শহীদ জেহাদ দিবস আজ, তাঁর আত্মত্যাগে গতি পায় এরশাদবিরোধী আন্দোলন

আজ ১০ অক্টোবর, শহীদ জেহাদ দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে রাজধানীর পল্টনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা নাজির উদ্দিন আহমেদ জেহাদ। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন নতুন গতি পায়। জেহাদের আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়। সেই ঐক্য ও ধারাবাহিক গণআন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতন ঘটে এরশাদ সরকারের।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সন্তান নাজির উদ্দিন আহমেদ জেহাদ ছিলেন সরকারি আকবর আলী কলেজ শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর এরশাদ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিতে সহকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি।

সেদিন সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ও বিরোধী দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পল্টন এলাকায় পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলিতে জেহাদ গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রসমাজসহ আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

অপরাজেয় বাংলায় সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য

জেহাদের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিয়ে আসার পর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে গড়ে ওঠে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারাও এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে ছাত্রনেতারা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন। এ সময় ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র মৈত্রী, বাকশাল ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতারাও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যুক্ত হন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এরশাদের শাসনের অবসান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর এই ঐক্য আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। মিছিল, সমাবেশ, ধর্মঘট ও বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ছাত্র আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপর থেকেই তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং ১৯৮৭ সালে নূর হোসেনের আত্মত্যাগ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে আছে।

১৯৯০ সালে এসে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোট, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোট এবং বামপন্থী দলগুলোর পাঁচদলীয় জোট এরশাদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়। পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান থাকলেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাদের দাবির মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়।

১০ অক্টোবর জেহাদের মৃত্যুর পর সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের তৎপরতা এই আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করে। ছাত্রসমাজের পাশাপাশি শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। ক্রমেই তা দেশব্যাপী গণপ্রতিরোধে রূপ নেয়।

ডা. মিলনের মৃত্যু ও এরশাদের পতন

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ডা. শামসুল আলম খান মিলন। তাঁর মৃত্যুর পর এরশাদবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকে।

এর আগে ১৯ নভেম্বর তিনটি রাজনৈতিক জোট গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি যৌথ রূপরেখা ঘোষণা করে। এতে এরশাদের পদত্যাগ, নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

অবশেষে গণআন্দোলনের মুখে ৪ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা দেন। ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। পরে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রায় নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

গণতন্ত্রের ইতিহাসে জেহাদের আত্মত্যাগ

শহীদ জেহাদ দিবস বাংলাদেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাঁর মৃত্যু ছাত্রসংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

জেহাদের আত্মত্যাগ, সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ভূমিকা, রাজনৈতিক জোটগুলোর আন্দোলন এবং ডা. মিলনের মৃত্যুর পর গণপ্রতিরোধের বিস্তার—সব মিলিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

প্রতিবছর ১০ অক্টোবর শহীদ জেহাদ দিবসে তাঁর আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়। দিনটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা, রাজনৈতিক ঐক্য এবং জনগণের অংশগ্রহণের ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেয়।

মন্তব্য করুন

আজ প্রকাশ হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি কার্যক্রমের ২য় ও সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকা আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশ করা হবে। বিকেল ৪টায় SMS-এর মাধ্যমে এবং রাত ৯টা থেকে অনলাইনে এ ফলাফল দেখা যাবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে SMS-এর মাধ্যমে ফলাফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে nu athn Application ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। এছাড়া রাত ৯টা থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট www.nu.ac.bd/admissions-এ প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাবে।

ভর্তি ফরম পূরণ ও ফি জমা

২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের ৩১ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে চূড়ান্ত ভর্তি ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের পর এর প্রিন্ট কপি অথবা PDF কপি সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর ১ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ভর্তি ফরমসহ রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১ হাজার ১৩০ টাকা সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা দিতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চয়ন করবে।

দ্বৈত ভর্তি হলে বাতিল হবে ভর্তি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া কোনো শিক্ষার্থী ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে অন্য কোনো শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি থাকলে তাকে আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বাতিল করতে হবে।

পূর্ববর্তী ভর্তি বাতিলের পর ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি ফরম পূরণ করতে হবে। অন্যথায় দ্বৈত ভর্তির কারণে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল বলে গণ্য হবে।

এদিকে, ২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয় পরিবর্তনের কোনো সুযোগ থাকবে না।

তথ্য যাচাই করে ভর্তি নিশ্চয়নের নির্দেশ

কলেজ কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ভর্তি ফরমে প্রদর্শিত তথ্য ও ছবি সনদপত্র এবং নম্বরপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো তথ্য বা ছবিতে অসংগতি পাওয়া গেলে ভর্তি নিশ্চয়ন না করে বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

এছাড়া ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি জনপ্রতি ১ হাজার ১৩০ টাকা হারে ১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেকোনো সোনালী ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

ইলেক্ট্রনের অতি দ্রুত গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি উদ্ভাবন, পদার্থে নোবেল ৩ বিজ্ঞানীর

পদার্থের ইলেক্ট্রনের গতিবিদ্যা নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন পিয়া অগোস্টিনি, ফেরেঙ্ক ক্রুসজ এবং অ্যান ল’হুইলার।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সুইডেনের রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস পদার্থবিজ্ঞানে এ বছরের নোবেলজয়ী হিসেবে তাঁদের নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন বিজ্ঞানী আলোর অত্যন্ত ক্ষুদ্র সময়ের স্পন্দন তৈরি করার একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেক্ট্রনের গতিবিধি ও শক্তির পরিবর্তন অত্যন্ত দ্রুত সময়ে পরিমাপ করা সম্ভব।

অ্যাটোসেকেন্ড পর্যায়ের এসব আলোক স্পন্দন ব্যবহার করে পরমাণু ও অণুর ভেতরে ইলেক্ট্রনের আচরণ পর্যবেক্ষণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে এতদিন যে অতি ক্ষুদ্র ও দ্রুতগতির ইলেক্ট্রন জগত সরাসরি অনুসন্ধান করা কঠিন ছিল, সেটি গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীদের হাতে নতুন একটি কার্যকর হাতিয়ার এসেছে।

নোবেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অগোস্টিনি, ক্রুসজ ও ল’হুইলিয়ারের আবিষ্কার ইলেক্ট্রনের জগৎ অনুসন্ধানে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। তাঁদের গবেষণার মাধ্যমে ইলেক্ট্রন কীভাবে পদার্থের ভেতরে চলে এবং কীভাবে তার শক্তির পরিবর্তন ঘটে, তা আরও নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

যেভাবে ঘোষণা হচ্ছে নোবেলজয়ীদের নাম

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা শুরু হয়েছে ২ অক্টোবর থেকে। ধাপে ধাপে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে।

সূচি অনুযায়ী, ২ অক্টোবর চিকিৎসাবিজ্ঞানে, ৩ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞানে, ৪ অক্টোবর রসায়নে, ৫ অক্টোবর সাহিত্যে এবং ৬ অক্টোবর শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর দুই দিনের বিরতি দিয়ে ৯ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা।

মন্তব্য করুন

শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের জন্য পূবালী ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যালামনাইদের জন্য বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা চালু করতে পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শেকৃবির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম এবং পূবালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এতে স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা অনুযায়ী, শেকৃবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা কম খরচে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সহযোগিতা করবে পূবালী ব্যাংক। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক আবুল বাশার।

বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমন সহযোগিতা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা সহজ করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রমে গতি আনতে পারে। এই সমঝোতার মাধ্যমে শেকৃবিয়ানরা ব্যাংকিং সেবায় বিশেষ সুবিধা পাবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেকৃবির পারস্পরিক সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার ফলে শেকৃবিয়ানরা সাশ্রয়ী ও বিশেষায়িত ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন বলে আশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শেকৃবি ও পূবালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

রাবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থাপনা, দরজা-জানালা ঘুরে দেখেন তারা। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

তিনি জানান, সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সময় ভাঙচুর হওয়া দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান আরও বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা দুই বিভাগের শিক্ষার্থী, সহকারী প্রক্টর ও প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনায় জড়িত ও দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। রবিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন।

মন্তব্য করুন

হজের তিন প্যাকেজ ঘোষণা, কমছে খরচ

আগামী বছরের হজযাত্রীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

এবারের হজ পালনের খরচ সামান্য কমছে। ২০২৬ সালের হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৩-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। প্যাকেজ ২-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা এবং প্যাকেজ ১-এর মূল্য ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা।

প্রথম প্যাকেজের হজ পালনকারীরা পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে ৭০০ মিটারের মধ্যে থাকবেন। এ ছাড়া দ্বিতীয় প্যাকেজের হাজ পালনকারীরা মসজিদুল হারামের ১ দশমিক ৭ কিলোমিটারের মধ্যে এবং তৃতীয় প্যাকেজের হজ পালনকারীরা আজিজিয়া এলাকার মধ্যে থাকবেন।

ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, এ বছর হজযাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান ভাড়াও কমানো হয়েছে। গত বছর ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা, এবার তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৭০ বা ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ হজে যেতে চাইলে ৫০ বছরের নিচে একজনকে সাথে নিতে হবে, সংক্রামক রোগ আক্রান্ত কেউ হজ পালন করতে যেতে পারবেন না।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে-২০২৬ পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ জুলাই শুরু হওয়া হজ নিবন্ধন শেষ হবে ১২ অক্টোবর।

মন্তব্য করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই স্কুল পর্যায়ের। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সার্ভেইল্যান্সে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে আঁচল ফাউন্ডেশন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৩। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী—১৯০ জন, যা মোট সংখ্যার ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া কলেজ শিক্ষার্থী ৯২ জন (২২ দশমিক ৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৭৭ জন (১৯ দশমিক ১ শতাংশ) এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৪৪ জন (১০ দশমিক ৯ শতাংশ)।

অর্থাৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ৩১০টি ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৩২ ও ৫১৩।

তবে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব তথ্য মূলত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যার ঘটনাগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি কোনো সরকারি জাতীয় মৃত্যুনিবন্ধন বা সরকারি জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান নয়। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে।

সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন
×