সাতকানিয়ায় দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের বিক্ষোভ; প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল

বাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্টার লাইন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত স্কুলছাত্রী ঈশা দাশ (১২) মারা গেছে। দুর্ঘটনার পর প্রায় চার ঘণ্টা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর রয়েল হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ঈশা দাশ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সে সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকার সুনীল দাশের মেয়ে।

নিহতের জেঠা ও ঠাকুরদিঘী পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ জানান, দুর্ঘটনার পর ঈশাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান হাসপাতাল লিমিটেডে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় তাকে রয়েল হসপিটালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, রোববার দুপুরে টিফিনের ছুটি হলে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় মহাসড়ক পার হচ্ছিল ঈশা। এ সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম নগরীর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আইসিইউতে ভর্তি করা হলে প্রায় চার ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঈশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। তারা মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা।

বিক্ষুব্ধরা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিও ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে বাসের ভেতরের কয়েকটি সিট খুলে মহাসড়কে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ ও গতিরোধক স্থাপন করতে হবে। তাদের অবরোধে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকেরা।

সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে জানা যায়, ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গতিরোধক স্থাপনের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ।

মন্তব্য করুন

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যিনি হাসপাতালে অধ্যাপক মনজুরুল ইসলামের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন।

অসুস্থতা ও চিকিৎসা

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যাওয়ার পথে গাড়িতে থাকা অবস্থায় অসুস্থতা অনুভব করেন। গাড়িচালকের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে খবর পেয়ে মাজহারুল ইসলামসহ ঘনিষ্ঠজনরা যান।

চিকিৎসকেরা জানান যে তাঁর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছিল। এরপর তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে স্টেন্টিং করা (রিং পরানো) হয়।

 

শারীরিক অবস্থার অবনতি ও লাইফ সাপোর্ট

শনিবার থেকে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তাঁর অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হয়। অবশেষে, আজ বিকেল ৫টায় চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নিলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

 

পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ আজ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হতে পারে।

মন্তব্য করুন

নাশকতা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এড়াতে

ছুটি বাতিল মেট্রোরেলের সব কর্মকর্তা–কর্মচারীর

মেট্রোরেল
মেট্রোরেল

ঢাকা মেট্রোরেলের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। রোববার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলমের স্বাক্ষরে এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিএমটিসিএলের ভবন, ডিপো, স্টেশন এবং প্রকল্প এলাকায় কর্মরত সবার ছুটি বাতিল থাকবে। যদিও এতে কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সূত্র জানিয়েছে—রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৩ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত আছে। এ নিয়ে অনলাইনে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির আহ্বান জানানো হয়েছে।

নাশকতা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে ডিএমটিসিএল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ছুটি বাতিল ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

পুকুরে বিলীন হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

 

পাশে পুকুর। তার পানিতে ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ। ভাঙা দেয়াল কোনোভাবে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বই-খাতা নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

এমন চিত্র নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। শ্রেণিকক্ষ সংকটে বিদ্যালয়টির নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে থাকা পুকুরের পানিতে একটি শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ও মেঝের অংশ ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে। এরই মধ্যে দেয়ালের কিছু অংশ পুকুরে বিলীন হয়েছে। বাকি অংশ বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হলেও সেটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে শ্রেণিকক্ষটির একাংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। পরে বাঁশ দিয়ে ঠেকানোসহ বিভিন্নভাবে ঘরটি রক্ষার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যেকোনো সময় পুরো কাঠামো ধসে পড়তে পারে। ফলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ওই কক্ষে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন।

এদিকে শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের মাঠেই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্লাস করতে গিয়ে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে বসে ক্লাস করতে ভয় লাগে। তাই মাঠে ক্লাস করতে হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে এভাবে পড়াশোনা করাও কষ্টকর। দ্রুত শ্রেণিকক্ষ মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে কোনো ভবন পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা টিন দিয়ে একটি আধাপাকা ভবন নির্মাণ করেছিলেন। এত বছর পর সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

তাদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়টি বালিকা বিদ্যালয় হলেও চারপাশে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে যেকোনো সময় যে কেউ বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করতে পারে। এতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে পুরোনো জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষগুলো তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষও নেই। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলো সংস্কার এবং পাঠদান কার্যক্রম চালানোর উপযোগী একটি ভবন নির্মাণ করা হোক। তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এর আগে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে মাটি দিয়ে ভরাট করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত কাজ করার বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। উপজেলা প্রকৌশলী ছুটিতে আছেন। তিনি ফিরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ দিনের ছুটি: ৭ অক্টোবর পর্যন্ত, ৮ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু

সম্প্রতি দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে দেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটি শুরু হয়েছিল ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে, যা চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

তবে, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ৮ ও ৯ অক্টোবর কোনো পরীক্ষা না নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ মনে করেছেন, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আসলে সঠিক নয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী এই বিষয়ে পরিষ্কার করেছেন যে, ছুটি শুধুমাত্র ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। ৮ অক্টোবর থেকে শ্রেণি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। ৮ ও ৯ অক্টোবর শুধুমাত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, তবে স্কুল খুলে যাবে।

এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির বিষয়, এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কোনো ছুটি বাড়ানোর কথা বলা হয়নি। যারা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে, তারা ভুল করেছে। সঠিক তথ্য পেতে চাইলে মাউশিতে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

 
মন্তব্য করুন

অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তি: ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। কমিশন এই প্রস্তাবটি তাদের ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই লক্ষ্যে, কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নামে গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে 'জুলাই সনদ ২০২৫' প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এখন কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক-এ উল্লিখিত বিধান—যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করে—সেই অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তির প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দলগুলোর করণীয়: চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ১১ অক্টোবর শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে তাদের লিখিত মতামত কমিশন বরাবর, অথবা কমিশনের নির্দিষ্ট ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন থেকে আরও তথ্য জানার জন্যও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দলীয় প্রতিক্রিয়া: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জানান যে এ বিষয়ে এখনো কোনো মতামত পাঠাননি।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শাসনতন্ত্রের প্রথম ভাগে 'জাতির পিতার প্রতিকৃতি' শিরোনামে অনুচ্ছেদ ৪ক যুক্ত হয়, যা নির্দিষ্ট স্থানে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিকের বইয়ে যুক্ত ‘রাতের ভোট’; সাহিত্য-কণিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ

রাতের ভোট
রাতের ভোট

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আলোচিত ‘রাতের ভোট’ প্রসঙ্গটি এবার যুক্ত হচ্ছে নবম–দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে। ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ নামে নতুন সংযোজিত অংশে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পূরণ এবং ২০২৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার নীলনকশা করেছিল; যা জনগণ প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে বাদ যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ। ২০২১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে এই ভাষণ পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়; অষ্টম শ্রেণির বইয়ে এটি ছিল ছয় পৃষ্ঠা জুড়ে।

পাঠ্যবইয়ের নতুন ভাষ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেখিয়েছে—দমনমূলক শাসন যত শক্তিশালী হোক, ন্যায়ের দাবিতে গড়ে ওঠা জনপ্রতিরোধের কাছে পরাজয় অনিবার্য।

২০২৬ সালের বইয়ে পতিত সরকারের অনিয়ম–দুর্নীতির বিবরণও যুক্ত হচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কমিশনের তথ্যমতে, গত ১৬ বছরে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে দেশে একটি ‘চোরতন্ত্র’ গড়ে ওঠে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

বইয়ের নতুন অংশে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর ফলে বাকশাল গঠনের কথা, জিয়াউর রহমানের অধীনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরাবির্ভাব, এরশাদের ক্ষমতা দখল ও পরবর্তী গণআন্দোলনও বর্ণনা করা হয়েছে। নুর হোসেন, জেহাদ, ডা. মিলনসহ আন্দোলনে নিহতদের প্রসঙ্গ এবং ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনও এতে রয়েছে।

আরেক অংশে বলা হয়েছে—২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন। বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন, প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল—এসবই নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে বইতে লেখা হয়েছে—সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার পর উত্তেজনা বাড়ে। পরদিন রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল শান্তসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত বল প্রয়োগে শত শত মানুষ নিহত হয়। দমননীতি বাড়তে থাকলে জনসম্পৃক্ততাও বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা দেশত্যাগ করেন—এ তথ্যও বইতে স্থান পেয়েছে।

বইয়ে আন্দোলনের দুই বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
১) নারীদের নজিরবিহীন অংশগ্রহণ,
২) সারাদেশে দেয়ালে–দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি; যেখানে অধিকার, ইনসাফ, ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে মানবিকতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা উঠে এসেছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে আসার পর ২০২৫ সালের মতো ২০২৬ সালের বইয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সব শ্রেণির বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকছে। মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযোজন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×