এফএইচ হলের প্রভোস্টকে হেয় করার প্রতিবাদে ঢাবি ফার্মেসি শিক্ষকদের ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক ও ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুনকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনুষদের শিক্ষকরা। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া চিঠিতে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, এফএইচ হলে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে যে টানাপোড়েন ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা উদ্বেগজনক।

চিঠিতে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি, অভিযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালনের অধিকারও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষকরা আরও বলেন, এফএইচ হলে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচার চাওয়া সবার অধিকার হলেও চাপ প্রয়োগ কিংবা মব সৃষ্টির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দায়ী করা গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত শেষে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়াই সমীচীন।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাডেমিক এলাকায় ব্যানার-পোস্টার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনকে হেয় করার মতো প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে তিনি ছাড়াও ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা মর্মাহত হয়েছেন এবং এর প্রভাব অনুষদের একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রমে পড়ছে।

শিক্ষকদের ভাষ্য, কোনো বিষয় তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিকৃত ছবি ব্যবহার, ব্যানার-পোস্টারিং ও ধারাবাহিক প্রচারণার মাধ্যমে কাউকে তদন্তের ফল প্রকাশের আগেই দায়ী করা তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রচারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার শামিল।

ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও-ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ব্যানার-পোস্টার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ সব ধরনের প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ তথ্য বা ধারণার ভিত্তিতে নয়, বরং প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা উচিত।

শিক্ষকদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সামাজিকভাবে দোষী সাব্যস্ত বা হেয় করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কোনো যৌক্তিক অভিযোগকেও খাটো বা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চিঠির শেষে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তি, সংলাপ, সহনশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা চর্চার বিদ্যাপীঠ। তাই মব-চাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

এইচএসসির নিম্নমুখী ফল, ভর্তিযুদ্ধে নামছে শিক্ষার্থীরা

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৩ লাখ আসন; তবু শঙ্কা সেরা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

নিম্নমুখী এমন ফলাফলে অনেক শিক্ষার্থী মন খারাপের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। কারণ, সামনে তাদের অপেক্ষা করছে কঠিন ‘ভর্তিযুদ্ধ’।

ভর্তিযুদ্ধের সামনে শিক্ষার্থীরা : দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ মিলে উচ্চশিক্ষার স্তরে প্রায় ১৩ লাখ আসন রয়েছে। কিন্তু এবার পাস করেছেন মাত্র ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, আসন ফাঁকা থাকবে ৬ লাখেরও বেশি।

তবুও প্রতিযোগিতা থাকবে শীর্ষস্থানীয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে; এর মধ্যে ৫৩টিতে চলছে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টালে আরও প্রায় ৫ হাজার আসন রয়েছে।
ফলে এই ২০-২২টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা হবে সবচেয়ে তীব্র।

🎓 শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

শিক্ষার্থীদের প্রধান টার্গেট বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শীর্ষ ২০-২২টি বিশ্ববিদ্যালয়।

নটর ডেম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন, “প্রত্যাশা ছিল গোল্ডেন জিপিএ-৫। তা হয়নি। এখন লক্ষ্য বুয়েট— না হলে ঢাবি বা কুয়েট-চুয়েট।”

অন্যদিকে ভিকারুননিসা নূন কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা সুলতানা বলেন, “ঢাকাতেই পড়তে চাই। তাই ঢাবি প্রথম টার্গেট। না হলে রাজশাহী বা জাহাঙ্গীরনগরেও চেষ্টা করবো।”

🏫 বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিকল্প

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না পেলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী—প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে আসন: ৬,৩৪০টি      প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজে: ১,৩৫০টি        আর্মড ফোর্স মেডিকেল কলেজে: ৩৫০টি

এছাড়া শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সে ১,৮৬,৮৯৯টি আসন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩,৬৩০টি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৮,৫৮,২৭৫টি (অনার্স ও পাস কোর্স মিলিয়ে) আসন রয়েছে।এছাড়া ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৪,৫২৯টি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭,৫৯৩টি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল কলেজে ১,৪৪০টি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে ৫,৬০০টি আসন রয়েছে।

📊 বিশেষজ্ঞের মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান বলেন, “সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে আসন সীমিত। ফলে সবাই সুযোগ পাবে না। শিক্ষার্থীদের উচিত বিকল্প সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। সরকারেরও উচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে সেখান থেকেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হয়।”

 

ধরন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মোট আসন মন্তব্য
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৫৩ ৫০,০০০ উচ্চ প্রতিযোগিতা
সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল - ৫,০০০ সীমিত আসন
প্রাইভেট মেডিকেল ও ডেন্টাল - ৭,৬৯০ বেশি খরচ
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০০+ ১,৮৬,৮৯৯ বিকল্প সুযোগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২৬৪ কলেজ ৮,৫৮,২৭৫ তুলনামূলক সহজ ভর্তি
অন্যান্য (উন্মুক্ত, নার্সিং, টেক্সটাইল, মেরিন ইত্যাদি) - ১,০০,০০০+ বিভিন্ন সুযোগ

 “ভর্তিযুদ্ধে শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়”
📍বুয়েট, 📍ঢাবি, 📍রাজশাহী, 📍চট্টগ্রাম, 📍জাহাঙ্গীরনগর, 📍জগন্নাথ, 📍শাহজালাল, 📍খুলনা, 📍বরিশাল ও 📍মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দেখানো থাকবে।

মন্তব্য করুন

ঢাবিতে বাংলা শিখতে আগ্রহ বাড়ছে চীনা শিক্ষার্থীদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা শেখা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার প্রতি চীনা শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। গত তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নেওয়া চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় চলতি বছর অংশগ্রহণকারী চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৩ শতাংশ।

শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যাই নয়, এ কোর্সে অংশ নেওয়া চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, চীনা শিক্ষার্থীদের এ আগ্রহ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিনিময় আরও জোরদার হওয়ারই প্রতিফলন।

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনের গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ ও ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি থেকে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নেন।

পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ জনে। সে বছর ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি, ইউনান ইউনিভার্সিটি ও বেইজিং ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষার্থীরা কোর্সটিতে অংশ নেন।

চলতি বছর এ সংখ্যা আরও বেড়ে ২৬ জন হয়েছে। এবার ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি, ইউনান ইউনিভার্সিটি, কমিউনিকেশন ইউনিভার্সিটি এবং গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।

উপাচার্যের সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ

এদিকে সোমবার বাংলা ভাষা বিষয়ে অধ্যয়নরত চীনা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভাষা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। চীনা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার কথাও উপাচার্যের কাছে জানান।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনার পর উপাচার্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের খাবার, ওয়াই-ফাই, আবাসনসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন সুবিধা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চীনা শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা শেখার এ আগ্রহ দুই দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক সংস্কৃতি সম্পর্কে জানাশোনার সুযোগও তৈরি করছে।

মন্তব্য করুন

জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. জসীম উদ্দিন

শরীয়তপুর: জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ZHSUST) পেল নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (উপ-উপাচার্য)। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

 

নিয়োগের বিস্তারিত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৩১ (১) এবং ধারা ৩২(১) অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিনকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • নিয়োগের মেয়াদ: যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।

  • পূর্ববর্তী পদ: ড. জসীম উদ্দিন পূর্বে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)-এর উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান: জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অধীনে তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং আইন অনুযায়ী তার কার্য সম্পাদন করবেন। তবে প্রয়োজন অনুসারে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিনের যোগদান জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।

মন্তব্য করুন

ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত ছাত্রদল প্রার্থীর

আবিদুল ইসলাম খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে পরাজিত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচনের সময় ছাত্রদল রাষ্ট্রের স্বার্থে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ভোটার ও প্রার্থীদের অভিযোগের যথাযথ জবাবদিহি করতে যদি প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে ডাকসু নির্বাচন পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থেকেই যায়।

” শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে “মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন” বিষয়ে আয়োজিত তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তা শীর্ষক সংলাপের তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আবিদ জানান, খুব শিগগিরই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনও আলোচনা হয়।

এবারকার নির্বাচনও সদ্য শেষ হয়েছে, যেখানে নানা অভিযোগ উঠেছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগের জবাবদিহি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আমরা পূর্বের মতো সংঘাতের পথে হাঁটিনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করিনি। ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। নতুন বাংলাদেশের নতুন ছাত্ররাজনীতির প্রচলনে ভূমিকা রাখতে চেয়েছি। ভোটে নানা অনিয়মের ফাঁদ পাতা হয়েছিল, সেখানে আমাকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” ভিপি পদে হারের বিষয়ে আবিদুল ইসলাম বলেন, “এটিকে আমরা সরলভাবে পরাজয় বলতে চাই না। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তি প্রভাব বিস্তার করছে।”

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হন সাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হন ফরহাদ হোসেন। তারা দুজনই ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে।

মন্তব্য করুন

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৭ মার্চ, রুটিন চূড়ান্ত

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সমন্বিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আগামী বছরের ২৭ মার্চ থেকে শুরু হবে। প্রথম দিন 'সি' ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর এক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ মার্চ, ৩ এপ্রিল এবং ১০ এপ্রিল—এই তিন দিনে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

  • ২৭ মার্চ: 'সি' ইউনিটের (বাণিজ্য বিভাগ) ভর্তি পরীক্ষা।

  • ৩ এপ্রিল: 'বি' ইউনিটের (মানবিক বিভাগ) ভর্তি পরীক্ষা।

  • ১০ এপ্রিল: 'এ' ইউনিটের (বিজ্ঞান বিভাগ) ভর্তি পরীক্ষা।

তবে, কবে থেকে শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে, সেই তারিখ পরবর্তী সভায় নির্ধারণ করা হবে।

সভায় ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এ সময় ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

যবিপ্রবি শিক্ষার্থী তোহার আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক জয়

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন (ডব্লিউ-আই-সি-ই) ২০২৫-এ স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মো. তোহা বিন আছাদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের ২১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ আসরে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশ থেকে দেড় হাজারের মতো প্রতিযোগী প্রকল্প নিয়ে অংশ নেয়। সেখানে তোহা ও তার সহযাত্রী জাহিদ হাসান জিহাদ এবং তাদের দল ‘হেক্সাগার্ড রোভার’ প্রকল্প নিয়ে অংশ নেন এবং আইটি অ্যান্ড রোবোটিকস ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক জয় করেন।

উদ্ভাবনী কাজে আগ্রহী এই তরুণ গবেষণামুখী শিক্ষার্থী সবসময়ই স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রাখার। এরই ধারাবাহিকতায় হেক্সাগার্ড রোভার প্রকল্পটি একটি উদ্ভাবনী রোবোটিক সিস্টেম, যা দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজ, নজরদারি এবং দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

স্বর্ণপদক জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে দ্বীপ বলেন, স্বর্ণপদক অর্জনের সেই মুহূর্ত ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। বাংলাদেশের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে যখন ঘোষণা করা হলো আমরা স্বর্ণপদক পেয়েছি, তখন মনে হয়েছিল—এটাই জীবনের অন্যতম গর্বের অর্জন। আমার পরিবার আনন্দে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকরাও গভীর গর্ব অনুভব করেছেন এবং বলেছেন, এ অর্জন যবিপ্রবির জন্যও একটি সাফল্য।

তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি পদক নয় বরং বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি বিশ্বাস করি, এই সাফল্য আগামীতে দেশের আরও তরুণকে অনুপ্রাণিত করবে।

মন্তব্য করুন
×