মাদ্রাসা শিক্ষকদের ইএফটি বেতন এপ্রিল থেকে, সফটওয়্যারের টেন্ডার চলমান

এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে দেওয়ার উদ্যোগ এগিয়েছে। এ লক্ষ্যে মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (মেমিস) সফটওয়্যার তৈরির টেন্ডার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সফটওয়্যার তৈরির জন্য চুক্তি হতে পারে।

চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে ইএফটি ও শিক্ষক বদলি মডিউল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসাবে সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীরা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পেতে পারেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা গত ২ জুন প্রকাশ করা হয়। এরপর ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের আওতায় ইএফটি, ইএফটি ইন্টিগ্রেশন গেটওয়ে (এপিআই, আইবিএএস++ এনআইডি ও বিটিআরসি), মাদ্রাসা পে বিল, অনলাইন এমপিও ইনফরমেশন কারেকশন, শিক্ষক ট্রান্সফার অটোমেশনসহ মোট ১৮টি মডিউল তৈরি করা হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তির লক্ষ্য

সংশ্লিষ্টরা জানান, সফটওয়্যারের টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে টেন্ডার কার্যক্রম চলছে। আগামী ৭ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে টেন্ডার জমা দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে।

এরপর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ৪ থেকে ৭টি প্রতিষ্ঠানের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে। পরবর্তী সময়ে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মৌখিক নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। এরপর বিষয়টি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে।

এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২৭ সালের শুরুতে নির্বাচিত কনসালটেন্সি ফার্ম বা প্রতিষ্ঠান মেমিস সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করতে পারে।

তিন মাসে ইএফটি ও বদলি মডিউল

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুক্তি সম্পাদনের তিন মাসের মধ্যে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, এমপিও কারেকশন, বিল সাবমিশন, বিবিধ ও এপিআই, ইমপ্লিমেন্টেশন এবং শিক্ষক বদলি-সংক্রান্ত মডিউল চালু করার কথা রয়েছে।

আর চুক্তির ছয় মাসের মধ্যে মেমিসের ১৮টি মডিউল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিজস্ব আইটি সেলের মাধ্যমে সফটওয়্যারটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার। তাঁদের অনেকের এমপিও সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে। কারও কারও সনদ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর নামের বানানে ভুল থাকায় সেগুলো সংশোধনের কার্যক্রম চলছে। কারণ ইএফটি পদ্ধতিতে একজন শিক্ষক বা কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে নামের বানানসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যা বলছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ফিরোজ আল মাহমুদ বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের ম্যানুয়ালি বদলির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইএফটি কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) মো. আবুল কালাম তালুকদার (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন শাখা) বলেন, মেমিস সফটওয়্যারের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে চুক্তির দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে ইএফটি ও শিক্ষক বদলির মডিউল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আশা করছি ইএফটি কার্যক্রম আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে চালু হতে পারে।’

মন্তব্য করুন

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির তালিকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষামন্ত্রণালয়
শিক্ষামন্ত্রণালয়

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য তালিকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। শর্ত পূরণ করা মাদ্রাসাগুলোর নামের তালিকা প্রথম পর্যায়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

 কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (মাদ্রাসা-১) মো. রাহাত মান্নান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণ বিষয়ক একটি সারসংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

প্রথম পর্যায়ে, ২০১৮ সালের ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন-ভাতাদি/অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা’ অনুসারে যেসব মাদ্রাসা সব শর্ত পূরণ করেছে, সেগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের বিস্তারিত প্রতিবেদন গ্রহণ করতে হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে, একই নীতিমালার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী অবশিষ্ট মাদ্রাসাগুলোকে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম পর্যায়ের জন্য ২০১৮ সালের নীতিমালার ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের শর্ত পূরণ করেছে এমন অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার তালিকা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাঠাতে হবে। পূর্বে পাঠানো তথ্যের সঙ্গে নতুন তথ্যের কোনো অমিল থাকলে তা ব্যাখ্যাসহ জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার চেক ছাড়

বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চেক ছাড় করা হয়েছে। আগামী ৪ অক্টোবরের পর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে এ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক ১ অক্টোবর বিতরণকারী ব্যাংকগুলোতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চেকগুলো অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ৪ অক্টোবরের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসায় পূজার ছুটি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি

দুর্গাপূজায় মাদ্রাসার ছুটি বাতিল চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছেন মাদ্রাসার কিছু শিক্ষক ও অভিভাবক।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসায় দুর্গাপূজার ছুটি বাতিলের জন্য আবেদন করেন তারা।

এদিকে একই দাবিতে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

উল্লেখ্য, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। মাদ্রাসায়ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুই দিনের ছুটি রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ছুটি শুরু হবে। ৫ অক্টোবর আবার যথানিয়মে ক্লাস শুরু হবে। এর মধ্যে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটিও অন্তর্ভুক্ত করেছে অধিদপ্তর।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে করা আবেদনে বলা হয়, বিগত সরকার আলিয়া মাদ্রাসার ওপর অনেক ইসলামবিরোধী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছিল। তার অন্যতম একটি হচ্ছে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছুটি মাদ্রাসার ওপর চাপিয়ে দেওয়া, যা ইসলামি শরিয়তের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আমরা অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রতি কোনো অসম্মান না করে বলতে চাই, তারা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করবে এবং ছুটি ভোগ করবে— এটাই স্বাভাবিক। এটা তাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় যেহেতু কোনো ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী নেই, সেহেতু এ সংক্রান্ত ছুটি মাদ্রাসার জন্য অমূলক। যদি কোনো আলিয়া মাদ্রাসায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক থাকেন, তবে তিনি তার ধর্মীয় ছুটি ভোগ করতেই পারেন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আলিয়া মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থীর ওপর এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া শরিয়তবিরোধী। আসন্ন দুর্গাপূজাসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে মাদ্রাসার ছুটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।

লিখিত আবেদনে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সই করেন সিরাজগঞ্জের আল-ফারুক ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন।

অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে সই করেন তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গীর আলিম প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীর অভিভাবক জুবায়ের আহমেদ এবং শেখ সাদ বিন জাহান।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসা অনুমোদন, বাড়ছে স্বীকৃতি ও এমপিও সুযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশজুড়ে দ্রুত বাড়ছে বেসরকারি মাদ্রাসা স্থাপন, পাঠদান অনুমোদন ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি। শর্ত পূরণে ব্যর্থ মাদ্রাসাগুলোকেও এখন শর্ত শিথিল করে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যেসব মাদ্রাসার অনুমোদন বাতিল বা স্থগিত ছিল, তাদেরও নতুন করে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকার মাদ্রাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে—ফলে নতুন ও ভাড়াবাড়িতে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোও এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

নতুন নীতিমালায় অনুমোদনের সুযোগ

সম্প্রতি ‘বেসরকারি মাদ্রাসা (দাখিল ও আলিম) স্থাপন, পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা–২০২৫’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নীতিমালার আওতায় এমন মাদ্রাসাগুলোও অনুমোদন পাচ্ছে, যারা আগে শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাদ পড়েছিল। এমনকি ভাড়াবাড়িতে পরিচালিত মাদ্রাসারাও এখন অনুমোদন পাচ্ছে।

পুরনো আদেশে নতুন স্বাক্ষর

সূত্র জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের আটকে থাকা অনুমোদনের আদেশগুলো নতুন করে জারি করা হচ্ছে। এসব আদেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ছবি সংবলিত প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু অফিস আদেশে এমন কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে, যিনি বর্তমানে ঐ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত নন।

শর্ত শিথিল করে স্বীকৃতি

গত ৬ অক্টোবরের একাধিক আদেশে দেখা যায়, কয়েকটি দাখিল ও আলিম মাদ্রাসাকে শর্ত শিথিল করে অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কুমিল্লার দেবিদ্বারের ফুলতলী দাখিল মাদ্রাসার অখণ্ড জমি ৬০ শতাংশের পরিবর্তে ৫৪ শতাংশ থাকা সত্ত্বেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ঝাউবোনা মহিলা মাদ্রাসাকেও একইভাবে ছাড় দেওয়া হয়।

এছাড়া পাবনা, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ভোলার কয়েকটি মাদ্রাসার বাতিল আদেশ প্রত্যাহার করে নতুন করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা মন্ত্রণালয়ের

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব এসএম মাসুদুল হক বলেন, “এই অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কারণে সময় লেগেছে। আগের কর্মকর্তা একেএম লুৎফর রহমানের স্বাক্ষরে সেই সময়ের অনুমোদনগুলো এখন কার্যকর হয়েছে।”

ভাড়াবাড়ির মাদ্রাসার জন্যও সুযোগ

১৯৯৭ সালের পুরনো নীতিমালার সংশোধিত সংস্করণে এখন যুক্ত হয়েছে ভাড়াবাড়িতে মাদ্রাসা পরিচালনার অনুমোদন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক বলেন, “অনেক বেসরকারি মাদ্রাসা আগে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিত। এখন তারা নিজেদের নামে পরীক্ষা দিতে পারবে। সরকারকে কোনো বাড়তি খরচও বহন করতে হবে না।”

এমপিও নীতিমালায় ছাড়

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

  • ছাত্রসংখ্যার শর্ত ১৫০ জন থেকে কমিয়ে ১২৫ জন করা হয়েছে।

এসএম মাসুদুল হক জানান, “দাখিল, আলিম ও ফাজিল স্তরের এমপিও নীতিমালা সংশোধন ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।”

মন্তব্য করুন

সরকার কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের মূল ধারার সাধারণ, কারিগরি ও আলিয়া মাদ্রাসার সমতুল্য করার উদ্যোগ

সরকার কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের মূল ধারার সাধারণ, কারিগরি ও আলিয়া মাদ্রাসার সমতুল্য করার উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্দেশ্য হলো কওমি মাদ্রাসার সব স্তরের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সনদকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করা এবং অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। ১৬ নভেম্বর এটি ওয়েবসাইটে জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল লক্ষ্যগুলো হলো:

  • সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে যোগ্যতার সমন্বয়;

  • পূর্ব অর্জিত অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি;

  • জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি;

  • আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা মূলত দুই ধরনের —
১. আলিয়া মাদ্রাসা: সরকার স্বীকৃত ও সাধারণ বিষয় সমন্বিত;
২. কওমি মাদ্রাসা: স্বতন্ত্র ও ধর্মীয় পাঠ্যক্রমভিত্তিক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সামসুর রহমান খান জানান, কওমি শিক্ষাকে মূল ধারায় আনা হবে। আগে মাস্টার্স স্তরের (দাওরায়ে হাদিস) সমমান স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, এবার নিচ থেকে উপরের দিকে ধাপে ধাপে কাঠামোগত স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সার্টিফিকেশন দেশ ও বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে। বাস্তবায়ন ম্যানুয়েলে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স, পড়ানো বিষয় ও আন্তর্জাতিক মানের তুলনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হবে।

নীতিমালার কমিটি বাস্তবায়নে সুপারিশ করবে। বিভিন্ন বোর্ড ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে, যাতে শিক্ষার গুণগত মান বজায় থাকে। বর্তমানে দেশের বিপুল সংখ্যক কওমি শিক্ষার্থী মূল স্রোতের বাইরে। তাই মূল ধারায় আনা জরুরি।

বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসাগুলো আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত হয়। সবচেয়ে বড় বোর্ড হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক)। এছাড়া আরও পাঁচটি কওমি শিক্ষা বোর্ড আছে।

নীতিমালায় ১০টি স্তরে জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতার শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই এক ধারা থেকে অন্য ধারায় যেতে পারবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত এবং বাস্তবায়নের নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বলতে এমন একটি শিক্ষা ধারা বোঝানো হয়েছে, যা ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে, শরিয়াহভিত্তিক পাঠক্রম অনুসারে পরিচালিত হয়।

মন্তব্য করুন

আজ শেষ দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধন, এরপর দিতে হবে বিলম্ব ফি

আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে ১৪৪৮ হিজরি/২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনের সাধারণ সময় আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শেষ হচ্ছে। গত ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে শুরু হওয়া এ নিবন্ধন কার্যক্রমে সাধারণ সময়ের মধ্যে আজ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

আল-হাইআতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিলম্ব ফিতে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাধারণ সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম ও বিলম্ব ফি প্রদান করে বর্ধিত সময়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এ বর্ধিত সময় শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে এবং চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

তবে ১৩ সেপ্টেম্বরের পর কোনো পরীক্ষার্থীর নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

যোগ্য কেউ যেন নিবন্ধন থেকে বাদ না পড়ে

দেশের সব দাওরায়ে হাদিস মাদরাসার পরিচালক, শিক্ষাসচিব ও ব্যবস্থাপকদের যোগ্য কোনো পরীক্ষার্থী যেন নিবন্ধন থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে আল-হাইআতুল উলার অধীন সব কওমি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীলদের নিজ নিজ বোর্ডের আওতাভুক্ত মাদরাসাগুলোকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নির্দেশনা দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×