বালতি সরানো নিয়ে বিরোধ, যবিপ্রবি শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফাটানোর অভিযোগ

গোসলের বালতি সরানোকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এতে ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তানভীর হক। ঘটনার সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হলের প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী জুয়েল আল ইমরান।

কী ঘটেছিল

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, শুক্রবার দুপুরে গোসল করতে ওয়াশরুমে গিয়ে একটি বালতি দেখতে পান তিনি। বালতিটি বাইরে রেখে গোসল করতে থাকেন। এ সময় তানভীর হক ওয়াশরুমের দরজায় বারবার টোকা দেন। পরে বের হলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

জুয়েলের অভিযোগ, এরপর তানভীর তাঁর রুমে গিয়ে তাঁকে হুমকি দেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিকেলে তাঁকে ক্যাম্পাসের একটি চায়ের দোকানে ডাকা হয়। সেখানে তানভীর, কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েলের দাবি, সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হঠাৎ তাঁর কানে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দেন। এতে তিনি টেবিল থেকে পড়ে যান। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁর মনে নেই। পরে বন্ধুরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান।

কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত

যবিপ্রবির চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল জানান, শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কানে রক্ত জমে আছে। দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন বলে তিনি সুপারিশ করেছেন।

পরীক্ষা সম্পন্ন হলে কানের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযুক্ত তানভীর হক বলেন, গোসলের সময় ওয়াশরুম থেকে তাঁর কাপড়ভর্তি বালতি বাইরে রেখে জুয়েল গোসল করতে যান। দরজায় নক করে বিষয়টি জানতে চাইলে জুয়েল তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন।

পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য জুমার নামাজের পর ক্যাম্পাসের বাইরে আমতলায় দুজনের বন্ধুরা মিলে বসেন। তাঁর দাবি, কথা বলার একপর্যায়ে জুয়েল ও তাঁর বন্ধুরা তাঁর প্রতি মারমুখী আচরণ করেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তিনি জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দেন।

তানভীর বলেন, বিষয়টি গুরুতর মনে হওয়ায় পরে জুয়েলকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাঁর কানে গুরুতর সমস্যা হয়েছে বলে তিনি শনিবার সকালে জানতে পারেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উল্লেখ করা রাজিন মাহমুদ খান কাব্য বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য সবাই একসঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় তানভীর জুয়েলকে কানে থাপ্পড় মারেন। পরে তাঁরা জুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, সকালে চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, হলের বাইরে আমতলায় বিষয়টি সমাধানের সময় তানভীর জুয়েলের বাম কানে থাপ্পড় দেন। এতে তাঁর শ্রবণ সমস্যা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুরো ঘটনা লিখিতভাবে প্রক্টর অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে সকালে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, আহত শিক্ষার্থীকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

মন্তব্য করুন

ঢাকা কলেজের হলে গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে বহিরাগত আটক

ঢাকা কলেজের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে মোদ্দাদেকুর রহমান নামে এক বহিরাগতকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএর শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। আটকের পর শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করে কলেজ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে হলের শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন। পরে পুলিশ ও ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।

ঢাকা কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মোদ্দাদেকুর রহমান সিটি কলেজ থেকে বিবিএ এবং বিইউপি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোসলের ভিডিও ধারণের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটকের পর ওই শিক্ষার্থী মানসিক ও হরমোনজনিত সমস্যার কথা দাবি করেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ উত্তর ছাত্রাবাসের প্রভোস্ট মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘বহিরাগত একজনকে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোসলের ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আটক করে। পরে তারা কলেজ প্রশাসনকে বিষয়টি জানায়। এরপর কলেজ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তাঁর অভিভাবককে বিষয়টি অবহিত করে।’

তিনি আরও বলেন, ভিডিও ধারণের বিষয়ে ওই ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

প্রভোস্ট জানান, ওই ব্যক্তির অভিভাবক তাঁর মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে নাকি অভিভাবকের কাছে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

মন্তব্য করুন

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় শেকৃবিতে ছাত্রদলের ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

১৪ই সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মাননীয় সংসদ সদস্য ও শেকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি। শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন এবং ট্রেজারার প্রফেসর মো. আবুল বাশার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. আশাবুল হকসহ অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষক, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, "জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধের এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, ডেঙ্গুর কারণে যেন অকালে আর কোনো প্রাণ ঝরে না যায়। আগামী তিন মাস আমাদের সবাইকে এই সচেতনতা নিয়ে কাজ করতে হবে।"

ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "শেকৃবি ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন থাকলে এখানকার সবাই সুস্থ থাকবে, যা ক্যাম্পাসের সম্মান বাড়াবে। আমার প্রত্যাশা, সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় পুরো ঢাকার জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।"

অনুষ্ঠানে শেকৃবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীর তারেক রহমান ঘোষিত এই কর্মসূচির প্রেক্ষাপট আলোচনা করেন। নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য এমপি তুলির কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে আপনার কাছে আমাদের অনেক দাবি রয়েছে। শেকৃবি যেন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের দাবিগুলো আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।"

সভাপতির বক্তব্যে শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপস ক্যাম্পাসের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিটি হলেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার্থেই ছাত্রদলের এই উদ্যোগ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানান। এছাড়া তিনি বলেন, "যেহেতু এমপি তুলি নিজেও একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে পড়াশোনা করেছেন, তাই শেকৃবির মতো বিশেষায়িত কৃষি ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করবেন এবং সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।"
সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের নানা দিক-নির্দেশনা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করা হয় এবং ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

মন্তব্য করুন

‘মতের বৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের প্রাণ’: পাবিপ্রবি উপাচার্য

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ভিন্নমত, মতবিরোধ ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে ৩য় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বিতর্ক সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই একই কথা বলবে—এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়। বরং ভিন্নমত, মতবিরোধ ও বিতর্ক থাকবে। তবে সেই মতবিরোধ প্রকাশের ভাষা হতে হবে যুক্তি, তথ্য, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের।’

বর্তমান সময়ে তথ্যের আধিক্যের কারণে বিতর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য, মতামত ও দাবি মানুষের সামনে আসছে। কিন্তু সব তথ্য সত্য নয় এবং সব মতামতও যুক্তিনির্ভর নয়। তাই কোনো তথ্য গ্রহণের আগে তা যাচাই করা এবং যুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

তরুণদের মধ্যে বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে মনে করেন অধ্যাপক শামীম। তিনি বলেন, বিতর্কের চর্চা শুধু মঞ্চে কথা বলার দক্ষতা তৈরি করে না; এটি যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘শুধু জেতার জন্য বিতর্ক করো না, শেখার জন্য বিতর্ক করো। প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিতর্ক করো।’ তাঁর মতে, আজকের বিতর্কের মঞ্চই আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরির অনুশীলন ক্ষেত্র।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিতার্কিকরা কী বলেছে তার পাশাপাশি তারা কীভাবে চিন্তা করেছে, কীভাবে প্রমাণ ব্যবহার করেছে এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্য কতটা বিশ্লেষণ করতে পেরেছে—মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি এমন বিতার্কিক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যারা যুক্তিতে দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আচরণে বিনয়ী।

বিজ্ঞানমনস্কতা ও বিতর্ক সংস্কৃতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বিজ্ঞান যেমন প্রশ্ন করতে, প্রমাণ খুঁজতে এবং প্রচলিত ধারণা যাচাই করতে শেখায়, বিতর্কও একইভাবে যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশ ঘটায়। পাবিপ্রবি শুধু প্রযুক্তিবিদ বা পেশাজীবী নয়, যুক্তিবাদী, মানবিক, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষ তৈরি করতে চায়।

দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন মানুষও প্রয়োজন যারা প্রশ্ন করতে, সত্য অনুসন্ধান করতে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে এবং নিজের বিবেক ও যুক্তির কাছে সৎ থাকতে জানে।

শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও উত্তেজনার পরিবর্তে তথ্য ও যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুজবকে নয়, তথ্যকে গুরুত্ব দেবে। ব্যক্তিগত আক্রমণকে নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতাকে গ্রহণ করবে।’

ক্যাম্পাসগুলোতে মতের সংঘাত যেন যুক্তির মাধ্যমে এবং প্রতিযোগিতা যেন মেধার মাধ্যমে হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বিরা গালিবা তন্বী। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলীর সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল থেকে আগত বিতার্কিক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

মেয়েদের আসনে ছেলেরা, ‘মুক্তি’ বাসে নিয়ম মানা নিয়ে ক্ষোভ

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

মন্তব্য করুন

জাবিপ্রবিতে ৩ নতুন বিভাগ, ইন্টার্নশিপে মাসে ১৭ হাজার টাকা

শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) তিনটি নতুন বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বিভাগগুলো হলো—ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে জমা দিলে জাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) জাবিপ্রবিতে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইন্টার্নশিপে মাসে ১৭ হাজার টাকা

শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ইন্টার্নশিপ ভাতার বিষয়ে ইউজিসি সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইউজিসির গবেষণা নীতিমালায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গবেষণা ফান্ডের ২৫ শতাংশ সরাসরি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।’

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে পাঠালে শিক্ষার্থীরা মাসিক ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন।

জাবিপ্রবিতে খুলছে ৩ নতুন বিভাগ

শিল্প ও প্রযুক্তির পরিবর্তিত চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে জাবিপ্রবিতে ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স বিভাগ খোলার বিষয়ে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এসব বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

স্টার্টআপে কর শূন্য শতাংশ

তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন ইউজিসি সদস্য।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। ইনোভেশন ফান্ডে ৫০০ কোটি টাকা এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাঁর দাবি, তরুণ উদ্যোক্তাদের ইনোভেশন বা স্টার্টআপের ক্ষেত্রে আগে ১৫ শতাংশ কর দিতে হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে শূন্য শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী তরুণদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হবে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’

শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ কোর্স চালুর উদ্যোগের কথাও জানান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রথম ধাপে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কোর্স চালু করা হবে, যার মধ্যে জাবিপ্রবিও রয়েছে।

এ ছাড়া ‘আইসিটি স্কিলস উইথ এআই’, এথিক্স এবং সিভি লেখা ও ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো মৌলিক অন-জব ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের মতো সরকারি ওয়েবসাইটের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান ইউজিসির এই সদস্য।

মন্তব্য করুন

শেষ দিনে ‘শেষ বিকেলের উৎসব’, জাকসু ভবনে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

 

দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ভবন। উদ্যোক্তা মেলা, মেহেদি উৎসব ও ‘জাকসুকে চিঠি’ লেখার আয়োজনের মধ্য দিয়ে দশম জাকসুর এক বছর মেয়াদি দায়িত্বের শেষ দিন উদযাপন করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাকসু ভবনে ‘শেষ বিকেলের উৎসব’ শীর্ষক এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, দায়িত্বের শেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতেই এ আয়োজন।

উদ্যোক্তা মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মেহেদি উৎসব এবং জাকসুর প্রতি নিজেদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা জানাতে ‘জাকসুকে চিঠি’ লেখার আয়োজন রাখা হয়।

‘জাকসুর মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি পৌঁছানো সহজ হয়েছে’

আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তনিমা পাটোয়ারী বলেন, গত এক বছরে জাকসু রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও প্রশ্নের মধ্যেও প্রশাসনের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে তারা ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা জাকসুর সদস্য ও সম্পাদকদের সহজে কাছে পেয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পেরেছেন। জাকসু না থাকলে প্রশাসনের কাছে এভাবে পৌঁছানো অনেক কঠিন হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তনিমা আরও বলেন, দশম জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একাদশ জাকসু নির্বাচনও দ্রুত আয়োজন করা উচিত।

‘ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে’

জাকসুর কার্যকরী নারী সদস্য নাবিলা বিনতে হারুন বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু ভবনের তালা খোলে। এরপর এক বছর ধরে ভিপি-জিএসসহ প্রত্যেক সম্পাদক নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছেন।

বিভিন্ন বাধা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে বাজেট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু কাজ করা সম্ভব হয়নি।

শেষ দিনের আয়োজন সম্পর্কে নাবিলা বলেন, ‘শেষ বিকেলের উৎসব’-এ নারী প্রতিনিধিরা একসঙ্গে হয়েছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতেও আয়োজনটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কোনো আশ্বাস এখনো পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

জাকসুর দায়িত্বশীলরা জানান, শেষ দিনের এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর পাশাপাশি এক বছরের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×