ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে অনলাইন ক্লাস

আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বা ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রথমে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়মিত ক্লাস চালুর কথা জানিয়েছে।

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি মঙ্গলবার এক জরুরি নোটিশে জানিয়েছে, ১২ ও ১৩ নভেম্বরের সব ক্লাস অনিবার্য কারণে স্থগিত থাকবে, তবে পরীক্ষা চলবে। পরবর্তী দিনের (১৪ নভেম্বর) কার্যক্রম সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বাস ও শাটল সার্ভিস আপাতত বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক দপ্তর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

স্কুলগুলোর মধ্যেও অনলাইন ক্লাস ও বন্ধের সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেবে এবং সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নিউ ইস্কাটনের এজি চার্চ স্কুল নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সানিডেইল ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আজ ও আগামীকাল অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

সব প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, সিদ্ধান্তগুলো ‘অনিবার্য কারণে’ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ ফর গাজা’: ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতির পদযাত্রা

২৪ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত দালান থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি
২৪ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত দালান থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ ফর গাজা’ করে গাজার নিরীহ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছে।

  • শুক্রবার (৩ অক্টোবর) জুমার নামাজের পরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে পদযাত্রা শুরু করে। পদযাত্রা শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।

  • শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, মসজিদুল আকসা রক্ষা করার জন্য তারা লড়াই করবে এবং মসজিদটি ছাড়বে না।

  • জামিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার স্থানীয় নেতা সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, বিশ্বের নানা মহলে বিরোধ থাকলেও তাওহিদ ও শিরক নিয়ে বড় লড়াই চলছে; ভবিষ্যতে তাওহিদ বিজয়ী হবে—এমন ভাবনা জানান।

  • আরো পড়ুন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলে রাজনৈতিক স্বার্থ, সতর্ক করেছেন উপদেষ্টা

  • তানভীর মণ্ডল বলেন, আল আকসা মুসলমানদের প্রথম কিবলা; ফিলিস্তিনের ইতিহাস ও আবেগ আমাদের সবার সঙ্গে জড়িত। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মুসলিম নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

  • শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি ইউসুফ আলী বলেন, দুই বছরের মধ্যে ইসরায়েলের হাতে প্রায় ৬৬,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, অনেক নারী ও শিশু রয়েছেন। সাম্প্রতিক মানবিক নৌবহরে হামলারও কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন করেন।

  • মসজিদের খতিব আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, ফিলিস্তিনিদের কষ্টে যদি আমরা অনাসক্ত থাকি, তাহলে আমাদের ইসলাম প্রশ্নবিদ্ধ হবে; প্রয়োজনে রক্ত ও জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকতে হবে—এমন বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন

এইচএসসির নিম্নমুখী ফল, ভর্তিযুদ্ধে নামছে শিক্ষার্থীরা

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৩ লাখ আসন; তবু শঙ্কা সেরা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

নিম্নমুখী এমন ফলাফলে অনেক শিক্ষার্থী মন খারাপের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। কারণ, সামনে তাদের অপেক্ষা করছে কঠিন ‘ভর্তিযুদ্ধ’।

ভর্তিযুদ্ধের সামনে শিক্ষার্থীরা : দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ মিলে উচ্চশিক্ষার স্তরে প্রায় ১৩ লাখ আসন রয়েছে। কিন্তু এবার পাস করেছেন মাত্র ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, আসন ফাঁকা থাকবে ৬ লাখেরও বেশি।

তবুও প্রতিযোগিতা থাকবে শীর্ষস্থানীয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে; এর মধ্যে ৫৩টিতে চলছে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টালে আরও প্রায় ৫ হাজার আসন রয়েছে।
ফলে এই ২০-২২টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা হবে সবচেয়ে তীব্র।

🎓 শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

শিক্ষার্থীদের প্রধান টার্গেট বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শীর্ষ ২০-২২টি বিশ্ববিদ্যালয়।

নটর ডেম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন, “প্রত্যাশা ছিল গোল্ডেন জিপিএ-৫। তা হয়নি। এখন লক্ষ্য বুয়েট— না হলে ঢাবি বা কুয়েট-চুয়েট।”

অন্যদিকে ভিকারুননিসা নূন কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা সুলতানা বলেন, “ঢাকাতেই পড়তে চাই। তাই ঢাবি প্রথম টার্গেট। না হলে রাজশাহী বা জাহাঙ্গীরনগরেও চেষ্টা করবো।”

🏫 বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিকল্প

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না পেলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী—প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে আসন: ৬,৩৪০টি      প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজে: ১,৩৫০টি        আর্মড ফোর্স মেডিকেল কলেজে: ৩৫০টি

এছাড়া শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সে ১,৮৬,৮৯৯টি আসন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩,৬৩০টি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৮,৫৮,২৭৫টি (অনার্স ও পাস কোর্স মিলিয়ে) আসন রয়েছে।এছাড়া ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৪,৫২৯টি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭,৫৯৩টি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল কলেজে ১,৪৪০টি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে ৫,৬০০টি আসন রয়েছে।

📊 বিশেষজ্ঞের মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান বলেন, “সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে আসন সীমিত। ফলে সবাই সুযোগ পাবে না। শিক্ষার্থীদের উচিত বিকল্প সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। সরকারেরও উচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে সেখান থেকেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হয়।”

 

ধরন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মোট আসন মন্তব্য
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৫৩ ৫০,০০০ উচ্চ প্রতিযোগিতা
সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল - ৫,০০০ সীমিত আসন
প্রাইভেট মেডিকেল ও ডেন্টাল - ৭,৬৯০ বেশি খরচ
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০০+ ১,৮৬,৮৯৯ বিকল্প সুযোগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২৬৪ কলেজ ৮,৫৮,২৭৫ তুলনামূলক সহজ ভর্তি
অন্যান্য (উন্মুক্ত, নার্সিং, টেক্সটাইল, মেরিন ইত্যাদি) - ১,০০,০০০+ বিভিন্ন সুযোগ

 “ভর্তিযুদ্ধে শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়”
📍বুয়েট, 📍ঢাবি, 📍রাজশাহী, 📍চট্টগ্রাম, 📍জাহাঙ্গীরনগর, 📍জগন্নাথ, 📍শাহজালাল, 📍খুলনা, 📍বরিশাল ও 📍মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দেখানো থাকবে।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবা নিতে গাজীপুরে আসতে হবে না শিক্ষার্থীদের

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট উত্তোলন, নাম সংশোধন, কলেজ পরিবর্তন ও টিসি নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস গাজীপুরে আসতে হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই এসব সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

উপাচার্য বলেন, আগে প্রফেশনাল ও ফাইনাল সার্টিফিকেট নিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে গাজীপুরে এসে আবেদন করতে হতো। বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্যেরও অভিযোগ ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করবেন। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দেবেন। এরপর অনলাইনেই আবেদনের স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ফাইনাল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে।’

কলেজ থেকেই মিলছে প্রভিশনাল সার্টিফিকেট

উপাচার্য জানান, প্রভিশনাল সার্টিফিকেটগুলো সংশ্লিষ্ট কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কলেজ থেকেই তা সংগ্রহ করতে পারছেন। আর ফাইনাল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে অনলাইনে প্রস্তুতির তথ্য দেখে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র নিয়েও পরিবর্তনের কথা জানান তিনি। তার ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র ছিল ছয়টি। পরে আরও ছয়টি বাড়িয়ে বর্তমানে ১২টি করা হয়েছে।

দুই জেলায় একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিকল্পনা

অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের মূল টার্গেট হলো প্রতি দুই জেলায় একটি করে আঞ্চলিক কেন্দ্র করে ৩২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র করা। শুধু আঞ্চলিক কেন্দ্র নয়, আট বিভাগে আটটি ক্যাম্পাস করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

এসব আঞ্চলিক ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স পরিচালনার পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর কার্যক্রমও পরিচালনা ও তদারকি করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক ক্যাম্পাসগুলো প্রতিষ্ঠা করা হলে বর্তমানে গাজীপুরে থাকা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ফ্যাসিলিটি ধীরে ধীরে এসব ক্যাম্পাসেও নেওয়া হবে।

এক বছরের মধ্যে পেপারলেস হওয়ার লক্ষ্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী এক বছরের মধ্যে পেপারলেস করার লক্ষ্যেও কাজ চলছে বলে জানান উপাচার্য। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ নথি ই-নথির আওতায় এসেছে। বাকি নথিগুলোও ধাপে ধাপে ই-নথিতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস ইতোমধ্যে ক্যাশলেস করা হয়েছে। সেখানে কোনো নগদ লেনদেন করা হয় না। বাকি ছোটখাটো কিছু ক্ষেত্রও শতভাগ ক্যাশলেস ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে। সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রয়োজন বন্ধ করতে চাই’

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা নিতে ব্যক্তিগতভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্য বলেন, ‘নাম সংশোধন, কলেজ ট্রান্সফার, টিসি নেওয়া কিংবা সার্টিফিকেট উত্তোলনের মতো কাজ এখন অনলাইনেই শেষ করা যাচ্ছে। এসব কাজের জন্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে হচ্ছে না। যে মাইন্ডসেট—আমাকে একটু যেতে হবে, একটু কথা বলতে হবে, কোনো একজন অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে হবে—সেটা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানুষ যত বেশি সরাসরি আসবে এবং পারসন টু পারসন যোগাযোগ যত বাড়বে, ততই বিভিন্ন ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ থাকে। তাই সেবাগুলোকে যতটা সম্ভব অনলাইননির্ভর করার চেষ্টা চলছে।

অধ্যাপক আমানুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে সার্টিফিকেট উত্তোলন, নাম সংশোধন কিংবা কলেজে টিসি নেওয়ার মতো সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে আসতে হবে না।

তিনি বলেন, ‘প্রফেশনাল হোক বা ফাইনাল—কোনো ধরনের সার্টিফিকেটের জন্যই শিক্ষার্থীদের যেন ক্যাম্পাসে আসতে না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। এক কথায়, সারা বাংলাদেশের ছাত্র ও শিক্ষকদের শুধু মডারেশন ও প্রশ্ন করার বিষয় ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে যাতে আসতে না হয়, সেদিকে আমরা হাঁটছি।’

মন্তব্য করুন

অক্টোবরে ঢাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলন, রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ১০ অক্টোবর

২ হাজার ৩১৮ কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশের ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’ আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মিলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদের সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান রূপান্তরমুখী অভিযাত্রা এবং পরিবর্তিত জাতীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ সম্মিলনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। দেশের কলেজ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অধ্যক্ষদের ভূমিকা আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এ সম্মিলন আয়োজন করা হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, সম্মিলনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা জাতীয় শিক্ষানীতি, সরকারের শিক্ষা-দর্শন, উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শিক্ষা-সংক্রান্ত অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও প্রেরণা লাভ করবেন।

যেভাবে করতে হবে রেজিস্ট্রেশন

সম্মিলনে অংশ নিতে অধ্যক্ষদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এজন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পোর্টাল-এ প্রবেশ করে কলেজ কোড ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে।

এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’ অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় আগামী ১০ অক্টোবর। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্দেশক্রমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্মিলনে অংশ নিতে অধ্যক্ষদের অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, সম্মিলনে অংশগ্রহণের জন্য অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বিধি অনুযায়ী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে।

মন্তব্য করুন

জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. জসীম উদ্দিন

শরীয়তপুর: জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ZHSUST) পেল নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (উপ-উপাচার্য)। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

 

নিয়োগের বিস্তারিত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৩১ (১) এবং ধারা ৩২(১) অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিনকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • নিয়োগের মেয়াদ: যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।

  • পূর্ববর্তী পদ: ড. জসীম উদ্দিন পূর্বে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)-এর উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান: জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অধীনে তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং আইন অনুযায়ী তার কার্য সম্পাদন করবেন। তবে প্রয়োজন অনুসারে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিনের যোগদান জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।

মন্তব্য করুন

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ ইস্যুতে উত্তেজনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার-রাকসু জিএসের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা

রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় রেজিস্ট্রারের কক্ষে রাজশাহী মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করছিলেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আম্মার রেজিস্ট্রারের সাথে কথোপকথন শুরু করেন এবং জানতে চান তিনি কি ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন। রেজিস্ট্রার তাকে ১০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। এ সময় আম্মার অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রার ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ সংক্রান্ত চিঠি আটকে রেখেছেন। রেজিস্ট্রার উত্তরে বলেন, তিনি চিঠি আটকে রাখেননি। এর পরে দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যালাপ শুরু হয়।

রেজিস্ট্রার সিপিএসের উপস্থিত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বলেন, “তোমরা কারা?” শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী। রেজিস্ট্রার তাঁদের অফিসে আসার অনুমতি দেন, কিন্তু আম্মার বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি, আমাদেরও কথা বলার অধিকার আছে।”

রেজিস্ট্রার তখন আম্মারকে তর্ক করেন কেন তিনি অনুমতি না নিয়ে ভিতরে ঢুকেছেন এবং বলেন, গেট আউট। আম্মার তার শিক্ষার্থীর অধিকারকে সামনে রেখে ভিতরে থাকতে চান। এ সময় এনসিপির নেতারা নিশ্চিত করেন, তারা বিএনপির কেউ নন, বরং এনসিপির নেতাকর্মী।

ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে আম্মার উল্লেখ করেন, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ আন্দোলন ২৩ দিন ধরে চলছিল। উপাচার্য বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চেয়ারম্যানকে অপসারণের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন, যা রবিবার পর্যন্ত রেজিস্ট্রারের অফিসে আটকে থাকে। এতে ছাত্রদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, এই জরুরি বিষয় দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন ছিল।

অন্যদিকে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, তিনি সকাল থেকেই চিঠি ইস্যুর জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো যাচাই করছিলেন। এরপর অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার কারণে কিছু কাজ শেষ করা বাকি ছিল। ছাত্ররা যখন এল, তখনও তিনি ভদ্রভাবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, আম্মারের উপস্থিতি বা রাজনীতি এতে কোনো প্রভাব রাখেনি। এছাড়াও রেজিস্ট্রার স্পষ্ট করেছেন, রুমে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। এনসিপির নেতাকর্মীদেরকে ভুলক্রমে বিএনপি মনে হওয়ায় এই ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।

উভয় পক্ষের বিবরণে দেখা যায়, এই উত্তেজনা মূলত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ ইস্যু, প্রশাসনিক ফর্মালিটি এবং দপ্তরে অননুমোদিত প্রবেশের কারণে ঘটে।

মন্তব্য করুন
×