পুকুরে বিলীন হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান
পাশে পুকুর। তার পানিতে ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ। ভাঙা দেয়াল কোনোভাবে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বই-খাতা নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।
এমন চিত্র নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। শ্রেণিকক্ষ সংকটে বিদ্যালয়টির নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে থাকা পুকুরের পানিতে একটি শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ও মেঝের অংশ ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে। এরই মধ্যে দেয়ালের কিছু অংশ পুকুরে বিলীন হয়েছে। বাকি অংশ বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হলেও সেটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে শ্রেণিকক্ষটির একাংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। পরে বাঁশ দিয়ে ঠেকানোসহ বিভিন্নভাবে ঘরটি রক্ষার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যেকোনো সময় পুরো কাঠামো ধসে পড়তে পারে। ফলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ওই কক্ষে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন।
এদিকে শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের মাঠেই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্লাস করতে গিয়ে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে বসে ক্লাস করতে ভয় লাগে। তাই মাঠে ক্লাস করতে হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে এভাবে পড়াশোনা করাও কষ্টকর। দ্রুত শ্রেণিকক্ষ মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে কোনো ভবন পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা টিন দিয়ে একটি আধাপাকা ভবন নির্মাণ করেছিলেন। এত বছর পর সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
তাদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়টি বালিকা বিদ্যালয় হলেও চারপাশে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে যেকোনো সময় যে কেউ বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করতে পারে। এতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে পুরোনো জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষগুলো তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষও নেই। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলো সংস্কার এবং পাঠদান কার্যক্রম চালানোর উপযোগী একটি ভবন নির্মাণ করা হোক। তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।’
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এর আগে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে মাটি দিয়ে ভরাট করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত কাজ করার বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। উপজেলা প্রকৌশলী ছুটিতে আছেন। তিনি ফিরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’