আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ৩ পদে নিয়োগ, আবেদন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

 

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে ৯ম থেকে ১৬তম গ্রেডে তিনটি পদে একজন করে মোট তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থীর কাছ থেকেই আবেদন গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় সরাসরি অথবা ডাকযোগে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে।

পদ ও বেতন স্কেল

১. আইটি কর্মকর্তা
পদসংখ্যা: ১টি
বেতন স্কেল: ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯)

২. অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ১টি
বেতন স্কেল: ৯,৭০০–২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)

৩. ইলেকট্রিশিয়ান
পদসংখ্যা: ১টি
বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)

আবেদন প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে। আবেদনপত্র ‘অধ্যক্ষ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ’ বরাবর সরাসরি অথবা ডাকযোগে পাঠিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদন ফি

আইটি কর্মকর্তা পদে আবেদন করতে ১,০০০ টাকা এবং অফিস সহায়ক ও ইলেকট্রিশিয়ান পদে আবেদন করতে ৬০০ টাকা আবেদন ফি জমা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

মন্তব্য করুন

মানারাতে সিরাতুন্নবী (সা.) কর্মসূচির সমাপনী, শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

 

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাপনী দিনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানের ফুয়াদ আল-খতীব অডিটোরিয়ামে বালক ও বালিকাদের জন্য পৃথক আয়োজনে এসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত, ইসলামী সংগীত, কোরাস, কবিতা আবৃত্তি ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে মুখর ছিল পুরো আয়োজন।

সকাল সাড়ে ৮টায় বালিকা শাখার অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক, বক্তা ও শিক্ষাবিদ ড. নাসিমা হাসান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল (মর্নিং শিফট) প্রফেসর তাহমিনা ইয়াসমিন।

বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয় বালক শাখার অনুষ্ঠান। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অর্থবহ ব্যাখ্যার পর শিক্ষার্থীরা হামদ, নাত, ইসলামী সংগীত ও কোরাস পরিবেশন করে।

আলোচনা সভায় মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অতিথিরা। মানারাত ট্রাস্টের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ মহানবী (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত ন্যায়ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা ও ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসৃত অর্থব্যবস্থায় সম্পদের সুষম বণ্টন, সামাজিক নিরাপত্তা, উত্তরাধিকার আইন ও সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা রয়েছে। ইসলামী অর্থনীতি মানুষের স্বাভাবিক জীবন, সামাজিক কল্যাণ ও উৎপাদনশীলতার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে বৈষম্য কমাতে এবং সম্পদের সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারবিয়্যাহ ইডুকেশন নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোখতার আহমদ বলেন, রাসুল (সা.)-এর জীবন মানবতার জন্য এক অনন্য আদর্শ। তার চরিত্র, নৈতিকতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা, সত্যবাদিতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা সবার জন্য অনুসরণীয়। শুধু মুখে রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার কথা না বলে তার সুন্নাহ ও আদর্শ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সচিব ও মানারাত ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মো. মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক ও সুন্দর আচরণ করতেন। তার জীবনী শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের জন্যও এটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর কথা, কাজ ও চরিত্র সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস. এম. মাহবুব-উল-আলম, ওএসজি, এসজিপি, এসডিসি, পিএসসি (অবসরপ্রাপ্ত)। তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর জীবন শুধু ধর্মীয় ইতিহাসের বিষয় নয়; একজন আদর্শ মানুষ, নেতা ও সমাজসংস্কারক হিসেবেও তার জীবন অনুসরণীয়।

মক্কা বিজয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও প্রতিকূলতার পরও মক্কা বিজয়ের সময় রাসুল (সা.) প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। একই সঙ্গে একজন সামরিক নেতা হিসেবে তার কৌশল ও নেতৃত্বের দৃষ্টান্তও ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক প্রজন্মই একটি দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। রাসুল (সা.)-এর আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করে তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও মানারাত ট্রাস্টের একাডেমিক কমিটির কনভেনার প্রফেসর ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং মানারাত ট্রাস্টের সদস্য ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এম. উমর আলী।

সিরাতুন্নবী (সা.) কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে কোরআন তেলাওয়াত, আজান, সিরাতভিত্তিক আবৃত্তি, রচনা ও ইসলামী সংগীতসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা। পুরস্কার গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিন দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

মন্তব্য করুন

ঢাকার সাত কলেজে ভর্তি–সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে বেআইনি আখ্যা, শিক্ষকদের তিন দিনের কর্মবিরতি ঘোষণা

সাত কলেজ
সাত কলেজ

ঢাকার সাত কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র নামে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি ও ক্লাস শুরুর যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, সেটিকে আইনসিদ্ধ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর শিক্ষকরা। এই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তির কারণে তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান পরীক্ষাসমূহ কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

আজ সোমবার ঢাকা কলেজ মিলনায়তনে সাত কলেজের শিক্ষকদের এক জরুরি সভায় এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (যার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান) বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের অন্তর্বর্তী প্রশাসক ১৬ নভেম্বর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া ১৭–২০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং ২৩ নভেম্বরের মধ্যে ক্লাস শুরু করতে হবে।

কিন্তু আজকের সভায় শিক্ষকরা বলেন, এখনো প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ চূড়ান্ত না হওয়ায় এমন বিজ্ঞপ্তি আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাঁরা আরও জানান, তাঁরা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে বিধিবদ্ধভাবে সরকারি কলেজে দায়িত্ব পালন করছেন; তাই প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন বা ক্লাস শুরুর কাজে তাঁদের যুক্ত হওয়ার অবকাশ নেই। সাত কলেজের স্বতন্ত্র কাঠামো বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জোর দাবি জানানো হয়।

ঢাকার সাত কলেজকে কেন্দ্র করে বহুদিন ধরেই সংকট চলছে। ২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এসব কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হলে সমস্যার সূচনা হয়। সাত কলেজ—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজে—তৎকালীন সিদ্ধান্তের পরই একের পর এক জটিলতা দেখা দেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই অধিভুক্তি বাতিল করায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়।

বর্তমানে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষকে প্রশাসক করে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় সাত কলেজের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকার যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে, তার কাঠামো নিয়ে শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে আগে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালনের পর এখন তাঁরা তিন দিনের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন।

সাত কলেজের মধ্যে বর্তমানে ইডেন ও তিতুমীর কলেজে শুধু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠদান হয়; অন্য পাঁচটি কলেজে স্নাতক–স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিকও চালু রয়েছে।

মন্তব্য করুন

মতিঝিল আইডিয়ালে একদিনে ৪৬ শিক্ষক বদলি, নানা প্রশ্ন

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল শাখা থেকে একদিনে ৪৬ শিক্ষককে বনশ্রী ও মুগদা শাখায় বদলি করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সম্মতিক্রমে এসব শিক্ষককে বদলি করা হয়।

একসঙ্গে এত সংখ্যক শিক্ষককে বদলির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বদলি হওয়া শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কয়েকজনকে শাখা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির মূল উৎপাটন এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বদলি হওয়া শিক্ষকরা পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে মতিঝিল মূল শাখায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। একাধিক শিক্ষক জানান, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই ৪৬ শিক্ষকের বদলির আদেশ জারি করা হয়।

বদলি হওয়া শিক্ষকদের একটি অংশ সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বদলির তথ্য প্রকাশের আগেই অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বদলির বিষয়টি শেয়ার করেন। এ ঘটনায় শিক্ষকরা বদলি প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনটি শাখা রয়েছে। এগুলো হলো—মতিঝিলের মূল শাখা, বনশ্রী শাখা ও মুগদা শাখা। তিন শাখায় প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৭০০ জন। এছাড়া কর্মচারী রয়েছেন দুই শতাধিক।

এ বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবীর দুলু বলেন, একটি শাখায় কোনো শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ তিন বছর পূর্ণ হলে তাকে অন্য শাখায় বদলি করা উচিত। তবে এ নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি বলেন, নিয়মটি কার্যকর করা গেলে কোনো শিক্ষক দীর্ঘদিন একই শাখায় থেকে কোচিং, ভর্তি কিংবা টিউশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়ানোর সুযোগ পাবেন না। তবে ক্ষমতার প্রভাবে কেউ বদলি হবেন আর কেউ একই শাখায় থেকে যাবেন—এমন বৈষম্যও করা উচিত নয়। সবার জন্য একই নিয়ম কার্যকর করতে হবে।

এদিকে, একসঙ্গে ৪৬ শিক্ষককে বদলির ঘটনায় শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বদলির সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনিক কারণ, নাকি অন্য কোনো বিষয় রয়েছে—তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

মন্তব্য করুন

দুই দাবিতে ইউজিসিতে জবি ছাত্রদলের স্মারকলিপি প্রদান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নীতিমালায় নতুন দাবি যুক্তকরণ এবং আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তি নিশ্চিত করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) জবি ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. তানজীমউদ্দীন খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ স্মারকলিপি জমা দেয়। ইউজিসি চেয়ারম্যান এর পক্ষে ড.তানজীমউদ্দীন খান এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, জবি ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তাই ছাত্রদলের দাবি আগামী অক্টোবরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তি দেওয়া হোক। এ লক্ষ্যে আমরা আজ ইউজিসি চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। পাশাপাশি, জকসু নীতিমালায় কিছু প্রয়োজনীয় পদ যুক্তকরণের যৌক্তিক দাবিও জানিয়েছি।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যা কিছু দরকার, ছাত্রদল তা করে যাচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যে সম্পূরক বৃত্তি নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। এটা জবিয়ানদের ন্যায্য অধিকার।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি প্রমুখ।

জকসু নীতিমালায় শাখা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত নতুন সম্পাদকীয় পদগুলো হলো : স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী সম্পাদক, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক, দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক। এছাড়া জবি ছাত্রদল কোষাধ্যক্ষ পদের বিপরীতে অর্থ সম্পাদক পদকে পুনরাবৃত্তি উল্লেখ করে তা বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে।

মন্তব্য করুন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ–প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আসছে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা পদ্ধতি

শিক্ষামন্ত্রণালয়
শিক্ষামন্ত্রণালয়

দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি’ ১০০ নম্বরের পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে নিয়োগ আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অনিয়মমুক্ত হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদে নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ। তারা শূন্যপদ ঘোষণা করে আবেদন গ্রহণ করবে এবং আবেদনকারীদের লিখিত বা এমসিকিউ ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে সুপারিশ করবে। এ পরীক্ষা লিখিত হবে নাকি শুধুই এমসিকিউ—তা চূড়ান্ত করবে এনটিআরসিএ বোর্ড।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে কেবল মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কারণে অনেক সময় প্রকৃত দক্ষতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়নের কাঠামো প্রস্তাব করেছে কমিটি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সচিবের দপ্তর থেকে অনুমোদন মিললে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ দিতো ম্যানেজিং কমিটি। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। ফলে এখন থেকে অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকসহ সব সমমানের পদে নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ—এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেন, দক্ষ ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এনটিআরসিএ এখনও ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত না করলেও মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়—লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা এবং প্রার্থীর পূর্ব অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ যাচাই-ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মেধাভিত্তিক পদ্ধতি চালু হলে বেসরকারি স্কুল-কলেজ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী প্রশাসন গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

মন্তব্য করুন

বেসরকারি স্কুল-কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মনোনয়ন

সরকারি কর্মকর্তার একচ্ছত্র বিধান স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে শুধু সরকারি কর্মকর্তা (নবম গ্রেডের নিচে নয়) বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (পঞ্চম গ্রেডের নিচে নয়) মনোনয়ন দেওয়ার বিধান সংবলিত প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন যে, বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে কেবল সরকারি কর্মকর্তা বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মনোনয়নের এই বিধান কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।

আদেশের দিন ও বেঞ্চ

বুধবার (২২ অক্টোবর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রিটের কারণ ও আইনজীবীর বক্তব্য

বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদে কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের মনোনয়নের এই বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট মোকছেদুর রহমান আবির রিটটি দায়ের করেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের মনোনয়নের বিধান বৈষম্যমূলক। এই যুক্তিতেই আদালত প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন।

প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয়বস্তু

গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া অন্য কেউ হতে পারবেন না। এই পদে নবম গ্রেড বা তার ওপরের পদে কর্মরত কিংবা পঞ্চম গ্রেড বা তার ওপরের পদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

এছাড়া, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতির প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান হতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সভাপতি হতে পারবেন।

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক খন্দোকার এহসানুল কবির জানান, বিদ্যমান নিয়মে সামান্য সংশোধন এনে শুধু সভাপতি পদটির জন্য এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন
×