রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ১৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের মধ্যে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে গেছে। বর্তমানে আহত সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ ৮ থেকে ১০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে গেলে নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন।

পরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্টরের উপস্থিতিতেই দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন প্রক্টর। পরে হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এ সময় দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম হামলার শিকার হন। এতে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায়।

অন্য সাংবাদিকরা তাঁদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব সাংবাদিকদের ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

জানা গেছে, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকিবুল তাঁর মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। এ নিয়ে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাকিবুল সেখানে অবস্থান করেন। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে আহসান হাবীব সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তাঁরা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।

ছাত্রদলের এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানের সমালোচনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রক্টরের বক্তব্য

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

ছাত্রদলের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, বহিরাগত তাণ্ডব ও সাংবাদিক হেনস্তা, রিপোর্ট রবিবার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিক হেনস্তা এবং বহিরাগতদের তাণ্ডবের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী রবিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর আগে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে কমিটির সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের সময়সীমা ২৩ আগস্ট থেকে আরও তিন কার্যদিবস বাড়িয়ে ২৭ আগস্ট করা হয়। তবে বর্ধিত সময় শেষে আগামী রবিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রাপ্ত প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। রবিবারেই প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে নোবিপ্রবির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ওই দিন দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।

ঘটনার পরদিনই অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

জাবির হলে সিগারেট কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ, দোকান বন্ধের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের অধীন ‘হাসান টি স্টোরে’ সিগারেট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও দোকানদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হল প্রাধ্যক্ষকে অবগত না করেই হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) শরীফুল ইসলামের চাপের মুখে দোকান বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দোকানদার হাসান।

তবে দোকান বন্ধের বিষয়টি আগে জানতেন না বলে জানিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার।

দোকানদার হাসান জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে হলের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ তার দোকানে এসে সিগারেট আছে কি না জানতে চান। দোকানে সিগারেট না থাকায় তিনি ‘সিগারেট নেই’ বলে জানান। এ নিয়ে বায়েজিদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

হাসান বলেন, ‘আমি বলেছি সিগারেট নেই। সিগারেট বিক্রি করি না—এ কথা বলিনি। বিষয়টি হয়তো বায়েজিদ হল সংসদের জিএসকে জানান। পরে হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহির স্যার আমাকে ডাকেন। তার সঙ্গে কথা বলার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর একজন গার্ড এসে জানান, হল থেকে দোকান বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’

তবে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের আগে হল প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, ‘আমি হাসান ভাইকে দুইবার জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন আমার এক বন্ধুও সঙ্গে ছিল। পরে হলের জিএসসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই। গার্ডদেরও জানিয়েছি। তারা বলেছে, আপাতত দোকান বন্ধ থাকুক।’

দোকান বন্ধের বিষয়ে হল সংসদের জিএস শরীফুল ইসলাম বলেন, জিনিসপত্র কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হলের সবাই অবগত। আপাতত দোকানটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝামেলা মিটে না যাওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ থাকবে। হল প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। সবাই বসে আলোচনা করে আগামীকালের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তবে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানতাম না। যার সঙ্গে ঘটনা ঘটেছে, সেই শিক্ষার্থী ও দোকানদার—কেউই আমাকে আগে কিছু জানায়নি। দু’পক্ষকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি ফয়সালা করব।’

মন্তব্য করুন

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ ফাতেমা জোহরা

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষ ফাতেমা জোহরা। আগামী ১ অক্টোবর থেকে তাঁর এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিচালনা নির্দেশাবলী-২০২২-এর তৃতীয় অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ৩(১২) এবং তফসিল ‘ক’-এ বর্ণিত অধ্যক্ষ নিয়োগের নীতিমালার ‘খ’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষ ফাতেমা জোহরাকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ নিয়োগ আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

মন্তব্য করুন

রাজনীতি নিষিদ্ধ কুবিতে ছাত্রদলের কর্মশালা, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভাতেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ছাত্রদলের কর্মশালায় যা আলোচনা

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন।

এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।

‘মৌখিকভাবে সবার অনুমতি নিয়েছিলাম’

কর্মশালার আয়োজনের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করব, সেটা তো সবাই জানে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে, না আছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।’

মোস্তাফিজুর রহমান শুভ আরও বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। এটা শুধু আমাদের নয়, সবারই করা উচিত।’

অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনকে আমরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম তো আমরা মানব না। বর্তমান ভিসি স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।’

‘এটা একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল’

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।’

একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, প্র্যাকটিক্যালি চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রোগ্রামে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।’

‘প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না’

কর্মশালার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে ২৩ শিক্ষক অধ্যাপক, একজনের সিদ্ধান্ত স্থগিত

দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জটিলতার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২৩ শিক্ষককে একসঙ্গে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করা ২৪ শিক্ষকের মধ্যে ২৩ জনকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পদোন্নতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে একজন শিক্ষকের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অডিট আপত্তিসহ বিভিন্ন জটিলতায় পদোন্নতির প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকে। অবশেষে রোববার ২৪ জনের মধ্যে ২৩ শিক্ষককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ড. প্রবীর কুমার ভৌমিক, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. জামাল উদ্দীন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. সাদেকুর রহমান ও ড. তারেক মাহমুদ আবীর, লোক প্রশাসন বিভাগের ড. ইসরাত জাহান, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. হাফিজ আশরাফুল হক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. সুব্রত কুমার দাস, ইতিহাস বিভাগের ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ড. ধীমান কুমার রায় এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (সিএসই) ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল।

এ ছাড়া রসায়ন বিভাগের ড. গাজী জহিরুল ইসলাম, ড. হালিমা বেগম, ড. মো. নাজমুল কায়েস ও ড. মো. মাসুদ পারভেজ অধ্যাপক হয়েছেন।

গণিত বিভাগের ড. মো. শফিউল আলম, ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, ড. বিজন কৃষ্ণ সাহা ও ড. হেনা রানী বিশ্বাস এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ড. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড. তাজিজুর রহমান, ড. সোহেল চৌধুরী ও ড. মো. আলমগীর মোল্লাও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

তবে অধ্যাপক পদে আবেদন করা ড. আবদুল কাইউমের বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সিন্ডিকেট সদস্য জানান, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত হওয়া এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ড. আবদুল কাইউমের বিরুদ্ধে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আপাতত তার পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। পরে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছিরকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মন্তব্য করুন

রাজশাহী রেলস্টেশনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের প্রধান গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় রাজশাহী রেলস্টেশনে ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি চলছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে আইয়ুব আলী সেখানে এগিয়ে গেলে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আইয়ুবের বন্ধু নাইমুল ইসলাম অভ্র জানান, মারধরের একপর্যায়ে আইয়ুব মাটিতে পড়ে যান। পরে তার জ্ঞান ছিল না। কয়েকবার বমি করার পাশাপাশি তার নাক দিয়ে রক্তপাতও হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে রাবির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেললাইন অবরোধ করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার পর তারা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে লং মার্চ করেন।

আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেলের কর্মচারীরা শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন। তিনি জানান, আইয়ুবের চিকিৎসার বিষয়ে নিউরোসার্জনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন
×