জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকলসহ বিভিন্ন ধরনের অসদুপায় অবলম্বন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২৮৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শাস্তির অংশ হিসেবে কারও পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, আবার কাউকে এক থেকে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব এবং নকলের আলামত পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধের ধরন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেগুলেশন অনুযায়ী পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরীক্ষক, পরিদর্শক ও প্রধান পরীক্ষকদের পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে এসব শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করে বিষয়গুলো পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়।

পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২৮৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১৬ জনের শুধু সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ৫৫ জনের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর, ১৪ জনের পরবর্তী তিন বছর এবং তিনজনের পরবর্তী চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই দিতে প্রস্তুত এনসিটিবি

এনসিটিবি লোগো । গ্রাফিক্স- এডুকেশন বাংলা
এনসিটিবি লোগো । গ্রাফিক্স- এডুকেশন বাংলা

সব ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কাজ করছে—বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে এনসিটিবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানো এনসিটিবির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং চলছে।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই সময়মতো ছাপা ও বিতরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে সংস্থাটি। বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবির নিজস্ব তদারকির পাশাপাশি নিরপেক্ষ ইন্সপেকশন ফার্ম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠপর্যায়েও নজরদারি করছে। প্রেস মালিকদের সঙ্গেও চলছে নিয়মিত সমন্বয়।

সম্প্রতি এনসিটিবি অডিটোরিয়ামে বই মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সেখানে মালিকরা মুদ্রণ ও সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরেন এবং সেগুলো সমাধান করা হলে সময়মতো বই সরবরাহ আরও সহজ হবে বলে মত দেন।

এর পরপরই গত মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ভার্চুয়ালি দেশের এক হাজারের বেশি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সভায় আগের মতবিনিময় সভায় আলোচিত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সরবরাহকৃত বইয়ের বিল দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকদের আশ্বস্ত করা হয়। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বই পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বই গ্রহণের ব্যবস্থা এবং বই পাঠানোর সময় মাঠপর্যায় সঠিকভাবে অবহিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বই সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত স্থান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকরাও শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা থাকলে নির্ধারিত সময়ে দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এনসিটিবি।

মন্তব্য করুন

নিষেধাজ্ঞা অমান্য: শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মোবাইল ব্যবহারে ফের কড়া নির্দেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে আসা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। সরকারি নির্দেশনা থাকলেও নোয়াখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া ও ব্যবহার বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আনা নিষিদ্ধ করতে ফের কড়া নির্দেশ দিয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

 নোয়াখালী সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিটি নোয়াখালী সদর উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আনা এবং শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ওই নির্দেশনা সত্ত্বেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন নিয়ে আসছে এবং শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন।

এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো নিষিদ্ধ করা হলেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন কোচিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা অমান্য করে এ ধরনের কার্যক্রম চলতে দেওয়া যাবে না।

তাই শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো বন্ধসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজনে পরিবর্তন

শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো
শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো

২০২৬ সাল থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বাংলা ২য় পত্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ের প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজনে পরিবর্তন এনেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আজ রোববার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়েছে:

১. বাংলা দ্বিতীয় পত্র: বাংলা ২য় পত্রের রচনামূলক অংশের প্রশ্ন কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। 'অনুবাদ' অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অনুবাদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ নম্বর এখন থেকে সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য বরাদ্দ করা হবে।

২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি): আইসিটি বিষয়ের প্রশ্ন কাঠামো থেকে 'সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন' বাদ দেওয়া হয়েছে। সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ নম্বর বহুনির্বাচনি অংশের ১৫ নম্বরের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে, আইসিটির বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য মোট ২৫ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে।

৩. ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং: এই বিষয়ে এখন থেকে ফিন্যান্স অংশ থেকে ৮টি এবং ব্যাংকিং অংশ থেকে ৭টি প্রশ্নসহ মোট ১৫টি সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন থাকবে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো একটি বিভাগ থেকে ন্যূনতম ৪টি সহ মোট ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি আরও জানিয়েছে যে, দশম শ্রেণির নির্বাচনি পরীক্ষায়ও বাংলা ২য় পত্র, আইসিটি এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে সংশোধিত প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন অনুযায়ী প্রশ্ন করতে হবে। এটি একটি অতীব জরুরি নির্দেশনা।

মন্তব্য করুন

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের বাসে ছাত্রশিবিরের স্টিকার বিতর্ক, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের মধ্যে

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণের জন্য বরাদ্দকৃত বাসে নিজেদের নাম-সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে
বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণের জন্য বরাদ্দকৃত বাসে নিজেদের নাম-সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উদ্যোগে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণের জন্য বরাদ্দকৃত বাসে নিজেদের নাম-সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণ সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস বরাদ্দের পর পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রণয়ন, সিট পরিকল্পনা তৈরি এবং সামগ্রিক সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির অন্যান্য সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি সহযোগিতা করে।

তবে, শুক্রবার ভোরে পরীক্ষার্থীদের বহনকারী বাসগুলো ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার সময় বাসের গায়ে ছাত্রশিবিরের নামযুক্ত স্টিকার লাগানো দেখা যায়। এই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান এই ঘটনাকে 'দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত' আখ্যা দিয়ে বলেন, "সবাই জানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগেই এই পরিবহণ ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি বাসে নির্দিষ্ট সংগঠনের স্টিকার লাগানোয় শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সবাই বিব্রত হয়েছেন।"

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি সাদ কবির জানান, "আমরা প্রশাসনের উদ্যোগে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছি, সেটি জানাতেই স্টিকার লাগানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আমরা দ্রুত স্টিকার অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি।"

এ বিষয়ে পরিবহণ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী বলেন, "প্রতি বছরের মতো এবারও বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই পরিবহণ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাত্রশিবির পরীক্ষার্থীদের তালিকা তৈরিতে সহায়তা করেছে এবং ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দেয়। তবে বাসে সংগঠনের স্টিকার লাগানো একেবারেই অনুচিত। বিষয়টি নজরে আসার পর তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।"

 

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় নজরুল ভাস্কর্যের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আগারগাঁওগামী ছয়টি বাস (প্রতিটি রুটে তিনটি করে) পরীক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষার্থীদের সুস্থতা বৃদ্ধিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসেম্বলি ও পিটি বাধ্যতামূলক: মাউশি

শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত অ্যাসেম্বলি (প্রাত্যহিক সমাবেশ) এবং পিটি (শারীরিক প্রশিক্ষণ) আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে বছরজুড়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়োপযোগী ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে মাউশি জানিয়েছে, অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে অবশ্যই নিয়মিত অ্যাসেম্বলি ও পিটি আয়োজন করতে হবে।

এছাড়াও, যেসব প্রতিষ্ঠানে ক্যান্টিন বা অন্য কোনো মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করা হয়, সেই খাবার অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এই বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনাটি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি) এবং সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলোকেও এই বিষয়ে অবগত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব দেবেন ইউএনও ও ডিসি — শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সেই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা তার প্রতিনিধি পালন করবেন—এ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১৫ নভেম্বর তারিখে স্বাক্ষরিত অফিস আদেশটি প্রকাশ করে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-১৬৭৫৭/২০২৫–এর প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত ৮ সেপ্টেম্বর যে পরিপত্র (যেখানে সংশোধিত প্রবিধানমালা-২০২৪ অনুযায়ী নিয়মিত বা অ্যাডহক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল) জারি করেছিল, তা তিন মাসের জন্য স্থগিত রয়েছে।

এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেখানে প্রবিধানমালা-২০২৪-এর অনুচ্ছেদ ৬৯ অনুযায়ী ইউএনও (উপজেলা পর্যায়) এবং ডিসি বা তার প্রতিনিধি (জেলা পর্যায়) সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

অফিস আদেশে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ঘোষণা করেছিল যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বিলুপ্ত হবে। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ালে সংশ্লিষ্ট পরিপত্র তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়।

মন্তব্য করুন
×