মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পিএইচডির সুযোগ, আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পিএইচডি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স অ্যান্ড মোবিলিটি স্কলারশিপ (জিইএমএস)’ এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি ছাড়ের পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচের জন্য মাসিক ভাতাও পাবেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ৩১ অক্টোবর ২০২৬।

স্কলারশিপের আওতায় পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম ৩৩ থেকে ৩৬ মাস মোনাশ ইউনিভার্সিটির মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসে এবং পরবর্তী ৯ থেকে ১২ মাস অস্ট্রেলিয়া ক্যাম্পাসে গবেষণা ও অধ্যয়ন করতে হবে।

যেসব সুবিধা মিলবে

জিইএমএস স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা কয়েকটি আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পিএইচডি অধ্যয়নের সুযোগ;

  • মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রথম ৩০ মাস প্রতি মাসে ২ হাজার ৯৫০ রিঙ্গিত জীবনযাত্রার ব্যয় ভাতা;

  • অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে পরবর্তী ১২ মাস প্রতি মাসে ৮ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত ভাতা;

  • মালয়েশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সময় পৃথক ভ্রমণ ভাতা।

আবেদনের যোগ্যতা

স্কলারশিপে আবেদন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। এগুলো হলো—

  • স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে;

  • ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে;

  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে;

  • আইইএলটিএস একাডেমিকে কমপক্ষে ৬.৫ ব্যান্ড স্কোর থাকতে হবে এবং প্রতিটি সেকশনে অন্তত ৬.০ পেতে হবে;

  • পিএইচডি প্রোগ্রামের অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

যেসব নথি লাগবে

আবেদনের সময় প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি);

  • পাসপোর্ট ও ছবি;

  • একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সনদপত্র ও মার্কশিট;

  • ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ;

  • দুটি রেফারেন্স লেটার;

  • স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি);

  • রিসার্চ প্রপোজাল;

  • জিইএমএস স্কলারশিপের জন্য নিজেকে কেন উপযুক্ত মনে করেন—এ বিষয়ে ৩০০ শব্দের ব্যক্তিগত বিবৃতি।

মোনাশ ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে

মোনাশ ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, ভিক্টোরিয়ায় অবস্থিত একটি পাবলিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে একাধিক ক্যাম্পাসের পাশাপাশি মালয়েশিয়াতেও একটি ক্যাম্পাস রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ স্কলারশিপে আবেদনের শেষ সময় ৩১ অক্টোবর ২০২৬।

মন্তব্য করুন

সৌদির ইমাম আব্দুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলেন ইমদাদুল্লাহ

সৌদি আরবের ইমাম আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী মো. ইমদাদুল্লাহ। তিনি শিক্ষা ও স্কলারশিপবিষয়ক প্রতিষ্ঠান মারকায সওতুল ইসলামের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বরিশালের হারতার দক্ষিণ নাথারকান্দি গ্রামের সন্তান ইমদাদুল্লাহ। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধা ও পরিশ্রমের পরিচয় দেওয়া এই শিক্ষার্থী ২০২২ সালে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে আলিম পাস করেন। পরে তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসার আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে পড়াশোনা করছিলেন।

স্কলারশিপ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে ইমদাদুল্লাহ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের ইচ্ছায় এবং শিক্ষক ও পিতা-মাতার অশেষ দোয়ায় আজ আমার এই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আজকে ইমাম আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল ইউনিভার্সিটিতে এসে পৌঁছেছি। বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষা লাভ করে যেন ইসলামের খেদমতে ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারি, এজন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।’

৮ দেশের ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১১ শিক্ষার্থী

মারকায সওতুল ইসলাম সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের আটটি দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১১১ জন শিক্ষার্থী ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।

যেসব দেশে এসব শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পেয়েছেন, সেগুলো হলো—মিশর, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও মরক্কো।

এর মধ্যে সৌদি আরবের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির আটজন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটি, ইমাম আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল ইউনিভার্সিটি, কিং খালেদ ইউনিভার্সিটি ও নর্দান বর্ডার ইউনিভার্সিটি। এ আট শিক্ষার্থীর মধ্যে ইমদাদুল্লাহ একজন।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত মারকায সওতুল ইসলাম

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত মারকায সওতুল ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দীন আল আজহারী।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে তাদের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন।b

মন্তব্য করুন

চেক সরকারের ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ, মাসে মিলবে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার কোরুনা

উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ দিচ্ছে চেক প্রজাতন্ত্র সরকার। ‘চেক রিপাবলিক সরকারি স্কলারশিপ’-এর আওতায় ২০২৭–২৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পাবেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশসহ নির্ধারিত কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে চেক প্রজাতন্ত্র উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

যেসব সুবিধা পাবেন

চেক সরকারের এ স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি দেওয়া হবে মাসিক উপবৃত্তি।

  • স্নাতকোত্তর পর্যায়ে: প্রতি মাসে ১৬ হাজার চেক কোরুনা

  • পিএইচডি পর্যায়ে: প্রতি মাসে ২৪ হাজার ৯৬০ চেক কোরুনা

  • স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।

কোন কোন প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে

স্নাতকোত্তর: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত নির্ধারিত স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। এসব প্রোগ্রামের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর।

পিএইচডি: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত নির্ধারিত পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। প্রোগ্রামের মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে চার বছর হতে পারে।

আবেদন করতে যেসব যোগ্যতা লাগবে

স্কলারশিপের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এ ছাড়া—

  • স্নাতকোত্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

  • পিএইচডির জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

  • ভালো অ্যাকাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে।

  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।

  • নির্বাচিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন

আবেদনের সময় সাধারণত প্রয়োজন হবে—

  • হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)

  • সব অ্যাকাডেমিক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট

  • মোটিভেশন লেটার

  • রেফারেন্স লেটার

  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ

  • সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

যুক্তরাজ্যে বিনা খরচে পড়ার সুযোগ, কমনওয়েলথ স্কলারশিপে আবেদন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। এ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৯ সালে এ স্কলারশিপের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে ডিএফআইডির মাধ্যমে এটি পরিচালিত হলেও বর্তমানে এর অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৩০টি নিবন্ধিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা কাজ করেছেন। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।

যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকছে

কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে।

  • যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের জন্য বিমান টিকিট দেওয়া হবে।

  • আবাসন সুবিধার পাশাপাশি প্রতি মাসে ১ হাজার ৭১২ পাউন্ড ভাতা দেওয়া হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৬ টাকা।

  • লন্ডন মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার পাউন্ড ভাতা পাবেন।

  • শিক্ষাসফরের জন্য নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হবে।

  • পোশাক কেনার জন্য ভাতা দেওয়া হবে।

  • শিক্ষার্থীর স্বামী/স্ত্রী এবং ১৬ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকলে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত পরিবার ভাতা দেওয়া হবে। তবে এ ভাতার পরিমাণ প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে।

  • প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে।

আবেদনকারীর যোগ্যতা

এ স্কলারশিপে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে কমনওয়েলথভুক্ত কোনো দেশের নাগরিক হতে হবে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায়ে কমপক্ষে আপার সেকেন্ড-ক্লাস (২.১) ডিগ্রি থাকতে হবে। অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে মাস্টার্সসহ লোয়ার সেকেন্ড-ক্লাস ডিগ্রিও গ্রহণযোগ্য।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে পড়াশোনা শুরু করার জন্য আবেদনকারীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হবে।

পাশাপাশি আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ছাড়া যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কিছু নথি জমা দিতে হবে। এগুলো হলো—

  • অফিসিয়াল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট

  • কমপক্ষে দুইজনের রেফারেন্স লেটার

  • মোটিভেশন লেটার বা গবেষণা প্রস্তাবনা

  • পিএইচডি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যুক্তরাজ্যের সুপারভাইজারের সমর্থনপত্র

আবেদনের শেষ সময় ও পদ্ধতি

আবেদনের শেষ সময়: ২০ অক্টোবর ২০২৬।

আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

মুসলিম ছাত্রীদের টিউশন ফি দেবে তামিলনাড়ু সরকার, থাকছে আরও যেসব সুবিধা

ভারতের তামিলনাড়ুতে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কল্যাণে একাধিক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম ছাত্রীদের বৃত্তি সম্প্রসারণ, সংখ্যালঘু নারীদের জন্য নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা, আয়বর্ধক প্রকল্পে সুদমুক্ত ঋণ এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজ্য বিধানসভায় নিজ দপ্তরের অনুদানের দাবির ওপর বিতর্কে অংশ নিয়ে এসব উদ্যোগের ঘোষণা দেন তামিলনাড়ুর সংখ্যালঘুবিষয়ক কল্যাণমন্ত্রী এ এম শাহজাহান।

স্নাতকে মুসলিম ছাত্রীদের টিউশন ফি দেবে সরকার

মন্ত্রী জানান, সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করবে রাজ্য সরকার। সরকারি, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে কলা, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কৃষি ও আইন বিষয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় থাকবেন।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নবম-দশম শ্রেণির মুসলিম ছাত্রীরাও পাবেন বৃত্তি

মুসলিম ছাত্রীদের জন্য ওয়াকফ বোর্ডের চলমান বৃত্তি কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতদিন প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির মুসলিম ছাত্রীরা এ সুবিধা পেলেও নতুন সিদ্ধান্তে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এখন থেকে এসব শিক্ষার্থীকে বছরে ২ হাজার রুপি করে বৃত্তি দেওয়া হবে। এতে প্রায় ৪১ হাজার ৩৮৪ জন ছাত্রী উপকৃত হবে। এ কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ২৮ লাখ রুপি।

চেন্নাইয়ে সংখ্যালঘু নারীদের জন্য কলেজ

উচ্চশিক্ষায় সংখ্যালঘু নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চেন্নাইয়ে একটি নতুন কলা ও বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠা করবে তামিলনাড়ু ওয়াকফ বোর্ড।

মন্ত্রী শাহজাহান জানান, কলেজটি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাথমিকভাবে ২ কোটি ৪৫ লাখ রুপি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আয়বর্ধক প্রকল্পে ১০০ কোটি রুপির তহবিল

মুসলিম ওয়াকফ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় সম্পত্তিতে বিয়ের হল, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক অবকাঠামো নির্মাণে ১০০ কোটি রুপির একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় সম্পত্তিকে কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

চার বছরে প্রশিক্ষণ পাবেন ১০ হাজার তরুণ

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নেও নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ু স্কিল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের মাধ্যমে আগামী চার বছরে ১০ হাজার সংখ্যালঘু তরুণকে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

রাজ্যের সব জেলায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল, পোশাক ডিজাইন, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, সূচিকর্ম ও কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংখ্যালঘু তরুণদের স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

তামিলনাড়ু সরকারের ঘোষিত নতুন উদ্যোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো মুসলিম ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় টিউশন ফি মওকুফ, বৃত্তি কর্মসূচির সম্প্রসারণ, সংখ্যালঘু নারীদের জন্য নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা, আয়বর্ধক প্রকল্পে সুদমুক্ত ঋণ এবং সংখ্যালঘু তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ।

মন্তব্য করুন

হংকংয়ে বিনামূল্যে পিএইচডির সুযোগ, বাংলাদেশিরাও পারবেন আবেদন

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পিএইচডি করার সুযোগ দিচ্ছে হংকং। ‘হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ ফেলোশিপ দেওয়া হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১ ডিসেম্বর।

২০০৯ সালে হংকংয়ের রিসার্চ গ্রান্টস কাউন্সিল (RGC) হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম চালু করে। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪০০টি পিএইচডি ফেলোশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পিএইচডির জন্য আবেদন করা যাবে।

যে ৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ

ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা হংকংয়ের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনোটিতে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—

১. সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকং
২. হংকং ব্যাপটিস্ট ইউনিভার্সিটি
৩. লিংনান ইউনিভার্সিটি
৪. দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং
৫. দ্য এডুকেশন ইউনিভার্সিটি অব হংকং
৬. হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি
৭. হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
৮. দ্য ইউনিভার্সিটি অব হংকং

কী কী সুবিধা মিলবে

ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বার্ষিক উপবৃত্তি পাবেন। পাশাপাশি সম্মেলন ও গবেষণা ভ্রমণের জন্যও ভাতা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আবেদনের যোগ্যতা

হংকং পিএইচডি ফেলোশিপের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কয়েকটি যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। যোগ্যতাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • সদ্য স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এবং পূর্ণকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ থাকতে হবে।

  • ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে।

  • গবেষণার সক্ষমতা ও সম্ভাবনা থাকতে হবে।

  • যোগাযোগ ও আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা থাকতে হবে।

  • নেতৃত্বের গুণাবলি থাকতে হবে।

  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে IELTS স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে আগের একাডেমিক কোর্স ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হলে IELTS প্রয়োজন নাও হতে পারে।

যেভাবে আবেদন করবেন

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে অনলাইনে হংকং পিএইচডি ফেলোশিপের জন্য একটি প্রাথমিক আবেদন করতে হবে। প্রাথমিক আবেদনের পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ১ ডিসেম্বর ২০২৬।

তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

অস্ট্রেলিয়ায় স্নাতকোত্তর-পিএইচডিতে স্কলারশিপ, আবেদন ১ অক্টোবর পর্যন্ত

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ‘গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ বৃত্তি দেওয়া হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬।

১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গবেষণা অবকাঠামো ও উদ্ভাবনী প্রকল্পের জন্যও প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।

যেসব বিষয়ে গবেষণার সুযোগ

স্কলারশিপের আওতায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, সৃজনশীল শিল্প, আইন, শিক্ষা உள்ளிட்ட বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

বৃত্তিতে যা থাকছে

নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বছরে ৩৪ হাজার ৩১৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ভাতা পাবেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

আবেদনের যোগ্যতা

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আবেদন করতে প্রার্থীকে স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। আর পিএইচডিতে আবেদনের জন্য প্রয়োজন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। পাশাপাশি ভালো একাডেমিক ফলাফল ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।

বিশ্বের সব দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। গবেষণার অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গবেষণা ক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রার্থীরাও অগ্রাধিকার পাবেন।

প্রয়োজনীয় নথি

আবেদনের সময় যেসব নথি জমা দিতে হবে—

  • গবেষণা প্রস্তাবনা

  • হালনাগাদ সিভি

  • দুজন রেফারির যোগাযোগের তথ্য

  • একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট

  • ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণপত্র

  • পাসপোর্টের কপি

  • সুপারভাইজারি সাপোর্ট ফরম

যেভাবে আবেদন করবেন

প্রথমে নিজের গবেষণার আগ্রহ ও একাডেমিক দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি গবেষণা প্রকল্প নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারি টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করতে হবে। সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত অনলাইন প্রক্রিয়ায় আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ১ অক্টোবর ২০২৬।

মন্তব্য করুন
×