১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের দাবি: সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০, সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা

সরকারি ১১-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা অবিলম্বে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা ১৩ গ্রেডের নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করেছেন, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের সদস্যরা এই দাবি পেশ করেন।

 

মূল দাবি ও প্রস্তাবিত ভাতা

সংগঠনটি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে:

  • বাড়িভাড়া ভাতা:

    • ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: মূল বেতনের ৮০%

    • অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৭০%

    • অন্যান্য এলাকায়: ৬০%

  • চিকিৎসা ভাতা: ৬,০০০ টাকা

  • শিক্ষা ভাতা (সন্তান প্রতি): ৩,০০০ টাকা

  • যাতায়াত ভাতা:

    • ঢাকা: ৩,০০০ টাকা

    • অন্যান্য এলাকা: ২,০০০ টাকা

  • ইউটিলিটি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • টিফিন ভাতা: দৈনিক ১০০ টাকা (মাসিক ২,২০০ টাকা)

  • বৈশাখী ভাতা: ৫০%

  • ঝুঁকি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা: ৪০%

পেনশন ও অন্যান্য দাবি

ফোরাম পেনশন সুবিধা বিদ্যমান ৯০% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করার এবং আনুতোষিকের হার প্রতি ১ টাকায় ২৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান তাঁর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পে স্কেলে ব্যাপক বৈষম্য ছিল এবং গত ১০ বছরে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা দুটি পে স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন, বৈষম্যমুক্ত ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি।


আল্টিমেটাম

সংগঠনটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক নবম পে কমিশন গঠনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে কমিশন একটি ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রস্তাব করবে।

মন্তব্য করুন

বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে মানসম্মত সমন্বয়ের ওপর জোর, প্রাথমিক স্তরে আইটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

একাধিক শিক্ষাধারা শিক্ষাব্যবস্থায় ‘জগাখিচুড়ি’ তৈরি করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা—এই ভিন্নধর্মী শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ‘জগাখিচুড়ি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে কাঠামোগত দুর্বলতা থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পড়ছে। তাই সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রম ও মানের মধ্যে সমন্বয় আনা জরুরি।

শনিবার (২৬ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সিলেটের ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েল ইনস্টিটিউট অব স্মার্ট এডুকেশন (রাইজ) ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুল-এর শিক্ষার্থীদের বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাধারা সমান্তরালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন মান ও দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠছে, যা পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যদি শিক্ষার মান নিশ্চিত না করা যায় এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ ও কর্মজীবনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন মানের শিক্ষার্থী তৈরি না করে সব ধারার শিক্ষার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখতে হবে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার মানের মধ্যে সামঞ্জস্য ও কাছাকাছি মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু মৌলিক বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো উচিত। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাইজ স্কুলের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে রাইজ স্কুল ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুলের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যাজুয়েশন গাউন ও ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

নজরুলের সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শিক্ষা দেয়: ঢাবি উপাচার্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়, বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য থেকে সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও পাওয়া যায়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবির জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। স্মারক বক্তৃতা দেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’য় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য করুন

দুর্গাপূজায় টানা ৭ দিনের ছুটি, সুবিধা পাবেন যারা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা কয়েক দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বোচ্চ টানা ৭ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন। তবে এ সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার। মহানবমী উপলক্ষে এদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি। ফলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মূল সরকারি ছুটি দুই দিন।

এর আগে ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। ফলে ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটির সঙ্গে ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এক দিনের ছুটি নিলে এর সঙ্গে পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। ফলে ছুটির ধারাবাহিকতা মিলিয়ে টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সুবিধা পাবেন শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

টানা ৭ দিনের এই ছুটির সুবিধা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। অন্য সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্ধারিত সরকারি ছুটি পাবেন, তবে ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে টানা ছুটি বাড়ানোর সুযোগ তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

বন্ধ থাকবে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হতে পারে।

এ সময় এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকে।

জরুরি সেবায় থাকছে না ছুটি

সরকারি ছুটি থাকলেও জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। জনসেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটির দিনেও কর্মীদের দায়িত্বে রাখতে পারে।

এর মধ্যে হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার কর্মীরা রয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রেও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কর্মসূচি অনুযায়ী ছুটির নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির নিয়ম আলাদা

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছুটির নিয়ম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিজস্ব ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে।

সরকারি ছুটির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থা নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত ছুটি নির্ধারণ করতে পারে।

মন্তব্য করুন

অপ্রতীম হত্যার পর কুবি শিক্ষকের পরিবারকে ফোনে গালিগালাজ-হুমকি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামীণফোনের একটি নম্বর থেকে অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করা হয়। ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্তের ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পরই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ফোন কেটে দিলে ওই নম্বর থেকে বারবার কল আসতে থাকে। পরে নম্বরটি ব্লক করে দেন তিনি।

এরপর এয়ারটেল (সার্কেল) অপারেটরের আরেকটি নম্বর থেকেও তাকে একাধিকবার কল করা হয়। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে নম্বর দুটিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রু-কলারে নম্বর দুটি ‘রাসেল স্টোর’ ও ‘মোহাম্মদ আলি’ নামে সংরক্ষিত দেখা যায়।

অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলে মারা গেছে। তাকে আইফোনের জন্য হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, সেটি আমরা জানি না। আমাদের মধ্যেও শঙ্কা কাজ করছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না। সেদিন ফোন করে খুব খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার পর আসামিরাই আমার সঙ্গে এসে ছেলেকে খুঁজেছে। এখন তাদের নেতৃত্বদানকারীরা যে আমার বাসায় এসে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করছে না, এর নিশ্চয়তা কী? পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু বলছে না। কিন্তু এর একটা ব্যবস্থা না হলে আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব?’

নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) জানানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। তাকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে অভিযান চালানোর পর সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন ‘কেবিজি’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। তারা হলেন—মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)।

মন্তব্য করুন

৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া ৪৬ শিক্ষার গেজেট সোমবার

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় সুপারিশ পাওয়ার পরও গেজেটে নাম না থাকা শিক্ষা ক্যাডারের ৪৬ প্রার্থীর নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজ দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে ৬৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে ৬৫৭ জন নিয়োগের জন্য বিবেচনায় ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে সরকার। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না। এর আগে প্রয়োজনীয় কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’

এর আগে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাইসহ নিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত গেজেটে ৬১১ জনের নিয়োগ প্রকাশ করা হয়। এতে পিএসসির সুপারিশের পরও ৪৬ জনের নাম গেজেটে না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, ‘পিএসসি সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সকল যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে থাকে। নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

মন্তব্য করুন

মাইলস্টোন দুর্ঘটনা: সাড়ে তিন মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেন যমজ দুই শিশু

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত দশ বছর বয়সী যমজ শিশু সারিনাহ জাহান সায়রা ও সাইবাহ জাহান সায়মা।

এ পর্যন্ত বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ ৩৩ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

আজ বুধবার সকালে ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কার্যালয়ে দুই শিশুকে বিদায় জানান হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা।

এসময় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনায় আহত ৫৭ জন এই ইনস্টিটিউট থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২০ জন। একজনকে ট্রমা ম্যানেজমেন্টের জন্য মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনজন এখনো চিকিৎসাধীন আছেন, তবে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।’

দুই যমজ শিশুর মধ্যে সায়রা ৩০ শতাংশ এবং সায়মা ১৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফরা দগ্ধ প্রত্যেক রোগীকে আন্তরিক সেবা দিয়েছেন। তাঁরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও আমাদের প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

‘আহতদের মধ্যে যারা বাড়ি ফিরেছেন, তাদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ফলোআপ চিকিৎসা দিচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

এসময় তিনি সিঙ্গাপুর, ভারত, চীন ও যুক্তরাজ্যসহ যেসব বিদেশি চিকিৎসক আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।

 

দুই যমজ শিশুর বাবা-মা ইয়াসিন মজুমদার ও আকলিমা আক্তার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হন। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন-ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।

মন্তব্য করুন
×