ইতালি পাঠানোর কথা বলে মালয়েশিয়ায় পাচার, ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ; পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ২

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং তার কাছ থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পিবিআই নরসিংদী জেলা কার্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার ভোরে পৃথক অভিযান চালিয়ে গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিতারকুল এলাকার নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে সুবোধ চন্দ্র দাস (৩১) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার ভেলানগর এলাকার স্বদেশ চন্দ্র দাসের ছেলে শিমুল চন্দ্র দাস (৩৭)। পিবিআই জানিয়েছে, সুবোধ এই চক্রের মূল হোতা এবং শিমুল তার প্রধান সহযোগী।

পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী আব্দুর রউফকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে চুক্তিতে রাজি করায় চক্রটি। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করা হয়।

পরে ২০২৫ সালের ৪ জুন ইতালি না পাঠিয়ে জাল কাগজপত্র ও ভুয়া ভিসার মাধ্যমে রউফকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের সময় ভিসা জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

দেশে ফিরে বিষয়টি আসামিদের জানালে তারা ভুল স্বীকার করে আবারও ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয় এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। ইতালি যাওয়ার আশায় রউফ দফায় দফায় তাদের হাতে মোট ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা তুলে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ইতালি পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় চক্রটি। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিও দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় আব্দুর রউফ বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনসহ পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। উপপরিদর্শক মো. ইয়াসিনকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা করা হয়।

পরে তদন্তকারী দলের প্রধান পুলিশ পরিদর্শক আবুল খায়েরের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গাজীপুর থেকে চক্রের মূল হোতা সুবোধকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে নরসিংদীর টাউয়াদী এলাকা থেকে সহযোগী শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তারা মানবপাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’, দেওয়া হবে ট্যাব

এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সদ্য এসএসসি পাস করা ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উৎসাহিত করতেই এসব উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীই আমাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ যেন আরও বেড়ে যায়, তারা যেন লেখাপড়া ঠিকমতো করে। সেজন্যই তিনি এই ১ লাখ ১৬ হাজার ট্যাব দেওয়ার জন্য চিন্তা করেন।’

মেয়েদের জন্য ‘পিংকি মোটরসাইকেল’ দেওয়ার উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণিতে মেয়েদের শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে তাদের উপহার দেওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। সেগুলোতে প্রতিটি ক্লাসে মেয়েদের আরও শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদের জন্য একটা গিফটের কথা আজকে বলবেন। আর সেটি হচ্ছে “পিংকি মোটরসাইকেল” তাদেরকে দেওয়ার জন্য।’

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান ড. মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বিত হচ্ছে, এটা আমাদের জটিলতায়। এই বিষয়গুলো আজকের এজেন্ডায় রয়েছে। এই বিশাল এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বাজেট বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, তাদের পরীক্ষা আয়োজন এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন করা যায়—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণে শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি এবার বাজেট অ্যালোকেশন করেছেন জিডিপির ২ শতাংশ এবং এটাকে তিনি উন্নীত করবেন আপ টু ৫ শতাংশ।’

ড. মিলনের দাবি, শিক্ষায় এ ধরনের বড় পরিসরের বিনিয়োগ এর আগে কোনো সরকার করেনি।

মন্তব্য করুন

মালবাহী ট্রেন বাড়িয়ে রেলের আয় বাড়ানোর নির্দেশ সংসদীয় কমিটির

বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বাড়াতে যাত্রীবাহী ক্যারেজের তুলনায় মালবাহী ক্যারেজের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কার্গো রপ্তানির মাধ্যমে রেলের আয় বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব নির্দেশনা ও সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার, এমপি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে রেল খাতকে বর্তমান লোকসান থেকে লাভজনক খাতে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

কমিটির বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় রেল পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট তথ্য কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়নের অগ্রগতিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান ডিজিটাল সেবা, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী লোকোমোটিভ তৈরি ও সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং প্রস্তাবিত পঞ্চগড়-কক্সবাজার রেলপথের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের পাশাপাশি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতি তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করা হয়। আহতদের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

শেখ হাসিনা–আসাদুজ্জামান: মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রধান ভিত্তিগুলো

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রথমবারের মতো রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ ও নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় বিভিন্ন ঘটনায় সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে নিহত ও আহত আন্দোলনকারীদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশসহ রাষ্ট্রের অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে নূর তাপসের এবং পরে হাসানুল হক ইনুর কথোপকথনে উঠে আসে যে, আন্দোলনরত ছাত্র–জনতার অবস্থান শনাক্ত করার জন্য তিনি ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং আন্দোলনকারীদের দমন করতে হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার আদেশ প্রদান করেন। তাঁর এই নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অধীনস্থরা কোনো প্রকার বাধা দেয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। একই দিনে আশুলিয়ায়ও ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যা করে তাঁদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

এই তিনটি ঘটনা—যা জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত—মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং এই অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ সোমবার এ রায় প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এটাই প্রথম কোনো মামলার রায়। একই মামলার আরেক আসামি, সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বাংলাদেশে অবস্থিত সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আহতদের ক্ষেত্রেও তাঁদের আঘাতের মাত্রা ও ক্ষতির ভিত্তিতে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারকে বলা হয়েছে।

মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়, যার প্রত্যেকটিতে একাধিক ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সার্বিকভাবে এই পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে ছিল—উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; আন্দোলনকারীদের নির্মূল করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা; এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলা।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; একই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের ফাঁসি দেওয়ার হুমকি প্রদান; এবং উসকানি ও আদেশ দেওয়ার পর অধীনস্থদের মাধ্যমে এসব অপরাধ সংঘটন রোধে কোনো উদ্যোগ না নেওয়া, যার ফলশ্রুতিতে রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

যে অভিযোগে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড

প্রথম অভিযোগের অধীনে থাকা তিনটি ঘটনায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত বলেন—প্রথমটি উসকানি, দ্বিতীয়টি হত্যার নির্দেশ এবং তৃতীয়টি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধে নিষ্ক্রিয়তা এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের বিধান অনুযায়ী এগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই তিন ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁকে স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

রায়ের ভাষ্যে বলা হয়, একাধিক ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে যে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের হত্যার উদ্দেশ্যে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। চারখাঁরপুলের ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার ঘটনা তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়নের ফল বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। একইভাবে আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যা করে তাঁদের লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও তাঁর একই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ। এই তিনটি ঘটনায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষে উপস্থিত অনেকেই হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সবাইকে আদালতের শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তাঁদের উচ্ছ্বাস আদালতের বাইরে প্রকাশ করলে তা আরও শোভনীয় হবে।

যে অভিযোগে আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড

রায়ে বলা হয়, আসাদুজ্জামান খান কামাল মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেছেন এবং নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধে কিংবা প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন। চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার ঘটনায় তাঁর দায় প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে আশুলিয়ার ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার ক্ষেত্রেও তাঁর সহযোগিতা ও ব্যর্থতা উল্লেখ করা হয়। এই দুই ঘটনার মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

রায়ে বলা হয়, মামলার আরেক আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন তদন্তের সময় সত্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ৩৬ দিনের আন্দোলনের প্রায় সব ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং বস্তুগত প্রমাণ উপস্থাপনে সহায়তা করেন। তাঁর স্বীকারোক্তি ও সহযোগিতা বিবেচনায় তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম বলেন, তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হলেও এগুলো ছয়টি কাউন্টে ভাগ করা হয়েছিল এবং দুটি অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি প্রযোজ্য হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড এবং আমৃত্যু কারাদণ্ড দুই ধরনের সাজা দেওয়া সম্ভব ছিল। অপরাধের নৃশংসতা, গুরুত্ব ও গভীরতা বিবেচনায় তিনটি কাউন্টে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি তিনটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে দুটি অভিযোগে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি রাজসাক্ষী হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড যোগ্য অপরাধ করলেও তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে—এসব বিবেচনায় তাঁর সাজায় নমনীয়তা দেখানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে গত সোমবার একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নতুন করে ১০ জনের মৃত্যুতে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে।

মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার দুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার একজন, বরিশাল বিভাগের দুজন, খুলনা বিভাগের তিনজন, রাজশাহী বিভাগের একজন এবং ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার একজন রয়েছেন।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায়। এ সংখ্যা ৪৮০ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০২, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪২, বরিশাল বিভাগে ২০৩, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৪, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬, রংপুর বিভাগে ৭৫ এবং সিলেট বিভাগে ১৮ জন ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ নারী।

এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমাতে দীর্ঘমেয়াদে টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তবে এই মুহূর্তে দেশে ডেঙ্গুর টিকা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটরিয়ামে ‘ডেঙ্গু সংকট মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ডা. এম এ মুহিত বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্বে বর্তমানে কয়েকটি ক্যান্ডিডেট ডেঙ্গু ভ্যাকসিন রয়েছে। বাংলাদেশেও এ নিয়ে চিন্তাভাবনা ও আলোচনা চলছে। তবে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাজ করতে হবে। সম্প্রতি জাপান সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, জাপানেও একটি ক্যান্ডিডেট ডেঙ্গু ভ্যাকসিন রয়েছে এবং এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সব ধরনের ভ্যারিয়েন্টই দেখা যাচ্ছে। তিনি বিষয়টিকে ‘ইউনিক সায়েন্টিফিক ফাইন্ডিং’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শুধু সরকার বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুরো দেশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পাড়া-মহল্লা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মশার লার্ভা ধ্বংস ও মশা নিধনে কাজ করছে।

এ বছর ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, অতীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর সংবাদ প্রকাশ হলে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হতো। এবার পরিস্থিতি তৈরির প্রায় তিন মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা ও কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর উন্নত ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় একটি ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন প্রচার করা হচ্ছে। গত দুই মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ২ হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হালনাগাদ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয়, দ্রুত রেফারেল এবং হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে জনগণ ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

সেমিনারে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোগীর অতিরিক্ত চাপ, সীমিত জনবল ও হাসপাতাল সুবিধা, বিলম্বিত রোগ শনাক্তকরণ এবং গুরুতর রোগীর দ্রুত অবনতি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীকে নিয়মিত ও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সময়মতো সিবিসি ও হেমাটোক্রিট পরীক্ষা এবং সতর্কতার সঙ্গে ফ্লুইড ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু প্লেটলেটের সংখ্যার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে রোগীর সামগ্রিক ক্লিনিক্যাল অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও অতিরিক্ত ফ্লুইড দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

ডেঙ্গু চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ড, পর্যাপ্ত আইসিইউ ও এইচডিইউ, দক্ষ জনবল, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। পাশাপাশি কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা তাঁর প্রবন্ধে বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশা নিধন যথেষ্ট নয়; এর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ডেঙ্গুর সংক্রমণ মশা, ভাইরাস, মানুষের আচরণ, পরিবেশ, জলবায়ু ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফগিংয়ের মাধ্যমে সাময়িকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ডিম ও লার্ভা ধ্বংস করা যায় না। তাই পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকেও মশার কামড় থেকে নিরাপদ রাখার পরামর্শ দেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তঃখাত সমন্বয়, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে অন্তত পাঁচ মিনিট বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম সতর্কতা এবং টিকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ। ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনটির নেতারা এতে বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন

৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য রুয়ার বাসসেবা

৪৯তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত (এমসিকিউ টাইপ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (১০ অক্টোবর)। বিশেষ এই বিসিএস পরীক্ষাটি কেবল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাকরিপ্রার্থীরা ইতোমধ্যে রাজধানীর পথে রওনা হচ্ছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) থেকে ঢাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা প্রার্থীদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন রুয়া (রাবি ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) ছয়টি বাসের ব্যবস্থা করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে বাসগুলো ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পরীক্ষার পর শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ফেরার যাত্রা শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে, এবং বাসগুলো শিক্ষার্থীদের রাজশাহী পৌঁছে দেবে।

রুয়ার যুগ্ম-প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রুয়ার উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৭৩১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিভাগ ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৪টি বাস বরাদ্দ দেয়। বাকি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন রুয়ার সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান-এর সহযোগিতা কামনা করেন।

রুয়া জানিয়েছে, ঢাকায় যাতায়াতের পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার)।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ তারিখ নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে পলাতক। তবে রায় ঘোষণার দিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি মামলার অন্যতম আসামি থেকে পরে রাজসাক্ষী হয়ে যান।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় গত ২৩ অক্টোবর। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে পাঁচ দিন এবং আসামিপক্ষে তিন দিন যুক্তি উপস্থাপন শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সমাপনী বক্তব্য দেন।

এরপর ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের জন্য ১৩ নভেম্বর দিন ঠিক করে আদেশ দেন।

মন্তব্য করুন
×