অপ্রতীম হত্যার পর কুবি শিক্ষকের পরিবারকে ফোনে গালিগালাজ-হুমকি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামীণফোনের একটি নম্বর থেকে অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করা হয়। ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্তের ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পরই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ফোন কেটে দিলে ওই নম্বর থেকে বারবার কল আসতে থাকে। পরে নম্বরটি ব্লক করে দেন তিনি।

এরপর এয়ারটেল (সার্কেল) অপারেটরের আরেকটি নম্বর থেকেও তাকে একাধিকবার কল করা হয়। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে নম্বর দুটিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রু-কলারে নম্বর দুটি ‘রাসেল স্টোর’ ও ‘মোহাম্মদ আলি’ নামে সংরক্ষিত দেখা যায়।

অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলে মারা গেছে। তাকে আইফোনের জন্য হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, সেটি আমরা জানি না। আমাদের মধ্যেও শঙ্কা কাজ করছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না। সেদিন ফোন করে খুব খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার পর আসামিরাই আমার সঙ্গে এসে ছেলেকে খুঁজেছে। এখন তাদের নেতৃত্বদানকারীরা যে আমার বাসায় এসে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করছে না, এর নিশ্চয়তা কী? পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু বলছে না। কিন্তু এর একটা ব্যবস্থা না হলে আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব?’

নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) জানানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। তাকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে অভিযান চালানোর পর সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন ‘কেবিজি’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। তারা হলেন—মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)।

মন্তব্য করুন

শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার)।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ তারিখ নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে পলাতক। তবে রায় ঘোষণার দিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি মামলার অন্যতম আসামি থেকে পরে রাজসাক্ষী হয়ে যান।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় গত ২৩ অক্টোবর। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে পাঁচ দিন এবং আসামিপক্ষে তিন দিন যুক্তি উপস্থাপন শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সমাপনী বক্তব্য দেন।

এরপর ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের জন্য ১৩ নভেম্বর দিন ঠিক করে আদেশ দেন।

মন্তব্য করুন

অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তি: ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। কমিশন এই প্রস্তাবটি তাদের ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই লক্ষ্যে, কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নামে গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে 'জুলাই সনদ ২০২৫' প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এখন কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক-এ উল্লিখিত বিধান—যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করে—সেই অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তির প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দলগুলোর করণীয়: চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ১১ অক্টোবর শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে তাদের লিখিত মতামত কমিশন বরাবর, অথবা কমিশনের নির্দিষ্ট ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন থেকে আরও তথ্য জানার জন্যও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দলীয় প্রতিক্রিয়া: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জানান যে এ বিষয়ে এখনো কোনো মতামত পাঠাননি।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শাসনতন্ত্রের প্রথম ভাগে 'জাতির পিতার প্রতিকৃতি' শিরোনামে অনুচ্ছেদ ৪ক যুক্ত হয়, যা নির্দিষ্ট স্থানে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

মন্তব্য করুন

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৩.৭৪ শতাংশ

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফল প্রকাশ করে। এ বছর পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

বাউবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ মিলিয়ে অংশ নেন ৩০ হাজার ৮১৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১২ হাজার ২৪ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৭ হাজার ৬৬৪ জন।

চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৪ হাজার ৭২৫ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৯৩৯ জন ছাত্রী। বাউবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্লাহ মাহামুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা মানুষের জন্য শিক্ষার দ্বিতীয় সুযোগ তৈরি করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষার কার্যক্রম এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল মাত্র ৪৯ কার্যদিবসে প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের এ উদ্যোগ ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের পুরোনো ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানাল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের স্কুল-কলেজে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কয়েক দফা প্রস্তাবনা জমা দেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া। এঁরা সবাই বিএনপির নির্বাচন কমিশন বিষয়ক কমিটির সদস্য।

ইসিতে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে দলটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। বিএনপি এটিকে 'সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে মনে করছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনাটি দ্রুত স্থগিত করা আবশ্যক।

মন্তব্য করুন

পুকুরে বিলীন হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

 

পাশে পুকুর। তার পানিতে ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ। ভাঙা দেয়াল কোনোভাবে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বই-খাতা নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

এমন চিত্র নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। শ্রেণিকক্ষ সংকটে বিদ্যালয়টির নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে থাকা পুকুরের পানিতে একটি শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ও মেঝের অংশ ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে। এরই মধ্যে দেয়ালের কিছু অংশ পুকুরে বিলীন হয়েছে। বাকি অংশ বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হলেও সেটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে শ্রেণিকক্ষটির একাংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। পরে বাঁশ দিয়ে ঠেকানোসহ বিভিন্নভাবে ঘরটি রক্ষার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যেকোনো সময় পুরো কাঠামো ধসে পড়তে পারে। ফলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ওই কক্ষে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন।

এদিকে শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের মাঠেই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্লাস করতে গিয়ে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে বসে ক্লাস করতে ভয় লাগে। তাই মাঠে ক্লাস করতে হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে এভাবে পড়াশোনা করাও কষ্টকর। দ্রুত শ্রেণিকক্ষ মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে কোনো ভবন পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা টিন দিয়ে একটি আধাপাকা ভবন নির্মাণ করেছিলেন। এত বছর পর সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

তাদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়টি বালিকা বিদ্যালয় হলেও চারপাশে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে যেকোনো সময় যে কেউ বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করতে পারে। এতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে পুরোনো জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষগুলো তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষও নেই। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলো সংস্কার এবং পাঠদান কার্যক্রম চালানোর উপযোগী একটি ভবন নির্মাণ করা হোক। তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এর আগে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে মাটি দিয়ে ভরাট করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত কাজ করার বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। উপজেলা প্রকৌশলী ছুটিতে আছেন। তিনি ফিরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন

৮ বিভাগে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ

দেশের আট বিভাগে অন্তত একটি করে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সভায় বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এসব আলোচনায় সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং এর প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করছেন।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জেলায় জেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে। অথচ সরকারি মাদ্রাসা মাত্র তিনটি। এ সংখ্যা খুবই নগণ্য। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক সভায় মাদ্রাসা সরকারিকরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। আশা করছি, এ সরকারের আমলে এ বিষয়ে ভালো কিছু হবে।’

দেশে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাত্র ৩টি

বর্তমানে দেশে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে মাত্র তিনটি। এর মধ্যে ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে।

ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া ১৭৮০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে ঢাকার বকশীবাজারে বর্তমান স্থায়ী ক্যাম্পাসে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ১৯১৩ সালে আসাম সরকারের শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধীনে সিলেট শহরের চৌহাট্টায় এটি সিনিয়র মাদ্রাসা হিসেবে পুনঃস্থাপিত হয়। ১৯৩৩ সালে এটি নিউ স্কিম উচ্চ মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয় এবং ১৯৩৫ সালে কামিল হাদিসের স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসা ধারার প্রথম কামিল মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৮৬ সালে সরকারিকরণ করা হয়।

সরকারি স্কুল-কলেজের তুলনায় মাদ্রাসা খুবই কম

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। সরকারি কলেজ রয়েছে ৭০৮টি। এছাড়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে রয়েছে সরকারি স্কুল-কলেজের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৯৪টি।

অন্যদিকে, দেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার সংখ্যা ৮ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭৬৭টি, আলিম ১ হাজার ২৮৫টি, ফাজিল ৯৯৩টি এবং কামিল মাদ্রাসা ১৮৪টি। এছাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে ১ হাজার ২৫৮টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি স্কুল-কলেজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকলেও বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বঞ্চিত হচ্ছে।

তাদের মতে, প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগে অন্তত একটি করে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাদ্রাসা শিক্ষার সুযোগ বাড়বে। সীমিত সুযোগের মধ্যেও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভালো করছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটসহ) বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি মাদ্রাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হচ্ছেন।

‘জাতীয়করণ হলে শিক্ষার মানও বাড়বে’

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার তুলনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি নম্বর পেয়ে পড়াশোনা করছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করে উচ্চশিক্ষায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।’

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা জাতীয়করণ হলে শিক্ষার্থীরা কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি শিক্ষার মানও বাড়বে।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে। তবে জাতীয়করণের বিষয়টি এখনো আলোচনা ও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।

মন্তব্য করুন
×