বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, এ ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর এ ভাষণে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, জাতীয় ঐক্য গঠন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।

জাতীয় পর্যায়ে এটি প্রধান উপদেষ্টার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

মন্তব্য করুন

গণতন্ত্রের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ফখরুলের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার (১৬ নভেম্বর) প্রেস ক্লাবে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, দেশে রাজনীতি বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে এবং বর্তমান সময়টা জটিল সংকটে পড়েছে।

ফখরুল বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও কিছু গোষ্ঠি রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নেই, নির্বাচিত সরকার ছাড়া এটি সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আসন্ন গণহত্যার রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মওলানা ভাসানী স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের চিন্তা করেছিলেন, যা তিনি পূর্ণ করতে পারেননি। বিএনপির প্রতি তার দায়বদ্ধতা রয়েছে, কারণ তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

নাশকতা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এড়াতে

ছুটি বাতিল মেট্রোরেলের সব কর্মকর্তা–কর্মচারীর

মেট্রোরেল
মেট্রোরেল

ঢাকা মেট্রোরেলের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। রোববার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলমের স্বাক্ষরে এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিএমটিসিএলের ভবন, ডিপো, স্টেশন এবং প্রকল্প এলাকায় কর্মরত সবার ছুটি বাতিল থাকবে। যদিও এতে কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সূত্র জানিয়েছে—রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৩ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত আছে। এ নিয়ে অনলাইনে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির আহ্বান জানানো হয়েছে।

নাশকতা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে ডিএমটিসিএল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ছুটি বাতিল ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান প্রাথমিক শিক্ষকদের

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা শিক্ষকরা শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন। কেউ গাছের ছায়ায় বসে আছেন, কেউ আবার মাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতাও শোনা যাচ্ছে তাঁদের অবস্থানস্থলে।

 

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার এখনো তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেয়নি। তাই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

 

এই আন্দোলনের কারণে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সামনে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

 

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা আশা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তাঁরা ঢাকায় আরও বড় পরিসরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন

১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের দাবি: সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০, সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা

সরকারি ১১-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা অবিলম্বে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা ১৩ গ্রেডের নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করেছেন, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের সদস্যরা এই দাবি পেশ করেন।

 

মূল দাবি ও প্রস্তাবিত ভাতা

সংগঠনটি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে:

  • বাড়িভাড়া ভাতা:

    • ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: মূল বেতনের ৮০%

    • অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৭০%

    • অন্যান্য এলাকায়: ৬০%

  • চিকিৎসা ভাতা: ৬,০০০ টাকা

  • শিক্ষা ভাতা (সন্তান প্রতি): ৩,০০০ টাকা

  • যাতায়াত ভাতা:

    • ঢাকা: ৩,০০০ টাকা

    • অন্যান্য এলাকা: ২,০০০ টাকা

  • ইউটিলিটি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • টিফিন ভাতা: দৈনিক ১০০ টাকা (মাসিক ২,২০০ টাকা)

  • বৈশাখী ভাতা: ৫০%

  • ঝুঁকি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা: ৪০%

পেনশন ও অন্যান্য দাবি

ফোরাম পেনশন সুবিধা বিদ্যমান ৯০% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করার এবং আনুতোষিকের হার প্রতি ১ টাকায় ২৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান তাঁর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পে স্কেলে ব্যাপক বৈষম্য ছিল এবং গত ১০ বছরে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা দুটি পে স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন, বৈষম্যমুক্ত ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি।


আল্টিমেটাম

সংগঠনটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক নবম পে কমিশন গঠনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে কমিশন একটি ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রস্তাব করবে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানাল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের স্কুল-কলেজে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কয়েক দফা প্রস্তাবনা জমা দেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া। এঁরা সবাই বিএনপির নির্বাচন কমিশন বিষয়ক কমিটির সদস্য।

ইসিতে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে দলটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। বিএনপি এটিকে 'সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে মনে করছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনাটি দ্রুত স্থগিত করা আবশ্যক।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ দিনের ছুটি: ৭ অক্টোবর পর্যন্ত, ৮ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু

সম্প্রতি দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে দেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটি শুরু হয়েছিল ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে, যা চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

তবে, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ৮ ও ৯ অক্টোবর কোনো পরীক্ষা না নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ মনে করেছেন, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আসলে সঠিক নয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী এই বিষয়ে পরিষ্কার করেছেন যে, ছুটি শুধুমাত্র ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। ৮ অক্টোবর থেকে শ্রেণি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। ৮ ও ৯ অক্টোবর শুধুমাত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, তবে স্কুল খুলে যাবে।

এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির বিষয়, এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কোনো ছুটি বাড়ানোর কথা বলা হয়নি। যারা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে, তারা ভুল করেছে। সঠিক তথ্য পেতে চাইলে মাউশিতে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

 
মন্তব্য করুন
×