১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ অনিশ্চিত, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদপ্রার্থীদের শঙ্কা

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগের সুপারিশ না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কয়েকশ ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদপ্রার্থী। প্রতি ট্রেডে দুজনের পরিবর্তে একজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর নিয়োগের নতুন নীতিমালার কারণে শূন্যপদ ও নিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

প্রার্থীদের দাবি, প্রতি ট্রেডে দুজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর নিয়োগের নীতিমালার আলোকে ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষায় তাঁদের চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এর আগে ষষ্ঠ ও সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিও একই নীতিমালার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পর্যাপ্ত শূন্যপদ না থাকায় তখনও অনেক প্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পাননি।

এ অবস্থায় নতুন করে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে নীতিমালার পরিবর্তন। তাঁদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে প্রতি ট্রেডে দুজনের পরিবর্তে একজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর রাখার বিধান করা হয়েছে। ফলে নিয়োগযোগ্য পদের সংখ্যা কমে যেতে পারে। এতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও অনেক প্রার্থী আবারও নিয়োগবঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জানতে চাইলে বিভাগের যুগ্মসচিব (কারিগরি-১) মো. গাউছুল আজম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে তারপর আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারব। তবে কেউ বঞ্চিত হোক সেটি কারোই কাম্য নয়।’

নিয়োগের সুপারিশের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের আশঙ্কা, প্রতি ট্রেডে দুটি পদের পরিবর্তে একটি পদ নির্ধারণের ফলে নিয়োগের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমানে চলমান বদলি প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট শূন্যপদগুলোও নতুন নীতিমালার প্রভাবে নিয়োগের বাইরে চলে যেতে পারে। এতে আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মো. রায়হান নামে এক প্রার্থী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, সময় ও অর্থ ব্যয় করে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যদি নীতিমালার পরিবর্তনের কারণে নিয়োগের সুযোগ কমে যায়, তাহলে প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। যে নীতিমালার আলোকে তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, পরবর্তী সময়ে সেই নীতিমালার পরিবর্তনের ফলে কেন তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হবে?’

শুধু চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের বিষয় নয়, প্রতি ট্রেডে একজন শিক্ষক নির্ধারণের সিদ্ধান্ত কারিগরি শিক্ষার মানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, শিক্ষকসংকট বাড়লে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মো. শামীম ইসলাম নামে আরেক প্রার্থী জানান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ক্লাস পিরিয়ড বিন্যাস অনুযায়ী তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক মিলিয়ে সপ্তাহে মোট ৩২টি ক্লাস নিতে হয়। একজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টরের পক্ষে এতগুলো ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, শিক্ষকস্বল্পতার কারণে একজন শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে পাঠদানের মান কমে যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং কারিগরি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটি, অসুস্থতা, অবসর কিংবা অন্যান্য কারণে কোনো পদ শূন্য হলে নতুন শিক্ষক নিয়োগে সময় লাগতে পারে। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় অন্য শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হলে শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুপারিশের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীরা বলছেন, সরকার যখন কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের মতে, প্রতি ট্রেডে দুটি পদের পরিবর্তে একটি পদ নির্ধারণ করলে একদিকে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ কমবে, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকস্বল্পতা আরও প্রকট হতে পারে।

এ কারণে আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে নীতিমালার সংশ্লিষ্ট অংশ পুনর্বিবেচনা করে প্রতি ট্রেডে দুজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর নিয়োগের আগের বিধান পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রার্থীদের প্রত্যাশা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কারিগরি শিক্ষার মান রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায়, ১৮তম নিবন্ধনে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও শত শত ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদপ্রার্থী আবারও নিয়োগবঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

 

মন্তব্য করুন

অননুমোদিত ক্যাম্পাস ও সার্টিফিকেট বাণিজ্য: ইউসেটের সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ ইউজিসির

অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা, ডোমেইন জটিলতা ও সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এবং সাময়িক অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউসেট) সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ইউজিসি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট ২১১ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার খোর্দ ঘোষপাড়ার সামাদবানু টাওয়ারে (প্লট নম্বর ২৯৮-২৯৯) সাত বছরের জন্য ইউসেট অস্থায়ীভাবে স্থাপন ও পরিচালনার সাময়িক অনুমতি দেয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শর্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে সরকার ও ইউজিসি অনুমোদিত ঠিকানায় বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ঠিকানা বা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।

ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইউসেটের অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা, ডোমেইন-সংক্রান্ত জটিলতা এবং সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাময়িক অনুমতির মেয়াদও শেষ হয়েছে। এসব কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী ইউসেটের ভর্তি ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির চলমান প্রোগ্রামে ইতোমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ইউজিসি থেকে শিগগিরই পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউজিসির সদস্য ও মুখপাত্র অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন  বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনেই সব বলে দেওয়া হয়েছে। তারা সরকার ও ইউজিসির কোনো নিয়ম মানেনি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা আর কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না।’

মন্তব্য করুন

মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব দেবেন ইউএনও ও ডিসি — শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সেই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা তার প্রতিনিধি পালন করবেন—এ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১৫ নভেম্বর তারিখে স্বাক্ষরিত অফিস আদেশটি প্রকাশ করে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-১৬৭৫৭/২০২৫–এর প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত ৮ সেপ্টেম্বর যে পরিপত্র (যেখানে সংশোধিত প্রবিধানমালা-২০২৪ অনুযায়ী নিয়মিত বা অ্যাডহক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল) জারি করেছিল, তা তিন মাসের জন্য স্থগিত রয়েছে।

এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেখানে প্রবিধানমালা-২০২৪-এর অনুচ্ছেদ ৬৯ অনুযায়ী ইউএনও (উপজেলা পর্যায়) এবং ডিসি বা তার প্রতিনিধি (জেলা পর্যায়) সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

অফিস আদেশে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ঘোষণা করেছিল যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বিলুপ্ত হবে। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ালে সংশ্লিষ্ট পরিপত্র তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়।

মন্তব্য করুন

প্রকাশ হলো প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষার ফল, পাসের হার ৪১.৯৩ শতাংশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টায় ফল প্রকাশ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সারাদেশের ৮২টি কেন্দ্রে ১০৮টি কলেজের নিয়মিত, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীসহ মোট ৫১ হাজার ৬৬৩ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৪১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

পরীক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলবিষয়ক ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল দেখতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা ভুলত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধন অথবা ফলাফল সম্পূর্ণ বাতিল করার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।

মন্তব্য করুন

নিজ জেলায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক বদলির আওতায় থাকবেন না: স্বয়ংক্রিয় বদলির উদ্যোগ হাতে নেওয়া হচ্ছে

শিক্ষামন্ত্রণালয়
শিক্ষামন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেই সকল শিক্ষক যারা নিজ জেলায় নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের বদলির আওতায় না আনার প্রস্তাব এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধিকাংশ কর্মকর্তা এ প্রস্তাবের পক্ষে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। ফলে নিজ জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার মাউশিতে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় এই প্রস্তাবটি আলোচিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান, মাউমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী, মাউশির উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী, সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) এস এম মোসলেম উদ্দিন, এবং টেলিটক ও ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা।

কর্মশালার আলোচনায় বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে নিজ জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পেলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। কর্মশালায় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, যারা নিজ জেলা থেকে বহু কিলোমিটার দূরে চাকরি করছেন, তাদের বদলি বেশি জরুরি। এছাড়া, এমপি বা মন্ত্রীর সুপারিশের কারণে অনিয়মের সম্ভাবনা থাকায় নিজ জেলায় নিয়োগপ্রাপ্তদের বদলির সুযোগ না দেওয়ার জন্য সবাই একমত হয়েছেন। শিগগিরই চূড়ান্ত বদলি নীতিমালা প্রকাশ করা হবে।

এক কর্মকর্তা বলেন, “কর্মশালায় টেলিটকের মাধ্যমে বদলি সফটওয়্যার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যার তৈরিতে কী ধরনের সহযোগিতা দরকার তা লিখিতভাবে জানানো হবে এবং সফটওয়্যারটি কীভাবে কাজ করবে, সেটিও নির্ধারণ করা হবে।”

জানা গেছে, এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থাকায় শিক্ষাপেশার উন্নয়নে বাধা তৈরি হয়। তাই সরকার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বদলির সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সফটওয়্যারের জটিলতার কারণে আগে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবারও আদালতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা বদলির দাবিতে রিট করলে কার্যক্রম স্থবির হয়েছিল।

কর্মশালার পর জানা গেছে, এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষকদের বদলির সুযোগ বাস্তবায়িত হবে এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বদলি শিগগিরই শুরু হবে।

মন্তব্য করুন

এক সপ্তাহের মধ্যে নবম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি চাকরিপ্রত্যাশীদের

নবম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পৃথকভাবে আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘৯ম শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যাশী বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে নতুন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকার ও চাকরিপ্রত্যাশী অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। নিয়মিত পরীক্ষা না হওয়ায় তাঁদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে এবং বয়স বেড়ে যাওয়ায় অনেকের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।

তাঁরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে চাকরিপ্রত্যাশীদের পাশাপাশি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মানববন্ধনে এক প্রার্থী বলেন, করোনাসহ নানা কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একের পর এক সংকট ও শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতায় অনেকের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে এবং চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে। এই ক্ষতি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁরা হারানো সময় ও সুযোগের ক্ষতিপূরণ চান। এ জন্য দ্রুত নবম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যাশীদের ভবিষ্যৎ ও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে অক্টোবর মাসের মধ্যেই ১৯তম বা নবম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

মানববন্ধন থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীরা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আলাদাভাবে আয়োজনের দাবিও জানান তাঁরা।

মন্তব্য করুন

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের ফল ১৬ অক্টোবর প্রকাশ হতে পারে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ১৬ অক্টোবর প্রকাশ করা হতে পারে। এই তারিখ চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠাবে। মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবে সায় দিলে ১৬ অক্টোবরই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "এইচএসসি পরীক্ষার ফল ১৬ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার প্রকাশের বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তারিখ রেখে মন্ত্রণালয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে ১৬ অক্টোবরই ফল প্রকাশ করা হবে।"

এর আগে, বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে ঢাকা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানিয়েছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) থাকায় ১৬ অক্টোবরের মধ্যেই এইচএসসি ফল প্রকাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেছিলেন যে ফল তৈরির কাজ প্রায় শেষ। ৯ অক্টোবরের বৈঠকে সব বোর্ড চেয়ারম্যানের মতামত নিয়ে ১২ থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যেই ফল প্রকাশের তারিখ ঠিক করা হবে। বোর্ড থেকে তিনটি তারিখ প্রস্তাব করা হবে, যার মধ্যে একটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। বড় কোনো সমস্যা না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেটিই চূড়ান্ত করবে।

উল্লেখ্য, এ বছর ২৬ জুন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিতের কারণে তা শেষ হয় ১৯ আগস্ট। নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা শেষের দিন থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হয়।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন। সারাদেশে ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য করুন
×