আজ শেষ দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধন, এরপর দিতে হবে বিলম্ব ফি

আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে ১৪৪৮ হিজরি/২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনের সাধারণ সময় আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শেষ হচ্ছে। গত ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে শুরু হওয়া এ নিবন্ধন কার্যক্রমে সাধারণ সময়ের মধ্যে আজ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

আল-হাইআতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিলম্ব ফিতে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাধারণ সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম ও বিলম্ব ফি প্রদান করে বর্ধিত সময়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এ বর্ধিত সময় শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে এবং চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

তবে ১৩ সেপ্টেম্বরের পর কোনো পরীক্ষার্থীর নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

যোগ্য কেউ যেন নিবন্ধন থেকে বাদ না পড়ে

দেশের সব দাওরায়ে হাদিস মাদরাসার পরিচালক, শিক্ষাসচিব ও ব্যবস্থাপকদের যোগ্য কোনো পরীক্ষার্থী যেন নিবন্ধন থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে আল-হাইআতুল উলার অধীন সব কওমি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীলদের নিজ নিজ বোর্ডের আওতাভুক্ত মাদরাসাগুলোকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নির্দেশনা দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসায় পূজার ছুটি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি

দুর্গাপূজায় মাদ্রাসার ছুটি বাতিল চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছেন মাদ্রাসার কিছু শিক্ষক ও অভিভাবক।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসায় দুর্গাপূজার ছুটি বাতিলের জন্য আবেদন করেন তারা।

এদিকে একই দাবিতে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

উল্লেখ্য, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। মাদ্রাসায়ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুই দিনের ছুটি রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ছুটি শুরু হবে। ৫ অক্টোবর আবার যথানিয়মে ক্লাস শুরু হবে। এর মধ্যে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটিও অন্তর্ভুক্ত করেছে অধিদপ্তর।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে করা আবেদনে বলা হয়, বিগত সরকার আলিয়া মাদ্রাসার ওপর অনেক ইসলামবিরোধী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছিল। তার অন্যতম একটি হচ্ছে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছুটি মাদ্রাসার ওপর চাপিয়ে দেওয়া, যা ইসলামি শরিয়তের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আমরা অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রতি কোনো অসম্মান না করে বলতে চাই, তারা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করবে এবং ছুটি ভোগ করবে— এটাই স্বাভাবিক। এটা তাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় যেহেতু কোনো ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী নেই, সেহেতু এ সংক্রান্ত ছুটি মাদ্রাসার জন্য অমূলক। যদি কোনো আলিয়া মাদ্রাসায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক থাকেন, তবে তিনি তার ধর্মীয় ছুটি ভোগ করতেই পারেন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আলিয়া মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থীর ওপর এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া শরিয়তবিরোধী। আসন্ন দুর্গাপূজাসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে মাদ্রাসার ছুটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।

লিখিত আবেদনে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সই করেন সিরাজগঞ্জের আল-ফারুক ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন।

অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে সই করেন তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গীর আলিম প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীর অভিভাবক জুবায়ের আহমেদ এবং শেখ সাদ বিন জাহান।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসার এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সুখবর

বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ছাড়ের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি হতে পারে। জিও জারি হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট শাখা) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক মঙ্গলবার বলেন, বেতন সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, মঙ্গলবারই এ অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে একই দিন জিও জারি করা সম্ভব হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগামী ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার আশা রয়েছে।

মোহাম্মদ মাহমুদুল হক আরও বলেন, এবার বেতন প্রদানে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির তালিকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষামন্ত্রণালয়
শিক্ষামন্ত্রণালয়

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য তালিকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। শর্ত পূরণ করা মাদ্রাসাগুলোর নামের তালিকা প্রথম পর্যায়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

 কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (মাদ্রাসা-১) মো. রাহাত মান্নান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণ বিষয়ক একটি সারসংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

প্রথম পর্যায়ে, ২০১৮ সালের ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন-ভাতাদি/অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা’ অনুসারে যেসব মাদ্রাসা সব শর্ত পূরণ করেছে, সেগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের বিস্তারিত প্রতিবেদন গ্রহণ করতে হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে, একই নীতিমালার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী অবশিষ্ট মাদ্রাসাগুলোকে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম পর্যায়ের জন্য ২০১৮ সালের নীতিমালার ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের শর্ত পূরণ করেছে এমন অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার তালিকা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাঠাতে হবে। পূর্বে পাঠানো তথ্যের সঙ্গে নতুন তথ্যের কোনো অমিল থাকলে তা ব্যাখ্যাসহ জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলে রাজনৈতিক স্বার্থ, সতর্ক করেছেন উপদেষ্টা

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

রাজনৈতিক দুষ্টচক্রের কারণে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলপ্রাপ্ত হয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা, শিক্ষা ও দেশ পরিচালনায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার বিশেষ অবদান রয়েছে। তবে অতীতে মাদ্রাসায় জঙ্গি কার্যক্রম এবং শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার মতো অঘটন ঘটেছে।”

বুধবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার ২৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী, যুগোপযোগী ও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়াও বিজ্ঞান ও আধুনিক বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।

চৌধুরী রফিকুল আবরার জানান, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ ও জমি দ্রুত সমাধান করা হবে, শিক্ষক সংকট দূর করা হবে, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ধর্ম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়পূর্ণ জ্ঞান অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেন।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসা অনুমোদন, বাড়ছে স্বীকৃতি ও এমপিও সুযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশজুড়ে দ্রুত বাড়ছে বেসরকারি মাদ্রাসা স্থাপন, পাঠদান অনুমোদন ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি। শর্ত পূরণে ব্যর্থ মাদ্রাসাগুলোকেও এখন শর্ত শিথিল করে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যেসব মাদ্রাসার অনুমোদন বাতিল বা স্থগিত ছিল, তাদেরও নতুন করে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকার মাদ্রাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে—ফলে নতুন ও ভাড়াবাড়িতে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোও এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

নতুন নীতিমালায় অনুমোদনের সুযোগ

সম্প্রতি ‘বেসরকারি মাদ্রাসা (দাখিল ও আলিম) স্থাপন, পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা–২০২৫’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নীতিমালার আওতায় এমন মাদ্রাসাগুলোও অনুমোদন পাচ্ছে, যারা আগে শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাদ পড়েছিল। এমনকি ভাড়াবাড়িতে পরিচালিত মাদ্রাসারাও এখন অনুমোদন পাচ্ছে।

পুরনো আদেশে নতুন স্বাক্ষর

সূত্র জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের আটকে থাকা অনুমোদনের আদেশগুলো নতুন করে জারি করা হচ্ছে। এসব আদেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ছবি সংবলিত প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু অফিস আদেশে এমন কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে, যিনি বর্তমানে ঐ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত নন।

শর্ত শিথিল করে স্বীকৃতি

গত ৬ অক্টোবরের একাধিক আদেশে দেখা যায়, কয়েকটি দাখিল ও আলিম মাদ্রাসাকে শর্ত শিথিল করে অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কুমিল্লার দেবিদ্বারের ফুলতলী দাখিল মাদ্রাসার অখণ্ড জমি ৬০ শতাংশের পরিবর্তে ৫৪ শতাংশ থাকা সত্ত্বেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ঝাউবোনা মহিলা মাদ্রাসাকেও একইভাবে ছাড় দেওয়া হয়।

এছাড়া পাবনা, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ভোলার কয়েকটি মাদ্রাসার বাতিল আদেশ প্রত্যাহার করে নতুন করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা মন্ত্রণালয়ের

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব এসএম মাসুদুল হক বলেন, “এই অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কারণে সময় লেগেছে। আগের কর্মকর্তা একেএম লুৎফর রহমানের স্বাক্ষরে সেই সময়ের অনুমোদনগুলো এখন কার্যকর হয়েছে।”

ভাড়াবাড়ির মাদ্রাসার জন্যও সুযোগ

১৯৯৭ সালের পুরনো নীতিমালার সংশোধিত সংস্করণে এখন যুক্ত হয়েছে ভাড়াবাড়িতে মাদ্রাসা পরিচালনার অনুমোদন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক বলেন, “অনেক বেসরকারি মাদ্রাসা আগে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিত। এখন তারা নিজেদের নামে পরীক্ষা দিতে পারবে। সরকারকে কোনো বাড়তি খরচও বহন করতে হবে না।”

এমপিও নীতিমালায় ছাড়

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

  • ছাত্রসংখ্যার শর্ত ১৫০ জন থেকে কমিয়ে ১২৫ জন করা হয়েছে।

এসএম মাসুদুল হক জানান, “দাখিল, আলিম ও ফাজিল স্তরের এমপিও নীতিমালা সংশোধন ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।”

মন্তব্য করুন

সরকার কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের মূল ধারার সাধারণ, কারিগরি ও আলিয়া মাদ্রাসার সমতুল্য করার উদ্যোগ

সরকার কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের মূল ধারার সাধারণ, কারিগরি ও আলিয়া মাদ্রাসার সমতুল্য করার উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্দেশ্য হলো কওমি মাদ্রাসার সব স্তরের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সনদকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করা এবং অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। ১৬ নভেম্বর এটি ওয়েবসাইটে জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল লক্ষ্যগুলো হলো:

  • সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে যোগ্যতার সমন্বয়;

  • পূর্ব অর্জিত অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি;

  • জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি;

  • আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা মূলত দুই ধরনের —
১. আলিয়া মাদ্রাসা: সরকার স্বীকৃত ও সাধারণ বিষয় সমন্বিত;
২. কওমি মাদ্রাসা: স্বতন্ত্র ও ধর্মীয় পাঠ্যক্রমভিত্তিক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সামসুর রহমান খান জানান, কওমি শিক্ষাকে মূল ধারায় আনা হবে। আগে মাস্টার্স স্তরের (দাওরায়ে হাদিস) সমমান স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, এবার নিচ থেকে উপরের দিকে ধাপে ধাপে কাঠামোগত স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সার্টিফিকেশন দেশ ও বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে। বাস্তবায়ন ম্যানুয়েলে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স, পড়ানো বিষয় ও আন্তর্জাতিক মানের তুলনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হবে।

নীতিমালার কমিটি বাস্তবায়নে সুপারিশ করবে। বিভিন্ন বোর্ড ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে, যাতে শিক্ষার গুণগত মান বজায় থাকে। বর্তমানে দেশের বিপুল সংখ্যক কওমি শিক্ষার্থী মূল স্রোতের বাইরে। তাই মূল ধারায় আনা জরুরি।

বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসাগুলো আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত হয়। সবচেয়ে বড় বোর্ড হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক)। এছাড়া আরও পাঁচটি কওমি শিক্ষা বোর্ড আছে।

নীতিমালায় ১০টি স্তরে জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতার শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই এক ধারা থেকে অন্য ধারায় যেতে পারবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত এবং বাস্তবায়নের নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বলতে এমন একটি শিক্ষা ধারা বোঝানো হয়েছে, যা ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে, শরিয়াহভিত্তিক পাঠক্রম অনুসারে পরিচালিত হয়।

মন্তব্য করুন
×