রাবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থাপনা, দরজা-জানালা ঘুরে দেখেন তারা। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

তিনি জানান, সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সময় ভাঙচুর হওয়া দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান আরও বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা দুই বিভাগের শিক্ষার্থী, সহকারী প্রক্টর ও প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনায় জড়িত ও দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। রবিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন।

মন্তব্য করুন

উখিয়ায় নিজ ঘরে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত লাশ, কী কারণে মৃত্যু জানে না পরিবার

কক্সবাজারের উখিয়ায় মোহাম্মদ হানিফ (২১) নামে এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে তার পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের চাকবৈঠা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বসতঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সকাল ১১টার দিকে ঘরের ভেতর হানিফকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোহাম্মদ হানিফ চাকবৈঠা এলাকার মো. আলী আহমদের ছেলে। তিনি কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করেছেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তবে কী কারণে হানিফের মৃত্যু হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। কলেজছাত্রের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মন্তব্য করুন

হজের তিন প্যাকেজ ঘোষণা, কমছে খরচ

আগামী বছরের হজযাত্রীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

এবারের হজ পালনের খরচ সামান্য কমছে। ২০২৬ সালের হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৩-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। প্যাকেজ ২-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা এবং প্যাকেজ ১-এর মূল্য ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা।

প্রথম প্যাকেজের হজ পালনকারীরা পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে ৭০০ মিটারের মধ্যে থাকবেন। এ ছাড়া দ্বিতীয় প্যাকেজের হাজ পালনকারীরা মসজিদুল হারামের ১ দশমিক ৭ কিলোমিটারের মধ্যে এবং তৃতীয় প্যাকেজের হজ পালনকারীরা আজিজিয়া এলাকার মধ্যে থাকবেন।

ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, এ বছর হজযাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান ভাড়াও কমানো হয়েছে। গত বছর ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা, এবার তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৭০ বা ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ হজে যেতে চাইলে ৫০ বছরের নিচে একজনকে সাথে নিতে হবে, সংক্রামক রোগ আক্রান্ত কেউ হজ পালন করতে যেতে পারবেন না।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে-২০২৬ পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ জুলাই শুরু হওয়া হজ নিবন্ধন শেষ হবে ১২ অক্টোবর।

মন্তব্য করুন

ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়ায় বাবার দাফনে আপত্তি মেয়ের, গাইবান্ধায় পারিবারিক বিরোধ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জীবদ্দশায় ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর পর বাবার জানাজা ও দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানিয়েছেন মেয়ে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা মীমাংসার উদ্যোগ নেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন বেপারি (৭০)। তাঁর ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে প্রায় চার বিঘা জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে নাজির উদ্দিন ছেলের নামে ওই জমি লিখে দেন। তবে মেয়ে হালিমা বেগম (৫০) জমি না পাওয়ায় এ নিয়ে তাঁর ক্ষোভ ছিল বলে জানান স্থানীয় ব্যক্তিরা। এর মধ্যে রোববার দুপুর ২টার দিকে নাজির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা। এতে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় বোন হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন ইদ্রিস আলী। তবে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

হালিমা বেগম বলেন, ‘আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই।’ বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত পারিবারিক বিরোধের সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম মিষ্টি বলেন, নাজির উদ্দিনের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে সম্পত্তির বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা চলছে। বিরোধের সমাধান করে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন করাই তাঁদের প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক এ বিরোধের সমাধানে স্থানীয়রা চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য করুন

ধাতু-জৈব কাঠামো উদ্ভাবনে রসায়নে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

ধাতু-জৈব কাঠামো বা মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (MOF) উদ্ভাবনের জন্য চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম. ইয়াগি।

বুধবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ বছরের রসায়নে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটির মতে, তিন বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত বিশেষ ধরনের আণবিক কাঠামোর ভেতর দিয়ে গ্যাস ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে। ফলে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এ উপাদানের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা।

যে কারণে নোবেল

ধাতু-জৈব কাঠামো এমন এক ধরনের ছিদ্রযুক্ত উপাদান, যার ভেতরে অণু বা গ্যাস আটকে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা করার সুযোগ রয়েছে। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করার মতো কাজে এর ব্যবহার সম্ভব।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান হেইনার লিঙ্কে বলেন, ধাতু-জৈব কাঠামো ‘অসীম সম্ভাবনার’ দ্বার খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের পছন্দমতো উপাদান নকশা করতে পারছেন।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি পানিতে থাকা ক্ষতিকর পিএফএএস আলাদা করা, পরিবেশে জমে থাকা ওষুধের অবশেষ ভেঙে ফেলা এবং শুষ্ক অঞ্চলের বাতাস থেকে পানি সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

তিন নোবেলজয়ী

জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়ার জন্ম ১৯৫১ সালে কিয়োটো শহরে। ১৯৭৯ সালে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রিচার্ড রবসনের জন্ম ১৯৩৭ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসবার্নে। ১৯৬২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।

অন্যদিকে ওমর এম. ইয়াগির জন্ম ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন তিনি। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

পুরস্কার হিসেবে যা পাবেন

এ বছর নোবেলজয়ীরা পাবেন একটি নোবেল মেডেল, একটি সনদপত্র এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। কোনো বিভাগে একাধিক ব্যক্তি পুরস্কার পেলে অর্থের পরিমাণ সাধারণত তাঁদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়।

প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা শুরু হয়। চলতি বছরের ঘোষণার সূচি অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর চিকিৎসাবিজ্ঞান, ৭ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞান, ৮ অক্টোবর রসায়ন, ৯ অক্টোবর সাহিত্য এবং ১০ অক্টোবর শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা।

মন্তব্য করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই স্কুল পর্যায়ের। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সার্ভেইল্যান্সে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে আঁচল ফাউন্ডেশন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৩। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী—১৯০ জন, যা মোট সংখ্যার ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া কলেজ শিক্ষার্থী ৯২ জন (২২ দশমিক ৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৭৭ জন (১৯ দশমিক ১ শতাংশ) এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৪৪ জন (১০ দশমিক ৯ শতাংশ)।

অর্থাৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ৩১০টি ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৩২ ও ৫১৩।

তবে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব তথ্য মূলত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যার ঘটনাগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি কোনো সরকারি জাতীয় মৃত্যুনিবন্ধন বা সরকারি জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান নয়। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে।

সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

তাকভর্তি বই, খালি চেয়ার-টেবিল; পাঠকহীন গণগ্রন্থাগার

তাকজুড়ে সারি সারি বই। পাশে সাজানো চেয়ার-টেবিল। প্রতিদিনের সংবাদপত্রও আসে। পরিচ্ছন্ন ভবন, আলো-বাতাস আর পড়ার উপযোগী পরিবেশ—সবই আছে। শুধু নেই পাঠক। দিনের পর দিন বইয়ের তাকগুলো নীরব পড়ে থাকে, খালি পড়ে থাকে পাঠকের জন্য রাখা চেয়ার-টেবিল।

মাঝেমধ্যে দু-একজন শিক্ষার্থী এলেই পাঠাগারে পাঠকের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। একসময় যেখানে বই পড়তে মানুষের আনাগোনা ছিল, সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের বিস্তারে বইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যেন ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে।

এমন চিত্র দেখা গেছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারে। প্রায় এক দশক আগে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও দুই পাঠাগারেই এখন পাঠকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। বকশীগঞ্জে মাঝেমধ্যে কিছু শিক্ষার্থী এলেও দেওয়ানগঞ্জের পাঠাগারে নিয়মিত পাঠক পাওয়া কঠিন। অথচ দুই পাঠাগার মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার বই।

ভবন আছে, বই আছে, নেই পাঠকের ভিড়

দেওয়ানগঞ্জ শহরের অদূরে এ কে মেমোরিয়াল কলেজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে আছে সরকারি গণগ্রন্থাগারের দোতলা ভবন। নিচতলায় প্রায় ২০০ মানুষের ধারণক্ষমতার মিলনায়তন এবং দ্বিতীয় তলায় মূল পাঠাগার।

দৃষ্টিনন্দন ভবনটির ভেতরেও রয়েছে পাঠবান্ধব পরিবেশ। বিভিন্ন বিষয়ের বইয়ে সাজানো একাধিক তাক, কাঠের চেয়ার-টেবিল এবং দৈনিক সংবাদপত্র পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এসব আয়োজনের সঙ্গে পাঠকের উপস্থিতির মিল খুব একটা নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাঠাগারের ভেতরে নীরবতা। বেশির ভাগ চেয়ার-টেবিলই খালি। তাকভর্তি বই থাকলেও সেগুলো পড়তে আসা মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যেও পাঠাগারটি নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি। কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে হওয়ায় কেউ কেউ এটিকে কলেজের নিজস্ব গ্রন্থাগার মনে করেন। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত সরকারি গণগ্রন্থাগার হওয়া সত্ত্বেও অনেকে সেখানে আসেন না।

বকশীগঞ্জে পাঠক আছেন, নিয়মিত নন

বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরকারি গণগ্রন্থাগারটিও দোতলা। পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন ভবনের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে মূল পাঠাগার। বিভিন্ন ধরনের বইয়ের পাশাপাশি পাঠকদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও সংবাদপত্র পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

সরেজমিনে সেখানে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখা যায়। কেউ বই পড়ছিলেন, কেউ আবার নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। তবে পাঠাগারের আকার ও সুযোগ-সুবিধার তুলনায় পাঠকের সংখ্যা ছিল খুবই কম।

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, পাঠাগারের পরিবেশ ভালো এবং বিভিন্ন ধরনের বইও রয়েছে। তবে নিয়মিত পাঠকের সংখ্যা কম। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজেই তথ্য পাওয়া যায়। ফলে বই নিয়ে পাঠাগারে বসার অভ্যাস আগের তুলনায় কমেছে।

প্রায় ২০ হাজার বই, ব্যবহার কতটা?

গণগ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ২০১৩ সালে দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারের নির্মাণকাজ শেষ করে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে ২০১৫ সালে পাঠাগার দুটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

দুই পাঠাগার মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার বই। সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, ধর্ম, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধসহ নানা বিষয়ের বই রয়েছে সেখানে। পাঠকদের জন্য রাখা হয় দৈনিক সংবাদপত্রও।

অর্থাৎ বইয়ের অভাব নেই, নেই বসার জায়গার সংকটও। অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও বড় সমস্যা নয়। কিন্তু পাঠাগারের মূল প্রাণ—পাঠক—সেই তুলনায় অনেকটাই অনুপস্থিত।

বদলে গেছে পাঠাভ্যাস

একসময় শিক্ষার্থী ও তরুণদের অবসর কাটানোর অন্যতম জায়গা ছিল পাঠাগার। গল্প, উপন্যাস, কবিতা কিংবা সাধারণ জ্ঞানের বই পড়তে অনেকে নিয়মিত পাঠাগারে যেতেন। এখন সেই জায়গার বড় অংশ দখল করেছে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন বিনোদন।

কোনো তথ্য জানতে বইয়ের পাতা উল্টানোর বদলে কয়েক সেকেন্ডেই ইন্টারনেট থেকে উত্তর পাওয়া যায়। অবসর সময়েও বইয়ের বদলে ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সময় কাটাচ্ছেন অনেকে।

ফলে পাঠাগারের দরজা খোলা থাকলেও পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে না। আবার শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের পড়াশোনাও সীমাবদ্ধ থাকছে পরীক্ষাকেন্দ্রিক বইয়ের মধ্যে।

শুধু ভবন বানালেই কি পাঠক ফিরবে?

দুই পাঠাগারের চিত্র বলছে, অবকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ থাকলেও পাঠক তৈরির জন্য নিয়মিত কার্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে। পাঠক ফেরাতে বইপাঠ কর্মসূচি, পাঠচক্র, সাহিত্য আড্ডা, কুইজ, বিতর্ক ও শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা আয়োজন করা যেতে পারে।

স্কুল-কলেজের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাগারে আনার উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী বই সংগ্রহ, বই পরিচিতি অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক আয়োজন চালু করা যেতে পারে।

কর্মজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পাঠাগারের কার্যক্রমের সময় বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু নির্দিষ্ট অফিস সময়ের মধ্যে পাঠাগার খোলা রাখলে কর্মজীবী মানুষের একটি বড় অংশ সেখানে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

জনবল সংকটেও থমকে কার্যক্রম

দুই পাঠাগারের দায়িত্ব পালন করছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. মোখলেছুর রহমান। বকশীগঞ্জের পাশাপাশি তিনি দেওয়ানগঞ্জ গণগ্রন্থাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন।

তথ্য অনুযায়ী, বকশীগঞ্জ গণগ্রন্থাগারে তিনজন এবং দেওয়ানগঞ্জে মাত্র দুজন দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে পাঠক তৈরির জন্য আলাদা উদ্যোগ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, গ্রন্থাগারে পাঠক না থাকা দুঃখজনক বাস্তবতা। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তথ্য পাওয়া সহজ হয়েছে। তবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পাঠাভ্যাস বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। চাকরির পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনার বাইরে জ্ঞান, সাহিত্য ও মননচর্চার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

জামালপুর সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল হাই আলহাদী বলেন, একসময় পাড়া-মহল্লায় পাঠাগার গড়ে তোলার যে সংস্কৃতি ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতায় শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। কেন পাঠক তৈরি হচ্ছে না, তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।

বকশীগঞ্জ উপজেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, দুই পাঠাগারের অন্যতম সমস্যা জনবল। বকশীগঞ্জে তিনজন এবং দেওয়ানগঞ্জে দুজন দায়িত্ব পালন করছেন। দেওয়ানগঞ্জের পাঠাগারটি কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে হওয়ায় অনেকে এটিকে কলেজের গ্রন্থাগার মনে করেন। এ কারণে সেখানে সাধারণ পাঠকের উপস্থিতি খুব কম। পাঠক বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচারণাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

জাতীয় কবিতা পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, মানুষকে পাঠাগারে ফেরাতে সামাজিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। অফিস সময়ের পর পাঠাগার বন্ধ থাকলে চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সেখানে যাওয়ার সুযোগ পান না। পাঠক আকৃষ্ট করতে বইপাঠ কর্মসূচি, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের আয়োজন করা যেতে পারে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, পাঠাগারের প্রচারে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠাগার সম্পর্কে জানানো এবং বই পড়তে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রচারের মাধ্যমে পাঠকরা আবারও পাঠাগারমুখী হবেন বলে আশা করেন তিনি।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, পাঠাগারে পাঠক বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে পাঠাগারমুখী করতে স্কুল-কলেজে প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, পাঠাগারে পাঠক বাড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন, যাতে পাঠাগারগুলোতে পাঠকের সংখ্যা বাড়ে।

সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়—তাকভর্তি বই আর দৃষ্টিনন্দন ভবনই কি একটি পাঠাগারের সাফল্যের মাপকাঠি? নাকি সেই বই মানুষের হাতে পৌঁছানো, পাঠের অভ্যাস তৈরি করা এবং নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই একটি গণগ্রন্থাগারের প্রকৃত সার্থকতা?

মন্তব্য করুন
×