এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’, দেওয়া হবে ট্যাব

এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সদ্য এসএসসি পাস করা ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উৎসাহিত করতেই এসব উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীই আমাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ যেন আরও বেড়ে যায়, তারা যেন লেখাপড়া ঠিকমতো করে। সেজন্যই তিনি এই ১ লাখ ১৬ হাজার ট্যাব দেওয়ার জন্য চিন্তা করেন।’

মেয়েদের জন্য ‘পিংকি মোটরসাইকেল’ দেওয়ার উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণিতে মেয়েদের শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে তাদের উপহার দেওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। সেগুলোতে প্রতিটি ক্লাসে মেয়েদের আরও শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদের জন্য একটা গিফটের কথা আজকে বলবেন। আর সেটি হচ্ছে “পিংকি মোটরসাইকেল” তাদেরকে দেওয়ার জন্য।’

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান ড. মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বিত হচ্ছে, এটা আমাদের জটিলতায়। এই বিষয়গুলো আজকের এজেন্ডায় রয়েছে। এই বিশাল এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বাজেট বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, তাদের পরীক্ষা আয়োজন এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন করা যায়—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণে শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি এবার বাজেট অ্যালোকেশন করেছেন জিডিপির ২ শতাংশ এবং এটাকে তিনি উন্নীত করবেন আপ টু ৫ শতাংশ।’

ড. মিলনের দাবি, শিক্ষায় এ ধরনের বড় পরিসরের বিনিয়োগ এর আগে কোনো সরকার করেনি।

মন্তব্য করুন

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৩.৭৪ শতাংশ

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফল প্রকাশ করে। এ বছর পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

বাউবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ মিলিয়ে অংশ নেন ৩০ হাজার ৮১৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১২ হাজার ২৪ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৭ হাজার ৬৬৪ জন।

চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৪ হাজার ৭২৫ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৯৩৯ জন ছাত্রী। বাউবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্লাহ মাহামুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা মানুষের জন্য শিক্ষার দ্বিতীয় সুযোগ তৈরি করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষার কার্যক্রম এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল মাত্র ৪৯ কার্যদিবসে প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের এ উদ্যোগ ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের পুরোনো ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন

৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য রুয়ার বাসসেবা

৪৯তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত (এমসিকিউ টাইপ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (১০ অক্টোবর)। বিশেষ এই বিসিএস পরীক্ষাটি কেবল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাকরিপ্রার্থীরা ইতোমধ্যে রাজধানীর পথে রওনা হচ্ছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) থেকে ঢাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা প্রার্থীদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন রুয়া (রাবি ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) ছয়টি বাসের ব্যবস্থা করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে বাসগুলো ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পরীক্ষার পর শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ফেরার যাত্রা শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে, এবং বাসগুলো শিক্ষার্থীদের রাজশাহী পৌঁছে দেবে।

রুয়ার যুগ্ম-প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রুয়ার উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৭৩১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিভাগ ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৪টি বাস বরাদ্দ দেয়। বাকি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন রুয়ার সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান-এর সহযোগিতা কামনা করেন।

রুয়া জানিয়েছে, ঢাকায় যাতায়াতের পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

নজরুলের সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শিক্ষা দেয়: ঢাবি উপাচার্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়, বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য থেকে সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও পাওয়া যায়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবির জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। স্মারক বক্তৃতা দেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’য় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিকের বইয়ে যুক্ত ‘রাতের ভোট’; সাহিত্য-কণিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ

রাতের ভোট
রাতের ভোট

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আলোচিত ‘রাতের ভোট’ প্রসঙ্গটি এবার যুক্ত হচ্ছে নবম–দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে। ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ নামে নতুন সংযোজিত অংশে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পূরণ এবং ২০২৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার নীলনকশা করেছিল; যা জনগণ প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে বাদ যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ। ২০২১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে এই ভাষণ পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়; অষ্টম শ্রেণির বইয়ে এটি ছিল ছয় পৃষ্ঠা জুড়ে।

পাঠ্যবইয়ের নতুন ভাষ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেখিয়েছে—দমনমূলক শাসন যত শক্তিশালী হোক, ন্যায়ের দাবিতে গড়ে ওঠা জনপ্রতিরোধের কাছে পরাজয় অনিবার্য।

২০২৬ সালের বইয়ে পতিত সরকারের অনিয়ম–দুর্নীতির বিবরণও যুক্ত হচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কমিশনের তথ্যমতে, গত ১৬ বছরে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে দেশে একটি ‘চোরতন্ত্র’ গড়ে ওঠে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

বইয়ের নতুন অংশে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর ফলে বাকশাল গঠনের কথা, জিয়াউর রহমানের অধীনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরাবির্ভাব, এরশাদের ক্ষমতা দখল ও পরবর্তী গণআন্দোলনও বর্ণনা করা হয়েছে। নুর হোসেন, জেহাদ, ডা. মিলনসহ আন্দোলনে নিহতদের প্রসঙ্গ এবং ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনও এতে রয়েছে।

আরেক অংশে বলা হয়েছে—২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন। বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন, প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল—এসবই নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে বইতে লেখা হয়েছে—সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার পর উত্তেজনা বাড়ে। পরদিন রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল শান্তসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত বল প্রয়োগে শত শত মানুষ নিহত হয়। দমননীতি বাড়তে থাকলে জনসম্পৃক্ততাও বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা দেশত্যাগ করেন—এ তথ্যও বইতে স্থান পেয়েছে।

বইয়ে আন্দোলনের দুই বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
১) নারীদের নজিরবিহীন অংশগ্রহণ,
২) সারাদেশে দেয়ালে–দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি; যেখানে অধিকার, ইনসাফ, ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে মানবিকতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা উঠে এসেছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে আসার পর ২০২৫ সালের মতো ২০২৬ সালের বইয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সব শ্রেণির বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকছে। মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযোজন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তি: ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। কমিশন এই প্রস্তাবটি তাদের ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই লক্ষ্যে, কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নামে গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে 'জুলাই সনদ ২০২৫' প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এখন কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক-এ উল্লিখিত বিধান—যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করে—সেই অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তির প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দলগুলোর করণীয়: চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ১১ অক্টোবর শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে তাদের লিখিত মতামত কমিশন বরাবর, অথবা কমিশনের নির্দিষ্ট ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন থেকে আরও তথ্য জানার জন্যও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দলীয় প্রতিক্রিয়া: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জানান যে এ বিষয়ে এখনো কোনো মতামত পাঠাননি।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শাসনতন্ত্রের প্রথম ভাগে 'জাতির পিতার প্রতিকৃতি' শিরোনামে অনুচ্ছেদ ৪ক যুক্ত হয়, যা নির্দিষ্ট স্থানে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

মন্তব্য করুন

তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান প্রাথমিক শিক্ষকদের

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা শিক্ষকরা শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন। কেউ গাছের ছায়ায় বসে আছেন, কেউ আবার মাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতাও শোনা যাচ্ছে তাঁদের অবস্থানস্থলে।

 

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার এখনো তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেয়নি। তাই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

 

এই আন্দোলনের কারণে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সামনে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

 

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা আশা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তাঁরা ঢাকায় আরও বড় পরিসরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন
×