পরীক্ষার ডামাডোলে গভর্নিং বডি নির্বাচন: শিক্ষক-অভিভাবক মহলে তীব্র উদ্বেগ

শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো
শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো

৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ: শিক্ষাপঞ্জির সংবেদনশীল সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে শিক্ষাব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষাবর্ষের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়—নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশিকা শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, প্রথাগতভাবে এই নির্বাচন বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা এগিয়ে আনা হয়েছে বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার ঠিক মাঝখানে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে।

সংবেদনশীল সময়ে নির্বাচনের নির্দেশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শেষ করতে হবে। অথচ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এই সময়টিই শিক্ষার্থীদের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতির এবং পরীক্ষার সময়।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা: ২০ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা: ২৯ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীরা যখন পড়াশোনা নিয়ে চূড়ান্তভাবে ব্যস্ত, শিক্ষকেরা প্রশ্নপত্র তৈরি ও পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, ঠিক তখনই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা শঙ্কিত। তাঁদের মতে, এই সময়ে নির্বাচন আয়োজনে শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক রুটিন ও পরিবেশ নিশ্চিতভাবেই বিঘ্নিত হবে।

প্রথা ভাঙার কারণ ও উদ্বেগের জায়গা
প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ফেব্রুয়ারি মাসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সময়ে পাঠদানের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় নির্বাচন ঘিরে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সবার অংশগ্রহণও স্বতঃস্ফূর্ত থাকে। কিন্তু এবার পরীক্ষার সময় নির্বাচন হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে পরীক্ষার পাশাপাশি ভোটের প্রস্তুতি, বুথ স্থাপন এবং নির্বাচন আয়োজনের অতিরিক্ত চাপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর একাধিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষক  বলেন, "একই সময়ে নির্বাচন ও পরীক্ষা নিশ্চিতভাবেই পরীক্ষার্থীদের জন্য অসুবিধা তৈরি করবে। কিন্তু কোন উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি স্পষ্ট নয়। মন্ত্রণালয়ের উচিত অবশ্যই দুটি বিষয়ের রুটিনের মধ্যে সমন্বয় করা।"

অন্যদিকে অভিভাবকেরা সন্তানের পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার সময় নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়লে তা সন্তানের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নির্বাচনের কারণে স্কুলের স্বাভাবিক রুটিন ও পরিবেশ বিঘ্নিত হলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

আগাম প্রচারণায় সরগরম ক্যাম্পাস
নির্বাচনের এখনো দেড় মাস বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের পরিচালনা নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। গেল সপ্তাহে ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আসন্ন গভর্নিং বডি নির্বাচন - ২০২৫ আয়োজন উপলক্ষে বনশ্রী শাখা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় কলেজ শাখার প্রার্থী হিসেবে আহসান উল্ল্যা মানিককে মনোনীত করে অভিভাবকদের প্রতি তাঁকে নির্বাচিত করার আহবান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু। তিনি আগাম প্রচারণার বিষয়ে বলেন, "কলেজের নির্বাচন নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ব্যস্ততা বাড়ে। ঢাকার বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন প্রচার শুরু হয়ে গেছে, এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই।" তবে তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচন এগিয়ে আনা বা পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "শিক্ষক প্রতিনিধি মানে হচ্ছে একটি দল বা উপদল তৈরি করা। এই বিষয়টি নির্বাচনে বাদ দেওয়া উচিত।"

মন্ত্রণালয়ের নীরবতা
সাধারণ অভিভাবক এবং শিক্ষক মহলের প্রশ্ন হলো—শিক্ষাবর্ষের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হওয়ার মুহূর্তে এমন স্পর্শকাতর সময়ে নির্বাচন আয়োজনের তাড়াহুড়ো কেন? যদিও দীর্ঘদিন ধরে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটির নির্বাচন হয়নি, সেই দিকে মন্ত্রণালয়ের নজর কম থাকলেও পরীক্ষার সময় এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের যৌক্তিকতা কী? শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে কিনা, তা নিয়ে এখন শিক্ষামহলে জোর আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, "এ বিষয়ে আসলে আমার বলার কিছু নেই। এটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক এটি নিয়ে কাজ করছেন, তিনি ভালো বলতে পারবেন।" তবে বিদ্যালয় পরিদর্শক ও শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

Tags

গভর্নিং-বডি-নির্বাচন ম্যানেজিং-কমিটি-নির্বাচন শিক্ষা-মন্ত্রণালয় বার্ষিক-পরীক্ষা নির্বাচনী-পরীক্ষা শিক্ষক-উদ্বেগ অভিভাবক-প্রশ্ন শিক্ষাবর্ষ শিক্ষা-বোর্ড নভেম্বর-নির্বাচন
মন্তব্য করুন

শিক্ষার্থীদের সুস্থতা বৃদ্ধিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসেম্বলি ও পিটি বাধ্যতামূলক: মাউশি

শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত অ্যাসেম্বলি (প্রাত্যহিক সমাবেশ) এবং পিটি (শারীরিক প্রশিক্ষণ) আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে বছরজুড়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়োপযোগী ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে মাউশি জানিয়েছে, অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে অবশ্যই নিয়মিত অ্যাসেম্বলি ও পিটি আয়োজন করতে হবে।

এছাড়াও, যেসব প্রতিষ্ঠানে ক্যান্টিন বা অন্য কোনো মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করা হয়, সেই খাবার অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এই বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনাটি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি) এবং সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলোকেও এই বিষয়ে অবগত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

‘হতাশা ছিল বলেই পড়াশোনা করেছি, হতাশাকে নেগেটিভলি দেখি না’

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর থেকে। এ সময়ে ভর্তিচ্ছুদের প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে জানার আগ্রহও বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় নিজের সাফল্য, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও ভর্তিচ্ছুদের জন্য পরামর্শ নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের মুখোমুখি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল আদন নুসরাত। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের (বি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ১২১তম স্থান অর্জন করেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে পছন্দের বিষয় ইংরেজি বিভাগ হওয়ায় তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেন।

তার সঙ্গে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল নাঈম।

ভর্তি পরীক্ষায় আপনার সাফল্যের খবর পাওয়ার মুহূর্তটি কেমন ছিল?

বেশ ভালো লেগেছিল। কারণ আমার ইচ্ছে ছিল ইংরেজি সাহিত্যে পড়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু পছন্দের বিষয় ইংরেজি পাইনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়েছিলাম।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কতদিন আগে থেকে শুরু করেছিলেন এবং কীভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন?

গুছিয়ে পড়াটা কম হয়েছে বলা যায়। আসলে সেভাবে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্টের পর বন্ধুদের অনেকের চান্স হয়ে যায়। তখন যখন মনে হলো, আমাকে সার্ভাইভ করতে হবে, এরপর থেকে রাতদিন টানা পড়েছি।

আমার দরকার ছিল একটা সিট। ঠিক করেছিলাম, ইংলিশে যদি একশটা সিট থাকে, একটা আমার। আবার যদি দশটা সিটও থাকে, একটা যেকোনো মূল্যে আমারই।

প্রতিদিন গড়ে কত ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন? আপনার পড়ার রুটিনটা কেমন ছিল?

শুরু থেকে বি ইউনিটের জন্য পড়িনি, তাই পরে আমার পড়ার চাপ একটু বেশি ছিল বলা যায়। যখন থেকে সিরিয়াস হয়েছি, বেসিক কাজকর্ম বাদ দিয়ে পুরোটা সময় পড়েছি। কোনো নির্দিষ্ট রুটিন ছিল না।

তিনটায় ঘুম ভাঙলেও তাহাজ্জুদ পড়ে পড়া শুরু করেছি। দুপুরেও পড়েছি। মোটকথা, যখন সুযোগ পেয়েছি তখনই পড়েছি।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় কোন বিষয়টি আপনার কাছে সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে? সেটি কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

সাধারণ জ্ঞান (জিকে) কঠিন মনে হয়েছে। এজন্য আমি সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি জিকে অংশে। বারবার পড়তাম, ভুলে যেতাম, আবার পড়তাম। মনে হতো, যেন আমি পড়ছি ভুলে যাওয়ার জন্যই।

আপনার প্রস্তুতিতে কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কাজে দিয়েছে?

সেভাবে কোচিং করা হয়নি। তবে নিজেকে যাচাই করার জন্য কোচিংয়ের মডেল টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে ব্যাখ্যাসহ বিসিএস প্রশ্নব্যাংক সমাধান করেছি। এরপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নব্যাংক সমাধান করেছি। এতে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়েছিল।

এরপর টপিকভিত্তিক পড়েছি। আগে থেকেই প্রশ্নব্যাংক সমাধান করায় বুঝতে পেরেছি কোন টপিক থেকে কেমন প্রশ্ন হয় এবং কোথায় কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে কোন ধরনের অংশে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

আমি জিকে-তে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ এটি পুরোপুরি মুখস্থনির্ভর একটি অংশ। ইংরেজি আমার জন্য প্লাস পয়েন্ট ছিল, কারণ শব্দভান্ডার ও গ্রামারে ভালো দখল ছিল। কিন্তু যখন জিকে অংশে যেতাম, তখন কিছুটা হতাশ হয়ে যেতাম। এ কারণে জিকে বেশি বেশি পড়তাম।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর জন্য কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সও পড়েছি।

পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা ও প্রশ্ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী ছিল?

প্রথমে পুরো প্রশ্ন পড়ে গেছি। এক পলক দেখেই উত্তর করা যায়—এমন প্রশ্নগুলো আগে শেষ করেছি। যেগুলোর উত্তর সঙ্গে সঙ্গে করতে পারিনি, সেগুলোর পাশে পেন্সিল দিয়ে হালকা ডট দিয়েছি।

এরপর ডট দেওয়া প্রশ্নগুলো আবার পড়েছি এবং উত্তর করার চেষ্টা করেছি। যেগুলোর উত্তর করেছি, সেগুলোর ডট ইরেজার দিয়ে মুছে দিয়েছি। তৃতীয়বার সময় নিয়ে বাকি প্রশ্নগুলো চিন্তা করে উত্তর করেছি।

প্রস্তুতির সময় কখনো হতাশা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল? হলে কীভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছেন?

পুরোটা সময়ই হতাশ ছিলাম। প্রায়ই কান্নাকাটি করতাম। তবে হতাশা ছিল বলেই আমি পড়াশোনা করেছি। তাই হতাশাকে আমি নেগেটিভভাবে দেখি না।

আপনার সাফল্যের পেছনে পরিবার, শিক্ষক বা বন্ধুদের ভূমিকা কতটা ছিল?

আব্বু-আম্মু নিয়মিত দোয়া করতেন। আম্মু কাউকে জোরে শব্দ করতে দিতেন না, যাতে আমার মনোযোগ নষ্ট না হয়। শিক্ষকদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ।

তবে ওই সময়টাতে বন্ধুদের সঙ্গে খুব বেশি কথা হয়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগকে পছন্দ করার বিশেষ কারণ কী?

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে সাবজেক্টকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান এসেছিল ডি ইউনিট থেকে। সেখানে ইংরেজি পাইনি। তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে চলে আসি।

বিভাগ পছন্দ করার কারণ ছিল—আমার উপন্যাস, কবিতা ও ছোটগল্প পড়তে ভালো লাগত। আউটবুক হিসেবে যেগুলো ভালো লাগে, সেগুলো একাডেমিক বই হিসেবে পড়তে আরও ভালো লাগবে—এমনটাই মনে হয়েছিল।

ভবিষ্যতে যারা ভর্তি পরীক্ষা দেবে, তাদের জন্য

মন্তব্য করুন

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০১ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার

জাতি গঠনে শিক্ষকদের অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এবার দেশের ১০১ জন গুণী শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা দিতে যাচ্ছে সরকার। এর আগে এই সম্মাননা দেওয়া হতো মাত্র ১২ জন শিক্ষককে। এবার সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ৫ অক্টোবর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।

সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট এবং সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—সব পর্যায়ের শিক্ষক

এবারের সম্মাননায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা, সাধারণ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি এবং প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা স্থান পেয়েছেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায় থেকে মোট ১০১ জনকে সম্মাননা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে—

  • প্রাথমিক শিক্ষা: ১০ জন

  • মাধ্যমিক শিক্ষা: ২০ জন

  • কলেজ: ২৫ জন

  • সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়: ২০ জন

  • চিকিৎসা শিক্ষা: ১০ জন

  • কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ৩ জন

  • প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়: ৩ জন

  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়: ৪ জন

  • প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত: ৬ জন

তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি ইতোমধ্যে ৯৫ জনের নাম চূড়ান্ত করেছে। যাচাই-বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিরূপ বা নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি পর্যায়ে ১০ শিক্ষক

প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত ১০ শিক্ষকের মধ্যে সাধারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রয়েছেন ঢাকার সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, জামালপুরের ডি-বালিয়ামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সজিবুল হাসান, চাঁদপুরের বিঞ্চদী আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা, বগুড়ার আমলীতলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকাসহ আটজন।

ইবতেদায়ি পর্যায় থেকে সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী কামিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ি জুনিয়র শিক্ষক মোছা. আকলিমা আক্তার এবং পটুয়াখালীর ওয়ায়েজিয়া কামিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ি প্রধান মো. নুরে আলম।

মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ শিক্ষক

মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষা, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা—এই তিন শাখা থেকে মোট ২০ জন শিক্ষককে নির্বাচিত করা হয়েছে।

সাধারণ বিদ্যালয় থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুরের কাজী সিরাজুল ইসলাম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম, পটুয়াখালীর পাচজুনিয়া ধানখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মু. কুতুব উদ্দিন তালুকদার, ঢাকার গভ. বয়েজ হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক এ.কে.এম মিজানুর রহমান, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মো. রশীদ আলম এবং চাঁদপুরের সাচার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন।

দাখিল পর্যায় থেকে পাঁচজন এবং কারিগরি মাধ্যমিক পর্যায় থেকেও পাঁচজন শিক্ষক এই তালিকায় রয়েছেন।

কলেজ পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২৫ জন

এবারের সম্মাননায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কলেজ পর্যায় থেকে। সাধারণ কলেজ, কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা—তিন বিভাগ মিলিয়ে মোট ২৫ জন শিক্ষককে নির্বাচন করা হয়েছে।

সাধারণ কলেজ থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুরের সরকারি আইন উদ্দীন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ টিপু সুলতান, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু তাহের খান, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ হোসেন, রাজশাহী কলেজের অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল ইসলাম, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যাপক ড. তৌহিদা জেসমিন শম্পা।

কারিগরি কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায় থেকেও পাঁচজন করে শিক্ষক সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খ্যাতিমান শিক্ষকেরা

সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত ২০ জনের মধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক খ্যাতিমান শিক্ষক রয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন এবং আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দীন খান।

এ তালিকায় রসায়ন, জীববিজ্ঞান, বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স, আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকেরাও রয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. অরুণ কুমার বসাক, ড. মো. ইব্রাহীম হোসেন মন্ডল ও ড. মো. গোলাম ছাদিক; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), ড. আ ন ম মুনির আহমেদ চৌধুরী ও ড. আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং জাহাঙ্গীরনগর ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননা পাচ্ছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. নোভা আহমেদ এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হাসান মল্লিক।

চিকিৎসা, কৃষি ও প্রকৌশল শিক্ষায়ও সম্মাননা

চিকিৎসা শিক্ষা থেকে মোট ১০ জন শিক্ষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ছাড়াও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক খ্যাতিমান চিকিৎসক-শিক্ষক এই তালিকায় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হবে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত তিনজন হলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. বাহানুর রহমান, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. আব্দুল বাছেত মিয়া এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম।

প্রকৌশল ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি শিক্ষাতেও থাকছে বিশেষ স্বীকৃতি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তালিকায় রাখা হয়েছে।

শিক্ষকদের অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

শিক্ষকরা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তাঁরা একটি প্রজন্মের জ্ঞান, মূল্যবোধ ও চিন্তাভাবনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এই সম্মাননা আয়োজনকে শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবার ১২ জনের পরিবর্তে ১০১ জন শিক্ষককে সম্মাননার আওতায় আনার ফলে দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকরা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন

নতুন করে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ৬৪১ শিক্ষক-কর্মচারী, বিএড স্কেল পাবেন ৩ হাজার ৯৫ জন

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত ৬৪১ শিক্ষক-কর্মচারীকে নতুন করে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে ৩ হাজার ৯৫ শিক্ষককে বিএড স্কেল দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত মাউশির এমপিও কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মাউশির নথি অনুযায়ী, নতুন করে এমপিওভুক্তির তালিকায় স্কুল পর্যায়ের ৩৭৮ এবং কলেজ পর্যায়ের ২৬৩ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।

স্কুল পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হতে যাওয়া ৩৭৮ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ৩০, চট্টগ্রামের ১৬, কুমিল্লার ১০, ঢাকার ৬৬, খুলনার ১৩, ময়মনসিংহের ৩৮, রাজশাহীর ১২৬, রংপুরের ৬৩ এবং সিলেটের ১৬ জন রয়েছেন।

অন্যদিকে, কলেজ পর্যায়ে নতুন করে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ২৬৩ শিক্ষক-কর্মচারী। এর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ৯, চট্টগ্রামের ৩, কুমিল্লার ৬, ঢাকার ৪৬, খুলনার ৫৮, ময়মনসিংহের ২০, রাজশাহীর ১০২, রংপুরের ১১ এবং সিলেটের ৮ জন রয়েছেন।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে স্কুল ও কলেজ—উভয় পর্যায়েই রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। স্কুল পর্যায়ে এ সংখ্যা ১২৬ এবং কলেজ পর্যায়ে ১০২ জন। অর্থাৎ নতুন এমপিওভুক্তির তালিকায় দুই পর্যায়েই শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী অঞ্চল।

মন্তব্য করুন

বিজয়া দশমীতে ছাত্রদল নেতা তারিকের ভিন্নধর্মী কর্মসূচি

হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার শেষ দিন ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ভিন্নধর্মী কর্মসূচির আয়োজন করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তিনি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা তারিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষক, হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ উপস্থিত সব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের পক্ষে হাতের লেখা চিঠির মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা ও গোলাপ ফুল প্রদান করেন।

শুভেচ্ছা বার্তায় লেখা রয়েছে- ‘শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের সংস্কৃতির যৌথ আনন্দের উৎস। ধর্মের ভিন্নতা থাকলেও হৃদয়ের বন্ধনে আমরা এক। আসুন মুসলিম-হিন্দু মিলেই তৈরি করি সম্প্রীতির সেই রঙিন দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।

 

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার। আমরা সেই আদর্শ ও নীতিতে বিশ্বাসী। তাই আমরা সবসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, আজ দুর্গাপূজার শেষ দিন তথা বিজয়া দশমীতে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্বেও পূজামণ্ডপে গিয়ে আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। এজন্য আমাদের সনাতনী ভাইবোনেরা আমাদেরকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাসেম প্রধান, রাকিব হোসেন, জুল হোসেন, সদস্য সাব্বির হোসেন, সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মিনহাজ উদ্দিন ও তরিকুল ইসলাম তারেক, শেখ মুজিবুর রহমান হলের সদস্য তাহমিদ হুমায়ুন তানিম, ঢাবি ছাত্রদল কর্মী রুহুল আমিন, রাকিব হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য নূর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের ফজলে রাব্বি রাদ, মুজতবা তাহমিদ মুবিন, মো. নাজমুল হক, মো. তানভিরুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণের মো. জুবায়ের হোসেন ও মো. ফাহাদ হোসেন, মহানগর পূর্বের মো. জাহিদ হাসান, মো. সোয়াইবুল ইসলাম রেম্পি, মুন্তাসির হাসনাত, মহানগর পশ্চিমের মো. মাহমুদুল হাসান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরাফাত হোসেন, ওসমান খান, ইউসুফ আহমেদ অপু, জামাল খান, আবদুল্লাহ আহমেদ তোফায়েল সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের: মাউশি

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা এবং নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন বা অধ্যাদেশ কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বুধবার (২২ অক্টোবর) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি জানিয়েছে, তাদের আওতাধীন সব দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং সাইবার স্পেসে আচরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই নীতিমালাগুলো অমান্য করলে তা সরকারি কর্মচারীর 'আচরণবিধি লঙ্ঘনের' শামিল হবে। এর পাশাপাশি এটি অনেক ক্ষেত্রে 'জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি' এবং 'শাস্তিযোগ্য অপরাধ' হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

এক্ষেত্রে 'সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)' এবং 'সাইবার সুরক্ষা আইন/অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২৫ নং অধ্যাদেশ)'-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিজ্ঞপ্তিটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সব আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×