যুক্তরাজ্যে বিনা খরচে পড়ার সুযোগ, কমনওয়েলথ স্কলারশিপে আবেদন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। এ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৯ সালে এ স্কলারশিপের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে ডিএফআইডির মাধ্যমে এটি পরিচালিত হলেও বর্তমানে এর অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)।
যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৩০টি নিবন্ধিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা কাজ করেছেন। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।
যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকছে
কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—
-
সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে।
-
যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের জন্য বিমান টিকিট দেওয়া হবে।
-
আবাসন সুবিধার পাশাপাশি প্রতি মাসে ১ হাজার ৭১২ পাউন্ড ভাতা দেওয়া হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৬ টাকা।
-
লন্ডন মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার পাউন্ড ভাতা পাবেন।
-
শিক্ষাসফরের জন্য নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হবে।
-
পোশাক কেনার জন্য ভাতা দেওয়া হবে।
-
শিক্ষার্থীর স্বামী/স্ত্রী এবং ১৬ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকলে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত পরিবার ভাতা দেওয়া হবে। তবে এ ভাতার পরিমাণ প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে।
-
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে।
আবেদনকারীর যোগ্যতা
এ স্কলারশিপে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে কমনওয়েলথভুক্ত কোনো দেশের নাগরিক হতে হবে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায়ে কমপক্ষে আপার সেকেন্ড-ক্লাস (২.১) ডিগ্রি থাকতে হবে। অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে মাস্টার্সসহ লোয়ার সেকেন্ড-ক্লাস ডিগ্রিও গ্রহণযোগ্য।
এ ছাড়া ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে পড়াশোনা শুরু করার জন্য আবেদনকারীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হবে।
পাশাপাশি আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ছাড়া যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদনের সময় প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কিছু নথি জমা দিতে হবে। এগুলো হলো—
-
অফিসিয়াল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট
-
কমপক্ষে দুইজনের রেফারেন্স লেটার
-
মোটিভেশন লেটার বা গবেষণা প্রস্তাবনা
-
পিএইচডি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যুক্তরাজ্যের সুপারভাইজারের সমর্থনপত্র
আবেদনের শেষ সময় ও পদ্ধতি
আবেদনের শেষ সময়: ২০ অক্টোবর ২০২৬।
আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।