‘শিক্ষককে নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে পরে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়’

স্লিপের টাকা আগে স্কুলের অ্যাকাউন্টে দেওয়ার সুপারিশ ইউনিসেফের

 

 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) বাস্তবায়নে রিইম্বার্সমেন্ট বা খরচ করার পর টাকা ফেরত দেওয়ার পদ্ধতি বাদ দিয়ে স্কুলের অ্যাকাউন্টে আগেই অর্থ দেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। একই সঙ্গে স্কুলভিত্তিক অনুদান নির্ধারণে শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, বিদ্যালয়ের প্রয়োজন, বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক ডিসেমিনেশন ওয়ার্কশপে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুলভিত্তিক অনুদানের অর্থ সরাসরি বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়। এতে রিইম্বার্সমেন্টের পরিবর্তে আগে থেকেই অর্থ পাওয়া যায় এবং শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ কত টাকা পাবে তা জানতে পারে। ফলে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করাও সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে অনুদানের ফর্মুলা নির্ধারণ করা উচিত নয়। একটি বিদ্যালয়ের বিশেষ প্রয়োজন, শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতাসহ অর্থ কীভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোথায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তা প্রকাশের ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।

‘নিজের পকেট থেকে টাকা খরচের ব্যবস্থা স্বাভাবিক নয়’

স্লিপের বর্তমান রিইম্বার্সমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক মূলত শিক্ষক। তাকে ব্যবসায়ীর মতো নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে পরে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এটি স্বাভাবিক ব্যবস্থা হতে পারে না।

গবেষণায় রিইম্বার্সমেন্ট ব্যবস্থাকে স্লিপ বাস্তবায়নের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজের টাকা খরচ করে পরে তা ফেরত পাওয়ার কারণে প্রধান শিক্ষকদের ওপর চাপ ও মানসিক অস্বস্তি তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ধার করতে হয়। হিসাব সংরক্ষণ ও অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়ে।

অর্থ ফেরত পেতে দেরি হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণের কার্যক্রমও বিলম্বিত হয় বলে জানান তিনি।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্লিপের মাধ্যমে স্কুল পর্যায়ে অর্থ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে সেই ক্ষমতা ব্যবহারের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষককে আর্থিক ঝুঁকি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে অর্থ সরাসরি ও সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো জরুরি।

‘আগে অর্থ দিতে হবে, জবাবদিহিও থাকতে হবে’

রিইম্বার্সমেন্ট পদ্ধতির সরাসরি বিরোধিতা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষকদের নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে পরে তা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। স্কুলের প্রয়োজন মেটাতে আগে অর্থ দিতে হবে এবং সেই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তিশালী জবাবদিহি ও মনিটরিং থাকতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু টাকা দিয়ে দিলেই হবে না, সেই টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, তার কার্যকর নজরদারিও থাকতে হবে। তবে জবাবদিহি নিশ্চিত করার নামে এমন ব্যবস্থা করা উচিত নয়, যেখানে একজন শিক্ষককে আগে নিজের টাকা খরচ করতে হবে।

স্লিপের অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রেও স্কুলভিত্তিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, একটি পুরোনো ও বড় স্কুলের ভবন সংস্কারে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, নতুন ও ছোট একটি স্কুলের ক্ষেত্রে একই পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন নাও হতে পারে। তাই সব স্কুলকে একই ফর্মুলায় না দেখে প্রয়োজন ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করা উচিত।

‘সবার জন্য একই ব্যবস্থা কার্যকর নয়’

দীপা শঙ্কর বলেন, ‘ওয়ান সাইজ ফিটস অল’ বা সবার জন্য একই ব্যবস্থা কার্যকর নয়। প্রতিটি স্কুল, শিশু ও শিক্ষক আলাদা। তাই কর্মসূচিও এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন প্রাথমিক শিক্ষার পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচি পিইডিপি-৫-এর দিকে যাচ্ছে। এ পর্যায়ে স্লিপের অনুদান ও অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। ইউনিসেফের সহায়তায় পিপিআরসির গবেষণার ফলাফল এই সংস্কারের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

ইউনিসেফের পক্ষ থেকে তিনি জানান, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই)-এর সহায়তায় বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় যে সংস্কার কার্যক্রমের কথা ভাবা হচ্ছে, তার অন্যতম শর্ত হচ্ছে স্কুল অনুদান বা স্লিপের ফর্মুলা সংশোধন। নতুন ফর্মুলায় শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, স্কুলের প্রয়োজন ও বৈচিত্র্যের পাশাপাশি অর্থ কীভাবে এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্ব পাবে।

গবেষণা উপস্থাপনের সময় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্লিপ পুরোপুরি ব্যর্থ নয়; বরং এর সম্ভাবনার তুলনায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পিইডিপি-৫ প্রণয়নের আগে স্লিপের অর্থায়ন, বিকেন্দ্রীকরণ ও শেখার ফলাফল—এই তিনটি বিষয় নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিলসহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

মেয়েদের সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়। ওই কর্মসূচির ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিয়ে নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়

এর পরিপ্রেক্ষিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়

অন্যদিকে, ছেলেদের শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে

পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবারে গুরুত্ব

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার যেন পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন। কোনোভাবেই খাবারের মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না বলেও তিনি নির্দেশনা দেন

মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়

উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দুটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

 

মন্তব্য করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা নিয়ম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও সভাপতি হতে পারবেন রাজনৈতিক নেতারা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে আবারও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের আসার সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালু থাকা এ সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করলেও এবার তা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপতিত্বে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত নতুন প্রবিধানমালায় গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সভাপতি মনোনয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি অথবা স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।

এর আগে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধিমালায় রাজনৈতিক নেতা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই বিধিমালায় সভাপতি মনোনয়নের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান রাখা হয়।

নতুন প্রস্তাবনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করা। যদিও এ পদে অন্যদেরও সুযোগ রয়েছে, তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলে বাস্তবে অন্যদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।’

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

মন্তব্য করুন

একাদশে ভর্তিতে শেষ ধাপের ফল প্রকাশ

চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে সবশেষ ধাপে অনলাইন আবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার পর ভর্তি-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. রিজাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, এটা শেষ ধাপ। এরপর আর অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে না। এ ধাপের ফলাফল শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।

একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা ফলাফল দেখতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে

মন্তব্য করুন

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বুধবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, থাকছে উদযাপনের নির্দেশনা

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। তবে ছুটির দিন হলেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম এবং ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করতে হবে।

এ ছাড়া দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কুইজ প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু হবে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্ম।

সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় এ ছুটির আওতায় থাকবে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের ছুটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক দিনের সাধারণ ছুটি রয়েছে। এ ছুটি সরকারি ও আধা-সরকারি অফিসের পাশাপাশি সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানেও প্রযোজ্য।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট থেকে রবিউল আউয়াল মাস শুরু হয়েছে। সেই হিসাবে ১২ রবিউল আউয়াল পড়েছে ২৬ আগস্ট।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায়ও ২৬ আগস্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে এদিন ব্যাংকের সাধারণ লেনদেন বন্ধ থাকবে। তবে এটিএম, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং কার্ডভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে।

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষকদের বদলিতে আবেদন , জটিলতা সমাধানে সভা

 

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে সাড়া পড়েছে। ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করেছেন। আগামী ২৭ আগস্ট আবেদন করার সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে বদলি আবেদনে নানা ধরনের জটিলতার অভিযোগও করছেন শিক্ষকরা। এসব সমস্যা সমাধানে আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে মাউশির একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

এদিকে বদলি আবেদন করতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতায় পড়ছেন অনেক শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, কারও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না, আবার কেউ কেউ সিস্টেমে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যার সমাধান চেয়ে প্রতিদিনই মাউশিতে ভিড় করছেন বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকরা।

মাউশির একটি সূত্র জানায়, আবেদন করতে না পারা শিক্ষকদের অধিকাংশই একই ধরনের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। সমস্যাগুলো তাদের নিজেদের কোনো ভুলের কারণে হচ্ছে না বলেও দাবি করছেন তারা। বিষয়টি মাউশির পক্ষ থেকে টেলিটককে জানানো হয়েছে। পরে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মাউশির ওই কর্মকর্তা জানান, ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের আসিফ নামের একজন কর্মকর্তা আগামী বৃহস্পতিবার মাউশিতে আসবেন। সকাল ১১টায় তার সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে শিক্ষকদের বদলি আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হবে। সমস্যাগুলো সমাধানযোগ্য হলে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময়সীমা আগামী ২৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আবেদনে কারিগরি জটিলতা দূর করা গেলে আরও শিক্ষক আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মন্তব্য করুন

পূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জবি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি)। ফলে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন দুর্গাপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে ৭ অক্টোবর থেকে যথারীতি ক্লাস চালু থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×