মাদ্রাসা শিক্ষকদের ইএফটি বেতন এপ্রিল থেকে, সফটওয়্যারের টেন্ডার চলমান
এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে দেওয়ার উদ্যোগ এগিয়েছে। এ লক্ষ্যে মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (মেমিস) সফটওয়্যার তৈরির টেন্ডার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সফটওয়্যার তৈরির জন্য চুক্তি হতে পারে।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে ইএফটি ও শিক্ষক বদলি মডিউল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসাবে সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীরা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পেতে পারেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা গত ২ জুন প্রকাশ করা হয়। এরপর ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এই প্রকল্পের আওতায় ইএফটি, ইএফটি ইন্টিগ্রেশন গেটওয়ে (এপিআই, আইবিএএস++ এনআইডি ও বিটিআরসি), মাদ্রাসা পে বিল, অনলাইন এমপিও ইনফরমেশন কারেকশন, শিক্ষক ট্রান্সফার অটোমেশনসহ মোট ১৮টি মডিউল তৈরি করা হবে।
ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তির লক্ষ্য
সংশ্লিষ্টরা জানান, সফটওয়্যারের টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে টেন্ডার কার্যক্রম চলছে। আগামী ৭ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে টেন্ডার জমা দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে।
এরপর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ৪ থেকে ৭টি প্রতিষ্ঠানের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে। পরবর্তী সময়ে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মৌখিক নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। এরপর বিষয়টি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে।
এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২৭ সালের শুরুতে নির্বাচিত কনসালটেন্সি ফার্ম বা প্রতিষ্ঠান মেমিস সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করতে পারে।
তিন মাসে ইএফটি ও বদলি মডিউল
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুক্তি সম্পাদনের তিন মাসের মধ্যে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, এমপিও কারেকশন, বিল সাবমিশন, বিবিধ ও এপিআই, ইমপ্লিমেন্টেশন এবং শিক্ষক বদলি-সংক্রান্ত মডিউল চালু করার কথা রয়েছে।
আর চুক্তির ছয় মাসের মধ্যে মেমিসের ১৮টি মডিউল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিজস্ব আইটি সেলের মাধ্যমে সফটওয়্যারটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার। তাঁদের অনেকের এমপিও সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে। কারও কারও সনদ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর নামের বানানে ভুল থাকায় সেগুলো সংশোধনের কার্যক্রম চলছে। কারণ ইএফটি পদ্ধতিতে একজন শিক্ষক বা কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে নামের বানানসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যা বলছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ফিরোজ আল মাহমুদ বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের ম্যানুয়ালি বদলির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইএফটি কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) মো. আবুল কালাম তালুকদার (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন শাখা) বলেন, মেমিস সফটওয়্যারের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে চুক্তির দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে ইএফটি ও শিক্ষক বদলির মডিউল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আশা করছি ইএফটি কার্যক্রম আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে চালু হতে পারে।’