জিএসটি গুচ্ছে এবার ৪ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা, শুরু ১৯ মার্চ

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়ে এ ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবে ২৭ মার্চ।

এবার প্রথমবারের মতো চারটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘এ’, মানবিকের জন্য ‘বি’, বাণিজ্যের জন্য ‘সি’ এবং আর্কিটেকচারের জন্য ‘ডি’ ইউনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ মার্চ। পরদিন ২০ মার্চ ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৭ মার্চ।

এর আগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত জিএসটি গুচ্ছে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’—এই তিন ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। আর্কিটেকচার বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার দিন।

এবার আর্কিটেকচারের জন্য আলাদা ‘ডি’ ইউনিট চালু করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটির কো-কনভেনর ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গুচ্ছভুক্ত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়—পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্কিটেকচার বিষয় রয়েছে। এবার এ বিষয়ের জন্য আলাদা ইউনিট ও আলাদা সময়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এর আগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একই দিনে সকাল ও বিকেলে ‘এ’ ইউনিট এবং আর্কিটেকচারের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ‘বি’ ও ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা আলাদা

মন্তব্য করুন

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি, থাকছে না প্রাথমিক বাছাই

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এবারও প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা ছাড়াই শুধু লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। আগামী বছরের ১৬ জানুয়ারি এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। শুধু লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তিযোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়েছিল। এবারও একই পদ্ধতিতে প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা ছাড়াই কেবল লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি আবেদন কবে শুরু হবে, আবেদনের যোগ্যতা, আবেদন ফি এবং লিখিত পরীক্ষার বিস্তারিত পদ্ধতি সম্পর্কে সোমবারের বিজ্ঞপ্তিতে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এদিকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ১০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে।

মন্তব্য করুন

বিকেএসপিতে বি-স্পোর্টস কোর্সে ভর্তি, আবেদন ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তিন বছর মেয়াদি বি-স্পোর্টস প্রথম বর্ষ স্নাতক (পাস) শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। জাতীয়, বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে খেলাধুলার অভিজ্ঞতা থাকা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রার্থীরা এ কোর্সে আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের সময়সূচি

অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায়। পরীক্ষা নেওয়া হবে বিকেএসপির জিরানী, সাভার, ঢাকা ক্যাম্পাসে।

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ৮ অক্টোবর ২০২৬ বিকেএসপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

আবেদনের যোগ্যতা

২০২১, ২০২২ বা ২০২৩ সালে এসএসসি/সমমান এবং ২০২৩, ২০২৪ বা ২০২৫ সালে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

এর পাশাপাশি প্রার্থীদের জাতীয়, বিভাগীয় অথবা জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড়ি অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

ছেলেদের জন্য খেলাধুলার বিষয়গুলো হলো: ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, অ্যাথলেটিক্স, জিমন্যাস্টিক্স, টেনিস, সাঁতার, বাস্কেটবল, বক্সিং ও শুটিং।

মেয়েদের জন্য খেলাধুলার বিষয়গুলো হলো: অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, ফুটবল, ক্রিকেট, জিমন্যাস্টিক্স, টেনিস, সাঁতার, শুটিং ও হকি।

আবেদন ও ফি

ভর্তি আবেদনের জন্য ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।

আবেদন করতে হবে bkspds.gov.bd অথবা bksp.gov.bd ওয়েবসাইটে।

আবেদনের ধাপগুলো হলো—Applicant Registration > Apply > Admission on B.Sports (pass) Under NU 2025-2026 > Form Fillup > Submit > Payment > PDF Download > Print।

পরীক্ষার দিন যা সঙ্গে নিতে হবে

ক্রীড়া মেধা যাচাইয়ের দিন প্রার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের প্রিন্ট কপি, সদ্য তোলা চার কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং এসএসসি ও এইচএসসির মার্কশিট, প্রশংসাপত্র ও খেলার অভিজ্ঞতার সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। এসব কাগজপত্র সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই।

ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট খেলার উপযোগী পোশাক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে আনতে হবে।

চূড়ান্ত ভর্তির সময় প্রার্থীকে খেলার সনদপত্র এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মূল মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র জমা দিতে হবে।

যোগাযোগ

ভর্তি-সংক্রান্ত সাধারণ তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০১৭১৩২৪৬০৪০, ০১৯১৭৭৮০৪৩০ ও ০১৭২০২০৬০৭৬ নম্বরে।

অনলাইন রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত সমস্যায় ০১৬৭২০৯৩৩৪৬ নম্বরে অফিস চলাকালীন সময়ে যোগাযোগ করা যাবে।

মন্তব্য করুন

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শূন্য আসনে ভর্তি, বাড়ল বিষয় চয়েসের সময়

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) সংযুক্ত কলেজগুলোতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তির বিষয় চয়েস দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে। কলা ও সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের যেসব আসন এখনো শূন্য রয়েছে, সেগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নতুন সময়সূচি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৭ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে ২৯ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে বিষয় চয়েস দেওয়া যাবে। বিষয় ও কলেজভিত্তিক নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা ৩০ আগস্ট রাত ১১টায় প্রকাশ করা হবে।

তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের ৩১ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে ভর্তি ফি পরিশোধ করে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। সোনালী বিল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ভর্তি ফি হিসেবে ৬ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিতে হবে।

বিষয় চয়েস দেওয়ার নিয়ম

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের dcuadmission.org ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে চয়েস ফরম পূরণ করতে হবে।

কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে করণীয়

পোষ্য (ওয়ার্ড), খেলোয়াড় ও হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) কোটায় ভর্তিচ্ছুদের ২৭ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া সংশ্লিষ্ট কলেজে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে কোটার প্রমাণস্বরূপ সনদপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আবেদনে কলেজের নাম, পছন্দের বিষয় এবং ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম উল্লেখ করতে হবে।

কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকারের পর এসব শিক্ষার্থীর বিষয় বরাদ্দ দেওয়া হবে। সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পরে জানানো হবে।

অন্যদিকে, কোটায় প্রথম ও দ্বিতীয় মাইগ্রেশনে ভর্তি নিশ্চয়ন করা শিক্ষার্থীদের ২৭ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজের অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কোটার প্রমাণপত্র, ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র এবং পূরণ করা চয়েস ফরমের প্রিন্ট কপি। কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

চূড়ান্ত ভর্তি সম্পন্নের প্রক্রিয়া

প্রথম ও দ্বিতীয় মাইগ্রেশনে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২৭ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া সংশ্লিষ্ট কলেজের অফিসে ভর্তি ফরম, পে-স্লিপ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে মূল নম্বরপত্র ও সত্যায়িত কপি, সর্বশেষ উত্তীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের দেওয়া প্রশংসাপত্র, এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ফটোকপি, এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি এবং পাসপোর্ট সাইজের পাঁচ কপি ছবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভর্তি কার্যক্রমের নিয়ম ও শর্ত পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন কিংবা নতুন কিছু সংযোজনের অধিকার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।

মন্তব্য করুন

ঢাবির বিজ্ঞান ইউনিটেও ইংরেজি মাধ্যমের জন্য আলাদা প্রশ্ন, উঠছে বৈষম্যের প্রশ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পাশাপাশি বিজ্ঞান ইউনিটেও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা নিজেদের কারিকুলাম অনুযায়ী পৃথক প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

গত ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সোমবার (৩১ আগস্ট) সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি অনুমোদন পেতে পারে বলে আলোচনা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় এটি সিন্ডিকেটে আলাদাভাবে অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী সোমবার রাতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটাই চূড়ান্ত। এটা সিন্ডিকেটে আর আলাদা করে পাস হওয়ার দরকার নেই।’

কেন আলাদা প্রশ্নপত্র

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যায়। এতে দেশের মেধাপাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেন’ বাড়ছে।

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে তাদের একটি অংশ দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

এর আগে গত ২ আগস্ট নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় বিজ্ঞান ইউনিটের ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতেও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী পৃথক প্রশ্নপত্র করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বৈষম্যের আশঙ্কা শিক্ষকদের

তবে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের আশঙ্কা, আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকে মনে করছেন, যদি ইংরেজি মাধ্যমের জন্য আলাদা প্রশ্ন করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা প্রশ্নের দাবি উঠতে পারে। তাদের মতে, ভর্তি পরীক্ষায় সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশ্নপত্রের কাঠামো এমন হওয়া উচিত, যাতে ভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা সমানভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারেন।

আলাদা প্রশ্নে বাড়বে চ্যালেঞ্জ: অধ্যাপক মজিবুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মজিবুর রহমান আলাদা প্রশ্নপত্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আলাদা প্রশ্ন করলে অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে সামনে। ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী খারাপ করলে অভিযোগ আসবে, আলাদা প্রশ্ন করাতে খারাপ করছে। বাংলা মিডিয়ামের জন্য প্রশ্ন সহজ হয়েছে। কিংবা উল্টোটা হবে—ইংলিশ মিডিয়ামের প্রশ্ন সহজ হয়েছে, এ কারণে তারা বেশি চান্স পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার এবং চাকরিতে প্রবেশাধিকার—বর্তমান প্রজন্মের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চাকরিতে প্রবেশাধিকার নিয়ে দেশজুড়ে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। এমন সংবেদনশীল বিষয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দূরদর্শী নয়।’

অধ্যাপক মজিবুর রহমানের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দেশের সব অনুমোদিত শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ থাকা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রশ্নের প্যাটার্নটাও বদলাতে হবে। প্রশ্নটা করতে হবে এমন, যাতে সবার সমান সুযোগ থাকে। আমাদের কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা কিংবা যেগুলো সরকার অনুমোদিত, আমরা চাই সবাই সমান সুযোগ পাক। কারও প্রতি বৈষম্য না হোক।’

তার ভাষ্য, আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন বৈষম্য কমানোর বদলে আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অস্থিতিশীলতার আশঙ্কাও তৈরি করতে পারে।

ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে আগে থেকেই আলাদা ব্যবস্থা

ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এবার বিজ্ঞান ইউনিটেও একই ধরনের পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান ব্যবস্থায় ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে বাংলা মাধ্যমের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এবং নির্ধারিত দুটি বিষয়ের একটিসহ এমসিকিউ ও লিখিত মিলিয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

অন্যদিকে বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি এবং গণিত, পরিসংখ্যান বা অর্থনীতির নির্ধারিত বিষয়ের সমন্বয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।

ইংরেজি মাধ্যমের এ-লেভেল ও সমমানের শিক্ষার্থীদের জন্য আবার English, Advanced English এবং ব্যবসায় শিক্ষা, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি বা গণিতের নির্ধারিত বিষয় নিয়ে পৃথক কাঠামোয় ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এখন বিজ্ঞান ইউনিটেও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের কারিকুলাম অনুযায়ী একই ধরনের পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সিদ্ধান্ত নিয়ে যা বলছে প্রশাসন

সিদ্ধান্তের ফলে বৈষম্য তৈরি হবে কি না—এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অন্তত সাত-আটটি মিটিং হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট মিটিংয়ের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’

ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিজ্ঞান ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পর ভর্তি পরীক্ষায় সমতা ও সুযোগের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কী হয়, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

মন্তব্য করুন

চুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২৩ জানুয়ারি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের লেভেল-১ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭। তবে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর জানানো হবে।

চুয়েটের স্নাতক ভর্তি কমিটির সভাপতি ও তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ২৩ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা, শর্তাবলি, সময়সূচি ও মানবণ্টনসহ যাবতীয় তথ্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে চুয়েট প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ভর্তি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর এ কমিটি প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে দেশের আরও দুটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) নিজেদের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

কুবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৫ ফেব্রুয়ারি, শেষ ৭ ফেব্রুয়ারি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে তিন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। ‘বি’ ইউনিটের (কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) পরীক্ষা হবে ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায়। আর ‘সি’ ইউনিটের (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায়।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও রাজশাহী শহরেও ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র রাখা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×