এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনে জটিলতা, সময় বাড়ছে না; বৃহস্পতিবার মাউশির বৈঠক

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও তথ্যগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে অনেক শিক্ষক আবেদন করতে পারছেন না। সমস্যার সমাধানে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানালেও আপাতত তা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আলম মাহমুদ বলেন, বদলি আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত বদলি কার্যক্রম শুরু করতে কাজ করছে মাউশি।

এদিকে আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে মাউশি। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বদলির আবেদন করতে না পেরে প্রতিদিন অনেক শিক্ষক অধিদপ্তরে এসে সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। তাদের অধিকাংশের অভিযোগ একই ধরনের। অনেক শিক্ষকই দাবি করছেন, আবেদন করতে না পারার পেছনে তাদের কোনো ভুল নেই।

শিক্ষকদের অভিযোগগুলো মাউশির পক্ষ থেকে টেলিটককে জানানো হয়েছে। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের আসিফ নামের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার মাউশিতে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া ওই বৈঠকে শিক্ষকদের আবেদনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, যেসব সমস্যা কারিগরিভাবে সমাধানযোগ্য, সেগুলো শনাক্ত করে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এর মাধ্যমে আবেদন করতে না পারা শিক্ষকদের জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে বদলি কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকায় আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি আপাতত আমলে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মাউশি।

মন্তব্য করুন

শিক্ষার আকাশে মাইলস্টোন কলেজের উজ্জ্বল নক্ষত্র: এইচএসসিতে রেকর্ড সাফল্য, শোকের মাঝেও দীপ্তি

শিক্ষার মান ও সফলতার দীর্ঘ যাত্রায় আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক স্থাপন করল ঢাকার উত্তরা মডেল টাউনে অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজ। সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় শতভাগ পাসের ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে আবারো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

চলতি বছর মাইলস্টোন কলেজ থেকে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে মোট ২ হাজার ৯৮১ জন কৃতী শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এদের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৭৯১ জন শিক্ষার্থী, যা কলেজের সামগ্রিক ফলাফলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশেষ করে, কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল ঈর্ষণীয়। এ বিভাগ থেকে ২ হাজার ৩৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ৩৭০ জন। এখানে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক উঁচুতে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই সর্বোচ্চ ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী পূর্ণ জিপিএ-৫ অর্জন করে প্রতিষ্ঠানকে গর্বিত করেছেন।

 

সাফল্যের নেপথ্যে: ঐকান্তিকতা ও কঠোর পরিশ্রম

নিয়মিতভাবে এমন চমৎকার ফলাফলের ধারা অব্যাহত রাখার রহস্য উন্মোচন করে মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম বলেন, "এই সাফল্য কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। এটি শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত অবদানের ফল। কলেজ প্রশাসনের সঠিক তদারকি, শিক্ষকদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম, ছাত্রছাত্রীদের একাগ্রতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণে প্রতি বছর আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।"

অধ্যক্ষ আরও জোর দিয়ে বলেন, "আমরা শুধু নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকি না, বরং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের জন্য গুণগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করি। এটিই ভালো ফলাফল অর্জনের প্রধান নিয়ামক।" তিনি উত্তীর্ণ সব ছাত্রছাত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনে আরও সফল হওয়ার এবং দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করার আশা প্রকাশ করেন।

 

শোককে শক্তিতে রূপান্তর: মর্মাহত অধ্যক্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি

তবে এই বিশাল আনন্দক্ষণেও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমের কণ্ঠে ছিল শোকের ছায়া। তিনি এই ফলাফলের মহতী সাফল্য গত ২১ জুলাই এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের কাছে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ মোট ৩৪ জন জীবন হারান এবং অনেকে আহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৭ জনই ছিলেন মাইলস্টোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উজ্জ্বল শিক্ষার্থী।

এই শোকাবহ ঘটনায় বিধ্বস্ত হলেও, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থেকে যে ফলাফল অর্জন করেছে, তা শোককে শক্তিতে পরিণত করার এক অনন্য উদাহরণ। মাইলস্টোন কলেজ প্রমাণ করল, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার আলোকবর্তিকা নিভিয়ে দেওয়া যায় না।

মন্তব্য করুন

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নজিরবিহীন আর্থিক দুর্নীতি (পর্ব-০১)

মাত্র ২ মাসে শ্রমিক মজুরি বাবদ ৩ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয়, টেন্ডার ছাড়াই 'স্পট কোটেশন'!

ঢাকা: মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কলেজে উন্নয়নমূলক কাজের নামে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাত্র দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক মজুরি খাতে ,১৮,৮৯,০৫৪/- (তিন কোটি আঠারো লক্ষ ঊননব্বই হাজার চুয়ান্ন) টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (PPR) সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

কোটি কোটি টাকার মজুরি, টেন্ডার নেই

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২0২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত (প্রায় দুই মাস) এডহক কমিটির নির্দেশে কোটি ৬৬ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়। এই কাজের মধ্যে নির্মাণ মেরামতের জন্য ব্যবহৃত শ্রমিক মজুরি বাবদ ব্যয়িত অর্থের হিসাব নিম্নরূপ:

কাজের বিবরণ

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম

ব্যয়িত টাকার পরিমাণ

রং করা (লেবার)

বান্না এন্টারপ্রাইজ

,৩০,৯২,৯৭৭/-

রাজমিস্ত্রী, কাঠ, সেনিটারী (লেবার)

মেসার্স শিলা এন্টারপ্রাইজ

৬১,২০,৪৬০/-

টাইলস, মোজাইক ইলেকট্রিক (লেবার)

তানভীর এন্টারপ্রাইজ

১৩,৭৭,৪৭৪/-

গ্রীল, অভিভাবক সেড (লেবার)

মেসার্স মোল্লা ওয়েল্ড

১২,৪৮,১৪৩/-

মোট শ্রমিক মজুরি ব্যয়

 

,১৮,৮৯,০৫৪/-

(এছাড়া মালামাল ক্রয় বাবদ আরও ,২৩,৭৪,৪৩৭/- টাকা নগদে ব্যয় করা হয়)

বিধি লঙ্ঘন করে স্পট কোটেশন

তদন্তে ডিআইএ নিশ্চিত করেছে যে, এই বিশাল অঙ্কের মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার দরপত্র বা টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি।

  • পিপিআর-এর লঙ্ঘন: পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (PPR) অনুযায়ী, ,০০,০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকার অধিক মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ প্রদান করতে হয়।
  • ক্ষমতার অপব্যবহার: কিন্তু মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লক্ষ টাকার সীমা অতিক্রম করে প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা ব্যয় করেছে 'স্পট কোটেশনের' মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে কাজ দেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত হয়নি, যা আর্থিক অনিয়ম অর্থ আত্মসাতের পথ সুগম করেছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

বাতিল কমিটি দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ

তদন্ত প্রতিবেদন আরও জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ (১৮/১১/২০২৪) জারির পরও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আখলাক আহম্মেদ পূর্বের (বাতিলকৃত) এডহক কমিটির মাধ্যমেই কার্যক্রম চালিয়ে যান। বাতিল কমিটির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের এই উন্নয়ন কাজ করানো হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করার শামিল।

রাজস্ব ফাঁকি

উন্নয়ন কাজের জন্য ঠিকাদারদের পরিশোধিত ,১২,১৮,০০০/- টাকার ওপর ধার্যকৃত ভ্যাট আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। শ্রমিক মজুরি বাবদ ব্যয়িত বিপুল অঙ্কের অর্থের ওপরও এই রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য মোট ৩৮,০২,২৫০/- (আটত্রিশ লক্ষ দুই হাজার দুইশত পঞ্চাশ) টাকা অবিলম্বে জমা দেওয়ার জন্য প্রতিবেদনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত এই ঘটনা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে একটি বাতিল কমিটি মাত্র দুই মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা টেন্ডার ছাড়াই মজুরি খাতে ব্যয় করে সরকারি বিধিমালাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।

 ( দ্বিতীয় পর্ব আসছে শিগগিরই, কারা কারা এই লুটপাটে জড়িত তাদেরও পরিচয় তুলে ধরা হবে )

 

মন্তব্য করুন

বগুড়ার শেরপুরে ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড নিয়ে শিক্ষকদের মারামারি, বিদ্যালয়ে পুলিশ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞান ও শৃঙ্খলার কেন্দ্র। কিন্তু বগুড়ার শেরপুরে একটি বিদ্যালয়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারির ঘটনায় সেই শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এক সময় এমন উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যালয়ে পুলিশ ডাকতে হয়।

ঘটনার বিবরণ:

রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক একটার দিকে বগুড়ার শেরপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ সাহেব আলী এবং ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর মাহমুদুল হাসানের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের কারণ ও পরিণতি: অভিযোগ অনুসারে, বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড দিতে রাজি না হওয়ায় সহকারী শিক্ষক সাহেব আলী প্রথমে ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর মাহমুদুল হাসানকে মারধর করেন। ঘটনার সূত্রপাত এই পাসওয়ার্ড নিয়েই।

মাহমুদুল হাসানের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে যে, মাহমুদুল হাসানের পক্ষ নিয়ে কয়েকজন 'বহিরাগত' বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে সহকারী শিক্ষক সাহেব আলীকে পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে সাহেব আলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

শিক্ষকদের বক্তব্য: এ বিষয়ে ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর মাহমুদুল হাসান জানান, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ অনুযায়ী তিনিই বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড বসিয়ে থাকেন। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া তিনি পাসওয়ার্ড দিতে রাজি না হওয়ায় সহকারী শিক্ষক সাহেব আলী তাঁর ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। বহিরাগত আসার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তাঁকে মারধর করার খবর শুনে তাঁর এক ভাই বিদ্যালয়ে এসেছিলেন।

কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ শেখ জানান, ঘটনার পর বিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ আসার পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অবহিত করেছেন।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ছেড়ে থানায় ফিরে গেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত; খুশি শিক্ষকরা, ক্লাসে ফেরার ঘোষণা

দীর্ঘ ১০ দিনের লাগাতার আন্দোলনের মুখে অবশেষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি মেনে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তিন দফা দাবির মধ্যে অন্যতম, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে 'সমঝোতা' হওয়ায় শিক্ষক নেতারা আপাতত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরপরই শিক্ষকরা আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেন।

আন্দোলনের মুখে নমন সরকার:

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতাসহ মোট তিন দফা দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। তাদের এই নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

মঙ্গলবার সকালে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরই ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার সিদ্ধান্তে উভয়পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়। এরপর দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত সম্মতিপত্র দেওয়া হয়।

১৫ শতাংশ কার্যকর হবে দুই ধাপে:

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের উপসচিব মোসা. শরীফুন্নেসার সই করা সম্মতিপত্রে বাড়িভাড়া কার্যকর হওয়ার সময়সূচি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্মতি অনুযায়ী, বাড়িভাড়া ভাতা দু'টি ধাপে কার্যকর হবে:

  • প্রথম ধাপ: চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।

  • দ্বিতীয় ধাপ: আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা যুক্ত হবে।

ফলে সবমিলিয়ে তারা মোট ১৫ শতাংশ (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। এই নতুন সম্মতির ফলে আগের (১৬ অক্টোবর) দেওয়া সম্মতিপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া:

সরকারের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষক নেতারা জানান, আপাতত তারা এই সিদ্ধান্তে খুশি। এজন্য তারা শহীদ মিনারে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেবেন এবং ক্লাসে ফিরে যাবেন।

যদিও শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতার দাবিতে অনড় ছিলেন, তবুও টানা আন্দোলনের মুখে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষক নেতারা সার্বিক পরিস্থিতিতে 'বিজয়' হিসেবে দেখছেন।

তবে, আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা এই বৈঠকেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সরকারকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বলেছেন। দাবিগুলো হলো: চিকিৎসাভাতা ১৫০০ টাকা করা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করা।

মন্তব্য করুন

৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিটি গঠনের নির্দেশ কার্যকর নয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পরিপত্র স্থগিত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর) চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং ১ ডিসেম্বর থেকে সব অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত করার যে পরিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করেছিল, তার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর পরিপত্রটি জারি করা হয়। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪ এ চলতি বছরের ২৮ ও ৩১ আগস্ট সংশোধনী আনে ঢাকাসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড। সংশোধনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনয়নসংক্রান্ত ১৩(১) বিধি এবং যোগ্যতাসংক্রান্ত ৬৪(৩) বিধি পরিবর্তন করা হয়।

এই দুই বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এমরান হোসেনসহ চারটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি গত রোববার রিট আবেদন করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফখরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।

পরে আইনজীবী ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই বোর্ডগুলো ম্যানেজিং কমিটি পরিচালনাসংক্রান্ত প্রবিধানমালায় সংশোধন আনে, যেখানে বলা হয়েছে— সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নবম গ্রেডের নিচে নন এমন কর্মকর্তা এবং অবসরপ্রাপ্ত হলে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন।

অর্থাৎ বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শুধুমাত্র সরকারি বা আধা সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ হতে পারবেন না। আগে যেখানে সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে হতেন, সেখানে এখন এই যোগ্যতাসীমা আরোপ করা হয়েছে— যা আবেদনকারীদের মতে বৈষম্যমূলক।

রিটে আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশোধিত ১৩(১) এবং ৬৪(৩) বিধি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। হাইকোর্ট রুল জারি করে ৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। ফলে বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাডহক কমিটি আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

 

মন্তব্য করুন

মাউশির ডিজি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খানের পদত্যাগ: 'স্বাস্থ্যগত কারণ' নাকি 'অপমানবোধ'?

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। যদিও পদত্যাগপত্রে 'স্বাস্থ্যগত কারণের' কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে এই আকস্মিক পদত্যাগকে ঘিরে 'অপমানবোধের' একটি তীব্র গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

অব্যাহতির আনুষ্ঠানিক কারণ: স্বাস্থ্যগত সমস্যা

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি মহাপরিচালকের পদে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু "স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব পালন আমার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই আমি মহাপরিচালকের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।"

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, তিনি তাঁর আবেদনের সমর্থনে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও জমা দিয়েছেন। এই আনুষ্ঠানিক কারণ অনুসারে, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

পদত্যাগের নেপথ্য কারণ: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিতর্ক

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাত্র একদিন আগে, ৬ অক্টোবর, সোমবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাউশির মহাপরিচালক পদে নতুন নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই ঘটনাটিই মূলত বিতর্কের মূল কারণ।

  • নজিরবিহীন ঘটনা: মাউশির ইতিহাসে এমন নজির নেই যে, বর্তমান ডিজি দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ই নতুন ডিজি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

  • 'অপমানজনক' অনুভূতি: মাউশির একাধিক কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, কর্মরত ডিজির উপস্থিতিতে এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাকে অধ্যাপক ড. আজাদ খান 'অপমানজনক' বা 'অপমানিত' বোধ করেছেন। এই অপমানবোধ থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

অর্থাৎ, যদিও পদত্যাগপত্রে স্বাস্থ্যগত কারণের কথা বলা হয়েছে, তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে—নতুন ডিজি খোঁজার জন্য মন্ত্রণালয়ের 'নজিরবিহীন' বিজ্ঞপ্তিই তাঁর আকস্মিক অব্যাহতি চাওয়ার প্রধান কারণ।


 

ফেইসবুকে সাবেক ডিজির মন্তব্য

পদত্যাগের পরদিন, অধ্যাপক ড. আজাদ খান তাঁর ব্যক্তিগত ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন, যা আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও স্ট্যাটাসটি সরাসরি পদত্যাগ বা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ছিল না, তবে তাঁর একটি মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, "জনবিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর অনেককে (যারা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে) ভোগ করতে হবে।" এই ধরনের মন্তব্য তাঁর পদত্যাগের পেছনে প্রশাসনের সাথে অসন্তোষ বা বিরোধের আভাস দিচ্ছে।

বর্তমানে পদটি শূন্য হওয়ায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে মাউশির প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেবে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন
×