এমনকি নতুন কাঠামোয় টেলিফোন বিল পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

তিন ধাপে বাড়বে বেসিক

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন তিন ধাপে বাড়ানো হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসিক ৩০ শতাংশ বাড়বে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৬৫ শতাংশ হবে। সর্বশেষ ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেসিক শতভাগ বাড়বে বলে জানা গেছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর অন্যান্য চাকরিজীবীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধাও বাতিল হয়ে যাবে।

কোন গ্রেডে কত বেতন

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের মূল বেতন ৫০ হাজার থেকে ৯১ হাজার ২০০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তা বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বর্তমান মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে তা বেড়ে হবে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা।

নবম গ্রেডের প্রভাষকদের বর্তমান মূল বেতন ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা। নতুন কাঠামোয় এই বেতন বেড়ে দাঁড়াবে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিএড ডিগ্রিধারীরা ১০ম গ্রেডে বেতন পান। এ গ্রেডে বর্তমানে মূল বেতন ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।

১১তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।

১৬তম গ্রেডের জুনিয়র শিক্ষক, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরদের বর্তমান বেতন ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে তা বেড়ে হবে ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা।

অন্যদিকে, ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তাদের মূল বেতন বেড়ে হবে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা।

অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ধরনের ভাতা ও সুবিধা একইভাবে বাড়বে না।

মন্তব্য করুন

বগুড়ায় মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকার স্কুল সরকারি

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’কে সরকারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট ২০২৬ (১১ ভাদ্র ১৪৩৩) থেকে বিদ্যালয়টি ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।

জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

মন্তব্য করুন
×