ইউজিসির পিএইচডি ফেলোশিপ ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা বাড়াতে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে গবেষণা খাতে বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর ও টেকসই গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

বর্তমানে ইউজিসির নিজস্ব পিএইচডি স্কলারশিপের সংখ্যা ৭৫টি থেকে বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে পিএইচডির সুযোগ ১০টি থেকে বাড়িয়ে ৩৫টি করা হয়েছে। পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে আগামী অর্থবছরে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ইউজিসির ১৭৯তম পূর্ণ কমিশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব তথ্য জানান।

গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কার্যক্রমে পরিণত করতে চায় ইউজিসি

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি পিএইচডির সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। গুণগত ও মানসম্পন্ন গবেষণা নিশ্চিত করতে ইউজিসি ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গবেষণাবান্ধব ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি পিএইচডির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কার্যক্রমে পরিণত করাই ইউজিসির লক্ষ্য। শুধু গবেষণার সংখ্যা বাড়ানো নয়, এর মান, প্রভাব ও বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করাও কমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দক্ষ গবেষক তৈরি, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা, পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি কার্যকর গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

গবেষণার সঙ্গে শিল্প-অর্থনীতির সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে গবেষণার সাফল্য সীমাবদ্ধ না রাখার ওপর গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, গবেষণাকে দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং শিল্প ও অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, যৌথ গবেষণা পরিচালনা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনের বাণিজ্যিক ও সামাজিক প্রয়োগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

গবেষণায় অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মদক্ষতা, অর্জন ও গবেষণার ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতে গবেষণায় বিনিয়োগকে আরও কৌশলগত ও ফলাফলভিত্তিক করা হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে যে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যকর অবদান রাখবে, তাদের গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

নতুন গবেষণা নীতিমালা অনুমোদন

সভায় ‘ইউজিসি প্রমোশনাল অ্যান্ড একাডেমিক স্টাফ ডেভেলপমেন্ট গবেষণা প্রকল্প নীতিমালা, ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আতিকুর রহমান, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাকির হুসাইন এবং সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কার্যপত্র উপস্থাপন করেন ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম।

মন্তব্য করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনই যথেষ্ট নয়: ইউজিসি চেয়ারম্যান

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। অভিযোগ পাওয়ার পর তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ইউজিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কমিটি প্রত্যাশিত কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করছে না।

তিনি বলেন, শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না, কমিটিকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো নারী অভিযোগ করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেন ‘এটি তার কাজ নয়’—এমন কথা বলার সুযোগ না পান। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ইউজিসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত জাতীয় কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইউজিসির প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা এবং যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে নেওয়া কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি করবে এ কমিটি।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে এ সমঝোতা করা হয়েছে।

ইউজিসির পক্ষে কমিশনের সচিব মো. ফখরুল ইসলাম এবং ইউএন উইমেনের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতার আওতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের জাতীয় জরিপের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের ১৬ শতাংশ প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ডেপুটি হেড বেইবা জেরিনা বলেন, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত এবং উচ্চশিক্ষাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করা জরুরি। কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন গ্রেডিং সিস্টেম ও কঠোর তদারকি আসছে

উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত রূপান্তর আনতে দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন গ্রেডিং সিস্টেমক্রেডিট ট্রান্সফার প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে করে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেডিট অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা যাবে, ফলে শিক্ষার্থীরা সহজে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।

এই প্রস্তাব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০২৫ (সংশোধিত) খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে, যা শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানায়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা গ্রেডিং স্কেল ও ক্রেডিট পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা জটিলতায় পড়ছে—যেমন প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সময় আগের ক্রেডিট গ্রহণ না করা বা গ্রেড স্কেলে পার্থক্য তৈরি হওয়া। এই সমস্যা দূর করতেই নতুন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।

ইউজিসি সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সংশোধিত আইনের খসড়াটি দ্রুত চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’


আইন লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ জরিমানা ৫০ লাখ টাকা

নতুন আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে, যা আগে ছিল ১০ লাখ টাকা।

এছাড়া, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে তার শিক্ষা কার্যক্রম অন্তত দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে বা সনদ বাতিল হলে আগের শিক্ষার্থীদের সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট আচার্য কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি স্বাক্ষর করবেন, যাতে নথির বৈধতা বজায় থাকে।


ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আর সনদ দিতে পারবেন না

সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যরা কোনো শিক্ষার্থীর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সার্টিফিকেট দিতে পারবেন না। তবে উপাচার্য না থাকলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রো-ভিসি বা রেজিস্ট্রার সনদ দিতে পারবেন।

মূল সনদপত্রে কে স্বাক্ষর করবেন, তা এবার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—

  • উপাচার্য সনদপত্রে,

  • পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মার্কসিট ও ট্রান্সক্রিপ্টে স্বাক্ষর করবেন।

আগের আইনে এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না।


ট্রাস্টি বোর্ডে একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি সদস্য নয়

ট্রাস্টি বোর্ডের গঠনে নতুন নিয়ন্ত্রণ আনা হচ্ছে। এখন থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকতে পারবেন না।

এছাড়া, ট্রাস্টি বোর্ডে সদস্য সংখ্যা ৯ থেকে ১৫ জনের মধ্যে হতে হবে। ইউজিসি জানিয়েছে, এতে বোর্ডে বৈচিত্র্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং পারিবারিক প্রভাব কমবে।


নিয়োগ ও পরিচালনায় নতুন শর্ত

খসড়া আইনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আছে—

  • উপাচার্য, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে ইউজিসির নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন।

  • বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কমপক্ষে ৫ একর জমি থাকতে হবে।

  • টিউশন ফি নির্ধারণে ইউজিসির অনুমোদন নিতে হবে।


জবাবদিহিতা ও ভারসাম্য আনা

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বলেছে, সংশোধিত আইন কার্যকর হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী হবে, একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কমবে, এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সমতা ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ তৈরি হবে।

বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৬টি, যার মধ্যে ১০৫টিতে পাঠদান চলছে, এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি

মন্তব্য করুন
×