ইউনিসেফে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, আছে স্টাইপেন্ড

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ৬ থেকে ২৬ সপ্তাহ মেয়াদি ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। বিশ্বের যেকোনো দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা এসব ইন্টার্নশিপে আবেদন করতে পারবেন।

ইন্টার্নশিপের আবেদন করার শেষ সময় পদভেদে ভিন্ন। তাই আগ্রহী প্রার্থীদের যে পদের জন্য আবেদন করবেন, সেই পদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করতে হবে।

ইন্টার্নশিপে যেসব সুবিধা

ইন্টার্নশিপের ধরন ও কর্মস্থল অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। নির্বাচিত ইন্টার্নদের মাসিক স্টাইপেন্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ এবং ভিসা ও যাতায়াত খরচের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হতে পারে।

আবেদনের যোগ্যতা

ইউনিসেফের ইন্টার্নশিপে আবেদন করতে প্রার্থীদের—

  • কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে;

  • স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়নরত হতে হবে অথবা গত দুই বছরের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে;

  • ইংরেজি অথবা ফরাসি ভাষায় দক্ষ হতে হবে;

  • কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে;

  • বিভিন্ন পরিবেশে দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে;

  • ভালো যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, সব একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশিট এবং কভার লেটার জমা দিতে হতে পারে।

আবেদন যেভাবে

ইউনিসেফের বিভিন্ন দপ্তর ও কার্যক্রমে ইন্টার্নশিপের সুযোগ নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট ইন্টার্নশিপের বিজ্ঞপ্তি দেখে যোগ্যতা, কর্মস্থল, সুযোগ-সুবিধা ও আবেদনের শেষ তারিখ জেনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

যুক্তরাজ্যে বিনা খরচে পড়ার সুযোগ, কমনওয়েলথ স্কলারশিপে আবেদন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। এ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৯ সালে এ স্কলারশিপের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে ডিএফআইডির মাধ্যমে এটি পরিচালিত হলেও বর্তমানে এর অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)

যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৩০টি নিবন্ধিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা কাজ করেছেন। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।

যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকছে

কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে।

  • যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের জন্য বিমান টিকিট দেওয়া হবে।

  • আবাসন সুবিধার পাশাপাশি প্রতি মাসে ১ হাজার ৭১২ পাউন্ড ভাতা দেওয়া হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৬ টাকা

  • লন্ডন মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার পাউন্ড ভাতা পাবেন।

  • শিক্ষাসফরের জন্য নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হবে।

  • পোশাক কেনার জন্য ভাতা দেওয়া হবে।

  • শিক্ষার্থীর স্বামী/স্ত্রী এবং ১৬ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকলে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত পরিবার ভাতা দেওয়া হবে। তবে এ ভাতার পরিমাণ প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে।

  • প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে।

আবেদনকারীর যোগ্যতা

এ স্কলারশিপে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে কমনওয়েলথভুক্ত কোনো দেশের নাগরিক হতে হবে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায়ে কমপক্ষে আপার সেকেন্ড-ক্লাস (২.১) ডিগ্রি থাকতে হবে। অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে মাস্টার্সসহ লোয়ার সেকেন্ড-ক্লাস ডিগ্রিও গ্রহণযোগ্য।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে পড়াশোনা শুরু করার জন্য আবেদনকারীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হবে।

পাশাপাশি আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ছাড়া যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কিছু নথি জমা দিতে হবে। এগুলো হলো—

  • অফিসিয়াল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট

  • কমপক্ষে দুইজনের রেফারেন্স লেটার

  • মোটিভেশন লেটার বা গবেষণা প্রস্তাবনা

  • পিএইচডি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যুক্তরাজ্যের সুপারভাইজারের সমর্থনপত্র

আবেদনের শেষ সময় ও পদ্ধতি

আবেদনের শেষ সময়: ২০ অক্টোবর ২০২৬।

আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি, মাসিক ভাতা ও বিমানভাড়াসহ নানা সুবিধা

থাইল্যান্ডে ফুল-ফান্ডেড মাস্টার্স-পিএইচডি, আবেদন ৩০ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের জানুয়ারি ইনটেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের সুযোগ দিচ্ছে থাইল্যান্ডের সিরিনধর্ন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (SIIT)। ‘এসআইআইটি গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

থাইল্যান্ডের থাম্মাসাত ইউনিভার্সিটির অধীনে ১৯৯২ সালে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে SIIT। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামসহ নানা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্কলারশিপে যেসব সুবিধা

  • মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ;

  • গবেষণা ও থিসিসের জন্য পূর্ণ সহায়তা;

  • প্রতি মাসে ১০ হাজার থাই বাথ ভাতা;

  • ইকোনমি ক্লাসে রাউন্ড ট্রিপ বিমান টিকিটের খরচ;

  • ভিসা, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য খরচের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার বাথ অতিরিক্ত সহায়তা।

আবেদনের যোগ্যতা

  • যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন;

  • SIIT-এ দেওয়া প্রোগ্রামগুলোর যেকোনো একটিতে পড়াশোনার আগ্রহ থাকতে হবে;

  • আগের একাডেমিক ফলাফল ভালো হতে হবে;

  • দুটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে;

  • শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে;

  • বর্তমানে অন্য কোনো স্কলারশিপ বা গ্রান্ট গ্রহণ করলে আবেদন করা যাবে না।

যেসব নথি লাগবে

আবেদনের সময় জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র, সাম্প্রতিক ছবি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) এবং দুটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি গবেষণাপত্র বা প্রকাশনা থাকলে তা এবং ইংরেজি ভাষাদক্ষতার সনদ থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে।

আবেদন যেভাবে

আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপদ্ধতি, প্রোগ্রাম ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানতে SIIT-এর অফিসিয়াল আবেদন পোর্টাল ভিজিট করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

মন্তব্য করুন

সৌদির ইমাম আব্দুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলেন ইমদাদুল্লাহ

সৌদি আরবের ইমাম আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী মো. ইমদাদুল্লাহ। তিনি শিক্ষা ও স্কলারশিপবিষয়ক প্রতিষ্ঠান মারকায সওতুল ইসলামের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বরিশালের হারতার দক্ষিণ নাথারকান্দি গ্রামের সন্তান ইমদাদুল্লাহ। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধা ও পরিশ্রমের পরিচয় দেওয়া এই শিক্ষার্থী ২০২২ সালে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে আলিম পাস করেন। পরে তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসার আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে পড়াশোনা করছিলেন।

স্কলারশিপ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে ইমদাদুল্লাহ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের ইচ্ছায় এবং শিক্ষক ও পিতা-মাতার অশেষ দোয়ায় আজ আমার এই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আজকে ইমাম আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল ইউনিভার্সিটিতে এসে পৌঁছেছি। বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষা লাভ করে যেন ইসলামের খেদমতে ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারি, এজন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।’

৮ দেশের ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১১ শিক্ষার্থী

মারকায সওতুল ইসলাম সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের আটটি দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১১১ জন শিক্ষার্থী ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।

যেসব দেশে এসব শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পেয়েছেন, সেগুলো হলো—মিশর, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও মরক্কো।

এর মধ্যে সৌদি আরবের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির আটজন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটি, ইমাম আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল ইউনিভার্সিটি, কিং খালেদ ইউনিভার্সিটি ও নর্দান বর্ডার ইউনিভার্সিটি। এ আট শিক্ষার্থীর মধ্যে ইমদাদুল্লাহ একজন।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত মারকায সওতুল ইসলাম

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত মারকায সওতুল ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দীন আল আজহারী।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে তাদের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন।b

মন্তব্য করুন

হংকংয়ে বিনামূল্যে পিএইচডির সুযোগ, বাংলাদেশিরাও পারবেন আবেদন

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পিএইচডি করার সুযোগ দিচ্ছে হংকং। ‘হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ ফেলোশিপ দেওয়া হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১ ডিসেম্বর।

২০০৯ সালে হংকংয়ের রিসার্চ গ্রান্টস কাউন্সিল (RGC) হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম চালু করে। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪০০টি পিএইচডি ফেলোশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পিএইচডির জন্য আবেদন করা যাবে।

যে ৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ

ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা হংকংয়ের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনোটিতে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—

১. সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকং
২. হংকং ব্যাপটিস্ট ইউনিভার্সিটি
৩. লিংনান ইউনিভার্সিটি
৪. দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং
৫. দ্য এডুকেশন ইউনিভার্সিটি অব হংকং
৬. হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি
৭. হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
৮. দ্য ইউনিভার্সিটি অব হংকং

কী কী সুবিধা মিলবে

ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বার্ষিক উপবৃত্তি পাবেন। পাশাপাশি সম্মেলন ও গবেষণা ভ্রমণের জন্যও ভাতা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আবেদনের যোগ্যতা

হংকং পিএইচডি ফেলোশিপের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কয়েকটি যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। যোগ্যতাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • সদ্য স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এবং পূর্ণকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ থাকতে হবে।

  • ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে।

  • গবেষণার সক্ষমতা ও সম্ভাবনা থাকতে হবে।

  • যোগাযোগ ও আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা থাকতে হবে।

  • নেতৃত্বের গুণাবলি থাকতে হবে।

  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে IELTS স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে আগের একাডেমিক কোর্স ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হলে IELTS প্রয়োজন নাও হতে পারে।

যেভাবে আবেদন করবেন

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে অনলাইনে হংকং পিএইচডি ফেলোশিপের জন্য একটি প্রাথমিক আবেদন করতে হবে। প্রাথমিক আবেদনের পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ১ ডিসেম্বর ২০২৬।

তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে তিন মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপে নিয়োগ, মাসে ভাতা ১০ হাজার টাকা

বৃত্তির খবর
বৃত্তির খবর

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) তিন মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপ কর্মসূচিতে ২০ জন ইন্টার্ন নিয়োগ দেবে। নির্বাচিত ইন্টার্নদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে।

আবেদন করতে পারবেন যাঁরা

ইংরেজি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, হিসাববিজ্ঞান, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং, অর্থনীতি, বাণিজ্যিক ভূগোল, গণিত, পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন, ব্যবসায় প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, লোকপ্রশাসন, জনপ্রশাসন, পাবলিক পলিসি বা উন্নয়ন সহযোগিতা– এসব বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন করার যোগ্যতা

১. আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
২. ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে (অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়)।
৩. স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, অথবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী হতে হবে। অবতীর্ণ প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
৪. ডিগ্রি অর্জনের দুই বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
৫. অনলাইনে ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
৬. একজন প্রার্থী কেবল একবারই ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবেন।

ইন্টার্নশিপ ভাতা ও শর্তাবলি

১. প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হবে; অন্য কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না।
২. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ নির্ধারিত সুপারভাইজারের অধীনে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।
৩. ভাতা পাওয়ার জন্য প্রতি মাসে সন্তোষজনক কাজের প্রত্যয়ন জমা দিতে হবে।
৪. ইন্টার্নশিপ চলাকালে “চাকরিতে নিয়োজিত” হিসেবে কোনো সনদ দেওয়া হবে না।
৫. ইন্টার্নশিপ সফলভাবে সম্পন্ন করলে একটি সনদ প্রদান করা হবে, তবে এটি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য হবে না।

আবেদনের শেষ সময়

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

# বিস্তারিত তথ্যের জন্য ওয়েবসাইট

মন্তব্য করুন

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ, আবেদন শেষ যেসব তারিখে

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীর। তবে টিউশন ফি, আবাসন, যাতায়াতসহ নানা খরচের কারণে অনেকের জন্য সেই স্বপ্ন পূরণ কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ হতে পারে বড় সহায়তা। এসব বৃত্তির আওতায় শুধু টিউশন ফি নয়, অনেক ক্ষেত্রে মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ও গবেষণার খরচও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান এমন স্কলারশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন চারটি স্কলারশিপ সম্পর্কে—

১. সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড (সিঙ্গা)

সিঙ্গাপুর সরকারের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হলো ‘সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’ বা সিঙ্গা। এর আওতায় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে।

এই স্কলারশিপের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে বিনা মূল্যে পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। পিএইচডি প্রোগ্রামের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১ ডিসেম্বর ২০২৬।

বিস্তারিত: Singapore International Graduate Award (SINGA)

২. নাইট-হেনেসি স্কলারশিপ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি হলো নাইট-হেনেসি স্কলারশিপ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

স্কলারশিপটি সাধারণত সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত একাডেমিক খরচ বহন করে। তবে একাধিক বা যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রামে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হোম ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে অতিরিক্ত বা সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

আবেদনের শেষ সময়: ৬ অক্টোবর ২০২৬।

বিস্তারিত: Knight-Hennessy Scholars—Stanford University

৩. এডিবি-জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রাম

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয় এডিবি-জেএসপি (Asian Development Bank–Japan Scholarship Program)। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মেধাবী তরুণ ও পেশাজীবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

স্কলারশিপের আওতায় পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক জীবনযাপন ও আবাসন ভাতা, বই ও শিক্ষা উপকরণ, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ব্যয় এবং গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে এ স্কলারশিপের আবেদনের সময়সীমা নির্দিষ্ট নয়। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনটেকভেদে সময়সীমা ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদনের সময়: অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন।

বিস্তারিত: ADB–Japan Scholarship Program

৪. ব্রিটিশ শেভেনিং স্কলারশিপ

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি করার সুযোগ দেয় ব্রিটিশ সরকারের বহুল পরিচিত শেভেনিং স্কলারশিপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্য এ বৃত্তি দেওয়া হয়।

আবেদনকারীদের নেতৃত্বের গুণাবলি, পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা এবং নিজ দেশ ও সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শেভেনিং স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি, মাসিক জীবনযাপন ভাতা, যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের খরচসহ নির্ধারিত অন্যান্য ভাতা দেওয়া হয়।

আবেদনের শেষ সময়: ৬ অক্টোবর ২০২৬।

বিস্তারিত: Chevening Scholarship—Application Timeline

আবেদনের আগে যা মনে রাখবেন

স্কলারশিপের সুযোগ থাকলেই আবেদন করলেই হবে না। প্রতিটি প্রোগ্রামের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ফলাফল, ভাষাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনের সময়সীমা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ করে শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সুপারিশপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখলে আবেদনের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

মন্তব্য করুন
×