আজ প্রকাশ হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি কার্যক্রমের ২য় ও সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকা আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশ করা হবে। বিকেল ৪টায় SMS-এর মাধ্যমে এবং রাত ৯টা থেকে অনলাইনে এ ফলাফল দেখা যাবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে SMS-এর মাধ্যমে ফলাফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে nu athn Application ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। এছাড়া রাত ৯টা থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট www.nu.ac.bd/admissions-এ প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাবে।

ভর্তি ফরম পূরণ ও ফি জমা

২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের ৩১ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে চূড়ান্ত ভর্তি ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের পর এর প্রিন্ট কপি অথবা PDF কপি সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর ১ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ভর্তি ফরমসহ রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১ হাজার ১৩০ টাকা সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা দিতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চয়ন করবে।

দ্বৈত ভর্তি হলে বাতিল হবে ভর্তি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া কোনো শিক্ষার্থী ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে অন্য কোনো শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি থাকলে তাকে আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বাতিল করতে হবে।

পূর্ববর্তী ভর্তি বাতিলের পর ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি ফরম পূরণ করতে হবে। অন্যথায় দ্বৈত ভর্তির কারণে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল বলে গণ্য হবে।

এদিকে, ২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয় পরিবর্তনের কোনো সুযোগ থাকবে না।

তথ্য যাচাই করে ভর্তি নিশ্চয়নের নির্দেশ

কলেজ কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ভর্তি ফরমে প্রদর্শিত তথ্য ও ছবি সনদপত্র এবং নম্বরপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো তথ্য বা ছবিতে অসংগতি পাওয়া গেলে ভর্তি নিশ্চয়ন না করে বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

এছাড়া ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি জনপ্রতি ১ হাজার ১৩০ টাকা হারে ১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেকোনো সোনালী ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

শহীদ জেহাদ দিবস আজ, তাঁর আত্মত্যাগে গতি পায় এরশাদবিরোধী আন্দোলন

আজ ১০ অক্টোবর, শহীদ জেহাদ দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে রাজধানীর পল্টনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা নাজির উদ্দিন আহমেদ জেহাদ। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন নতুন গতি পায়। জেহাদের আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়। সেই ঐক্য ও ধারাবাহিক গণআন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতন ঘটে এরশাদ সরকারের।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সন্তান নাজির উদ্দিন আহমেদ জেহাদ ছিলেন সরকারি আকবর আলী কলেজ শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর এরশাদ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিতে সহকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি।

সেদিন সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ও বিরোধী দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পল্টন এলাকায় পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলিতে জেহাদ গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রসমাজসহ আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

অপরাজেয় বাংলায় সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য

জেহাদের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিয়ে আসার পর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে গড়ে ওঠে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারাও এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে ছাত্রনেতারা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন। এ সময় ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র মৈত্রী, বাকশাল ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতারাও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যুক্ত হন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এরশাদের শাসনের অবসান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর এই ঐক্য আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। মিছিল, সমাবেশ, ধর্মঘট ও বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ছাত্র আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপর থেকেই তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং ১৯৮৭ সালে নূর হোসেনের আত্মত্যাগ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে আছে।

১৯৯০ সালে এসে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোট, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোট এবং বামপন্থী দলগুলোর পাঁচদলীয় জোট এরশাদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়। পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান থাকলেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাদের দাবির মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়।

১০ অক্টোবর জেহাদের মৃত্যুর পর সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের তৎপরতা এই আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করে। ছাত্রসমাজের পাশাপাশি শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। ক্রমেই তা দেশব্যাপী গণপ্রতিরোধে রূপ নেয়।

ডা. মিলনের মৃত্যু ও এরশাদের পতন

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ডা. শামসুল আলম খান মিলন। তাঁর মৃত্যুর পর এরশাদবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকে।

এর আগে ১৯ নভেম্বর তিনটি রাজনৈতিক জোট গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি যৌথ রূপরেখা ঘোষণা করে। এতে এরশাদের পদত্যাগ, নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

অবশেষে গণআন্দোলনের মুখে ৪ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা দেন। ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। পরে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রায় নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

গণতন্ত্রের ইতিহাসে জেহাদের আত্মত্যাগ

শহীদ জেহাদ দিবস বাংলাদেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাঁর মৃত্যু ছাত্রসংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

জেহাদের আত্মত্যাগ, সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ভূমিকা, রাজনৈতিক জোটগুলোর আন্দোলন এবং ডা. মিলনের মৃত্যুর পর গণপ্রতিরোধের বিস্তার—সব মিলিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

প্রতিবছর ১০ অক্টোবর শহীদ জেহাদ দিবসে তাঁর আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়। দিনটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা, রাজনৈতিক ঐক্য এবং জনগণের অংশগ্রহণের ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেয়।

মন্তব্য করুন

পিংক বাসে যাত্রী বাড়লেও দৈনিক ৫০-৬০ হাজার টাকা ভর্তুকি

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চলতি বছরের আগস্টে চালু করা হয় বিশেষায়িত ‘পিংক বাস’ সার্ভিস। শুরুর দিকে যাত্রীসংখ্যা কম থাকলেও এক মাসের ব্যবধানে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল এবং অফিস সময়ের বাইরে যাত্রী কম থাকায় দিনের বড় একটি সময় বাসগুলো অলস পড়ে থাকছে। ফলে যাত্রী বাড়লেও এই সেবায় প্রতিদিন বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়। প্রথম দিকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৬০০ যাত্রী পরিবহন করা হলেও সেপ্টেম্বরের একই সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০-তে পৌঁছেছে।

তবে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ভাড়া আদায় হলেও এ সেবায় সরকারের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামের ১৩টি রুটে মোট ১৪টি পিংক বাস চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ১০টি রুটে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস, বগুড়ার দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং চট্টগ্রামের একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চলাচল করছে।

সার্ভিস চালুর পর ১৯ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০ দিন বাসগুলো চলেছে। এ সময়ে মোট ২৭২টি ট্রিপ পরিচালনা করা হয়। এসব ট্রিপে প্রায় ২১ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে যাত্রী ছিলেন প্রায় ১ হাজার ৪০ জন।

এই ২০ দিনে পিংক বাস থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে। বিপরীতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

অফিস সময়ের বাইরে কম যাত্রী

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৭টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বাসগুলো দিনের প্রথম ট্রিপে ছাড়ে। ঢাকায় বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার দিকে দ্বিতীয় দফায় বাস চলাচল করে। বগুড়া ও চট্টগ্রামে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৩টার দিকে বাস চলাচল করে।

ফলে দিনের বড় একটি সময় বাসগুলো ডিপোতে অবস্থান করছে। যাত্রী না থাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাসগুলোর ব্যবহারও কম হচ্ছে।

স্টপেজ ও সময়সূচি নিয়ে অভিযোগ

পিংক বাস চালুর সময় বিআরটিসি জানিয়েছিল, ঢাকার ১০৬টি, চট্টগ্রামের ১২টি এবং বগুড়ার ১৬টি নির্ধারিত স্পটে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা থাকবে।

তবে অনেক যাত্রীর অভিযোগ, অপেক্ষমাণ যাত্রী না থাকলে নির্ধারিত স্টপেজেও বাস থামছে না। ফলে রুটের অন্যান্য স্থান থেকে নারীরা ইচ্ছা থাকলেও বাসটিতে উঠতে পারছেন না।

এ ছাড়া বাস ছাড়ার সময় ও নির্দিষ্ট স্টপেজে পৌঁছানোর সময় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকায় অনেক নারী পিংক বাস ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

বিশেষায়িত বাস নিয়ে ভিন্নমত

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী পিংক বাস সার্ভিসকে অদূরদর্শী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত পরামর্শ ও জরিপ ছাড়াই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এটি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানও নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিসকে স্থায়ী সমাধান মনে করেন না। তাঁর মতে, শুধু বাসের রং ও নাম পরিবর্তন করে নারীবান্ধব পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং সব গণপরিবহনকেই নারী ও শিশুবান্ধব করতে হবে।

তবে বিআরটিসির ডিজিএম (অপারেশন) শুকদেব ঢালী বলেন, বর্তমানে লাভ-ক্ষতির হিসাবের চেয়ে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাত্র এক মাসে যাত্রীসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।

নারী চালকের সংখ্যা বেড়েছে

পিংক বাস পরিচালনায় প্রশিক্ষণ শেষে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০ জন নারী চালক গত বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিয়েছেন। এতে নারী চালকের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিআরটিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৃতীয় ধাপে নারী চালকদের প্রশিক্ষণ চলতি মাসেই শুরু হবে। ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার জন্যও তাঁদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আসছে আরও ১০০ আধুনিক বাস

পিংক বাস সার্ভিসকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বহরে আরও ১০০টি আধুনিক বাস যুক্ত করা হবে।

নতুন বাসগুলো তুলনামূলক ছোট আকারের হবে। এতে ওয়াই-ফাই, সিসি ক্যামেরা, এসি ও অন্যান্য আধুনিক সুবিধা থাকবে। কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন বাস যুক্ত হলে সেবার মান ও যাত্রীসংখ্যা দুটিই বাড়বে।

তবে বর্তমানে যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও প্রতিদিনের বড় অঙ্কের ভর্তুকি এবং দিনের একটি বড় সময় বাস অলস পড়ে থাকার কারণে পিংক বাস সার্ভিসকে আর্থিকভাবে টেকসই করতে কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

২৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, ছুটি থাকবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

 

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে রবিউস সানি মাস। সে হিসাবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার পালিত হবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, এমপি।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম রবিউস সানি মাসের ১১তম দিন। ‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ওফাত দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন।

ছুটি থাকবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নেই। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় ২৪ সেপ্টেম্বর এ উপলক্ষে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কার্যকর হবে। চাঁদ দেখা যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি থাকবে।

মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ উপলক্ষে ছুটি থাকবে। একইভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায়ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি রয়েছে। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বর ছুটি উল্লেখ করা হলেও তা চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি কার্যকর হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কি বন্ধ থাকবে?

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র এক নয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এদিন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখে, আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত কার্যক্রম চলতে পারে। তাই ২৩ সেপ্টেম্বর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কী?

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মূলত রবিউস সানি মাসের ১১তম দিনকে বোঝায়। ‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ ১১। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে এ দিনটি পালন করা হয়।

হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদের হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমী (রহ.)-এর কাছে মারেফাতের জ্ঞান অর্জন করেন।

মুসলিম সমাজে হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তাঁর ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর রবিউস সানি মাসের ১১তম দিনে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হয়।

মন্তব্য করুন

তাকভর্তি বই, খালি চেয়ার-টেবিল; পাঠকহীন গণগ্রন্থাগার

তাকজুড়ে সারি সারি বই। পাশে সাজানো চেয়ার-টেবিল। প্রতিদিনের সংবাদপত্রও আসে। পরিচ্ছন্ন ভবন, আলো-বাতাস আর পড়ার উপযোগী পরিবেশ—সবই আছে। শুধু নেই পাঠক। দিনের পর দিন বইয়ের তাকগুলো নীরব পড়ে থাকে, খালি পড়ে থাকে পাঠকের জন্য রাখা চেয়ার-টেবিল।

মাঝেমধ্যে দু-একজন শিক্ষার্থী এলেই পাঠাগারে পাঠকের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। একসময় যেখানে বই পড়তে মানুষের আনাগোনা ছিল, সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের বিস্তারে বইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যেন ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে।

এমন চিত্র দেখা গেছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারে। প্রায় এক দশক আগে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও দুই পাঠাগারেই এখন পাঠকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। বকশীগঞ্জে মাঝেমধ্যে কিছু শিক্ষার্থী এলেও দেওয়ানগঞ্জের পাঠাগারে নিয়মিত পাঠক পাওয়া কঠিন। অথচ দুই পাঠাগার মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার বই।

ভবন আছে, বই আছে, নেই পাঠকের ভিড়

দেওয়ানগঞ্জ শহরের অদূরে এ কে মেমোরিয়াল কলেজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে আছে সরকারি গণগ্রন্থাগারের দোতলা ভবন। নিচতলায় প্রায় ২০০ মানুষের ধারণক্ষমতার মিলনায়তন এবং দ্বিতীয় তলায় মূল পাঠাগার।

দৃষ্টিনন্দন ভবনটির ভেতরেও রয়েছে পাঠবান্ধব পরিবেশ। বিভিন্ন বিষয়ের বইয়ে সাজানো একাধিক তাক, কাঠের চেয়ার-টেবিল এবং দৈনিক সংবাদপত্র পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এসব আয়োজনের সঙ্গে পাঠকের উপস্থিতির মিল খুব একটা নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাঠাগারের ভেতরে নীরবতা। বেশির ভাগ চেয়ার-টেবিলই খালি। তাকভর্তি বই থাকলেও সেগুলো পড়তে আসা মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যেও পাঠাগারটি নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি। কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে হওয়ায় কেউ কেউ এটিকে কলেজের নিজস্ব গ্রন্থাগার মনে করেন। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত সরকারি গণগ্রন্থাগার হওয়া সত্ত্বেও অনেকে সেখানে আসেন না।

বকশীগঞ্জে পাঠক আছেন, নিয়মিত নন

বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরকারি গণগ্রন্থাগারটিও দোতলা। পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন ভবনের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে মূল পাঠাগার। বিভিন্ন ধরনের বইয়ের পাশাপাশি পাঠকদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও সংবাদপত্র পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

সরেজমিনে সেখানে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখা যায়। কেউ বই পড়ছিলেন, কেউ আবার নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। তবে পাঠাগারের আকার ও সুযোগ-সুবিধার তুলনায় পাঠকের সংখ্যা ছিল খুবই কম।

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, পাঠাগারের পরিবেশ ভালো এবং বিভিন্ন ধরনের বইও রয়েছে। তবে নিয়মিত পাঠকের সংখ্যা কম। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজেই তথ্য পাওয়া যায়। ফলে বই নিয়ে পাঠাগারে বসার অভ্যাস আগের তুলনায় কমেছে।

প্রায় ২০ হাজার বই, ব্যবহার কতটা?

গণগ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ২০১৩ সালে দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারের নির্মাণকাজ শেষ করে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে ২০১৫ সালে পাঠাগার দুটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

দুই পাঠাগার মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার বই। সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, ধর্ম, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধসহ নানা বিষয়ের বই রয়েছে সেখানে। পাঠকদের জন্য রাখা হয় দৈনিক সংবাদপত্রও।

অর্থাৎ বইয়ের অভাব নেই, নেই বসার জায়গার সংকটও। অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও বড় সমস্যা নয়। কিন্তু পাঠাগারের মূল প্রাণ—পাঠক—সেই তুলনায় অনেকটাই অনুপস্থিত।

বদলে গেছে পাঠাভ্যাস

একসময় শিক্ষার্থী ও তরুণদের অবসর কাটানোর অন্যতম জায়গা ছিল পাঠাগার। গল্প, উপন্যাস, কবিতা কিংবা সাধারণ জ্ঞানের বই পড়তে অনেকে নিয়মিত পাঠাগারে যেতেন। এখন সেই জায়গার বড় অংশ দখল করেছে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন বিনোদন।

কোনো তথ্য জানতে বইয়ের পাতা উল্টানোর বদলে কয়েক সেকেন্ডেই ইন্টারনেট থেকে উত্তর পাওয়া যায়। অবসর সময়েও বইয়ের বদলে ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সময় কাটাচ্ছেন অনেকে।

ফলে পাঠাগারের দরজা খোলা থাকলেও পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে না। আবার শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের পড়াশোনাও সীমাবদ্ধ থাকছে পরীক্ষাকেন্দ্রিক বইয়ের মধ্যে।

শুধু ভবন বানালেই কি পাঠক ফিরবে?

দুই পাঠাগারের চিত্র বলছে, অবকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ থাকলেও পাঠক তৈরির জন্য নিয়মিত কার্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে। পাঠক ফেরাতে বইপাঠ কর্মসূচি, পাঠচক্র, সাহিত্য আড্ডা, কুইজ, বিতর্ক ও শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা আয়োজন করা যেতে পারে।

স্কুল-কলেজের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাগারে আনার উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী বই সংগ্রহ, বই পরিচিতি অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক আয়োজন চালু করা যেতে পারে।

কর্মজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পাঠাগারের কার্যক্রমের সময় বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু নির্দিষ্ট অফিস সময়ের মধ্যে পাঠাগার খোলা রাখলে কর্মজীবী মানুষের একটি বড় অংশ সেখানে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

জনবল সংকটেও থমকে কার্যক্রম

দুই পাঠাগারের দায়িত্ব পালন করছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. মোখলেছুর রহমান। বকশীগঞ্জের পাশাপাশি তিনি দেওয়ানগঞ্জ গণগ্রন্থাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন।

তথ্য অনুযায়ী, বকশীগঞ্জ গণগ্রন্থাগারে তিনজন এবং দেওয়ানগঞ্জে মাত্র দুজন দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে পাঠক তৈরির জন্য আলাদা উদ্যোগ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, গ্রন্থাগারে পাঠক না থাকা দুঃখজনক বাস্তবতা। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তথ্য পাওয়া সহজ হয়েছে। তবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পাঠাভ্যাস বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। চাকরির পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনার বাইরে জ্ঞান, সাহিত্য ও মননচর্চার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

জামালপুর সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল হাই আলহাদী বলেন, একসময় পাড়া-মহল্লায় পাঠাগার গড়ে তোলার যে সংস্কৃতি ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতায় শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। কেন পাঠক তৈরি হচ্ছে না, তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।

বকশীগঞ্জ উপজেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, দুই পাঠাগারের অন্যতম সমস্যা জনবল। বকশীগঞ্জে তিনজন এবং দেওয়ানগঞ্জে দুজন দায়িত্ব পালন করছেন। দেওয়ানগঞ্জের পাঠাগারটি কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে হওয়ায় অনেকে এটিকে কলেজের গ্রন্থাগার মনে করেন। এ কারণে সেখানে সাধারণ পাঠকের উপস্থিতি খুব কম। পাঠক বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচারণাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

জাতীয় কবিতা পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, মানুষকে পাঠাগারে ফেরাতে সামাজিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। অফিস সময়ের পর পাঠাগার বন্ধ থাকলে চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সেখানে যাওয়ার সুযোগ পান না। পাঠক আকৃষ্ট করতে বইপাঠ কর্মসূচি, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের আয়োজন করা যেতে পারে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, পাঠাগারের প্রচারে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠাগার সম্পর্কে জানানো এবং বই পড়তে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রচারের মাধ্যমে পাঠকরা আবারও পাঠাগারমুখী হবেন বলে আশা করেন তিনি।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, পাঠাগারে পাঠক বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে পাঠাগারমুখী করতে স্কুল-কলেজে প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, পাঠাগারে পাঠক বাড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন, যাতে পাঠাগারগুলোতে পাঠকের সংখ্যা বাড়ে।

সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়—তাকভর্তি বই আর দৃষ্টিনন্দন ভবনই কি একটি পাঠাগারের সাফল্যের মাপকাঠি? নাকি সেই বই মানুষের হাতে পৌঁছানো, পাঠের অভ্যাস তৈরি করা এবং নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই একটি গণগ্রন্থাগারের প্রকৃত সার্থকতা?

মন্তব্য করুন

ইলেক্ট্রনের অতি দ্রুত গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি উদ্ভাবন, পদার্থে নোবেল ৩ বিজ্ঞানীর

পদার্থের ইলেক্ট্রনের গতিবিদ্যা নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন পিয়া অগোস্টিনি, ফেরেঙ্ক ক্রুসজ এবং অ্যান ল’হুইলার।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সুইডেনের রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস পদার্থবিজ্ঞানে এ বছরের নোবেলজয়ী হিসেবে তাঁদের নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন বিজ্ঞানী আলোর অত্যন্ত ক্ষুদ্র সময়ের স্পন্দন তৈরি করার একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেক্ট্রনের গতিবিধি ও শক্তির পরিবর্তন অত্যন্ত দ্রুত সময়ে পরিমাপ করা সম্ভব।

অ্যাটোসেকেন্ড পর্যায়ের এসব আলোক স্পন্দন ব্যবহার করে পরমাণু ও অণুর ভেতরে ইলেক্ট্রনের আচরণ পর্যবেক্ষণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে এতদিন যে অতি ক্ষুদ্র ও দ্রুতগতির ইলেক্ট্রন জগত সরাসরি অনুসন্ধান করা কঠিন ছিল, সেটি গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীদের হাতে নতুন একটি কার্যকর হাতিয়ার এসেছে।

নোবেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অগোস্টিনি, ক্রুসজ ও ল’হুইলিয়ারের আবিষ্কার ইলেক্ট্রনের জগৎ অনুসন্ধানে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। তাঁদের গবেষণার মাধ্যমে ইলেক্ট্রন কীভাবে পদার্থের ভেতরে চলে এবং কীভাবে তার শক্তির পরিবর্তন ঘটে, তা আরও নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

যেভাবে ঘোষণা হচ্ছে নোবেলজয়ীদের নাম

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা শুরু হয়েছে ২ অক্টোবর থেকে। ধাপে ধাপে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে।

সূচি অনুযায়ী, ২ অক্টোবর চিকিৎসাবিজ্ঞানে, ৩ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞানে, ৪ অক্টোবর রসায়নে, ৫ অক্টোবর সাহিত্যে এবং ৬ অক্টোবর শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর দুই দিনের বিরতি দিয়ে ৯ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা।

মন্তব্য করুন

ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়ায় বাবার দাফনে আপত্তি মেয়ের, গাইবান্ধায় পারিবারিক বিরোধ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জীবদ্দশায় ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর পর বাবার জানাজা ও দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানিয়েছেন মেয়ে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা মীমাংসার উদ্যোগ নেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন বেপারি (৭০)। তাঁর ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে প্রায় চার বিঘা জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে নাজির উদ্দিন ছেলের নামে ওই জমি লিখে দেন। তবে মেয়ে হালিমা বেগম (৫০) জমি না পাওয়ায় এ নিয়ে তাঁর ক্ষোভ ছিল বলে জানান স্থানীয় ব্যক্তিরা। এর মধ্যে রোববার দুপুর ২টার দিকে নাজির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা। এতে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় বোন হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন ইদ্রিস আলী। তবে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

হালিমা বেগম বলেন, ‘আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই।’ বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত পারিবারিক বিরোধের সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম মিষ্টি বলেন, নাজির উদ্দিনের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে সম্পত্তির বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা চলছে। বিরোধের সমাধান করে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন করাই তাঁদের প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক এ বিরোধের সমাধানে স্থানীয়রা চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য করুন
×