কারিগরি শিক্ষকদের বদলি হবে কয়েক ধাপে, মিলেছে ৯০০ শূন্য পদের তথ্য

বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রথম ধাপেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বদলি কার্যক্রমের জন্য দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে অধিদপ্তর। এখন পর্যন্ত ৯০০টির বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে চূড়ান্তভাবে শূন্য পদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মোহাম্মদ আবু সাঈম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রথম ধাপে কতজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করবেন, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে কয়েক ধাপে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বদলির জন্য প্রয়োজনীয় শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ এখনো চলছে। এ পর্যন্ত ৯০০টির বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার পর মোট শূন্য পদের সংখ্যা জানা যাবে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২২ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়ে কর্মরত আছেন। তাঁদের বদলির ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদ বা বিষয়ের শূন্যতা রয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা অনলাইনে বিভিন্ন পদ ও বিষয়ের বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা জানাচ্ছেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে। এ বিষয়ে মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর ই-মেইল তৈরি ও তথ্য দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া না গেলেও পরবর্তী সময়ে তা সংগ্রহ করা হবে।

সফটওয়্যারের মাধ্যমে হবে বদলি

এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেস তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ই-মেইল তৈরি করে ৩০ আগস্টের মধ্যে অধিদপ্তরকে জানানোর কথা বলা হয়।

অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে’র চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল প্রয়োজন হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন শিক্ষকরা

বদলির আবেদন শুরু হলে শিক্ষকরা অনলাইনে নিজেদের তথ্য দিয়ে সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারবেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয় বা ট্রেডের কোন কোন প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ রয়েছে, তা দেখার সুযোগ থাকবে। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পদ খালি থাকলে শিক্ষকরা সেখানে বদলির আবেদন করতে পারবেন।

বদলি কার্যক্রমে একটি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অন্য একটি পদ নতুন করে শূন্য হলে সেটিও পরবর্তী ধাপে বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ কোনো শিক্ষক এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হলে তিনি যে পদটি ছেড়ে যাবেন, সেটি নতুন শূন্য পদ হিসেবে সফটওয়্যারে যুক্ত হবে। পরবর্তী ধাপে ওই পদে অন্য কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের পর সফটওয়্যারভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরপর আবেদনকারীর সংখ্যা ও শূন্য পদের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে কয়েক ধাপে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

মন্তব্য করুন

২০২৫ সালের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (ভোকেশনাল/বিএম/ডিপ্লোমা ইন কমার্স) পরীক্ষার ফল প্রকাশ

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক (ভোকেশনাল/বিএম/ডিপ্লোমা ইন কমার্স) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। এ বছর মোট ১ লাখ ৫৬১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৬ হাজার ১৮৫ জন। ফলে সামগ্রিকভাবে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৭৭ হাজার ২৯১ জন এবং ছাত্রী ২৮ হাজার ৩১৯ জন। ছাত্রদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৫ হাজার ১৪৩ জন, পাসের হার ৫৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। অপরদিকে, ছাত্রীদের মধ্যে ২১ হাজার ৪২ জন পাস করেছেন, যেখানে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এছাড়া বোর্ডে মোট ১,৬১০ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৯৭ জন এবং ছাত্রী ১,২১৩ জন।

চলতি বছরে ৭৩৩টি কেন্দ্র ও ১,৮৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নেয়।

মন্তব্য করুন

পিআইবিতে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমায় ভর্তি, আসন ৫০

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত এক বছর মেয়াদি এ কোর্সে দুই সেমিস্টারে পাঠদান করা হবে। এবার মোট ৫০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে।

পিআইবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ইউজিসি স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বা তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস) কিংবা তিন বা চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর অথবা সিজিপিএ ২.০০ থাকলে আবেদন করা যাবে। তবে ভর্তির যোগ্যতা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

যেভাবে আবেদন

ভর্তিচ্ছুদের দুই ধাপে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ ধাপের আবেদনের শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে মাইগভ প্ল্যাটফর্মে ‘সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের প্রাথমিক আবেদন (পিআইবি)’ শীর্ষক সেবায় আবেদন করতে হবে। এ ধাপে আবেদন করা যাবে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। আবেদন সম্পন্নের পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেওয়া হবে।

যেসব কাগজপত্র লাগবে

আবেদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে করা প্রাথমিক আবেদনপত্রের স্বাক্ষরযুক্ত পিডিএফ কপি, পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবির সফট কপি, স্নাতক পরীক্ষার সনদ, নম্বরপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সত্যায়িত স্ক্যান কপি এবং দ্বৈত ভর্তি না হওয়ার বিষয়ে স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামার পিডিএফ কপি প্রস্তুত রাখতে হবে।

প্রাথমিক ভর্তি আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। আর কোর্স ফি এককালীন ১৬ হাজার টাকা। তবে এ ফিতে পরীক্ষার ফি অন্তর্ভুক্ত নয়।

ক্লাস ও যোগাযোগ

প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজনে ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হতে পারে। ক্লাস শুরুর তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

ভর্তি ও কোর্সসংক্রান্ত তথ্য জানতে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ০১৯৭৮৮১৮৮৫৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। পিআইবির ঠিকানা ৩, সার্কিট হাউস রোড, ঢাকা-১০০০। প্রোগ্রামটির কলেজ কোড ৬৫৬৮।

মন্তব্য করুন

কুমিল্লায় কারিগরি শিক্ষার সুফল ও ভর্তির প্রচারণা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগেকারিগরি বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের সুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ভর্তির প্রচারণাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি  কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব . . . কবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেও সমানতালে বেকারত্বের সংখ্যাও বাড়ছে। বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বুঝতে হবে, আগামীর বিশ্ব হলো কারিগরি প্রযুক্তিনির্ভর।

তিনি আরও বলেন, “কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আমরা দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কাজ করছি। কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করলে কোনো শিক্ষার্থী বেকার থাকে না। ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। সরকার শিক্ষার্থীদের কারিগরিমুখী করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার, কারিগরি মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ মিকাইল, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক কাজী ফারুক আহমদ, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক (কারিকুলাম) মো. আনোয়ারুল কবির এবং কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কারিগরি অধিদপ্তর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা, বৃহত্তর কুমিল্লার জেলা উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ইমাম সাংবাদিকবৃন্দ।

উদ্বোধনী বক্তব্যের পর কারিগরি শিক্ষায় করণীয় সফলতা নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব অতিথিদের মতবিনিময় অনুষ্ঠান।

সেমিনারে প্রধান অতিথি . . . কবিরুল ইসলাম কারিগরি শিক্ষার সুফল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।

 

মন্তব্য করুন

বাংলাদেশ–জার্মান কারিগরি কেন্দ্রে বিনা মূল্যে পাঁচটি কোর্সে প্রশিক্ষণ, আবেদন ২৪ জুলাই পর্যন্ত

বাংলাদেশ–জার্মান কারিগরি কেন্দ্র
বাংলাদেশ–জার্মান কারিগরি কেন্দ্র

বাংলাদেশ–জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের 'অ্যাসেট' (ASSET) প্রকল্পের অধীনে কর্মসংস্থানের উপযোগী পাঁচটি স্বল্পমেয়াদি কোর্সে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। বিশেষ সুবিধা হলো, এই কোর্সটিতে সরকারিভাবে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আগ্রহী নারী ও পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীদের আগামী ২৪ জুলাই ২০২৫, বিকেল চারটার মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

কোর্স ও যোগ্যতা:

কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী মোট পাঁচটি কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোর্সের ভিত্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিন্নতা রয়েছে:

কোর্সের নাম

শিক্ষাগত যোগ্যতা

প্রশিক্ষণার্থী

১. ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (ইআইএম)

অষ্টম শ্রেণি

নারী ও পুরুষ

২. টেইলরিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং

অষ্টম শ্রেণি

নারী ও পুরুষ

৩. রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং

অষ্টম শ্রেণি

নারী ও পুরুষ

৪. কম্পিউটার অপারেশন

এসএসসি পাস

শুধু নারী

৫. ক্যাড অপারেশন

এসএসসি পাস

শুধু নারী

প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সুবিধা:

  • কোর্সের মেয়াদ: ৩ মাস (৩৬০ ঘণ্টা)।

  • আসনসংখ্যা: প্রতিটি কোর্সে ২৪টি করে আসন রয়েছে।

  • ভাতা: প্রশিক্ষণার্থীরা অ্যাসেট প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী সব সুবিধা ও ভাতা পাবেন।

আবেদনের প্রক্রিয়া ও সময়সূচি:

আগ্রহী প্রার্থীরা নিম্নোক্ত কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে পারবেন:

  • প্রার্থীর তিন কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার ফটোকপি।

ধাপ

তারিখ

সময়

আবেদনের শেষ তারিখ

২৪ জুলাই ২০২৫

বিকেল ৪টা পর্যন্ত

ভর্তি পরীক্ষা (লটারি বা সাক্ষাৎকার)

২৮ জুলাই ২০২৫

সকাল ৯টায় (নিজ নিজ ট্রেডে)

ফলাফল প্রকাশ ও ভর্তি

২৯ জুলাই ২০২৫

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত

অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি

৩০ জুলাই ২০২৫

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত

ক্লাস শুরুর তারিখ

৩ আগস্ট ২০২৫

-

মন্তব্য করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সন্তানদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে সরকার

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই শহীদদের পরিবারের সন্তানদের বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাদের এই ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং সন্তানদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোতে শহীদ পরিবারের সন্তানদের অবৈতনিক শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বয় শাখা থেকে সহকারী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে গত রবিবার (২০ অক্টোবর) বিষয়টি জানানো হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ২১ সেপ্টেম্বর পাঠানো একটি চিঠির নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে

মন্তব্য করুন

কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী সংকট, তবুও নতুন টেকনিক্যাল স্কুল নির্মাণ অব্যাহত

দেশের টেকনিক্যাল স্কুল কলেজগুলোর (টিএসসি) প্রায় ৬২ শতাংশ আসন প্রতি বছর শূন্য থাকলেও সরকার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষক সংকট, পুরোনো পাঠ্যক্রম এবং কর্মসংস্থানের অভাবের মতো মৌলিক সমস্যা সমাধান না করেই অবকাঠামো নির্মাণের এই নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ১৪৯টি চালু টিএসসিতে নিম্ন মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই ৬০ শতাংশের বেশি আসন ফাঁকা ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ আসনের বিপরীতে ৯৭ হাজারের বেশি আসনই শূন্য ছিল।

এই বিপুল শিক্ষার্থী সংকটের মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুরু হওয়া ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২৯টি নতুন টিএসসি নির্মাণের কাজ এখনো চলমান। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে আরও প্রায় দুই লাখ ৮৪ হাজার নতুন আসন যুক্ত হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের পরিবর্তে অবকাঠামো নির্মাণের দিকে সরকারের মনোযোগ বেশি ছিল বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। ২০১৪ সালে ৯২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০টি টিএসসি নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও, ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২৫ সালেও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে হাজার ৫২৫ কোটি টাকায়। সম্প্রতি এর মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এরপর ২০২০ সালে ২০ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ৩২৯টি টিএসসি নির্মাণের আরেকটি বিশাল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, আগের প্রকল্প শেষ না করেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কারণে কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে।এডুকেশন ওয়াচ২০২২প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষক মনে করেন কারিগরি পাঠ্যক্রম বাজারের চাহিদার তুলনায় সেকেলে। নতুন চালু হওয়া ৯১টি টিএসসিতেও প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষকের পদ শূন্য, যার ফলে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিগ্রি শেষ করেও অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছেন না।

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের ৩৮ শতাংশই বেকার।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক . মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না। নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে কারিকুলাম আধুনিকীকরণ, প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি উন্নয়ন এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার মান নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

মন্তব্য করুন
×