‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার অভিযোগে মাসখানেকেও সার্টিফিকেট পাননি কুবির শিক্ষার্থী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার ঘটনায় প্রায় এক মাস ধরে চেষ্টা করেও তাঁর বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। সার্টিফিকেট নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়ার পর শিক্ষক তাঁকে একটি পাল্টা মেসেজ দেন। ওই মেসেজে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। পরে তাঁর এ আচরণকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। এতে শিক্ষকের মেসেজে শিক্ষার্থীর দেওয়া ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’কে অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, শিক্ষার্থীর এমন আচরণকে তিনি শিষ্টাচারবহির্ভূত মনে করেছেন। বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুজিবুর রহমানের গত ১৩ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, ৩১ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট উত্তোলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তবে বিভাগীয় প্রধান তাঁর আবেদনে স্বাক্ষর করেননি। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর নামে একটি অভিযোগ থাকায় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে সার্টিফিকেট উত্তোলনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আবেদনে মুজিবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগটি কী বিষয়ে এবং কেন তাঁকে সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না—এ বিষয়ে লিখিত কারণ জানতে চাইলেও তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ বা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. মো. এমদাদুল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা জমা হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, “আমরা কমিটির সময় কিছু বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। কারণ অনেকগুলো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। তবে কমিটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে পারব।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, “আমার সার্টিফিকেটটা খুবই প্রয়োজন ছিল। আমার মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ, রেজাল্ট হয়ে গেছে, সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে গেছে। তাই আমি বিবিএ ও এমবিএ—দুইটা সার্টিফিকেটই তুলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমার একটা সার্টিফিকেটও দেননি, একটা সার্টিফিকেটও সাইন করেননি।”

তিনি আরও বলেন, “এ কারণে আমার অনেকগুলো সার্কুলার মিস হয়েছে। আমি কোথাও আবেদন করতে পারছি না। এমনকি বিবিএর সার্টিফিকেটটাও পাইনি। এটার জন্য আমি প্রায় এক মাস কুমিল্লায় ছিলাম। রেজিস্ট্রারের কাছে বারবার গেছি, দপ্তর থেকে দপ্তরে গেছি, বিভাগেও কয়েকবার গেছি। এমনকি উপ-উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।”

সার্টিফিকেট আটকে রাখার কারণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি দাবি করে মুজিবুর রহমান বলেন, “এখন এক মাস শেষ হয়েছে। আসলে আমি এখনও জানি না, এর প্রক্রিয়া কতটুকু। কেন সার্টিফিকেট আটকানো হলো বা আমি সার্টিফিকেটটা কবে পাব—তাঁরা আমাকে কিছুই জানায়নি। আমি আসলে কিছুই জানি না।”

অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, “এ সম্পর্কে তো আমি কিছুই জানি না। কারণ আমিও জানি না এটা কী হচ্ছে। আমি যতটুকু শুনেছি, তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারপর কী হচ্ছে না হচ্ছে, আমি একেবারে অবগত না। আমাকে কেউ ইভেন ডাকেও নাই, কিছু জিজ্ঞাসা করে নাই।”

বিষয়টি নিয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, “সার্টিফিকেট প্রদান বা বিভাগীয় ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, “সার্টিফিকেট কেন আটকে রাখছে, বিভাগীয় প্রধানকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী এখন যেকোনো সময় সার্টিফিকেট নিতে পারবে।”

মন্তব্য করুন

‘মতের বৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের প্রাণ’: পাবিপ্রবি উপাচার্য

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ভিন্নমত, মতবিরোধ ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে ৩য় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বিতর্ক সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই একই কথা বলবে—এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়। বরং ভিন্নমত, মতবিরোধ ও বিতর্ক থাকবে। তবে সেই মতবিরোধ প্রকাশের ভাষা হতে হবে যুক্তি, তথ্য, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের।’

বর্তমান সময়ে তথ্যের আধিক্যের কারণে বিতর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য, মতামত ও দাবি মানুষের সামনে আসছে। কিন্তু সব তথ্য সত্য নয় এবং সব মতামতও যুক্তিনির্ভর নয়। তাই কোনো তথ্য গ্রহণের আগে তা যাচাই করা এবং যুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

তরুণদের মধ্যে বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে মনে করেন অধ্যাপক শামীম। তিনি বলেন, বিতর্কের চর্চা শুধু মঞ্চে কথা বলার দক্ষতা তৈরি করে না; এটি যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘শুধু জেতার জন্য বিতর্ক করো না, শেখার জন্য বিতর্ক করো। প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিতর্ক করো।’ তাঁর মতে, আজকের বিতর্কের মঞ্চই আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরির অনুশীলন ক্ষেত্র।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিতার্কিকরা কী বলেছে তার পাশাপাশি তারা কীভাবে চিন্তা করেছে, কীভাবে প্রমাণ ব্যবহার করেছে এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্য কতটা বিশ্লেষণ করতে পেরেছে—মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি এমন বিতার্কিক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যারা যুক্তিতে দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আচরণে বিনয়ী।

বিজ্ঞানমনস্কতা ও বিতর্ক সংস্কৃতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বিজ্ঞান যেমন প্রশ্ন করতে, প্রমাণ খুঁজতে এবং প্রচলিত ধারণা যাচাই করতে শেখায়, বিতর্কও একইভাবে যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশ ঘটায়। পাবিপ্রবি শুধু প্রযুক্তিবিদ বা পেশাজীবী নয়, যুক্তিবাদী, মানবিক, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষ তৈরি করতে চায়।

দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন মানুষও প্রয়োজন যারা প্রশ্ন করতে, সত্য অনুসন্ধান করতে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে এবং নিজের বিবেক ও যুক্তির কাছে সৎ থাকতে জানে।

শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও উত্তেজনার পরিবর্তে তথ্য ও যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুজবকে নয়, তথ্যকে গুরুত্ব দেবে। ব্যক্তিগত আক্রমণকে নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতাকে গ্রহণ করবে।’

ক্যাম্পাসগুলোতে মতের সংঘাত যেন যুক্তির মাধ্যমে এবং প্রতিযোগিতা যেন মেধার মাধ্যমে হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বিরা গালিবা তন্বী। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলীর সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল থেকে আগত বিতার্কিক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

জাতীয় গুণী শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন শেকৃবির অধ্যাপক ফজলুল করিম

কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় গুণী শিক্ষক সম্মাননা লাভ করতে যাচ্ছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. মো. ফজলুল করিম। 

আগামী ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত এই শিক্ষাবিদ বর্তমানে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) মাঠ ফসলের কৃষিতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন ড. ফজলুল করিম। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ডে যান এবং সেখানে সফলভাবে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

দেশে ফিরে ১৯৯০ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটে (বর্তমান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উদ্ভিদ শারীরিকতত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

শেকৃবিতে দীর্ঘ ৩১ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করার পর ২০২১ সালে তিনি অবসরে যান। তবে শিক্ষকতা ও গবেষণার প্রতি তাঁর অনুরাগ থামিয়ে রাখেনি অবসর। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিনের দায়িত্বভার গ্রহণ করে এখনো দেশের কৃষিশিক্ষার উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে তাঁর এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং কৃষি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষক দিবসের এই জাতীয় সম্মাননা দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

জাবিপ্রবিতে ৩ নতুন বিভাগ, ইন্টার্নশিপে মাসে ১৭ হাজার টাকা

শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) তিনটি নতুন বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বিভাগগুলো হলো—ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে জমা দিলে জাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) জাবিপ্রবিতে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইন্টার্নশিপে মাসে ১৭ হাজার টাকা

শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ইন্টার্নশিপ ভাতার বিষয়ে ইউজিসি সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইউজিসির গবেষণা নীতিমালায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গবেষণা ফান্ডের ২৫ শতাংশ সরাসরি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।’

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে পাঠালে শিক্ষার্থীরা মাসিক ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন।

জাবিপ্রবিতে খুলছে ৩ নতুন বিভাগ

শিল্প ও প্রযুক্তির পরিবর্তিত চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে জাবিপ্রবিতে ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স বিভাগ খোলার বিষয়ে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এসব বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

স্টার্টআপে কর শূন্য শতাংশ

তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন ইউজিসি সদস্য।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। ইনোভেশন ফান্ডে ৫০০ কোটি টাকা এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাঁর দাবি, তরুণ উদ্যোক্তাদের ইনোভেশন বা স্টার্টআপের ক্ষেত্রে আগে ১৫ শতাংশ কর দিতে হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে শূন্য শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী তরুণদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হবে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’

শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ কোর্স চালুর উদ্যোগের কথাও জানান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রথম ধাপে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কোর্স চালু করা হবে, যার মধ্যে জাবিপ্রবিও রয়েছে।

এ ছাড়া ‘আইসিটি স্কিলস উইথ এআই’, এথিক্স এবং সিভি লেখা ও ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো মৌলিক অন-জব ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের মতো সরকারি ওয়েবসাইটের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান ইউজিসির এই সদস্য।

মন্তব্য করুন

ঢাবিতে দুই দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তঃস্কুল-কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা

যুক্তি, মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চাকে আরও জোরদার করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তঃস্কুল-কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। আগামী শনিবার ও রবিবার (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

অ্যাকশনএইড ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির (ডিইউডিএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৬টি স্কুল ও কলেজের বিতার্কিকরা অংশ নেবেন।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। দুই দিনের আয়োজনের বিভিন্ন পর্ব টিএসসি প্রাঙ্গণের বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. আমিরুস সালাত, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েম এবং অ্যাকশনএইডের লিড ইয়ুথ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস মো. নাজমুল আহসান।

আয়োজকরা জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজ পর্যায়ের তরুণ বিতার্কিকদের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতায় যুক্তি উপস্থাপন, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও গঠনমূলক মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

তাদের মতে, দুই দিনের এ আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিতার্কিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি যুক্তিনির্ভর ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তরুণদের গড়ে তুলতেও প্রতিযোগিতাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

মন্তব্য করুন

একই স্কুল-কলেজ পেরিয়ে একই বিভাগে রাবিতে জমজ দুই ভাই

শৈশব থেকে একসঙ্গে পথচলা। একই স্কুল, একই কলেজ—শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই পাশাপাশি ছিলেন শেরপুরের জমজ দুই ভাই শাকিবুল হাসান জনি ও রাকিবুল হাসান রনি। এবার সেই পথচলা এসে পৌঁছেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। শুধু একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই নয়, দুজনই সুযোগ পেয়েছেন একই বিভাগে। আবাসিক হলও পেয়েছেন একই। বর্তমানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে মতিহার হলে থাকছেন তারা।

শেরপুর সদর উপজেলার মোবারকপুরের এই দুই ভাইয়ের শিক্ষাজীবনের শুরু শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমিতে। সেখানে মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষে এসএসসি পরীক্ষায় দুজনই জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

এরপরও তাদের পথ আলাদা হয়নি। দুজনই ভর্তি হন শেরপুর সরকারি কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও ধরে রাখেন সাফল্যের ধারাবাহিকতা। শাকিবুল হাসান জনি জিপিএ-৪.৯২ এবং রাকিবুল হাসান রনি জিপিএ-৪.৮৩ অর্জন করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য এরপর তাদের গন্তব্য হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হয়ে দুজনই সুযোগ পান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। একই বিভাগে পড়ার পাশাপাশি তাদের আবাসিক ঠিকানাও হয়েছে একই—মতিহার হল। এমনকি একই কক্ষে বসে ক্লাস করার সুযোগও পাচ্ছেন দুই ভাই।

রাকিবুল হাসান রনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মহান রব চেয়েছেন বলেই আজ আমরা স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েও একইসঙ্গে একরুমে বসে ক্লাস করতে পারছি। মাঝে মধ্যে ভাবলে নিজেরাই অবাক হয়ে যাই। ক্লাস নাইনে পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে জানার পর থেকেই বিষয়টি আমাদের খুব পছন্দের ছিল। পছন্দের বিভাগে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি একই হলও বরাদ্দ পেয়েছি। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে।’

শাকিবুল হাসান জনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই ভাইয়ের সবসময় একসঙ্গে পড়ার স্বপ্ন ছিল। সেটা এত সুন্দরভাবে পূরণ হবে, তা কখনো ভাবিনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা ভবিষ্যতেও সফলতা একসঙ্গে ধরে রাখতে চাই।’

একই স্কুল, একই কলেজ, একই বিশ্ববিদ্যালয়, একই বিভাগ এবং একই আবাসিক হল—শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি ধাপেই যেন একে অপরের সঙ্গী হয়ে আছেন শেরপুরের এই জমজ দুই ভাই।

মোবারকপুরের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার ক্যাম্পাসে এসে এবার পদার্থবিজ্ঞানের জগতে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন জনি ও রনি। সামনে তাদের লক্ষ্যও এক—একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সাফল্যের গল্প আরও দীর্ঘ করা।

মন্তব্য করুন

শাবিপ্রবির হলে হাই ভোল্টেজ, পুড়েছে ফ্যান-লাইট-চার্জার

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছেলেদের আবাসিক শাহপরান হলে হঠাৎ অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে হলের বিভিন্ন কক্ষের ফ্যান, লাইট, মোবাইল চার্জার, মাল্টিপ্লাগসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। হলের ডাইনিংয়ের ওভেনও নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ বৈদ্যুতিক লাইনে অতিরিক্ত ভোল্টেজ চলে আসার পর হলের কয়েকটি ব্লকের কক্ষে একে একে ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে যেতে থাকে। সকেটে থাকা মাল্টিপ্লাগ, মোবাইল চার্জার, লাইট ও ফ্যান মুহূর্তের মধ্যেই বিকল হয়ে যায়।

ঘটনার পর হলের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দ্রুত ত্রুটি মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।

শাহপরান হলের এ ব্লকের দ্বিতীয় তলার শিক্ষার্থী সৈকত বলেন, ‘আনুমানিক ৩টার দিকে আমি শুয়েছিলাম। হঠাৎ কারেন্ট চলে যাওয়ার পর প্রায় ২০ মিনিট পর আবার আসে। এরপর আমার ফ্যান অন্যদিনের তুলনায় বেশি গতিতে চলছিল। ফ্যানের গতিনিয়ন্ত্রক চাকা ঘুরিয়েও কোনো কাজ হচ্ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার টেবিলের লাইট পুড়ে ল্যাপটপের ওপর পড়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রুমের পাশের ওয়াশরুমের লাইট বিকট শব্দে ফুটে যায়। এ ধরনের সমস্যা আশপাশের প্রায় সবার রুমেই হয়েছে। আমাদের এসব ক্ষতিপূরণ কে দেবে?’

কারণ এখনো নিশ্চিত নয়

ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘কোন কারণে এমন হয়েছে এখনো বলতে পারছি না। তবে হঠাৎ হয়তো ভোল্টেজ বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যাটা হয়েছে।’

শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ বৈদ্যুতিক লাইনগুলোর মেরামতের কাজ চলছে। তবে এরকম দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে খুবই দুঃখজনক। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখছি কেন এমনটা হলো।’

ঘটনার পর হলের বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন
×