সফটওয়্যারে সমস্যা নেই, তবুও আটকে এমপিও শিক্ষকদের বদলির ফল
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি সফটওয়্যারে জটিলতার কথা বলা হলেও বাস্তবে সফটওয়্যারে কোনো সমস্যা নেই বলে জানা গেছে। সফটওয়্যারে জটিলতা না থাকার পরও বদলির ফল প্রকাশ না হওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বদলির ফল প্রকাশে বিলম্বের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বদলির আবেদন করা শিক্ষকদের আবেদন সম্পাদনার (এডিট) সুযোগ চালু, আবেদন বাতিলের সুযোগ চাওয়া এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে শিক্ষকদের ঢাকায় বদলি হওয়ার আগ্রহই বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক সূত্র জানায়, বদলির জন্য আবেদন করা অনেক শিক্ষক ঢাকায় আসতে আগ্রহী। তাদের কেউ কেউ স্বামী বা স্ত্রীর (স্পাউজ) কর্মস্থল ঢাকায় দেখিয়ে বদলির আবেদন করেছেন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ঢাকায় চলে এলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়টিও বদলির ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বদলি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলে জানা গেছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে এমপিওভুক্ত অনেক শিক্ষক সম্পৃক্ত থাকেন। এ সময়ে তাদের বদলি করা হলে নির্বাচনী কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে আপাতত বদলির ফল প্রকাশে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের আবেদন বাতিলের সুযোগ দেওয়া কিংবা আবেদন সম্পাদনার (এডিট) অপশন চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্বের মাধ্যমে বদলির ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, “শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশ না করার পেছনে একেক সময় একেক কারণ দেখানো হচ্ছে। এসব সমস্যা দ্রুতই সমাধান করা সম্ভব। তবে কেন করা হচ্ছে না, সেটি আসলে বোধগম্য নয়।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “বদলি না হওয়ার কারণে শিক্ষকরা কষ্টে রয়েছেন। প্রতিনিয়ত অনেক শিক্ষক ফোন করে তাদের কষ্টের কথা আমাদের জানান। আমরাও চাই দ্রুত বদলির ফল প্রকাশিত হোক। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন।”
এদিকে শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় সংসদে সভা থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সভায় রয়েছেন বলে জানানো হয়।
এ অবস্থায় বদলির সফটওয়্যারে কোনো জটিলতা না থাকলেও ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ বাড়ছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে বদলির ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।