নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডি-৮০১-এ আয়োজিত এ সিম্পোজিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রিজওয়ান খায়ের। তিনি সাধারণ শিক্ষা (জেনারেল এডুকেশন) কোর্স দিয়ে বিভাগের যাত্রা শুরু থেকে ধীরে ধীরে অ্যানথ্রোপলজিতে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) প্রোগ্রাম চালুর পথচিত্র তুলে ধরেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, সামাজিক পরিবর্তন বোঝা এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ গঠনে সমালোচনামূলক চিন্তা (ক্রিটিক্যাল থিংকিং) গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজকে গভীরভাবে বোঝার আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান। তিনি বলেন, সমাজ ও মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে অ্যানথ্রোপলজির বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা অধ্যাপক এস এম নুরুল আলমের একাডেমিক জীবন ও বাংলাদেশে অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষার বিকাশে তার অবদান তুলে ধরেন এনএসইউর কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের শিক্ষক অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী।

মূল বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানথ্রোপলজির সাবেক অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম তার দীর্ঘ একাডেমিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশে অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষার শুরুর দিকের নানা বিষয় তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের লক্ষ্য শুধু ভালো সিজিপিএ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। অ্যানথ্রোপলজিকে জীবন, সমাজ ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অ্যানথ্রোপলজির পাঠ্যক্রমে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার জন্য এনএসইউর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো সবসময় শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা বা সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষায় ধারণাগত জ্ঞানের সঙ্গে মানুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার যোগসূত্র থাকা প্রয়োজন।

ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিম্পোজিয়ামে এনএসইউর অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রাম ও চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের মধ্যে একাডেমিক বিনিময় কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

প্রস্তাবিত এ কার্যক্রমের আওতায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ইউনান ইউনিভার্সিটিতে একটি পূর্ণ শিক্ষাবর্ষ পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক একাডেমিক অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিম্পোজিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফল ২০২৬ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া। একাডেমিক পর্ব শেষে অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ও পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মোহাম্মদ হোসেন। এ সময় অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহমা রাইসা ও নাজহাত নাহিয়ান তাইমুর।

মন্তব্য করুন

প্রশাসনিক ভবনে তালা, দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারীরা

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলন

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক এবং ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভবনটির ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষকরা জানান, রোববার দুপুর থেকে তারা প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

এদিকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও অংশ নেন।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবি

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো এবং আন্দোলন করেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনিক কালক্ষেপণের কারণে তাদের একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে তারা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকতে চান না।

তাদের একমাত্র দাবি, অবিলম্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

অধ্যক্ষ বদলির আদেশও প্রত্যাখ্যান

আন্দোলনের মধ্যেই রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবারের মধ্যে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

তবে শিক্ষার্থীরা এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বদলি হওয়া অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। নতুন করে যাকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাকেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস শাটডাউন থাকবে।’

‘দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ’

প্রশাসনিক ভবনে আটকা পড়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে দাবি, তা উচ্চতর কর্তৃপক্ষ ছাড়া সমাধান করা সম্ভব নয়। তবু তারা আমাদের আটকে রেখেছে। আমরা দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে কলেজের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের খাতা পুনর্মূল্যায়ন শুরু হচ্ছে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অথবা আগামীকাল শুক্রবার থেকে এ আবেদন শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন এক-দুই দিনের মধ্যেই শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে তাদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।

যেভাবে আবেদন ও ফি জমা দিতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন শেষে সিস্টেম থেকে পে-স্লিপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে।

পে-স্লিপের মাধ্যমে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ফি পরিশোধ করা যাবে। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের Online Payment Gateway ব্যবহার করেও ফি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

অনলাইনে ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ, বিকাশ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া AMERICAN EXPRESS, VISA, DBBL, NEXUS ও MASTER CARD-এর মাধ্যমেও ফি দেওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারীরা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমেও ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

ফি পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে।

সময়সীমা মেনে আবেদন করতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে আবেদন ফরম পূরণ করা যাবে না। একইভাবে নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে পে-স্লিপ ডাউনলোড কিংবা ফি জমা দেওয়াও গ্রহণযোগ্য হবে না।

ব্যাংকের প্রচলিত অন্য কোনো ফরম ব্যবহার করে ফি জমা দিলে পরবর্তী সময়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না।

আবেদন ফরম বা পে-স্লিপের কোনো কপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজন হবে না।

এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি পত্রে ১ হাজার ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্ত তথ্য জানানো হবে।

মন্তব্য করুন

এফএইচ হলের প্রভোস্টকে হেয় করার প্রতিবাদে ঢাবি ফার্মেসি শিক্ষকদের ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক ও ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুনকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনুষদের শিক্ষকরা। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া চিঠিতে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, এফএইচ হলে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে যে টানাপোড়েন ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা উদ্বেগজনক।

চিঠিতে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি, অভিযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালনের অধিকারও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষকরা আরও বলেন, এফএইচ হলে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচার চাওয়া সবার অধিকার হলেও চাপ প্রয়োগ কিংবা মব সৃষ্টির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দায়ী করা গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত শেষে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়াই সমীচীন।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাডেমিক এলাকায় ব্যানার-পোস্টার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনকে হেয় করার মতো প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে তিনি ছাড়াও ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা মর্মাহত হয়েছেন এবং এর প্রভাব অনুষদের একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রমে পড়ছে।

শিক্ষকদের ভাষ্য, কোনো বিষয় তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিকৃত ছবি ব্যবহার, ব্যানার-পোস্টারিং ও ধারাবাহিক প্রচারণার মাধ্যমে কাউকে তদন্তের ফল প্রকাশের আগেই দায়ী করা তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রচারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার শামিল।

ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও-ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ব্যানার-পোস্টার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ সব ধরনের প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ তথ্য বা ধারণার ভিত্তিতে নয়, বরং প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা উচিত।

শিক্ষকদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সামাজিকভাবে দোষী সাব্যস্ত বা হেয় করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কোনো যৌক্তিক অভিযোগকেও খাটো বা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চিঠির শেষে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তি, সংলাপ, সহনশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা চর্চার বিদ্যাপীঠ। তাই মব-চাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

শিক্ষকতা মহান পেশা, কিন্তু মান-মর্যাদায় পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষকরা

শিক্ষকতাকে দীর্ঘদিন ধরে মহান পেশা হিসেবে অভিহিত করা হলেও বাংলাদেশের শিক্ষকরা এখনো মান-মর্যাদা ও আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব পর্যায়ের শিক্ষকই বেতন-ভাতা ও পদমর্যাদা নিয়ে অসন্তুষ্ট।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৬২০টি, যেখানে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। এর মধ্যে তিন লাখের বেশি সহকারী শিক্ষক এখনো তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর মর্যাদায় আছেন। তাঁরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান—যেখানে মূল বেতন ১১ হাজার টাকা, মোট বেতন প্রায় ১৮ হাজার টাকার মতো। যদিও প্রধান শিক্ষকদের সম্প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে, তবুও এখনো তাঁরা সমপদের পূর্ণ বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।


 প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন

সহকারী শিক্ষকদের সংগঠন ‘প্রাথমিক সহকারী সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
তাদের তিন দফা দাবি হলো—
► সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে বেতন ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ,
► চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড বাস্তবায়ন,
► প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,

“আমাদের প্রতিবার আশার বাণী দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আমি ১৬ বছর চাকরি করছি, এখনো ১৩তম গ্রেডে বেতন পাই। শিক্ষকরা যদি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হন, পাঠদানে মনোযোগী হবেন কিভাবে?”


বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র

বাংলাদেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত, যেখানে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী আছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে যাদের বিএড নেই, তাঁরা ১১তম গ্রেডে ১২,৫০০ টাকা মূল বেতন পান। আর বিএডধারীরা ১০ম গ্রেডে যান, যেখানে মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা। তাঁদের বাড়িভাড়া ১,০০০ টাকা ও চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা।

কলেজ পর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নবম গ্রেডে ২২,০০০ টাকা মূল বেতন পান। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা তাঁরা পান না। সম্প্রতি উৎসব ভাতা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।


 নন-এমপিও শিক্ষকদের দুরবস্থা

দেশে এখনো ৬,৫০০ নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন, যাঁরা কোনো সরকারি বেতন পান না।
এছাড়া অনার্স-মাস্টার্স কলেজে প্রায় ৫,৫০০ শিক্ষক এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক একই অবস্থায় আছেন।
তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি— এমপিওভুক্তির আওতায় আনা এবং পূর্ণাঙ্গ ভাতা নিশ্চিত করা।

এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।


 শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য : 

বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল বাশার হাওলাদার বলেন,

“ইউনেসকোর ১৯৯২ সালের সনদে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা থাকবেন সব পেশার ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশ সেই সনদে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা এখনো বেতন-ভাতায় সবচেয়ে পিছিয়ে। অভাব-অনটনে ভালো শিক্ষাদান আশা করা যায় না।”তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের অবহেলা, হেনস্তা, চাকরিচ্যুতি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আমরা চাই, আগামী দিনে সরকার যেই হোক না কেন, শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিক।”


🎓 বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বাস্তবতা

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মোট ১৭২টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে—সরকারি ৫৬টি এবং বেসরকারি ১১৬টি।

কয়েকটি নামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের বেতন দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকরা নামমাত্র বেতন পান।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা সরকারি স্কেল অনুযায়ী বেতন পেলেও তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।


🌍 আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান

দেশ

পদ/ মূল বেতন (প্রায়)

বাংলাদেশ

প্রভাষক – ২২,০০০ টাকাঅধ্যাপক – ৬৪,৬০০ টাকা

ভারত

সহকারী অধ্যাপক – ৫৫,০০০ টাকাসহযোগী অধ্যাপক – ৯০,০০০ টাকাঅধ্যাপক – ১,১০,০০০ টাকা

পাকিস্তান / শ্রীলঙ্কা

তুলনামূলকভাবে উন্নত বেতন ও ভাতা

অধিকাংশ দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রভাষকের পদ নেই—শুরু হয় সহকারী অধ্যাপক থেকে। ফলে আন্তর্জাতিক মানে বাংলাদেশের শিক্ষকরা অনেকটাই পিছিয়ে।


 

শিক্ষকতা পেশা মহান হলেও বাংলাদেশের শিক্ষকরা এখনো মর্যাদা, পদোন্নতি ও আর্থিক নিরাপত্তায় পিছিয়ে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব স্তরেই রয়েছে বেতন বৈষম্য, অনিশ্চয়তা ও আন্দোলনের ইতিহাস।
ইউনেসকোর এবারের প্রতিপাদ্য— “শিক্ষকতা পেশা : মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি”—এই আহ্বানটিই যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, এমনটাই প্রত্যাশা দেশের শিক্ষকদের।

মন্তব্য করুন

অক্টোবরে ঢাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলন, রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ১০ অক্টোবর

২ হাজার ৩১৮ কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশের ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’ আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মিলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদের সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান রূপান্তরমুখী অভিযাত্রা এবং পরিবর্তিত জাতীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ সম্মিলনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। দেশের কলেজ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অধ্যক্ষদের ভূমিকা আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এ সম্মিলন আয়োজন করা হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, সম্মিলনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা জাতীয় শিক্ষানীতি, সরকারের শিক্ষা-দর্শন, উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শিক্ষা-সংক্রান্ত অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও প্রেরণা লাভ করবেন।

যেভাবে করতে হবে রেজিস্ট্রেশন

সম্মিলনে অংশ নিতে অধ্যক্ষদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এজন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পোর্টাল-এ প্রবেশ করে কলেজ কোড ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে।

এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’ অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় আগামী ১০ অক্টোবর। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্দেশক্রমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্মিলনে অংশ নিতে অধ্যক্ষদের অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, সম্মিলনে অংশগ্রহণের জন্য অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বিধি অনুযায়ী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে।

মন্তব্য করুন

যবিপ্রবি শিক্ষার্থী তোহার আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক জয়

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন (ডব্লিউ-আই-সি-ই) ২০২৫-এ স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মো. তোহা বিন আছাদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের ২১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ আসরে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশ থেকে দেড় হাজারের মতো প্রতিযোগী প্রকল্প নিয়ে অংশ নেয়। সেখানে তোহা ও তার সহযাত্রী জাহিদ হাসান জিহাদ এবং তাদের দল ‘হেক্সাগার্ড রোভার’ প্রকল্প নিয়ে অংশ নেন এবং আইটি অ্যান্ড রোবোটিকস ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক জয় করেন।

উদ্ভাবনী কাজে আগ্রহী এই তরুণ গবেষণামুখী শিক্ষার্থী সবসময়ই স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রাখার। এরই ধারাবাহিকতায় হেক্সাগার্ড রোভার প্রকল্পটি একটি উদ্ভাবনী রোবোটিক সিস্টেম, যা দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজ, নজরদারি এবং দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

স্বর্ণপদক জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে দ্বীপ বলেন, স্বর্ণপদক অর্জনের সেই মুহূর্ত ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। বাংলাদেশের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে যখন ঘোষণা করা হলো আমরা স্বর্ণপদক পেয়েছি, তখন মনে হয়েছিল—এটাই জীবনের অন্যতম গর্বের অর্জন। আমার পরিবার আনন্দে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকরাও গভীর গর্ব অনুভব করেছেন এবং বলেছেন, এ অর্জন যবিপ্রবির জন্যও একটি সাফল্য।

তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি পদক নয় বরং বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি বিশ্বাস করি, এই সাফল্য আগামীতে দেশের আরও তরুণকে অনুপ্রাণিত করবে।

মন্তব্য করুন
×