নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, একই সময় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা যেসব ভাতা পাবেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব ক্ষেত্রে একই হারে বা একই ধরনের ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছে সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও সমন্বয় করা হবে। তবে ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের পার্থক্য থাকবে।

মন্তব্য করুন

আজ মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নবম পে স্কেল, প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবারের মধ্যে

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন মিললে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন গ্রেড ও বেতন বৃদ্ধির হার কত হবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নবম পে স্কেল নিয়ে গত দুদিন ধরে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। এসব সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠক সংসদ ভবনে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার করার সুপারিশ

নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কমিশনের হিসাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলেও তখন হিসাব দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার কত রাখা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সচিব কমিটির সুপারিশ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে।

গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দ্রুত তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

ই-বুকে বলা হয়েছে, ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে এবং সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মেহেরপুরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় নকল, চার শিক্ষার্থী বহিষ্কার

মেহেরপুরে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরীক্ষায় নকলের ঘটনায় জড়িত চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় দুই শিক্ষককে পরীক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ডিগ্রি কলেজে বাউবির অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি নজরে আসার পর পরীক্ষার সময় নকলের সঙ্গে জড়িত চার পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে পরীক্ষায় নকলের ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলা ও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

ঘটনার শিকার বাংলাদেশ বেতার ও নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) গাংনী থানায় মামলা করেন। মামলায় রফিকুজ্জামান ও মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

শিক্ষা, গবেষণা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুতে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন লাঞ্চ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিংইউ, জিয়াংসি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝেং পেংউসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

'এখন ১০ শতাংশ নয়, শিক্ষকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান'

পরের বাজেটে বাড়তে পারে শিক্ষকদের বরাদ্দ: শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

শিক্ষক নেতাদের সময়মতো দাবি ও হিসাব-নিকাশ পেশ না করার কারণে চলতি বাজেটে বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি শিক্ষক নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, "এখন ১০ শতাংশ নয়, পরের বাজেটে বাড়ানো যেতে পারে।"

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সময়মতো প্রস্তাব না দেওয়ায় বরাদ্দ কম

অধ্যাপক আবরার বলেন, শিক্ষক নেতারা যদি প্রাথমিক হিসাবটা আগেভাগে মন্ত্রণালয়ে দিতেন, তবে বাজেট ঘোষণার আগেই তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে যৌক্তিক প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো যেত। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য এবং সময়মতো প্রস্তাব গেলে এখনকার চেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হতো।

তবে, বর্তমানে যেখানে অর্থের সংস্থান নেই, সেখানে এর বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি শিক্ষক নেতাদের জানিয়েছেন।

 

পরের বাজেটে বৃদ্ধির আশ্বাস

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, সরকার আগামী বছরের বাজেটে কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবে। তিনি শিক্ষক নেতাদের ধৈর্য ধরার এবং আন্দোলনের পথে না গিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমরা এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করছি, কিন্তু তাদেরও ধৈর্য ধরতে হবে।"

 

শিক্ষক নেতারা রাজি নন

অধ্যাপক আবরার জানান, শিক্ষক নেতারা সরকারের এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তারা এখনই ১০ শতাংশ এবং সামনের বছর আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তবে, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় তারা তাতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, "সংস্থান থাকলে আমরা এখনই দিতাম। কিন্তু বাস্তবতায় অর্থের সীমাবদ্ধতা আছে।" শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে আন্দোলন প্রত্যাহার করার অনুরোধও করেন তিনি।

 

পে-কমিশনের ইঙ্গিত

অধ্যাপক আবরার নতুন পে-কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পে কমিশন গঠন করেছে, যার প্রতিবেদন আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে আসতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পে কমিশনের রিপোর্টে ৫০, ৭০ বা এমনকি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।

 

ভবিষ্যতের জন্য 'থোক বরাদ্দ' থেকে মুক্তি

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও ব্যাখ্যা দেন যে, তারা বর্তমানে 'থোক বরাদ্দ' থেকে শতকরা হারে ভাতা নির্ধারণের পদ্ধতিতে যাচ্ছেন, যা একটি বড় অগ্রগতি। কারণ ভবিষ্যতে মূল বেতন বাড়লে সেই অনুপাতে বাড়ি ভাড়াও বাড়বে।

তিনি শিক্ষক নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ভবিষ্যৎ সরকার 'থোক বরাদ্দ' পদ্ধতিতেই থেকে যেতে পারে, যা শিক্ষকদের জন্য লাভজনক হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সব কাজ করেছে, কিন্তু বর্তমানে সময় ও অর্থ দুটোই সীমিত। তিনি শিক্ষক নেতাদের এই সুযোগ না হারানোর আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপঞ্জিতে ভিন্নতা—পূজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে টানা বারো দিন, মাদরাসা-কারিগরিতে মাত্র চার দিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই। কারণ ওই দুই দিন (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক বন্ধের পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজার ছুটি কার্যকর হবে। একটানা ছুটি কাটিয়ে ৭ অক্টোবরের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু হবে ক্লাস।

একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বারো দিনের ছুটি মিলবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবার গরমিল ছাড়া ক্লাস চলবে যথারীতি।

অন্যদিকে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকবে মাত্র দুই দিন—১ ও ২ অক্টোবর। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে মোট ছুটি দাঁড়াবে চার দিনে। ৫ অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবার চলবে পাঠদান।

👉 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটি দীর্ঘায়িত হলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে সীমিত এই ছুটির মেয়াদ শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চার ধারাবাহিকতায় রাখবে এক ধাপ এগিয়ে।

মন্তব্য করুন

চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন শিক্ষামন্ত্রী

চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

সফরে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, সফরকালে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক ফোরাম ও সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সফরের অংশ হিসেবে চীনের বিভিন্ন কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করবেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসব সফরের মাধ্যমে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় চীনের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ হবে।

সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এসব সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ কার্যক্রমের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন
×